সমর সৈনিকের আহত ব্যথা,
বিনিদ্র রাত্রির পথহারা পথিক,
ঘোর আধারের সঙ্গীহারা একলা পাখি,
পাথর শোকে স্তব্ধ নিস্পলক আঁখি।
কিংবা,
জীবনের মাঝ পথে স্বপ্ন হারা যুবক,
সীমাহীন আশার পথে স্রোতহারা নদী,
ফ্রেমে বন্ধী বাকরূদ্ধ কোন ছবি,
কে বুঝিবে কাহার ব্যথা-আপনাতে সে দুঃখ না লয় যদি।
রাত্রি অন্ধকারে সাদা বক চলে না,
তিমির অন্ধকারে নিশাচর ঢড়ে না,
ডাঙ্গায় তোলা মৎস্যের বেদনা,
বুঝিবে সে কি-যার ডাঙ্গায় চলন আজীবন।

ভাঙ্গা হদয়ের মর্ম কথা কিংবা দুঃখিতের চোখের জল,
অনুভূতি হারানো জীবনের প্রলাপ,
সজনহারা জনের ব্যথা,
চিত্ত সুখের আনন্দলোকে কখনো মিলিবে কি?

আশার নেশায় যে আঁখি নিস্ফলক,
দেয়ালর বাধায় যে দৃষ্ট অবরুদ্ধ,
ভয়ের অন্তরালে যে কথা নির্বাক,
অসীম স্বাধীনতায় তাহার মর্ম বুঝিবে কি?

যে রহিয়াছে পড়ি অনাদরে অনাবৃত,
অন্নাভাবে যাহার প্রাণ উষ্টাগত,
একটুখানি বিশ্রামে যাহার মাথায় নেইকো ছায়া,
অট্টালিকায় বসে উদরপূর্ন তুমি-তাহার মর্ম বুঝিবে কি?

ব্যথার বাত্যার উঠিয়াছে যাহার হৃদয়ে,
দহনোকলে যাহার অনতর পুড়িয়াছে,
দৃষিট যাহার সীমানা ভেদিয়া অন্যলোকে
রঙ্গমহলে আনন্দ আসরে তাহার মর্ম বুঝিবে কি?

একটি থমকে যাওয়া পদ,
একটি সিথর দৃষিট কিংবা
একটি ডানা ভাঙ্গা পাখির আত্নচিৎকার,
তোমায় কভূ সপর্শ করিয়াছে কি?

যে দৃষিট অবনত হইয়া গিয়াছে,
যে সময় গতিহীন হইয়া পরিয়াছ,
যে কথা সকলে ভূলিয়া গিয়াছে,
যে স্মৃতি এখন গল্পের ফাদে,
আমি আজ সেখানেই করিতেছি হাহাকার
তোমাদের অট্রহাসির মাঝে।

বন্ধ চোখে নীল আকাশ বিচরন,
শূন্য হৃদয়ে ভগ্ন কথা,
আকাশ পানে ছুটে চলা একফালি মেঘ,
আশাহীনতায় তবু নিরন্তর চেয়ে থাকা
যেন সপন হয়ে আসে আশা।
স্তির সময়ের অসহ্য বারতা,
বোবা হৃদয়েয় নিঃশব্দ কান্না,
ব্যার্থ আশাগুলো খন্ডিত পাথরের মত বুকে চাপা,
দীর্ঘশাশের ঝড়ে যার ভাঙ্গে ঘর
তাকে অনুভবের সাধ্য কি তোমার?

যার পায়ের তলার মাটি খসে যায়,
যার দৃষ্টির তরঙ্গে রং খেলে না,
যার আশার প্রজাপতি ডানা ভেঙ্গেছে,
যার সন্ধা প্রদীপ নিভে গেছে,
সময়ের বারতা যাকে সুধায় শুধু অশনি সংকেত,
এহেনের সঙ্গে সঙ্গ বাধবে কি?

যাহার সময় আধারে ঢেকেছে,
যাহার গান বেদনার সুর তুলেছে,
যাহার সঙ্গ একাকিতে ধরা পরেছে,
যাহার কবিতায় হৃদয় ছুয়েছে,
যাহার গল্পে অশ্রূ ঝড়েছে,
এমনজনের হাতে তুমি রাখি বাধিবে কি?

একটি ভাঙ্গা পথ,
একটি ঝড়া গোলাপ,
একটি কবিতার দুটো লাইন,
একটি গলেপর কিছু কথা,
নিরবে ভাঙ্গা মাঝ রাএি কিংবা
হঠাৎ দেখা সপেনর খণ্ডিত অংশ,
এসব কি তোমার হৃদয় সপর্শ করে না?

ভাললাগা কোন আধার কিংবা
নিরবে ঝড়ে যাওয়া দুফোটা চোখের জল,
দিনাবশেষে নেমে আসা সন্ধা কিংবা
মেঘে ঢাকা পূনির্মা চাদ,
তোমার মনে কি কখনো ঝড় তোলে না?

হাসি যাহার হৃদয় শ্পর্শ করে না,
আনন্দ যাহার মনে ঢেউ তোলে না?
রাঙ্গা প্রভাত যাহাকে স্বপ্ন দেখায় না,
পূর্নিমা যাহাকে আলোকিত করে না,
তাহার জীবন পথের প্রদীপ তুমি জ্বালাবে কি?