১৯৭১ সালের অস্থির সময়। চারদিকে শুধু ভয়, অনিশ্চয়তা আর গুলির শব্দ। ছোট্ট একটি গ্রামের ছেলে মারুফ— শান্ত, লাজুক, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আগুনের মতো সাহসী। আর সেই গ্রামেরই মেয়ে স্বর্ণা— যার চোখে ছিল স্বাধীন আকাশ দেখার স্বপ্ন।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই গ্রামের পরিবেশ বদলে যায়। প্রতিদিনই খবর আসে— কোথাও আগুন, কোথাও মানুষ নিখোঁজ, কোথাও আবার প্রতিরোধ। মারুফ চুপচাপ সব দেখে, শোনে, আর বুকের ভেতর জমতে থাকে এক অদ্ভুত তীব্রতা।
একদিন সন্ধ্যায় স্বর্ণা তাকে বলল,
— “মারুফ, আমরা কি কোনোদিন মুক্ত আকাশে নিশ্বাস নিতে পারবো?”
মারুফ একটু চুপ করে থেকে বলল,
— “পারবো। যদি কেউ না লড়েও, আমি লড়বো।”
সেই রাতেই সে সিদ্ধান্ত নেয়— সে মুক্তিযুদ্ধে যাবে।
যাওয়ার আগে নদীর পাড়ে শেষবারের মতো স্বর্ণার সঙ্গে দেখা হয় তার। বাতাসে কাশফুল দুলছিল, কিন্তু তাদের মন ভারী। স্বর্ণা কাঁপা গলায় বলল,
— “ফিরে আসবে তো?”
মারুফ মৃদু হাসল,
— “স্বাধীনতা নিয়ে ফিরবো… না হয় স্বাধীনতার গল্প হয়ে থাকবো।”
তারপর শুরু হলো মারুফের যুদ্ধজীবন। কখনো রাতের অন্ধকারে অভিযান, কখনো নদী পেরিয়ে গোপন বার্তা পৌঁছে দেওয়া। গুলির শব্দে কেঁপে উঠত চারদিক, কিন্তু মারুফের মনে শুধু একটাই ছবি— স্বর্ণার চোখে দেখা স্বাধীন দেশের স্বপ্ন।
মাসের পর মাস কেটে গেল। গ্রামে খবর পৌঁছায়— অনেকেই শহীদ হয়েছে, অনেকেই নিখোঁজ। স্বর্ণা প্রতিদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করে।
অবশেষে এল সেই দিন— বিজয়ের দিন। চারদিকে আনন্দ, উল্লাস, পতাকার ঢেউ। কিন্তু স্বর্ণার চোখে তখনও অপেক্ষা।
বিকেলের শেষ আলোয় গ্রামের পথে ধুলোমাখা, ক্লান্ত এক মানুষ হেঁটে আসে। কাঁধে ব্যান্ডেজ, মুখে ক্লান্তির ছাপ— কিন্তু চোখে আলো।
মারুফ।
স্বর্ণা দৌড়ে গিয়ে থেমে দাঁড়ায় তার সামনে। কিছু বলার আগেই চোখ ভরে ওঠে দুজনেরই।
মারুফ মৃদু কণ্ঠে বলে,
— “দেখো… আমরা স্বাধীন।”
স্বর্ণা কাঁদতে কাঁদতে বলে,
— “তুমি ফিরেছ… এটাই আমার স্বাধীনতা।”
নদীর ওপরে তখন লাল সূর্য ডুবছে, আর নতুন দেশের আকাশে ভেসে উঠছে এক অদ্ভুত শান্তি।
মারুফ আর স্বর্ণা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকে—
একজন যুদ্ধের গল্প নিয়ে, আরেকজন অপেক্ষার ইতিহাস নিয়ে।
স্বাধীনতার সেই বিকেলে তারা বুঝেছিল—
ভালোবাসা আর দেশপ্রেম, দুটোই কখনো হার মানে না।
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
আমার লেখা গল্পের সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা রয়েছে
১৬ নভেম্বর - ২০১১
গল্প/কবিতা:
৮৬ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
আগামী সংখ্যার বিষয়
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ মার্চ,২০২৬