নারী শরীরের গর্ব

গর্ব সংখ্যা

মোঃ ওমর
  • ২৩
  • 0
রাত্রির অধরে অন্ধকার চুইয়ে চুইয়ে পড়ে
সম্ভ্রমহীন এক অসহায় নারীর দেহ অধরে
মনুষত্বহীন মানুষগুলো হাতড়ে বেড়ায়
আর রাত্রি শুধু আঁধারে লুকায় ।

নব্য শিক্ষিতা মেয়ে আমি । শহরের এক কোণে থাকি । পড়ালেখার ধাপ সম্মান শ্রেণীর মাঝামাঝি । শেষ করতে গিয়েও হল না । বলতে হবে কপালের দোষ । সমাজের দোষ এ কথা এখনও স্বীকৃত নয় । কোলে আমার ছয় মাসের বাচ্চা । অথচ বিয়েই হয় নি । বাচ্চাটিকে ভালবাসি বলে শত যঞ্চনা-বঞ্চনার মাঝেও বেঁচে আছি । বাচ্চাটিও আমাকে ভালবাসবে । সবাই তো আর প্রতারণা করে না । এত কষ্ট করে সন্তান পালন আর সে কিনা করবে প্রতারণা !! হতেই পারে না । জীবনে প্রতারণার স্বীকার হয়েছি বহুবার । প্রথম প্রতারণার ফসল এই নবজাতক । কলেজের বন্ধুর সাথে প্রেম তারপর শারীরিক সম্পর্ক । বিয়ে করবে বলে করল না । না করেছে তাতে কি হয়েছে ? আমি সমাজের আর সবগুলো মেয়ের মত নই । সমাজের ছেলেগুলো যদি কু কর্ম করে বুক উঁচিয়ে চলতে পারে তবে আমি কেন পারব না । আর আমি তো কোন খারাপ কাজ করি নি । সেই ছেলের দোষে আমি একটা অনাগত প্রাণকে হত্যা করতে পারি না । বিবেক বলে তো কিছু আছে ।

এই দেশটা স্বাধীন হল্ওে স্বাধীন হয়নি । স্বাধীনতার মূল্য এরা দিতে জানে না । আড়ালে আবডালে এক আর সামনাসামনি আরেক । শহরের কোথাও আমার জায়গা হয়নি , যখন সন্তান আমার গর্ভে । বাবা মাও তাড়িয়ে দিল । স্থান হল এক পতিতালয়ে । সেখানেই আমার সন্তান ভূমিষ্ঠ হল । মানুষের সন্তানের ভাগ্যের সাথে আমার সন্তানের ভাগ্যের কি ফারাক । কিন্তু আমি এই পতিতালয়ে থাকি নি । আমার সন্তানের কথা ভেবে সেখান থেকে চলে এলাম । ছেলেটি বড় হলে সে যেন মাথা নিচু করে না থাকে সে জন্যই চলে এলাম । কিন্তু যাব কোথায় ? ছেলেকে খাওয়াব কি ? এই চিন্তায় ঘুরতে লাগলাম এদিক সেদিক । কোথাও স্থান হল না । সবাই স্বামী খুঁজে । অথচ আমিও যে একটি মানুষ । আমার কোলের সন্তানটিও একটি মানুষ । মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র ও স্বাধীন এ কথা কেউ ভাবল না । সবাই সেই স্বামী চায় । অথচ স্বামী তো কোনদিন স্বামিত্বের অধিকার নিয়ে পাশে দাঁড়াল না । যদিও বিয়ে হয়নি । তাতে কি ? বিয়ে তো আর কিছু নয় - একটা সামাজিক স্বীকৃতি মাত্র । এমনতো নয় বিয়ে একটি জাদুমন্ত্র । বিয়ে না করলে গর্ভে সন্তান আসবে না । কই এমন তো কখনও হবে না । আসলে বিষয়টা হল মনের স্বীকৃতি । মনের স্বীকৃতি ছিল বলেই আমরা শারীরিকভাবে মিলেছিলাম । এর মাঝে আমি তো কোন পাপ দেখি না । আমি তো কোন স্বামীর দাবীও চাই না বা কোন পুরুষের সাহায্যও চাই না । তাহলে সমাজ পতিরা কেন এমন বাঁধ সাধছে । পৃথিবীর আদিতে কি ছিল এমন বিয়ে নামক প্রথা ? যে যেভাবে পেরেছে যার সাথে মিলিত হয়েছে । সন্তান বৃদ্ধিই ছিল মূল লক্ষ্য । এখন মানুষের সভ্যতা সুন্দর হয়েছে তাই রীতিনীতিও পাল্টেছে । সেটা আমিও স্বীকার করি । তার মানে তো এই নয় কেউ আমার সাথে থাকবে না বলে আমাকে ধুকে ধুকে মরতে হবে ? এই প্রশ্নের উত্তর কে দিবে ?

আমি শুধু চাই বাঁচতে । বাঁচতে চাই বলেই কি এত সংগ্রাম ? সংগ্রাম তো করছিই । দ্বারে দ্বারে ঘুরেও থাকার জায়গা পাচ্ছি না । নানান মানুষের নানান কথা । এ কি বেঁচে থাকার সংগ্রাম নয় ? অবশ্য কয়েকদিন পর আমি একটি থাকার জায়গা পাই । বর্তমানে যেখানে আছি এটিই সে জায়গা । রহমত ভাই আমাকে এ জায়গা দেয় । মানুষ ভাল । বিয়ে করেন নি । বয়সে আমার থেকে পনেরো বিশ বছরের বড় হবে । উনিই আমাকে থাকতে দিয়েছেন ।

আজ রাতে একবার রহমত ভাইয়ের কাছে যাব । মাঝে মাঝেই যাই । আমি নিজ থেকেই যাই । সবাই তো আমার কাছে নিজ থেকে আছে । শুধু এখানেই আমি নিজ থেকে যাই । যে মানুষটা নিরাশ্রিতকে আশ্রিত করেছে তাকে এটুকো দিতে পারব না । একটা ছোট খাটো চাকরি করি আমি । বসের পি. এ. । সেখানেও তো আমাকে বিলিয়ে দিতে হয়েছে । রঙ্গিন শাড়ি সরিয়ে আমার উদ্যম স্তনে ঠোট ছুঁইয়েছে । আমি কিছুই বলতে পারি নি । তাহলে রহমত ভাইকে দিতে দোষ কোথায় ? আমি দোষ কাউকেই দিতে চাই না । কিন্তু সমাজের গ্লানিও আমি নিতে চাই না । সমাজ বড় বিচিত্র । এই সমাজ যে কখন কাকে গ্রহণ করে তা বলা বিচিত্র । রাতের অন্ধকারে যাকে চুষে চুষে খেতে পারে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে তাকে দূরে ঠেলে দেয় । বড় বিচিত্র এই সমাজ ।

আজ যখন গল্প কবিতায় " গর্ব " বিষয়ে লিখতে বসলাম তখন গর্ব করার মত কিছুই পেলাম না । আমি কাকে নিয়ে গর্ব করব ? কেউ কি আমাকে কিছু দিয়েছে ? সবাই তো শুধু নিয়েছে । শুধু এই শরীরটাই আমাকে যা দিয়েছে । তাই গল্পের শিরোনাম দিলাম "নারী শরীরের গর্ব " ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
সালেহ মাহমুদ মোঃ ওমর ভাই, আপনার গল্পটা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। সব লেখার সমালোচনা করবো না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কিন্তু আপনার লেখাটি সব লেখার মধ্যে পড়ে নি বলেই সমালোচনা করছি। দয়া করে হজম করবেন অথবা ক্ষমা করে দেবেন। সমালোচনা-১: বিষয় ::: আপনি গল্পের প্লট হিসাবে যে কোন বিষয় বেছে নিতে পারেন, এটা একান্তই লেখকের স্বাধিকার। কিন্তু বিষয়টি সম্বন্ধে একটি পরিপূর্ণ আইডিয়া বা অভিজ্ঞতা থাকা দরকার। যে বিষয়ে আপনি অনভিজ্ঞ সে বিষয়ে না লিখাই ভালো, আর লিখলেও বাস্তব জ্ঞান/অভিজ্ঞতা অর্জন করে লিখা উচিত। সমালোচনা-২: উদ্দেশ্য ::: আপনার গল্পের উদ্দেশ্য আপনাকে প্রথমেই বিবেচনায় আনতে হবে। আপনি কাদের জন্য লিখছেন? আপনি কি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন? আপনাকে ব্যাখ্যা করে বললে চলবে না, আপনার গল্পই বলে দিবে আপনার উদ্দেশ্য কি? ব্যাখ্যা করতে হলে আর গল্পের প্রয়োজন কি? প্রবন্ধ বা নিবন্ধ হলেই তো হয়!!! সমালোচনা-৩: ভাষা ব্যবহার ::: “““সেখানেও তো আমাকে বিলিয়ে দিতে হয়েছে । রঙ্গিন শাড়ি সরিয়ে আমার উদ্যম স্তনে ঠোট ছুঁইয়েছে ।””” এখানে দ্বিতীয় বাক্যটি বলার কোনই প্রয়োজন ছিল না। যেমন প্রয়োজন নেই শারীরিক ক্রিয়াকর্মের সর্বশেষ ধাপের বিবরণ। এক কথায় এক টানেই ওখানে ইতি টানা উচিত। উৎসাহ ::: ভাই আপনার গদ্য লিখার ঢং আমার খুব পছন্দ হয়েছে। ছোট ছোট বাক্যে কথা শেষ করেছেন। এটি একটি খুব ভালো লক্ষণ। পুরো গল্পে অসম্পূর্ণ বাক্য নেই বললেই চলে। :::::::::::::::::: সমালোচনার জন্য কিছু মনে করবেন না। দয়া করে হজম করবেন অথবা ক্ষমা করে দেবেন। ধন্যবাদ আপনাকে।
এফ, আই , জুয়েল # আকার ইঙ্গিতে বাস্তবতার আলোকে সুন্দর একটি গল্প । আসলে কখন কোথায় কি থেকে যে কি হয়ে যায় ? কিছুই বুঝা যায় না । মানুষের আবেগের গতি পরির্বতন , নষ্ট মনের বেহায়া নাচন ---- অনেক কিছুই আপনার গল্প ফুটে উঠেছে । আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।।
Azaha Sultan কঠিন বাস্তবতাকে তুলে এনেছেন ভাই ওমর....সমাজ এগুলোকে কখনও স্বীকৃতি দিতে পারে না, কেন, আমি বলি, এধরণের কর্মকে যদি সমাজ স্বীকৃতি দেয় তা হলে অনায়াসেই প্রশ্রয় পাবে; যে কেউ অপরাধ করতে ভেবে দেখবে না; আর পুরুষেরাও সংসারের প্রতি অবহেলিত হবে- এবং সমাজ কুলষিত হবে; ইসলাম কখনও এটাকে মেনে নিতে পারে না। আপনার গল্পের আদল ভাল- তবে....
মুহাম্মাদ মিজানুর রহমান এভাবে একটা জটিল বিষয় সহজ করে উপস্থাপন করা কিন্তু মোটেও সহজ কাজ নয়.....আপনার উজ্বল ভবিষ্যত কামনা করি....
খন্দকার নাহিদ হোসেন গল্পকারকে আমি সেরাটাই দিলাম। সেটা এই জন্য না যে গল্পকারের যুক্তির পর আর কিছু বলবার নেই বরং বলার ভঙ্গিটা সুন্দর ছিল। খুব সুন্দর। তবে নামটা আরো সুন্দর হতে পারতো।
ড. জায়েদ বিন জাকির শাওন আরেকটু ধীরে কাহিনীটা এগুলে আরো ভালো লাগত. যাই হোক শুভেচ্ছা রইলো লেখকের প্রতি.
আশা গল্প বিষয়ে কিছু বলব না। শুধু এটুকুই বলার প্রয়োজন বোধ করছি- লেখকের উপস্থাপনা সুন্দর। ভালো গল্পের অপেক্ষায় রইলাম।
sakil সবার উপর নিয়তি , নিয়তি কে পেছনে ঠেলা যায় না । সমাজের পতি আপনার যে ক্ষোভ দেখিয়েছেন তাতে সমাজের দোষ কতোটুকু । বিয়ে সংসার এসবের প্রয়োজন আছে তা না হলে হাজারো মেয়ে সমাজে তার অবৈধ সন্তানের ( যা তার কাছে বৈধ ) অধিকার চাইবে , তখন কি হবে ভেবে দেখেছেন। সমাজে কিছু নারোলোভীর কারনে পুরো সমাজ কে দোষারোপ করা যায়না , যেমনি নিজের কিছু কর্মের জন্য অন্যের সাহানুভুতি পাওয়া বেশ কঠিন। গল্প হিসাবে অনন্য । নিয়মিত লিখবেন । শুভকামনা রইল ।
Akther Hossain (আকাশ) গল্পের লেখনি ঠিক আছে তবে আরো একটু বিন্যস্ত হলে ভালো হত!
বশির আহমেদ আপনার গল্প লেখার হাত বেশ পাঁকা ই মনে হচ্ছে । কাহিনি বিন্যাস আর একটু বিস্তৃত হলে অনেক ভাল লাগত ।

৩০ আগষ্ট - ২০১১ গল্প/কবিতা: ২ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "কষ্ট”
কবিতার বিষয় "কষ্ট”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জুন,২০২১