শীত এলে ক্ষেতে ক্ষেতে ফলে
ফুলকপি ওলকপি গাজর টমেটো শিম ।
ঢেঁকি পালং মুলা আর লাল শাকে,
ভেজা শীতে জমে ওঠে স্বাদের হিম।

মহান রবের অপার কৃপায়
চাষীদের মুখে ফুটে হাসির রেখা ।
সময়ের শস্যদানায় চেয়ে দেখি
বিচিত্র সৃষ্টির উপমা লেখা।

শীতের পরশে শিশির ভেজা জল ,
নিপুন সজীবতায় সবুজের বুকে
ভীড় করে মন খারাপের দল।

পাপড়ি মেলে ফুল , ভেদ করে
ঘন কুয়াশার শুভ্র আবরণ ।
গাঁদা কৃষ্ণকলি সূর্যমুখী জিনিয়ার
মিষ্টি সৌরভে ভরে উঠে সারাটা উঠোন।

ফুলের সুবাসে আর দূর্বা শিশিরে
জাগে হিমেলাভ শিহরণ ।
আগাম বসন্তের ছোঁয়ায় পল্লবিত হয় ,
নৈসর্গ পিয়াসীর মন বাতায়ন।

জলপিপি হরিয়াল সারস আর বালিহাঁস ,
উত্তর মেরু আর সাইবেরিয়ার ঝাঁক ঝাঁক পাখি ,
হাওড় বাওড় বিল আর জলাশয়ে ,
অমিয় আনন্দে করে বাস।

অনিন্দ্য সুন্দর পরিযায়ী পাখি শীতের আবেশে ,
নিরাপদ আশ্রয়ের প্রত্যাশা নিয়ে
হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসে এদেশে।

অতিথি পাখিদের আনন্দ মাটি করে দেয়
বিবেকহীন শিকারীর নির্মম আঘাত ।
প্রত্যাশার চোখে তাক করে বন্দুকের নল ,
এতটুকু তাদের কাঁপে না হাত।

শীতকালে রাত বড়,অনেক ছোট দিন ।
রোজা রেখে দিনময় , নামাজ শেষ রাতে ,
পূণ্য দিয়ে দিতে হবে শোধ চোখের ঋণ।

থরথর করে কাতরায় কেউ কেউ
হাড়কাঁপানো এই শীতে।
এগিয়ে যাও পারো যদি
শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যেতে।

শুকরিয়া মেহেরবান -
শীতের শস্য দানায় খাদ্য করো দান।
ফুলের সৌন্দর্যে আঁক সৌরভের বাগান ।
পরিযায়ী কলরবে ভরিয়ে দিয়েছো আবহমান ।
পোক্ত ঈমানের নির্মাণে দিয়েছো সোপান ।
দান করে নসীবে জান্নাতের সুযোগ করেছো মহান।

তাওফিক দিও-
শিকারীর নির্মমতার রুখে দেই হাত ।
গরম কাপড়ে বিলিয়ে দেই নাজাতের রাত ।
নত সেজদায় পাপ মোচনে করি মোনাজাত।