আমার রক্তঝরা স্বাধীনতা,
তিন যুগে কী নিয়ে এলে সবুজে শ্যামলে ঘেরা এ বাংলাদেশে?
হিসেব মেলাতে গিয়ে দেখি
যে দামে কিনেছি, মূল্য ফেরেনি এখনো।
দিয়েছো পতাকা লাল সবুজে আঁকা, ধূলি আর
ধোঁয়া মাখা আকাশে পতপত করে ওড়ে বাতাসে।
রবি ঠাকুরের গীতের কয়টি চরণ দিয়েছো,
প্রতিদিন বালক বালিকারা এসেম্বলিতে গায়,
কণ্ঠের সুর নিমেষে বাতাসে মিলায়।
এ জীবনে কী উপহার দিয়েছো তুমি?
তুমিও জানো না, আমিও জানি না, অবাক জন্মভূমি!
আমার রক্তঝরা স্বাধীনতা,
কেন এলে এদেশে যেখানে মানুষ চলে মুর্দার বেশে?
রেলস্টেশনে জীর্ণ নারী পুরুষ আর শিশু পড়ে থাকে
ছেড়া কাঁথা কম্বল গায়ে। জন্মেই দেখে শুধুই কষ্ট
অভাবে তাদের স্বভাব নষ্ট। মাঠের কৃষক, ঘাটের মজুর,
কলের শ্রমিক যতো, দিন রাত খেটে মরে, এগোতে পারে না তবু।
আমার রক্তঝরা স্বাধীনতা,
মাটিকে মুক্ত করেছো যদিও স্বাধীন করোনি মানুষ।
মুক্ত তুমি করোনি তাদের কেবল ওড়াও কথার ফানুস।
এমন সমাজ কবে হবে দেশে, সম অধিকার পাবে সবাই,
সবাই যাবে সামনে এগিয়ে কেউ রবে না পিছে?