চল্লিশ বছর আগে নেমেছিলো গভীর অমানিষা!
সেই অমানিষা কাটাবে বলে একদল যুবক নেমেছিলো পথে
নিজের হাতে গড়া ঘর-বাড়ি, বাবা-মা, প্রিয়তমাকে ছেড়ে;
অজানার পথে। পারবে কি পারবেনা অমানিষা কাটাতে
ভেবে দেখেনি তারা। ভাবার সময় ছিলো না!
শুধু দেশকে দেখেছিলো মায়ের আদলে,
চেয়েছিলো আনবে মুক্তি, কাটাবে অমানিষা,
আলোয় আলোকিত করবে দশ দিক!

হায়! তাদের কি অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই দেশটা!
কি আছে এই দেশের এখন?
চল্লিশ বছর আগে উঠেছিলো ঝড়,
বেঁধেছিলো দু’জাতির সংস্কৃতির লড়াই;
আর আজ স্বাধীনতার সূর্য এলো ঠিকই;
আমরা কি স্বাধীন আজও মনে-প্রাণে বা চেতনায়?

চল্লিশ বছর আগে বেঁধেছিলো দ্বন্দ্ব দুটি ভিন্ন জাতির;
আজ এই বর্তমানে দ্বন্দ্ব, একই জাতিতে, আপন ভাইয়ে ভাইয়ে!
কষ্টে অর্জিত দেশটাকে আমরা ভেঙ্গে ভেঙ্গে টুকরো করছি;
মায়ের মতন দেশটাকে সমৃদ্ধির বদলে খুবলে খুবলে খেয়ে
শক্তিহীন শ্রীহীন করে দিচ্ছি ক্রমশ!

নয় মাস যুদ্ধ করে অপরিসীম ত্যাগ ও তিতিক্ষার জন্ম দিয়েছি,
নোবেল বিজয়ী করে দেশটিকে পরিচিতই শুধু করছিনা;
দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচারের বিশাল পাহাড় জমাতে জমাতে,
ক্রশফায়ারের নামে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতেও
আর বাঁধছেনা আমাদের। আমরা আমাদের মনুষ্যত্ব হারিয়ে,
ক্রমশ ধুঁকছি এখন! আমরা আসলে মুক্তির স্বাদ হারিয়েছি একেবারেই;
বরং নতুন করে মুক্ত করতে হবে আমাদের এই দেশটাকে সকল অন্যায় থেকে;
মুক্তির চেতনায় জাগ্রত হতে অপেক্ষায় আছি এখনো!