লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৪২

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগর্ব (অক্টোবর ২০১১)

হিমালয় ছাড়িয়ে
গর্ব

সংখ্যা

মোট ভোট ৪২

মোহাম্মদ শামসুল আলম

comment ১৫  favorite ১  import_contacts ৮২২
লায়েস সাহেব বিশ দিনের আর্ন্ড লিভ চেয়ে দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। যে দিন থেকে ছুটি চেয়েছেন তারও পনের দিন আগে। বিধি মোতাবেক ছুটি মঞ্জুরির জন্য বেশ কয়েকটি টেবিলে ফাইল চলাচল করে। তার আগে এজি অফিসের ছুটি জাতীয় ফরমালিটিস সারতে দীর্ঘ তিন দিন তার পিয়নকে এজি অফিসে কাটাতে হয়েছে। এই অফিসটি আল্লাহতালা সরকারী কর্মকর্তাদের শাস্তি দেয়ার জন্য সৃষ্টি করেছিলেন। সরকারী অফিসে জন্মাবার পর থেকে আমরণ এজি অফিসের মাধ্যমে সরকারী কর্মকর্তারা দুর্ভোগ পোহায়িয়ে কিছুটা পাপ মোচন করেন। লায়েস সাহেবের কাছে মনে হয় সরকারী কর্মচারীদেরকে মেডিক্যাল এলাইন্সেরমতো এজি জাতীয় এক প্রকারের এলাইন্সের ব্যবস্থা রাখা দরকার ছিল। যাইহোক লায়েস সাহেবের ছুটির ফাইল যার টেবিলেই যায় তিনি এই অতি সাধারণ দরখাস্তটি বার বার করে পড়েছেন। আর চোখ কপালে তুলেন। আজ কী সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠেছে ! যেই মানুষ ছুটির দিনেও অফিসে কাটান তিনি নাকি বিশ দিনের আর্ন লিভে যাবেন। আবার দরখাস্তে লেখা রয়েছে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। ছুটি কালীন ঠিকানা দিয়েছেন তাও বাসার। গ্রামের ঠিকানা থাকলে না হয় বুঝা যেত জীবনের প্রথম দেশে বেড়াতে যাচ্ছেন।
ব্যাপারটা কী ! এই নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে।
লায়েস সাহেব একজন কর্মকর্তা। তার কলিগ সকলেই জানেন তিনি কখনোই ছুটি ভোগ করেন নি। দীর্ঘ চাকুরী জীবনে তার সার্ভিস বুকে কেবল রেস্ট এন্ড রিক্রিয়েশন ছুটির তালিকা রয়েছে। প্রতি তিন বছর পর পর পনের দিনের ছুটি ভোগের কথা লেখা রয়েছে। প্রকৃত পক্ষে এই পনের দিনও তিনি অফিসে আসেন, কাজ করেন কিন্তু সই করেন না। প্রাপ্য ছুটি ভোগ না করার সম্ভাব্য অনেক কারণের মধ্যে একটি হলো ঘুরে বেড়ানোর মতো অতিরিক্ত অর্থের ঘাটতি। অন্য একটি কারণ যা কেই জানেন না। হৃদয়ে লালিত কারণগুলো জানা যায় না। আরো কারণ থাকতে পারে যেমন, হেড কোয়াটারের গণ্ডগোল। তবে বেশি না। হালকা গণ্ডগোল থাকায় এই বিষয়টি সহজে নজর এড়িয়ে যায়। হেড কোয়াটারে বেশি গোলমাল দেখা দিলে ডাক্তারি ভাষায় তাকে পাগল বলে। কম গোলমাল থাকলে অনেকেই তাকে জ্ঞানী ব্যক্তি বলে। গোলমালের ধরনের উপর নির্ভর করে কোন প্রকারের জ্ঞানী ব্যক্তি। এ ডিগ্রী অর্জনে একাডেমিক কোন পরীক্ষা দিতে হয় না। সার্টিফিকেটের স্তুপ আর হেড কোয়াটারে কিছুটা গোলযোগ থাকলেই চলে। লায়েস সাহেবের বিষয়টি এই দু'য়ের মাঝামাঝি হতে পারে। কেননা তিনি পারিবারিক দায়িত্ব অফিসিয়াল দায়িত্ব কোন কিছুই এড়িয়ে যান না। যাই হোক, লায়েস সাহেবের ছুটির দরখাস্ত পেয়ে বড় সাহেব কিছুটা বিব্রত হয়ে তাকে ডেকে পাঠালেন। বড় সাহেব জানেন, লায়েস সাহেব একজন ইফেক্টিভ ইফিসিয়েন্ট অফিসার। তার নির্মাণশৈলী মজবুত। তাকে সব সময়ই দরকার।
কী খবর লায়েস সাহেব, একেবারে বিশ দিনের ছুটি চেয়েছেন। কোথাও তো যাচ্ছেন না, এত দিনের ছুটি দিয়ে কী করবেন।
স্যার, মেয়ের পরীক্ষা।
কী পরীক্ষা।
ও-লেভেল।
আপনার বাসাতো অফিস কম্পাউন্ডের মধ্যে। তা ছাড়া সন্ধ্যার পর প্রায় প্রতি দিনই আপনি অফিসে আসেন।
জ্বী স্যার।
তবে ছুটি নিচ্ছেন কেন ? আমিতো জানি আপনি মেয়েকে পড়ান না।
জ্বী না, স্যার।
তা হলে শুনেন, যে ক দিন পরীক্ষা চলে সে ক'দিন আপনি সন্ধ্যার পর এসে কাজগুলি করে দিবেন।
তা করে দেব স্যার, তবু ছুটিতে থাকতে চাই। অফিসের দায়িত্ব থেকে মুক্তি চাই।
ছুটিতে থাকলে কী চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন ? আমরা মাঠ পর্যায়ের কর্মী। ফিল্ডে সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। আসল কথা বলেন ।
তা হলে শুনেন স্যার। আমি আপনাকে দুটি ঘটনা শুনাব।
ক'বছর আগে ফ্রান্সে ট্রেনিঙে গিয়েছিলাম। আমাদের একজন ছিলেন, মোশারফ স্যার। তিনি আমার পাশের রুমে ছিলেন। প্রায়ই গল্প করতেন। বেশিরভাগ গল্পই তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। এক দিন তিনি বললেন, তার ছেলের ও-লেভেল পরীক্ষা। সে সময় তার ইংল্যান্ডে ট্রেনিং হয়েছিল। জিও পর্যন্ত হয়েছিল। তবু তিনি শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডে গেলেন না। ছেলের পরীক্ষার সময়ে তিনি ছেলের কাছে কাছে থাকবেন, এই ছিল অজুহাত।
এ কথা শুনে তখন আমি মনে মনে বলেছিলাম, আসলেই এটা স্যারের নিছক পাগলামি। কোন কোন বেশি মেধাবীদের মধ্যে যে রকমের পাগলামি থাকার কথা এটাও সেই রকমের। কেননা ছেলের মা আছেন, চাচারা আছেন, মামারা আছেন, তিনি না থাকলে ছেলের পরীক্ষা জনিত কোন কিছুর ঘাটতি হবে না। তারপরও বাইরের ট্রেনিং এ না যাওয়া পাগলামি ছাড়া আর কী।
এখন আমার নিজের মেয়ের পরীক্ষা। আমার ভেতরে যে কী প্রতিক্রিয়া হচ্ছে তারও একটা গল্প শুনাই স্যার।
বলেন, তবে আপনি তো আমার অতীতের কথা মনে করিয়ে দিলেন।
আপনার সন্তানদের পরীক্ষার সময়ে আপনার অনুভূতি মনে আছে, স্যার?
মনে নেই। তবে এখন মনে পড়েছে। তবু বলেন, ভাল লাগছে। বাচ্চাদের কথা শুনতে কার না ভাল লাগে। আমাদের সম্পত্তি তো আমাদের সন্তানরা। আপনার গল্পটি বলেন।
বহু বছর আগে এক লোকের বাবা লটারিতে দু'লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। বাবাকে এই খবর দেয়ার জন্য সাথে ডাক্তার নিয়ে এসেছেন। কারণ লটারিতে পাওয়া টাকার পরিমাণ বাবা শোনা মাত্রই অজ্ঞান হয়ে যাবেন এ বিষয়টি তিনি নিশ্চিত ছিলেন। তাই তখন ডাক্তারের প্রয়োজন হবে।
এবার অনেক কৌশল করে লোকটি তার বাবাকে বললেন, বাবা তুমি লটারিতে দু'লক্ষ টাকা পেয়েছ।
সংবাদ শোনা মাত্র তার বাবা অজ্ঞান হয়ে গেলেন, সাথে সাথে ডাক্তারও অজ্ঞান।
এখন পরীক্ষা আমার মেয়ের। এদিকে আমি এবং আমার স্ত্রী মনে মনে অজ্ঞান।
কাল আমার স্ত্রী নামাজ পড়ার জন্য ফ্যানের সুইচ অন করলেন। নামাজে দাঁড়িয়ে ভাবছেন, বাতাস লাগছে না কেন ?
আসলে তিনি যে রুমের সুইচ অন করেছেন, তার পাশের রুমে নামাজে দাঁড়িয়েছেন।
অতএব বুঝেন স্যার, আমাদের মন থাকবে মেয়ের পরীক্ষার হলে। আমাদের মনে এখন থেকেই ঘূর্ণিঝড় বইছে। মেয়েটি সেই প্লে গ্রুফ থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে। তাই পরীক্ষার সময় কী করে আমি অফিসে কাটাব ?
আর বলতে হবে না। আপনার যতদিন ইচ্ছে ছুটি কাটান। আমি ফাইলে অনুমোদন দিয়ে দিলাম।
এদিকে লায়েস সাহেব যে ছুটি নিয়েছেন এ কথা মেয়েকেও বলেন নি, আবার স্ত্রীকেও জানান নি।
এমনিতেই মেয়েটি মামার কাছে বলেছে, মামা আমি যদি সব সাবজেক্টে 'এ' না পাই, তবে কী অসুবিধে হবে !
লায়েস সাহেব স্ত্রীর মাধ্যমে এ কথা শুনে মেয়েকে বলেছেন, মা তুমি সব সাবজেক্টে 'সি' অথবা 'ডি' পেলেও কোন অসুবিধে নেই। তুমি টেনশন করো না। তোমরা তো সেই প্লে-গ্রুপ থেকে প্রায় প্রতি দিনই স্কুলে পরীক্ষা দিয়ে আসছ। তোমাদের লেখাপড়ার কৌশল আমাদের মতো না। অনেক অনেক উন্নত। গত এক মাস থেকে তো মক টেস্ট দিচ্ছ। এটাও মক টেস্টের মতো।
লায়েস সাহেব জানেন, এসব ছাত্র ছাত্রীরা হাইলি মোটিভেটেড। তারা বাস্তবতা বুঝে। পরীক্ষা তাদের নিত্য দিনের ব্যাপার। নকল কী করে করতে হয়, তারা জানে না। তারপরও তার ভয় হয় মেয়েটি সব সাবজেক্ট এক সিটিংএ দিচ্ছে তাই। তাদের স্কুলের একজন ভাল ছাত্র এক সিটিংএ সব পরীক্ষার প্রিপারেশন নিতে গিয়ে পরীক্ষার এক মাস আগে থেকেই মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই ছাত্রটি পরীক্ষা দিচ্ছে না। ডাক্তার নিষেধ করে দিয়েছেন। সে গুরুতর অসুস্থ।
লায়েস সাহেব নিজে খুব ভীরু প্রকৃতির। বীরত্বের ঘাটতির কারণে তিনি কখনো নেতা হতে পারেন নি। অনেক লেখা পড়া করেছেন। অনেক পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষার ভয় কোন কালেও কাটাতে পারেন নি। পরীক্ষার হলে ঢুকার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। পরীক্ষার খাতা হাতে নিয়ে স্বাভাবিক হতে দশ মিনিট লেগেছে। তাড়াহুড়ো আর টেনশনের কারণে আরো ভাল পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও খুব ভাল পরীক্ষা কখনো হয় নি। অথচ তারই মেয়ে পরীক্ষার আগের রাতেও অতি স্বাভাবিক থাকছে। সঠিক সময়ে ঘুমিয়েছে। সম্ভবত তাদেরকে এ সব বাস্তব বিষয়ে মোটিভেশন করা হয়েছে। এসব লেখাপড়ার কৌশলই তাদেরকে লক্ষ্য করার মতো দক্ষ মানুষে পরিণত করে তুলে। ওদের দক্ষতায় পুষ্পিত সৌন্দর্য ছড়ায়।
একদিন লায়েস সাহেব মেয়েকে বললেন, পরীক্ষার সময় যদি তোমার নিকটতম কোন আত্মীয়ের খারাপ সংবাদ শুন, তখনও তোমার পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। কেননা তোমার পরীক্ষা বন্ধ করলে তো রোগীর কোন উপকার হবে না। এ বিষয়ে তোমার মতামত কী ?
মেয়েটি বলল, তোমার কথা ঠিক।
মেয়ের উত্তর শুনে লায়েস সাহেব খুশী হলেন। বুক ভরে গেল।
প্রথম দিন পরীক্ষা শুরু হবে বিকেল সাড়ে চারটায়।
দু'দিন আগে লায়েস সাহেব সস্ত্রীক পরীক্ষা কেন্দ্র দেখে এসেছেন। পঁয়তাল্লিশ মিনিট আগেই পরীক্ষার্থীদের চেক করে হলে ঢুকানো শুরু করবে। ঢাকার যানজটের বিষয়ে আগাম কিছু অনুমান করা যায় না। তাই লায়েস সাহেবের মেয়ের বান্ধবী, যে রামপুরায় থাকে সে রওনা দেবে বেলা একটায়। পরীক্ষা কেন্দ্র বঙ্গ বন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার এ। লায়েস সাহেব মেয়ে এবং মেয়ের মাকে নিয়ে রওনা দিলেন বেলা দুটায়। মহাখালী থেকে মাত্র বিশ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্রে পেঁৗছে গেলেন। তখন বাজে দুপুর দুটা বিশ মিনিট।
প্রায় আট শত পরীক্ষার্থী, তাই সম্ভবত সাত শত গাড়ি আসবে। এসব বাড়তি গাড়ির চাপ থাকবে। ফলে যদি যানজট বেড়ে যায়। অথবা যদি গার্মেন্টস কর্মীরা কিংবা ছাত্ররা কোন কারণে ব্যথিত হয়ে রাস্তায় গাড়ি ভাংচুরের মহোৎসবে মেতে উঠে তখন যেন হেঁটে অথবা দৌড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছা যায় তাই প্রচণ্ড গরমের কারণে সঙ্গে ছাতাও নিয়ে নিলেন।
পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছে লায়েস সাহেব লক্ষ্য করলেন, প্রায় সব পরীক্ষার্থীই দু' আড়াই ঘণ্টা আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছে গেছে। তাদের দু' একজন ছাড়া কারো হাতে বই-খাতা নেই। একটু আগে পেঁৗছতে পারলে হলে ঢুকার আগে আরো কিছু পড়ে নেয়ার তাগিদ তাদের নেই। তারা যেন চির সতেজ।

লায়েস সাহেব স্ত্রীকে বললেন, এসব ছেলে মেয়েরা কোন টেনশন করে না।
লায়েস সাহেবের স্ত্রী বললেন, ওদের লেখা পড়া ভিন্ন প্রকৃতির। তারা সারা বছরই জান প্রাণ দিয়ে পড়াশুনা করেছে। বিষয় ভিত্তিক যে জ্ঞান অর্জন করেছে তা থেকে তাদেরকে লিখতে হবে। তাদের প্রশ্ন কমন পড়ে না। তাদেরকে দীর্ঘ পরিচর্যায় স্বীয় ক্রিয়েটিভটি জেনারেট করার সক্ষমতা তৈরি করা হয় মানুষ গড়ার কারখানাতে। সেই ভাবেই প্রশ্নের উত্তর ভিতর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেট হয়।
লায়েস সাহেব স্ত্রীর কথায় খুশী হলেন। তিনি আশ্বস্ত হলেন এই ভেবে যে, তার মেয়ের শক্তিশালী ক্রিয়েটিভটি পাওয়ার রয়েছে। সে স্ট্যান্ডার্ড সিক্স এ থাকতেই ত্রিশ-চল্লিশ মিনিটের মধ্যে নতুন গল্প লিখতে পারত। তার ছাপনো ইংরেজিতে লেখা কয়েকটি গল্প লায়েস সাহেব পড়েছেন। কিন্তু মায়ের কঠোর নিষেধাজ্ঞার করণে তার গল্প লেখা হয় না। গল্প লিখলে পড়াশুনার ক্ষতি হবে, এই ছিল মায়ের আশংকা। তাছাড়া ছোট বেলায় ড্রইং টিচারের কাছে আর্ট করা শিখেছিল। বড় ক্লাসে পড়ার চাপ বেড়ে যাওয়ায় মা ড্রইং ক্লাস বন্ধ করে দেন। তখন ড্রইং টিচার বলেছিলেন, আপনার মেয়ের মধ্যে প্রচণ্ড ক্রিয়েটিভটি রয়েছে। তাকে আর্ট শিখালে ভাল করবে। আবার সে ছোটবেলা থেকেই টেকনিক্যালি খুবই সাউন্ড। এত সব কল্পনা করেও লায়েস সাহেবের টেনশন কমছে না। পরীক্ষার সময় যতই এগিয়ে আসছে তার বুকের মধ্যে কাঁপুনি ততই বেড়ে চলেছে।
এদিকে ঠিক পঁয়তাল্লিশ মিনিট আগেই ছাত্র ছাত্রীদেরকে পরীক্ষা হলে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হলো। লাইন ধরা ছাত্র ছাত্রীদেরকে চেক করে একজন একজন করে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি মিলল। এর আগেই রোল নাম্বার, কলাম নাম্বার, হলের নাম, বাইরের নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছিল।
পরীক্ষা শুরু হল। লায়েস সাহেব মসজিদে গিয়ে দু'রাকাত নফল নামাজ পড়ে সেজদায় গেলেন। সেজদায় গিয়ে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে বললেন, হে মালিক, আমার মেয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। তুমি তাকে সাহায্য করার জন্য ফেরেশতা পাঠিয়ে দাও। তিনি মেয়ের বান্ধবীদের জন্যও দোয়া করলেন। লুকিয়ে লুকিয়ে চোখের পানি মুছলেন।
পরীক্ষা চলাকালীন তিনি লক্ষ্য করলেন, জেনারেটর চলছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছেন, পাওয়ার থাকলেও পরীক্ষা চলাকালীন জেনারেটর চালাতে হবে। এটা ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাথে হল কর্তৃপক্ষের চুক্তি। পাওয়ার চলে গেলে জেনারেটর চালু হতে যেন এক মিনিট ও সময় নষ্ট না হয় সে বিষয়েও ব্রিটিশ কাউন্সিলের নজর রয়েছে। কেননা একই সময়ে বিশ্বের প্রতিটি দেশে এই পরীক্ষা চলছে এবং একই সময়ে শেষ হবে। তারা জিরো টলারেন্সে এতকাল এসব পরীক্ষা চালিয়ে এসেছেন।
লায়েস সাহেব, স্ত্রীর কাছ থেকে আড়াল করে অনেক দূরে এসে বসেছেন। কেননা তিনি এখন সিগারেট খাবেন। আজকাল তো সিগারেট লুকিয়ে খেতে হয়। ছেলে, মেয়ে, বউ ঝি, মহিলা , শিশু, বৃদ্ধ ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন জাতের মানুষের সামনে সিগারেট খাওয়া যায় না। আজকালকার ডাক্তার যে কী ধরণের বোকামি করে যাচ্ছেন তা তারাও বোঝেন না। সিগারেটের বিরুদ্ধে এত বেশি অপপ্রচার চালিয়েছেন যে, একালে আবাল বৃদ্ধা বনিতা সকলেই সিগারেট খোর আর নেশা খোরের মধ্যে পার্থক্য করে না। আরে ভাই সকলেই যদি সিগারেট ছেড়ে দেয় তখনো ডাক্তারই রোগী না পাওয়ার মনোবেদনায় ভোগাবেন। নিজেদের বোকামির জন্য এক সময় তাদেরকেই হাসপাতালে বসে বসে মশা মাছি মারতে হবে। এভাবে এমন সময় আসবে যখন ইন্টার্র্নি ডাক্তাররা সেবা করার সাইনবোর্ড লাগিয়ে অন্য কোন গরীব দেশে প্র্যক্টিস করতে যেতে হবে। তখন যদি এমন রাষ্ট্র না পাওয়া যায় অবশেষে পশু পক্ষীর শরীর নিয়ে কাজ চালাতে হবে। যাইহোক লায়েস সাহেব এখন একা একা নির্জন এলাকায় আড়ালে বসে সিগারেট টানছেন। আর ভাবছেন, সাড়ে তিন বছর বয়সে মেয়েকে প্লে-গ্রুপে ভর্তি করিয়েছেন। মেয়েটি স্কুলে প্রথম দিনে শিখেছে, হাউ আর ইউ, আই এম ফাইন, থ্যাঙ্ক ইউ। মেয়েটি আদো আদো ভাষায় শেখা এ বাক্যটি শুনে মা খুশীতে বাক বাক হয়ে তার পরিচিত সকলকে জানিয়ে দিতে দেরী করলেন না।
হ্যালো ভাইয়া, তুমি সাহারাকে বল, হাউ আর ইউ। ওকে টেলিফোন দিলাম।
মামা ফোনে বলল, মা হাউ আর ইউ।
সাহারা, আদো আদো ভাষায় জবাব দিল, আই এম ফাইন, থ্যাঙ্ক ইউ।
প্লে-গ্রুপের ক্লাসের দরজা খোলা রাখতে হয়। কেননা অনেক বাচ্চা ক্লাস রুম থেকে দেখে মা আছেন কী না। মাকে না দেখলে তারা কান্নকাটি শুরু করে দেয়। তাই মিস বাধ্য হয়েই দরজা খোলা রাখেন। আবার একটু ফাঁক পেলে এসব ছাত্র ছাত্রীরা ক্লাস রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ইংরেজি স্কুলের কড়া নিয়ম নীতি থাকলেও তাদের বেলায় কর্তৃপক্ষ অসহায়। তখন থেকে প্রতিদিন বাবা- মা স্বপ্ন দেখতে থাকেন বাচ্চাদের উন্নত ভবিষ্যৎ নিয়ে। মেয়ের মার প্রতিদিনের পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার থাকে মেয়েটিকে নিয়ে। ঝড়- বৃষ্টি- তুফান- প্রচণ্ড খরা কোন কিছুই তার সঠিক সময়ে স্কুলের যাতায়াতে বাঁধা হয়ে গতি রুখতে পারে নি। আজ লায়েস সাহেবের মেয়ে এত পথ পেরিয়ে জীবনের প্রথম সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিচ্ছে।
লায়েস সাহেব ভেবেই চলেছেন, তার মেয়ে তো এ বয়সে এত বুদ্ধিমান হওয়ার কথা নয়। প্রতিটি বিষয়ে মেয়ের সাথে যতই আলোচনা করেন ততই তিনি মুগ্ধ হন। মেয়ের প্রতি স্নেহ, মমতা বেড়েই চলেছে। মনে হয়, ব্রিটিশরা তাদের মেধা দিয়ে সর্বকালে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে চলেছে। সেই সাত সমুদ্র তের নদীর দূরত্বে থেকে আমাদের দেশের মতো বিশ্বের ১৬৫টি দেশে তাদের সিলেবাসে পাঠ দান করে চলেছে। সেই জ্ঞান যারাই অর্জন করেছে তারাই সেই সমাজে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারছে। তাই মনে হয়, ব্রিটিশদের ম্যানেজমেন্ট পৃথিবীর সেরা। লায়েস সাহেব পড়েছেন, ম্যানেজমেন্ট ইজ কালচার বন্ড। কিন্তু আজ মনে হয় ব্রিটিশ ম্যানেজমেন্ট ইজ ইউনিভার্সাল। কোন দিন কোন কালে কেউ শুনে নি বিশ্বের কোন দেশে তাদের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। কোন অনিয়ম হয়েছে। তাদের সিলেবাসে বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়গুলিও রয়েছে। তাদের পরীক্ষার রুটিন গভীর ভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে কত পারমুটেশন কম্বিনেশনের মাধ্যমে কত নিখুঁত ভাবে এত গুলো সাবজেক্ট সারা বিশ্বের জন্য সেটিং করেছে। লায়েস সাহেবের কাছে মনে হয়, এসব লেখাপড়া এক্সপেঞ্চিপ না হলে সকলেই তাদের ছেলেমেয়েদের ইংরেজি মাধ্যমেই পড়াতেন। হয়তো এ কারণে অনেকেই অনেক অনেক কষ্ট করে এ মাধ্যমে বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন। তবে তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে শুনেছেন, বেশি কষ্ট করা এসব বাচ্চারাই বেশি ভাল করে থাকে। মনে হয়, এটা ব্রিটিশদের ব্যবসা নয় বিশ্ববাসীর প্রতি এটা তাদের দায়বদ্ধতা। বিশ্ববাসীকে উন্নত শিক্ষাদান করে তারা সেবা করে যাচ্ছে। এসব ভাবতে ভাবতে মনে মনে ব্রিটিশ কাউন্সিলকে একটা সেলিউট দিতে যাচ্ছিলে এমন সময় মোবাইল বেজে উঠল।
হ্যালো তুমি কোথায়, পরীক্ষা শেষ। ওরা বের হবে। গেইটে আস।
স্ত্রীর ফোন পেয়ে লায়েস সাহেব সিগারেট ফেলে ছুটলেন।
বের হওয়ার গেইটে এসে দেখেন লম্বা লাইলে দাঁড়িয়ে আছেন অভিভাবকরা। প্রায় প্রত্যেকের মা-বাবা-মামা-চাচা-ভাই- বোন ইত্যাদি রকমের দু'তিন জন করে প্রিয়জন এসেছেন। কিসের ব্যবসা। কিসের অফিস। সব কিছু বাদ। সারাক্ষণ পরীক্ষার হলের বাইরে বারান্দায় কেমোথেরাপি রোগীর মতো ঝিমিয়েছেন তারা। এ সময়ে মসজিদের প্রায় অর্ধেক মহিলাদের দখলে ছিল। যিনি জীবনেও নামাজ পড়েন নি তিনিও সন্তানের ভাল পরীক্ষার আশায় মসজিদে এসেছেন। প্রতিদিন নিজের সুখ-আরাম- আয়েস বাদ দিয়ে সন্তানরে জন্য খেটেছেন। আজ সেই বুকের ধন মানিকে জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। কী হবে অর্থ সম্পদ দিয়ে, যদি না সন্তানেরা মানুষ হয়। তাইতো গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটছে পিতা-মাতা স্বজনদের। যেমন অপারেশন সাকসেসফুল কী না কেবল এইটুকুই জানতে প্রিয়জনেরা অপেক্ষা করেন।
লায়েস সাহেবও লাইনে দাঁড়ালেন। এক জন মহিলা পিছন থেকে এসে লায়েস সাহেবকে ঠেলে তার সামনে এসে দাঁড়ালেন।
লায়েস সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, ম্যাডাম আপনার ছেলে না মেয়ে?
ম্যাডাম বললেন, আমার ছেলে।
তা হলে এত টেনশন করছেন কেন ? আমার তো মেয়ে ।
আরে ভাই মেয়েরা হলো লক্ষ্নী। কিন্তু ছেলের বাবা হওয়া মানে কঠিন দয়িত্বে থাকা। ছেলে বের হয়ে আমাকে না দেখলে অপেক্ষাও করবে না। আর আপনার মেয়ে যতক্ষণ আপনাকে না পাবে ততক্ষণ দেখবেন বাইরেও আসবে না।
এ কথা বলার সাথে সাথে গাদাগাদি করে দাঁড়ানো আরো মায়েরা ম্যাডামের কথার সমর্থনে ছেলেদের বিপক্ষে আর মেয়েদের পক্ষে অনেক ঘটনা বললেন। তখন লায়েস সাহেবের মনে হলো গত কালই তো চার পাঁচটি ছেলে পরীক্ষার পূর্বে সিগারেট টেনেছিল। অথচ তাদের গার্জিয়ানরা তো ছায়ার মতো সবসময় তাদের পিছু পিছু থাকছেন। কোচিং সেন্টারের নীচে বসে থাকেন পড়া শেষে ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে নিতে। তবে এসব ছেলেরা কারা। যারা ও- লেভেলেই সিগারেট ফুঁকছে। আজকালকার ছেলেরা তো সিগারেটকে ঘৃণা করে। ভাবতে ভাবতে লায়েস সাহেবের বুক ভরে গেল। লায়েস সাহেবের বুক ভরে গেল। আসলেই তার মেয়ে লক্ষ্নী। তার জ্ঞানের গভীরতা, বিনম্রতা, ব্যক্তিত্বের প্রখরতা, রুচীবোধের মহত্বতা এত কম বয়সে তার এত উন্নতি লক্ষ্য করে লায়েস সাহেব অভিভূত। পিতা হিসেবে তিনি এখনো গর্বিত। তাইতো লায়েস সাহেব এতসব নির্মাণ কৌশলী যাদের চিরন্তর পরিচর্যায় অন্যরা হিমালয়কে ডিঙ্গিয়ে পিতামাতার বুক ভরে দিয়েছে, তাদের প্রতি প্রতিনিয়তই মেলে ধরে আছেন বর্ণিল রূপময় পাপড়ির ভালবাসা।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • পন্ডিত মাহী
    পন্ডিত মাহী পরিপক্ক হাতের ছাপ... সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের সাধনার কথা দারুন ভাবে ফুটে উঠেছে... বাবা-মা গর্ব করছে তার সন্তান নিয়ে... আর সে সন্তান গর্ব করবে তার সেই বাবা-মা কে নিয়ে... অপূর্ব হয়েছে।
    প্রত্যুত্তর . ১১ অক্টোবর, ২০১১
  • সূর্য
    সূর্য আমি সবগুলো লেখাই পড়ার চেষ্টা করি। তাই যখন যে লেখাটা আগে আসে সেটা পড়ে ফেলি। কিন্তু আপনার এ লেখাটা পড়ার জন্য একজন আমাকে বলে দিয়েছেন তাই নিয়ম ভেঙ্গে পড়লাম এবং অনুরোধকারীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ দিলাম। **** এবার লেখক এবং লেখার কথা বলি। গল্পে কোন বাক্য আরোপিত ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১১ অক্টোবর, ২০১১
  • ভূঁইয়া মোহাম্মদ  ইফতেখার
    ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইফতেখার মুগ্ধ হবার মতো গল্প, অথচ পাঠক কম! আপনার গল্পটি পড়ে আমার এস.এস.সি-র দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেল। জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা, স্বপ্ন আর উৎকন্ঠা। বাবা-মার অনুভূতিগুলোও সুন্দরভাবে উঠে এসেছে।
    প্রত্যুত্তর . ১৬ অক্টোবর, ২০১১
  • ফাতেমা প্রমি
    ফাতেমা প্রমি লেখনী খারাপ না, কিন্তু একঘেয়ে ছিল...। ও লেভেল বিষয়ক একটি রচনা মনে হল।
    প্রত্যুত্তর . ১৭ অক্টোবর, ২০১১
  • তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
    তৌহিদ উল্লাহ শাকিল অনন্য সুন্দর এবং নিটল গল্প . বেশ ভালোলেগেছে , নিয়মিত লিখবেন আশা করি . শুভকামনা রইল .
    প্রত্যুত্তর . ১৭ অক্টোবর, ২০১১
  • তানভীর আহমেদ
    তানভীর আহমেদ গল্পের শুরুতে ভেবেছিলাম রম্য গল্পের দিকে টার্ন নিতে পারে। ব্যাপারটি আদৌ সত্য হয় নি। লেখার হাত পাকাপোক্ত। মনে হয় লেখালেখিতে বেশ কিছুটা সময়ের গ্যাপ থাকতে পারে।নিয়মিত লিখলে আরো নিখুত হতো এতে সন্দেহ নেই। ইংরেজি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অনেকেই জেনে হোক বা না জেনে...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১৭ অক্টোবর, ২০১১
  • খন্দকার নাহিদ হোসেন
    খন্দকার নাহিদ হোসেন আপনার লেখার হাত ভালো। গল্প ভালো লাগলো। মা-বাবার আদরের দিকটা বড় সুন্দর ফুটিয়েছেন। আর আশা রাখি তানভীর ভাই এর কথাটা আপনি ধরতে পেরেছেন। ও এ ভুবনে স্বাগতম।
    প্রত্যুত্তর . ২১ অক্টোবর, ২০১১
  • মোহাম্মদ শামসুল আলম
    মোহাম্মদ শামসুল আলম অন্যপ্রকাশ আগামী দিনের মার্কেট লিডার হিসেবে তার স্থায়িত্ব দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে গল্প কবিতা ডট কম সাইটটি পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এই মহান উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমার লেখা পড়ে যে সকল পাঠকবন্ধু আলোচনা করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ। হিমালয় ছাড়িয়ে গল্পটির মাধ্যমে মূলত দক্ষ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৩ অক্টোবর, ২০১১
  • আশা
    আশা খুব ভালো লাগার মতো একটি গল্প। সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার নেশায় মত্ত অভিভাবকদের একটা অংশ আপনার গল্পে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। ভালো থাকুন সবসময়।
    প্রত্যুত্তর . ২৩ অক্টোবর, ২০১১
  • মুহাম্মাদ মিজানুর রহমান
    মুহাম্মাদ মিজানুর রহমান ভালো.....
    প্রত্যুত্তর . ২৩ অক্টোবর, ২০১১

advertisement