লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
গল্প/কবিতা: ৫২টি

সমন্বিত স্কোর

৪.১৭

বিচারক স্কোরঃ ২.১৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.০২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftদেশপ্রেম (ডিসেম্বর ২০১৩)

আমন্ত্রণ
দেশপ্রেম

সংখ্যা

মোট ভোট ৩৭ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.১৭

খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি

comment ১৭  favorite ২  import_contacts ১,১১০
আরে মেয়ের বিয়ে নিয়ে এতো বিচলিত হচ্ছো কেন? যেনো তেনো ভাবে বিয়ে দিলেই তো হলো না। ঘরবর, বংশ মর্যাদা, যোগ্যতা সবকিছু দেখে শুনে তবেই না বিয়ে। তাছাড়া সুপাত্রে কন্যা দান বলেও তো একটা কথা আছে নাকি? বিজ্ঞ জনের মতো কথা গুলো বলে স্ত্রীকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করেণ আকরাম সাহেব। কিন্তু পাল্টা কথার ঝাঁজে পরাস্থ হন তিনি।
আ হাহাহা কি আমার কথার ছিরিরে! মেয়ের বিয়ে নিয়ে বিচলিত হচ্ছি কেন। বলি মেয়েকে আইবুড়ি করে ঘরে বসিয়ে রাখতে চাও নাকি এ্যা? কোন কথা শুনতে চাইনা আমি। আগামী মাসের মধ্যে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দাও এই আমার শেষ কথা। সুপাত্রের নিকুচি করেছি। কানা নুলা ল্যাংড়া খোড়া বাদে একটা হলেই হলো নিয়ে এস ধরে। সুকন্যার মা কথা গুলো সি’স্কেলে কন্ঠ চড়িয়ে দাঁত চিবিয়ে স্বামীর মুখের দিকে কটমট করে তাকায়।
স্ত্রীর মানষিক অবস্থার বিপর্যয় দেখে প্রথমতঃ কিছুটা ঘাবড়ে যান। বারাবারি না করে একগাল হেসে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেণ। আরে রসো রসো আর কটা দিন যেতে দাওনা! খুবভাল একটা ছেলের সন্ধান পেয়েছি দেখি কি করা যায়। স্ত্রীর রোশানল থেকে আপাতত রেহাই পাওয়ার জন্য একথা বলে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যান তিনি। বাইরে সুকন্যাকে মাথা নীচু করে দাড়িয়ে থাকতে দেখে কিছুটা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।
আজকাল প্রায়ই বাবা মার বাক যুদ্ধের দৃশ্যপট দেখতে হয় ওকে। মাঝে মধ্যে বিরক্ত যে হয়না তা নয়। কিন্তু কি করবে মেয়ের বিয়ের জন্য বাবা মাকে তো ভাবতেই হয়। কিন্তু তাই বলে অনৈতিক শর্তারোপ করে পাত্র খোঁজার বিষয়টা সুকন্যার মোটেও পছন্দ না।
বাবার পছন্দ সরকারী চাকুরে জামাই। আবার শুধু চাকুরে হলেই যে হবে তেমন নয়। মাসিক বেতন ছাড়াও সাথে কিছু উপরী আয় থাকা চাই। তার মতে শুধুমাত্র বেতনের টাকায় নাকি সংসার চলে না। মেয়ের বৈবাহিক সুখের অনুসঙ্গ নিয়ে মুলতঃ এমনি করে ভাবতে চান আকরাম সাহেব। কিন্তু মুশকিল হলো বাবার চিন্তা ভাবনার সাথে কখনো এক মত হতে পারেনা সুকন্যা।
চেহারা সুরৎ মাশা আল্লাহ সুন্দর। লেখা পড়াও ভাল। কিছুদিন হলো একটা এনজিও তে জয়েন করেছে। তবু কেন যে শুয়া পোকার পাখনা গজায়না কে জানে? ঘর হয়তো বর হয়না। আবার বর হয়তো যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এমনি করে কতো বিয়েই তো সুকন্যা ভেঙ্গে দিয়েছে।
লেখা পড়া জানা প্রগতিবাদী মেয়ে। কৈশর থেকে বাবার আদর্শে মুক্তি যুদ্ধের চেতনায় দেশাত্ব বোধ নিয়ে বড় হয়েছে। অথচ কি আশ্চর্য একাত্তরের সেই আকরাম সাহেবের মনোনে অবৈধ আয়ের প্রসঙ্গটা আসে কি করে? কি করে বাবা দেশপ্রেমের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন? অন্তর দগ্ধে হৃদয়টা জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যায় সুকন্যার। মেয়ের সুখের জন্য বাবার আদর্শের এই অপমৃত্যু সে দেখতে চায়না। খুব বেশী রকম মন খারাপ হলে বিদগ্ধ মনের সিড়ি বেয়ে খানিকটা উদার হতে চায় বাবার অতিত স্মৃতি মন্থন করে। একাত্তরের দেশপ্রেম সেতো নিছক রুপকথা নয়। বাবার কষ্টার্জিত অভিজ্ঞতার আর্কাইভে সাজানো স্মৃতি গুলো সুকন্যাকে কেবল অনুপ্রানিতই করেনি দেশপ্রেমে প্রলুদ্ধ করেছে। সৎ ভাবে বেঁচে থাকার শক্তি যুগিয়েছে। অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখিয়েছে। আদর্শ কন্যা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছে অস্তিত্বের মডেল হিসেবে। আজ কেন তবে বাবার এই অন্যায় আচরণ সুকন্যা ভেবে পায়না। একাত্তরে যদি জীবনের চেয়ে দেশপ্রেম বড় হয়ে থাকে তবে আজকে কেন নয়? আজ কেন মেয়ের সুখের জন্য মরিয়া হয়ে ঘুষ খোর জামাই খুঁজতে হবে তাকে?
শুধু বাবা কেনো সবাই আজ অবৈধ পন্থায় যে যে ভাবে পারে সুখের পায়রা ধরার প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছে। দেশের জন্য দশের জন্য কেউ আজ এতটুকুও ভাবতে চায় না। দেশের কাছে সরকারের কাছে শুধু চায়। কেউ কিছু করে দেখায় না। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নিজেরও যে কিছু করার আছে সে চিন্তা করেনা। “নন্দ যদি মরে তবে অভাগা দেশের কি হবে?” একথা এখন আর কেউ বলেনা। কারণ দেশে এখন নন্দলাল বলে কেউ বাস করেনা।
গাধার সামনে মূলো ঝুলিয়ে গনতন্ত্রের পিঠে চাবুক মেরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অলিক চেষ্টা সবার। অথচ গনতন্ত্রের দোহাই দিয়ে স্বাধীনতার নিয়ামক ভোগ করে নির্লজ্যের মতো কেবল নিজের ভাগ্য গড়তে ব্যাস্ত সবাই।
কেউ কেউ আবার ধর্মীয় মুল্যবোধকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ধর্ম রক্ষার অহেতুক চেষ্টায় সোচ্চার। এত সব জ্ঞানের কথা বলে নিজেকে জাহির করা সুকন্যার উদ্দেশ্য নয়। এসব সস্তা কথা সবাই জানে। ও শুধু কথা গুলো মানুষকে মনে করিয়ে দেয়।
চাকরীর সুবাদে সুকন্যাকে দেশের প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চল ঘুরে বেড়াতে হয়। কাজ তার দেশের অবহেলিত জনগোষ্ঠি ভূমিহীন মহিলাদের নিয়ে। নিজের অবস্থান থেকে দেশের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ ঠিক তখন থেকেই হৃদয়ে লালন করতে থাকে সে।
নিজস্ব চিন্তা শৈলী আর কল্পনার তুলি দিয়ে স্বপ্ন আঁকে। দেশটা যদি আবার নতুন করে সাঁচে ডেলে সাজানো যেতো তবে কতইনা ভাল হতো! সময় এবং সুযোগ হাত ছাড়া করতে চায়না সুকন্যা। এনজিও কর্মী হিসেবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর বিভিন্ন উঠান বৈঠকে তৃণমূল মানুষের মাঝে শিক্ষনীয় জরুরী কিছু তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে সবাইকে সচেতন করার পরিকল্পনা হাতে নেয়। ভূমিহীন দরীদ্র মহিলাদের নিয়ে বিভিন্ন টার্গেট গ্রুপ গঠন করে।
অবৈধ আয় রোধ, বাল্য বিবাহের কুফল, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, নিরক্ষরতা দুরিকরণ ইত্যাদি সমস্যা চিহ্নিত করে বিষয় ভিত্তিক সন্মুখ ধারণা দেয়ার সুখ পাঠ্য সচিত্র মডিউল তৈরী করে নেয়। তারপর সেই মডিউলের পাঠ্যক্রম অনুসারে সুবিধা ভোগীদের সাথে নিয়মিত উঠান বৈঠক করে। অল্প দিনেই সুবিধা ভোগীদের নিকট বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সুকন্যা। সবার সাথে অসাধারণ বাচন ভঙ্গি এবং নমনীয় আচার আচরণে মুগ্ধতার বীজ ছড়ায়। সুকন্যার কর্মকান্ডের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিনে দিনে বারতে থাকে।
সুবিধা ভোগী মহিলারা সুকন্যাকে সতন্ত্র ভাবে বুঝতে পারে। বিভিন্ন এনজিও দারীদ্র বিমোচনের কথা বলে ক্ষুদ্র ঋণের নামে শুধু সুদের টাকা গুনে নিয়ে যায়। কিন্তু সুকন্যার মতো শিক্ষনীয় জরুরী কাজের কথা কেউ কখনো বলেনা। সৎ ভাবে স্বাবলম্বি হয়ে কি করে সুখে জীবন যাপন করা যায় সুকন্যার কাছে সেই অমূল্য দিক নির্দেশনা তারা পায়।
সদস্য কতৃক সঞ্চয়ের মূলধন সমিতির সদস্যদের কাছেই জমা থাকে। ক্ষুদ্র ঋণের নামে উচ্চ সুদের ব্যাঙ্ক নামধারী প্রতিষ্ঠান এ টাকা অন্যত্র নিয়ে গিয়ে অট্রালিকা বানায় না। ফলে লাভের ভাগ পিপড়েকে দিতে হয়না। নিজেদের টাকা নিজেদের সমিতিতে জমা থাকে। প্রয়োজন মতো সে টাকা লেখাপড়া, কন্যা দায়, কিম্বা চিকিৎসার জন্য স্বল্প সুদে সুবিধা ভোগীদের মাঝে ঋণ দেয়া হয়। লাভের অংশ পুরোটাই সমিতির মূলধন থাকে।

সুকন্যার কথা শোনার জন্য উঠানে আসন পেতে সবাই এখন অধির আগ্রহে বসে থাকে। প্রতি দিন একটি করে গল্প পাঠ অন্তে তার বিভিন্ন আঙ্গিক বিশ্লেশন করে শোনায়। তারপর সেখান থেকে ফিডব্যাক নিয়ে পরবর্তি বৈঠকের জন্য পরিকল্পনা প্রনয়ন এবং মূল্যায়ন করে। এমনি ভাবে অভিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যায় সুকন্যা দেশের মানুষের কল্যানার্থে নিজের মেধা আর শ্রম কাজে লাগিয়ে। অল্প দিনে তার প্রজেক্ট দাড়িয়ে যায়।
একদিন হলো কি ধর্মীয় আলোকে দেশপ্রেম শীর্ষক আলোচনা করতে গিয়ে এক মুরব্বি সুকন্যাকে প্রশ্ন করে বসে। ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে দেশপ্রেমের তুলনা দিতে গিয়ে সমস্যা বেধে যায়। মুরব্বি কিছুতেই ধর্ম আর দেশকে একিভুত করে দেখতে চায়না। প্রশ্ন করে ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে দেশপ্রেমের সম্পর্ক কি? সুকন্যা এক কথায় উত্তর দেয় ‘সৎ ভাবে বেচে থেকে মানুষকে ভালবাসা’। সন্তুষ্ট না হতে পেরে মুরব্বি শেষে নামাজ রোজা হজ যাকাতের প্রসঙ্গ টেনে বেহেস্ত দোযক অব্দি নিয়ে যায়। সুকন্যা মুরব্বির কথার গুরুত্ব দিয়ে বিস্তারিত বুঝিয়ে বলে।
খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন করার জন্য চাচা আপনাকে ধন্যবাদ দিতে চাই। শোনেন নামাজ রোজা হজ যাকাত হলো ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান কিম্বা ধর্মীয় অনুশিলন। আর এই সব আচার অনুশিলনের নিগুঢ় তত্বই হচ্ছে ধর্মীয় মূল্যবোধ তথা মানুষের প্রতি প্রেম ভালবাসা। যেমন ধরেণ নামাজ রোজা হজ যাকাত যারা পালন করেণ তাদের দ্বারা সমাজে অন্যায় আচরণ করা সম্ভব হয় না। কারণ তারা আল্লাহকে ভয় পায় আর তাই মিথ্যে কথা বলা, ঘুষ খাওয়া, চুরি করা, ওজনে কম দেয়া, মানুষকে ঠকানো, ভেজাল মেশানো, ইত্যাদি অপকর্ম থেকে তারা বিরত থাকে।
অর্থাৎ নামাজ রোজা হজ যাকাতের দ্বারা ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত হয়। আর যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত থাকে পক্ষান্তরে সেখানে দেশপ্রেম সমৃদ্ধ হয়। সুকন্যা কথাগুলো বুঝিয়ে বলে মুরব্বির দিকে আবার সহাস্যে তাকায়। মুরব্বি সুকন্যার কথা গুলো সহজে বুঝতে পারে। মুরব্বি অত্যন্ত খুশি হয়ে উপস্থিত সবাইকে সুকন্যার কাজের সাথে সার্বিক সহযোগীতা করার আশ্বাস দেয়।
‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে। এই যদি হয় কাম্য তবে হাড় মাংস চিবিয়ে আর যাই হোক গাভীর কাছে দুধের আশা করা বৃথা। এই সহজ কথাটা মানুষ কেন যে বুঝতে চায়না সুকন্যা ভেবে পায়না। ঘুনে ধরা সমাজ নিয়ে সন্তানেরা কি করবে? সুখ পাখির দেখা কি তারা পাবে? না ঘুনে ধরা সমাজ নিয়ে কখনো তারা সুখ পাবেনা। সন্তানের সুখ যদি চাইতে হয় তবে তাদের জন্য বাস যোগ্য একটি সুন্দর দেশ রেখে যেতে হবে।
সুখের প্রকৃত মর্মার্থ শুধু বিত্ত বৈভবে সীমাবদ্ধ নয়। সুখের সঙ্গা আরো ব্যাপক আরো সুদুর প্রসারী। কেউ ইচ্ছে করলে কুড়ে ঘরেই সুখি হতে পারে আবার অর্থ প্রাচুর্যে ডুবে থেকেও অনেকে সুখি হতে পারেনা। অর্থ বৈভব সব সময় সুখ দিতে পারেনা। কিন্তু দেশপ্রেম নিরন্তর সুখের কথা বলে। সুকন্যা কথা গুলো সবাইকে বুঝিয়ে দেয়।
অপরের সুখের কথা ভাবলে নিজের দুঃক্ষ থাকেনা। নিজের বিয়ে নিয়ে তাই কখনো তেমন করে ভাবেনা সুকন্যা। মেয়ে হয়ে যখন জন্মেছে বিয়ে একদিন হবে। তবে বাবার পছন্দের ঘুষ খোর জামাইকে নয়। সৎ মেধাবী এবং কর্মক্ষম কাউকে বিয়ে করতে মানুষিক ভাবে প্রস্তুত সে। কারণ উল্লেখিত গুনাবলী যার মধ্যে প্রকট তার মতো সম্পদশালী পৃথিবীতে আর কাউকে আপাতঃ দৃষ্টিতে খুঁজে পায়না সুকন্যা।
সবচে কাছের বান্ধবী পারমিতা। স্বামী তার কি যেন এক সরকারী অফিসে চাকরী করে। ঘুষ খেয়ে অল্প দিনেই অগাধ টাকা পয়সার মালিক হয়েছে। অর্থ প্রাচুর্যে পারমিতার সুখ যেন শরীরে ধরেনা। শাড়ী গয়নার বাহার দেখে কে? গর্বে মাটিতে পা পড়েনা মেয়ের। সার্কাসের হাতির মতো শরীরের গয়না বাজিয়ে হেলেদুলে হাটে। মনে মনে ঘেন্না হয় সুকন্যার তার সুখের পারিধী দেখে।
বিয়ের কয়েক বছর যেতে না যেতে পারমিতার যত্নে পোষা সেই সুখের পায়রা উড়ে গিয়ে শ্রাবণ মেঘের অঝর ধারায় দুঃক্ষ নেমে আসে। অসৎ স্বামী তার অবৈধ অর্থ আর পাহার ছোয়া বিলাস শৈলী দিয়ে এক সময় পরকিয়া অভিলাসে মেতে উঠে। সতিনের জ্বালা সইতে না পেরে এখন বাবার বাড়ি হয়েছে তার স্থায়ী ঠিকানা।
তাই অসৎ কর্মকান্ডের সাথে দেশপ্রেম এবং সুখের সাংঘর্ষিক অবস্থান নিয়ে সুকন্যা মহিলাদের সচেতন করে তোলে। অসৎ স্বামী কোত্থেকে কি ভাবে আয় করে এ বিষয়ে নিজস্ব অবস্থান থেকে স্ত্রীরও কিছু করণীয় আছে। স্ত্রী যদি সচেতন হয় তবে স্বামীর আয় রোজগারের খোঁজ খবরদারী করা তার নৈতিক দ্বায়ীত্বের মধ্যে পড়ে।
বাদশাহ’র ছেলে যদি ‘শাহজাদা’ হয় তবে হারাম খোরের সন্তানেরা ‘হারামজাদা’ হবে এটাই স্বাভাবিক। অবৈধ মাদক ব্যাবসায়ীরা হারাম টাকা রোজগার করে সন্তানকে উচ্চ শিক্ষার জন্য যেখানে পাঠায় সেখানে লেখাপড়া না শিখে মাদকাসক্ত হয়ে সেই অন্ধকার ঘরেই যে ফিরে আসে এটাই বাস্তবতা।
তবুও মানুষ কেন অবৈদ টাকার পেছনে ছোটে সুকন্যার মাথায় আসেনা। পাপের টাকায় গড়া ইমারত খোলাম কুচি হয়ে ভেঙ্গে পরে সে কথা কে না জানে। কথা গুলো উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মানুষদের শুধু মনে করিয়ে দেয় সুকন্যা। রাতারাতি মানুষের চরিত্র বদলে যাবে সে কথা কখনো সে ভাবে না। তবে শুরু তো করতে হবে? যার যার অবস্থান থেকে সবাই যদি শুরু করে শেষটা তবে ভালই হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে যায় সুকন্যা আগামী দিনের এক নতুন বাংলা দেশের আশায়।
আজকের মতো গল্পের ইতি টানে সুকন্যা। তারপর আকর্ষিক ভাবে উপস্থিত সবাইকে বিয়ের নিমন্ত্রণ জানায়। সুখের কথা হলো ঘুষখোর জামাই আর নয়, আকরাম সাহেব সুকন্যার নৈতিক অবস্থান বিবেচনা করে তার ভুল শুধরে নিয়েছেন। তাই শেষ পর্যন্ত সুকন্যা বিয়ে করতে রাজি হয়েছে সবাইকে সুখবরটা জানিয়ে দেয়। আসছে ১৬ ডিসেম্বর সুকন্যার বিয়ে। জাতীয় স্মৃতি সৌধের বেদীমূলে তার মালা বদল হবে। কোন প্রকার উপঢৌকন নয় তরতাজা ফুল হাতে আসবেন কিন্তু বিয়েতে আপনারা সবাই আমন্ত্রিত.............।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • হিমেল চৌধুরী
    হিমেল চৌধুরী সু-শিক্ষা সবার জন্যই প্রয়োজন। গল্প ভালো লাগলো।
    প্রত্যুত্তর . ৫ ডিসেম্বর, ২০১৩
  • জায়েদ  রশীদ
    জায়েদ রশীদ গল্পটি সত্যিই পাঠককে নৈতিকভাবে আরও সচেতন করবে। ভাল লাগল।
    প্রত্যুত্তর . ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৩
  • সহিদুল  হক
    সহিদুল হক তবুও মানুষ কেন অবৈদ টাকার পেছনে ছোটে সুকন্যার মাথায় আসেনা। পাপের টাকায় গড়া ইমারত খোলাম কুচি হয়ে ভেঙ্গে পরে সে কথা কে না জানে।" সুস্থতার বাতাসে ভরপুর গল্পখানি..! খুব ভাল লাগলো!
    প্রত্যুত্তর . ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩
  • এফ, আই , জুয়েল
    এফ, আই , জুয়েল # দারুন আমন্ত্রন । এর শিক্ষনীয় দিকটা খুবই মারাত্মক । অনেক শিক্ষনীয় ও চেতনা জাগানিয়া একটি লেখা । লেখককে অনেক ধন্যবাদ ।।
    প্রত্যুত্তর . ২০ ডিসেম্বর, ২০১৩
  • এশরার লতিফ
    এশরার লতিফ সুকন্যার মত শক্তিশালী চরিত্রের ভেতর দিয়ে একটি সমাজের স্খলন ও নৈতিকতা দারুনভাবে প্রতিভাত করলেন. ভালো লাগলো অনেক.
    প্রত্যুত্তর . ২২ ডিসেম্বর, ২০১৩
  • সুমন
    সুমন নৈতিকতা আর অনৈতিকতা দুটোকো পাশাপাশি তুলে ধরে সুকন্যার দৃঢ়তা আর সুখের যে চিত্র একেছেন সত্যিই তা দারুন হয়েছে।
    প্রত্যুত্তর . ২২ ডিসেম্বর, ২০১৩
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ নীতিকথা পূর্ণ একটি গুছানো গল্প........যদি সবাই বুঝতো!
    প্রত্যুত্তর . ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৩
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক অনেক সুন্দর একটা থিম জ্যেতি ভাই...গল্পটা সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন...মুগ্ধ....
    প্রত্যুত্তর . ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৩
  • তানি হক
    তানি হক দেশ প্রেমের উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে রইবে আপনার গল্পটি ভাইয়া ... আমাদের সমাজে যদি আমন সুকন্যার জন্ম ঘরে ঘরে হত তবে একটি জাতি নয় একটি দেশ নয় ... পুরো পৃথিবী ই বদলে জেত । । আর সুকন্যার এই কথা গুল মনের রাখার মত সারাজীবন
    ( অসৎ স্বামী কোত্থেকে কি ভাবে আয় করে এ বিষ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৩
  • মোঃ মহিউদ্দীন সান্‌তু
    মোঃ মহিউদ্দীন সান্‌তু অনেক সুন্দর একটা সাজানো গোছান গল্প, খুব ভালো লাগলো।
    প্রত্যুত্তর . ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

advertisement