লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ৭টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৬১

বিচারক স্কোরঃ ২.৬১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_left২১শে ফেব্রুয়ারী (ফেব্রুয়ারী ২০১২)

যাপিত জীবনে
২১শে ফেব্রুয়ারী

সংখ্যা

মোট ভোট ৪০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৬১

মোহাম্মদ শামসুল আলম

comment ১৮  favorite ১  import_contacts ৭৮৭
মাফুজাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় গেল চার বছরের মেয়েটি ? সেই সকাল থেকে উদাও। এখন বেলা তিনটা বাজে। আশে পাশের ঘরে খোঁজ করা হয়েছে। কোথাও নেই। মাফুজার বাবা- মা আর বেড়াতে আসা ছোট মামা পাগলের মতো হন্যে হয়ে খুঁজতেছেন। না কোথাও নেই। একবার মনে হলো মেয়েটি কী পুকুরে পড়েছে ? মনে হতেই বাবা আকরাম সাহেব ছুটে গেলেন পুকুরের দিকে। পুকুরের চারিদিকে ঘুরতে লাগলেন। বাড়ির লোকজন অনেকেই পুকুরে নেমে গেলেন। তারা ডুব দিয়ে গভীর পানিতে তল্লাসি চালালেন। হঠাৎ মাফুজার মা লক্ষ্য করলেন পুকুর পারের ঝোপের আড়ালে তার ছেলের কবরে কে যেন পড়ে আছে। তিনি কাছে গিয়ে দেখেন মেয়েটি তার ভাইয়ের কবর জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে। দিশেহারা মায়ের অনিয়ন্ত্রীত চোখের জলে নিরবতা ভেঙ্গে কান্নার রোল বইল বাতাসে। মেয়েকে হৃদয়ের গভীরে জড়িয়ে ধরে উম্মত্ততায় তিনি হিতাহীত জ্ঞান শূণ্য । বাবা পুকুরের ওপাড় থেকে পাগলের মতো দৌঁড়াতে লাগলেন। তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে মেয়েকে বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে চেঁপে ধরলেন কতক্ষণ। জামার আস্তরণ ভেদ করে বুকের গভীরে জ্বলে উঠা আগুন নিভাতে যতক্ষণ লেগেছিল। এরই মধ্যে বাড়ির সকলেই জড়ো হয়ে গেল। এ হৃদয় বিদারক দৃশ্যে কারো চোখের পানি থামিয়ে রাখতে পারলেন না ।
মাফুজার বাবা বললেন, মা চল বাড়ি যাই।
মাফুজা কাঁদতে কাঁদতে বলল, বাবা ভাইয়াকে নিয়ে চল। তুমিইতো ভাইয়াকে এ মাটিতে ঢুকিয়ে রেখেছ। ভাইয়াকে ছাড়া আমার কিছুই ভাল লাগে না।
মাফুজার বড় ভাইকে মাত্র তিন দিন আগে এখানে কবর দেয়া হয়েছিল। সেই থেকে মাফুজা সারাক্ষণ ভাইয়াকে খোঁজে। আর চোখের পানি ফেলে। মাকে বার বার প্রশ্ন করেছে, ভাইয়াকে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখলে কেন ? আমার কী কষ্ঠ হয় না। আমার ভাইয়াকে এনে দাও।
বাবা-মা মেয়েকে বার বার বুঝাতে চেয়েছে, তোমার ভাইয়া আল্লাহর কাছে চলে গেছে। সেখানে সে ভালই আছে। তার অনেক খেলার সাথী আছে।
কিন্তু চার রছরের অপরিপক্ক ছোট্র মন কিছুতেই শান্ত হলো না।
ভাইয়া চলে যাওয়ার পর থেকে মাফুজা খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। জোর করে কিছু খাওয়ালে সে বমি করে দেয়। মা- বাবার কাছ থেকে জেনেছে ভাইয়া আল্লাহর কাছে চলে গেছে। এ জানার মধ্যে তার অবুজ মন শান্তনা খুঁজে পায় না। কিন্তু সান্ত্বনা দেয়ার মতো আর কোন ভাষা তাদের জানা নেই। সে শুধু ভাইয়াকে চায়। এ ক্ষেত্রে কোন যুক্তি দিয়ে মনকে বুঝানো যায় না। এখন সে কারো সাথে কথা বলে না। সুযোগ পেলেই পুকুর পাড়ের জঙ্গল ঘেরা কবরের কাছে গিয়ে অশ্রুজলে ভাইয়াকে ডেকে ডেকে এক সময় ক্লান্তিতে কবর জড়িয়ে ঘুমিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে জোর করে আনতে হয়। যে মেয়েটি ভয়ে একা একা ঘর থেকে বের হতো না সেই মেয়েটি সকলকে ফাঁকি দিয়ে কবর এলাকার গভীর নীরবতা ভেঙ্গে চলে যায় সেখানে ! পর পর দুবার তাকে ভাইয়ার করর থেকে তুলে আনা হয়েছে। একদিন গভীর রাতে মা উঠে দেখেন মাফুজা বিছানায় নেই। তিনি স্বামীকে ঘুম থেকে উঠালেন। মা হারিকে নিয়ে কবরস্থানের দিকে ঝড় গতিতে ছুটলেন। আকরাম সাহেব কাঁচা ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে স্বাভাবিক হতে হতেই দেখেন মাফুজার মা হারিকেন নিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছেন। আকরাম সাহেব কিছু না বুঝেই স্ত্রীর পিচু নিলেন। ছেলের কবরের কাছে এসে শুনেন, মাফুজা ভাইয়া ভাইয়া বলে ঢেকুর তুলে তুলে কাঁদছে। সেদিনের এ দৃশ্য কেবল গভীর রাতে পথযাত্রী সেইসব পশু পাখীরাই অবলৌকন করেছিল। তারা অপ্সরীর মতো মেয়েটির দু:খের সাথী হয়ে তার পাহারায় নিয়োজিত ছিল।
পরের দিন আকরাম সাহেব ডাক্তারের কাছে গেলেন।
আকরাম সাহেব বললেন, ডাক্তার সাহেব আমার ছেলেটি ২১শে ফেব্রুয়ারীর মিছিলে গিয়েছিল। হঠাৎ গুলি খেয়ে সে মারা গেছে। আমাদের একমাত্র অবলম্বন সোনার টুকরা ছেলেটিকে হারিয়ে এমনিতেই আমরা না মরেও মরে আছি। এখন মনে হয় মেয়েটিকে হারাতে চলেছি। ছেলেটির শোকে আমরা বুকে পাথর বেঁধেছি। আর ভাইকে হারিয়ে মেয়েটি নিজেই হারিয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে। এ ছয় দিন আমার কছি মেয়ে কিছুই খাচ্ছে না। প্রথম কদিন ভাইয়া ভাইয়া বলে খুঁজত। গত দু'দিন থেকে কারো সাথে কথা বলে না। সুযোগ পেলেই ভাইয়ার কবর জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে। গত কাল গভীর রাতে কবরের কাছে গিয়ে কাঁদতে থাকে। এই মেয়েটি কখনো একা ঘর থেকে বের হতো না। সে অন্ধকারকে ভয় পেত। এখন সে একা একা গভীর রাতে ভাইয়ার কবরে চলে যায়। বলতে বলতে আকরাম সাহেব ডাক্তারের চেম্বারে অনেক রুগীর সামনেই নিঃশব্দে কেঁদে দিলেন।
ডাক্তার সাহেব বললেন, আপনার মেয়ের এই বিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। ছোট্র হৃদয়ে সব সময় ওর ভাইয়ের অবয়ব দৃশ্যমান। ওর ভাইয়ার গভীর ভালবাসা ওকে ঘিরে থাকতো। এ সময় কিছু কাল হলেও তার পৃথিবী ছিল পরিবারের এ'কজনকে ঘীরে। এখন সে অনেকটা একা। ভাইয়াকে না দেখার অভিঘাতটা তার জন্য অসহনীয়। তার মন সব সময় ভাইকে খুঁজে। আবার আপনারা তার সামনেই তার ভাইকে কবর দিয়েছেন। মাটির ভেতরে ঢেকে রেখেছেন। আপনাদের এই আচরণ তার অবচেতন মনে নিষ্টুরতার প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে। তাই সে আপনাদেরকে ভয় অথবা ঘৃণা করে। এখন আপনারা তাকে অনেক বেশি সময় দিন। সারাক্ষণ তার সাথে সাথে থাকুন। আস্তা ফিরিয়ে আনতে চেষ্ঠা করুন। আর যত সম্ভব তাড়াতাড়ি আরেকটি সন্তান নিন। এ অসুখের আর কোন ট্রিটমেন্ট নেই। তার অরেকটি ভাই অথবা বোন পেলেই সে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। এখন তাকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যেতে পারেন।
এদিকে দিনে দিনে মাফুজার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। আকরাম সাহেব মাফুজাকে অনেক ডাক্তার কবিরাজ দেখালেন। কিন্তু অবস্থার কোন উন্নতি হলো না। দীর্ঘ দেড় বছর সময়ের মধ্যে মাফুজা একবারেই শজ্বাসায়ী।

এ সময়ের মধ্যে আকরাম সাহেব একটি ছেলে হয়েছে। মাফুজা তার নতুন ভাইয়াকে পেয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠে। এখন সে ভাইয়াকে ছাড়া কোথাও যায় না।
ভাইয়াটির নাম রেখেছে মাফুজা। হারিয়ে যাওয়া ভাইয়ার নামে তার নাম দিল আলীফ।
সেদিন আকরাম সাহেবের এ কলিগ আলীফকে আইক্রিম কিনে দিল। আইক্রিম গলে যাচ্ছে কিন্তু আলীফ খাচ্ছে না। বেচারা অনেক করে বলল, বাবা আইসক্রি গলে যাচ্ছে তুমি খেয়ে নাও। তবু আলীফ খেল না। কোন কথা বলল না। লোকটি এবার পাশের দোকান থেকে আকরাম সাহেবকে ডেকে বললেন, তোমার ছেলেকে আইসক্রিম কিনে দিলাম সে খাচ্ছে না। আবার কোন কথাও বলছে না। আইক্রিমতো গলে যাচ্ছে। আকরাম সাহেব বললেন, ভাই ও আপুকে ছাড়া খাবে না। তার ধারণা বাড়ি গিয়ে আপুর সাথে মজা করে খাবে।
এবার লোকটি বলল, তা হলে ওটা ফেলে দিতে বল। আমি ওকে এক প্যাকেট বিস্কুট কিনে দি।
এভাবেই আলীফ আর মাফুজা বড় হতে থাকে।
এক সময় মাফুজার বিয়ে হয়ে যায়। সে শ্বশুর বাড়িতে চলে যায়। কিন্তু তার মন পড়ে থাকে নিজ বাড়িতে। সে সব সময় ভাবে ভাইয়াটি স্কুলে গেল কি না। স্কুলে টিফিন খেয়েছে কি না। নাকি না খেয়েই দুপুর পর্যন্ত কাটিয়ে দিয়েছে স্কুলে।
মাফুজার স্বামী বাজারে গেলে, কিছু চানাচুর, পেয়ারা, জলপাই এনে গোপনে মাফুজাকে দেয়। কিন্তু মাফুজার গলা দিয়ে এসব ঢুকে না। বাবার বাড়িতে মুখে কিছু দেয়ার আগে ভাইয়ার মুখে দিত। এখন ভাইয়া কাছে নেই, তাই এসব গোপনে রেখে দেয়, যদি ভাইয়া আসে।
আলীফ আগে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নদীর তীরে বই রেখেই নদীতে ঝাপ দিত। অনেকক্ষণ সাঁতার কেটে বাড়ি ফিরত। বোনটি চলে যাওয়ার পর থেকে সে একে বারে শান্ত হয়ে যায়। এখন তার কিছুই ভাল লাগে না। বাগানে গিয়ে অনেক্ষণ কাঁদে। যখন আর কাঁদতে পারে না তখন ঘরে ফিরে। বাবা মা এসব দেখেও না দেখার ভান করে। ছেলেকে আদর করে দেয়।
একদিন আলীফের মন অশান্ত হয়ে যায়। গত রাতে আপুকে স্বপ্নে দেখেছে। স্কুলে তার মন বসে না। আলীফ স্কুল থেকে বোনের বাড়ি চলে যায়। তাকে পেয়ে বোনটি খুব খুশি হয়। ছোট ভাই আসবে বলে এতদিনের জমানো, চানাচুর, পেয়ারা, আমলকি রুমালে গিট দিয়ে নেয়। মাছ ভাত দিয়ে খেতে দেয়। নিজে ভাত বেড়ে দেয়।
ভিতর ঘর থেকে মাফুজার শ্বাশুড়ি বললেন, বউ, তুমি তোমার ভাইকে দুই টুকরা মাঝ দিলে কেন ? মাফুজা বলল, মা আমি আমার ভাগেরটা ভাইকে দিয়েছি। আমি মাছ খাব না।
শ্বাশুড়ি রেগে বললেন, তোমার আবার মাছ খেতে হবে কেন ? তোমার বাবাতো শীতের পিঠা এখনো পাঠায় নি। আম কাঠাল পাঠিয়েছিল মাত্র এক টুকরী। তোমার ফকির বাবাতো জামাইকে তো কিছুই দিল না। ভাইয়ের সামনে শ্বশুড়ীর এসব কথায় মাফুজা ব্যথিত হয়।
মাফুজার সমর্পিত জীবন অপমানে অপমানে আতুরাশ্রম থেকে মুক্তি চায়। সে ফিরে পেতে চায় পিতা মাতা ভাইকে ঘিরে নিবিড় হৃদ্যতা পূর্ণ যাপিত জীবনে। বালুর চরে আটকে পড়া জাহাজের যাত্রি হতে চায় নি। কলাবাদুরের মতো নিঃশব্দে চলা জীবনের অবসান চায়। মায়ের কোলের সি্নগদ্ধতায় শান্তিতে ঘুমোতে চায়। হৃদয়ের এত আকুলতা ভাইকে বলতে পারে না। সে বলতে চায় ছোট ভাই আমাকে নিয়ে যা। আমাকে শৃঙ্খলিত জীবন থেকে মুক্তি দেয়। বাবার অসামর্থের কারনে মাফুজা ব্যকুলতা প্রকাশ পায় না। এখন সে বুঝে তার বড় ভাইটি যদি আজ বেঁচে থাকত তবে নিশ্চয়ই তাদের সংসারের হাল ধরত। বৃদ্ধ পিতাকে আজো লাঙ্গল টানতে হতো না। তাকেও এ বয়সে বিয়ে দিত না। এ সংসারের প্রতিটি মানুষকে এত যাতনা সইতে হতো না। ২১শে ফেব্রুয়ারী তাদের জীবনকে শেষ করে দিয়েছে।
আলীফ খেতে খেতে মাফুজার শ্বাশুড়ির এসব অভিযোগ শুনে। তার দু'চোখের পানি ঠেকিয়ে রাখতে ব্যর্থ চেষ্টা করে চলেছে বার বার। বিদায়ের বেলা মাফুজা আড়ালে ভাইয়ার স্কুল ব্যাগে একটি কাপড়ের ছোট্র পোটলা গুজে দেয়। বলে দেয় বাড়ি গিয়ে এটা খুলবি। আলীফ আপুর নিসর্গের অপ্রকাশিত ভাষা বুঝে। আপুর খুশীর জন্য এ জীবন বিলিয়ে দিতে চায়। কিভাবে আপুকে খুশি করবে এসব ভবিষ্যত ভাবনা ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফেরে। আপুর দেয়া রুমাল খুলে দেখে সাতটি পেয়ারা। দুটি শুকিয়ে গেছে। কিছু চানাচুর, জলপাই আর দশ টাকা। আপুর ভালবাসা মাখানো খাবারগুলো ফেলে দিতে মন চাইল না। তাই গলে যাওয়া চানাচুর আর পঁচে যাওয়া জলপাই মুখে দিয়ে আলীফ বাগানের মধ্যে আপুর জন্য অনেকক্ষণ কাঁদল। আলীফ ভাবল বাবা আপুকে কেন বিয়ে দিল! তার বড় ভাই বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই সে আপুর জন্য কিছু করত।
দেখতে দেখতে আলিফ ডিগ্রী পাশ করে গ্রামের এক কর্তা ব্যক্তির কারনে চাকুরি পেয়ে যায়। চাকুরী পেয়ে শহরে চলে আসে। মেসে উঠে। আলীফ অফিস থেকে ফেরার পথে মার্কেটে যায়। সেখান গিয়ে দেখে রাখে বেতন পেলে আপুর জন্য কোন গয়নাটি কিনবে। আলীফের তো সোনার গয়না কেনার টাকা নেই । সে ইমিটেশনের গয়না খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে আর দাম জিজ্ঞেস করে। আপুর জন্য বেতন পেয়ে কোন শাড়িটি কিনবে তাও সে দেখে রেখেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে ঘুরে দেখে আর প্রতিদিন পছন্দ পরিবর্তন করে। মায়ের শাড়ি আবার লুঙ্গি সে পছন্দ করে রাখে।
এদিকে মাফুজার দিন কাটে না। ভাইয়াটি কেমন আছে। কবে আসবে। বাবা কেন তাকে নিতে আসে না। কখন তার ছুটি হবে। পেয়ারাগুলো পঁচে যায়। ভাইয়া আসে না। মাফুজার ব্যকুলতা চেপে রাখে শ্বশুড়ির দৃষ্টি সীমানা থেকে। সে বার বার যাপিত জীবনে ফিরে যেতে চায়। সে ফিরে পেতে চায় ২১শে ফেব্রুয়ারীতে হারিয়ে যাওয়া ভাইটিকেও। যে জীবনের ক্ষয় নেই, অথচ ওই জীবনের প্রীতিদান একটি পরিবারের দু:খদুর্দশা।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement