: তুমি আমি দুজনে, ‘আমরা’ হবো; হবো পূনর্জনমের জুটি।
নাগকেশর হবো, নেশাগন্ধে মাতানো ভাত ঘুম হবো, হবো বসন্ত কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভাময়।
: আমরা নেশাগন্ধ হবো, বিলাস যাপন হবো না?
: হবো পূর্ণতিথির যাত্রী, ঘন নিঃশ্বাসের আঁধার কিংবা জোড়াবাহুর আলিঙ্গন।
মুহুর্মুহু কেঁপে কেঁপে ওঠা অস্তিত্বের শিহরণে জাগরণ হবে প্রেমময়তার,
ভালোবাসা ভালোবাসা বোধে সুখ ছড়াবে স্বস্তিময় নিশ্চয়তার।
: আমরা কি নীল দিগন্ত হবো?
: হ্যাঁ, আমরা ঐ দূর দেশের সবুজ প্রান্তরেখা্য ছুঁয়ে যাওয়া এক চিমটি চিকন নীলের ধারা হবো,
আমরা বাঁধবো মেঘের পালক ঐ নীলের আঁচলে।
: আমরা কারো সুখছায়া হবো কি?
: নিশ্চয়ই। আমরা হবো জোছনা বিহারের অপার সৌন্দর্যে ঘেরা শুভাশীস।
আমরা শিক্ষিকার চোখের কোমল আদর হবো, হবো কবির হতাশার পঙক্তিমালাও।
: কখনো কি হিংসা হবো? কিংবা ধ্বংসোন্মুখ?
: সৃষ্টির জোয়ারকে ভেঙে দিতে আমরা কখনো কখনো সুবিশাল পাহাড় হবো।
কখনো হবো অগ্নুৎপাতের চেয়েও তীব্র। আমাদের রাগ চূর্ণ করে দেবে
হাজারো তরূণ স্বপ্নের বিরোধ-প্রাচীর! গুড়িয়ে দেবে প্রবল প্রতিবন্ধকতাকেও।
: আমরা কি কখনো ভালোবাসা বা স্নেহের পাঁচিল হবো?
: কেন নয়? আমরা হবো কান্নার নাফ নদী, যেথায় জমবে অবিরাম কষ্টের ক্ষীর।
আমরা হবো দুখের রামসাগর, হবো দেবদাসের পারু কিংবা চন্দ্রমুখী। আরও হবো অতীব সুখে ভাষাহীন-বোবা।
: আচ্ছা, আমরা কষ্ট হবো, সুখ হবো, আনন্দ হবো। আর কি কিছুই হবার নেই?
: আমরা আসলে অর্বাচীন হবো। হবো সবজান্তা সমশের। হবো এ পৃথিবীর সব সুখবোধ, জানা অজানার পরিধি।
চৌরাস্তার ধন্দ্বে পড়েও যে ঠিক খুঁজে পাবে সঠিক দিক-পথের।
: আচ্ছা, এত যে কিছু হোলাম, তবে আমরা কে? কি পরিচয় আমাদের?
: আমরা অমর জুটি, শ্বাশত প্রেমের; যে বোধের নেই লয়, চির অক্ষয় এই বিশ্ব জাহানের।