পাঁচ বছরের ললিতা উড়ায় বৈশাখী শাড়ী
এলোমেলো সমীরণে বেতস পাতার মত দোলে টুনটুনি মন
লাল পরী, নীল পরী বাড়ায় চঞ্চল কর
ত্রিভুজাকৃতি বৃক্ষের সারিকে জানায় ক্ষণে ক্ষণে আড়ি
নাচে প্রজাপতি নাচন ; রঙিন পাখনা মেলে
চঞ্চলা মেঘের মত বেড়ায় ঘুরে মেলার গগন জুড়ি ।

বার বছরের ললিতা আড় নয়নে তাকায় মায়ের দিকে
মায়ের উন্নত বক্ষ জাগায় জন্মের কৌতূহল
শাড়ীর ভাঁজে ভাঁজে খুঁজে ফিরে রহস্যের ঠিকানা
ইচ্ছের পালক ধরে বায়না, ছায়া সঙ্গী হয় অবগুণ্ঠন
পাথর কুঁচির উঁচু নিচু রহস্য করে উঁকি ঝুঁকি খেলা
লজ্জায় লাল হয় ললিতার দু কানের লতি ।

আঠার বছরের ললিতা দিবানিশি দেখে দিবাস্বপ্ন
ঘুরে বেড়ায় নামী দামী মার্কেটের বিলাসী শো রুমে
রকমারি জামদানি, মসলিন, কাতান হন্যে হয়ে খুঁজে
ঘোমটা পরা নববধূর মুখচ্ছবি চোখের তারায় দেয় ঝিলিক
লাজুক লতা স্বপ্ন বাসর সাজায় ফুলে ফুলে, আর
হিংসার বহ্নিতে জ্বলে পুড়ে মরে রূপ নগরের পরী ।

ষাট বছরের ললিতা উল্টায় জীবন স্মৃতির পাতা
হাসি কান্নায় ফেলে আসা অদ্ভুত কবিতার খাতা ।।