কর্মের সন্ধানে সৌদি আরবে পা দিয়েই কেমন যেন মনে হল সুপ্তর সে গ্রহ পরিবর্তন করেছে ।কিছুদিনেই বুঝে উঠে সে প্রবাসী বাঙ্গালীরা কিছুটা প্রভু ভক্ত কুকুরের মত বড় অসহায় । প্রবাসীদের মনের দেয়ালে ব্যাথার ধুলি জমতে জমতে কংক্রিটের মত শক্ত হয়ে গেছে ।প্রতিটি প্রবাসী বাঙ্গালীরা খুব ভালভাবে বোঝে এখন তারা বাংলাদেশের পরিবেশে থেকে বিছিন্ন । তবু বাংলার সবুজ আঁচলে একটু শান্তিতে ঘুমানোর স্বপ্ন দেখে ।


অধিকাংশ প্রবাসী বাঙ্গালীদের কিছু কিছু গর্ব সুপ্তর বুকে দাগ কাটে । তাদের গর্বের মানুষ গুল হল ভণ্ড রাজনৈতিক নেতা নেত্রীর দল , বাঙলার রক্ত পানকরে বেড়ে উঠা গাছ গুল , সন্ত্রাসী ,চাঁদাবাজ ,ছিনতায় কারী , মাদক ব্যাবসায়ি , নারী পাচার কারী ,ধর্ষক ,দেশ দ্রোহী ,ধর্ম ব্যাবসায়ির দল ।কিন্তু , আজ থেকে ২৫/৩০ বছর আগেও সমাজের গর্ব ছিল স্কুল শিক্ষক , সাংবাদিক ,লেখক ইত্যাদি মহৎ পেশার মানুষ । কিন্তু সময়ের ব্যাবধানে সমাজের বেওয়ারিশ গর্বের উচ্চশির হীমালয়কে হার মানাবে এ দিন খুব দূরে নেয় । আজও সুপ্ত জানেনা সমাজের চোখ থেকে রঙ্গিন চশমা কখনো খুলবে কি না ?


ইদানিং সুপ্তর মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে সেও পরাধীন প্রান্তরে পরাজিত সৈনিকের মত নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে ।এখন সে আর প্রতিবাদ করেনা তার কম্পানীতে এক রুমে খাতা কলমে ৬ জন হলেও ১০ জন মিলে থাকতে হয় ফুটপাতের বস্তির মানুষদের মত , খাতা কলমে এক কিলো মাংস ৬ জন হলেও ৩০ জনকে দেয়া হয় ।সবচেয়ে বেশী কাজ করে সবচেয়ে কম বেতন বাড়ে বাঙ্গালীদের । পুরনো এসি দেয়া হয় বাঙ্গালীদের রুমে , ৩ মাস পরপর নতুন ইউনিফ্রম ,বেড সিট ইত্যাদি ও ৬ মাস পরপর সেফটি সুজ প্রভাইডের নিয়ম থাকলেও আজ তা অনিয়ম ।ইত্যাদি অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য বদলি হতে হয়, কয়েকবার অরনিং লেটার উপহার জোটে সুপ্তর।



সুপ্ত তার প্রিয় গান গুল শোনেনা গুনগুন করে গায় না পৃথিবীর গান আকাশ কি মনে রাখে ?সে যেন আসেনা আমার দ্বারে তারে বলে দিও ওই গুনগুন সুরে মন হাসেনা গা মা পা মা গা রে সারেমা মা গা রে ।

সে এখন শোনে বোরখা পড়া মেয়ে পাগল করেছে ? বুকটা ফ্যাটা যায় । আরও অনেক নকল সুরের গান । ধর্মের চুল কেটে ন্যাড়া করার মত নকল সুরের হাম-নাত ও শুনে । সকলে যখন নকল সুরের প্রশংসা করে তখন মুচকি মুচকি হাসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা সুপ্তর ।

কিছু কিছু পুরনো বাংলা গান হিন্দি ভাষায় ডাবিং করে বাজার জাত করা হয়েছে কিন্তু হিন্দি ভাষায় অনেক ভুল শুনে ইন্ডিয়ান রা বলেছে ইন্ডিয়ার ভাগারে এর চেয়ে সুন্দর সুন্দর গান পড়ে থাকে ।খোঁজ দ্যা সার্চ সিনেমাটি পরিচালক আন্তজাতিক মান সম্পন্ন বলে দাবী করেছেন অতছ ইংরেজি অনুবাদ রাখেনি সুপ্ত অনুবাদ করে কিছু বিদেশীদের খোঁজ দ্যা সার্চ দেখিয়েছে ওরা হেসে লুটিপুঁটি খেয়ে বলে এই সিনেমার পরিচালককে লেখককে পাগলা গারদে রাখা প্রয়জন ।বিদেশী সংস্কৃতিকে আঁকড়ে না ধরে নিজশ্য সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে তোমরা বিশ্বকে তাক লাগাতে পার । সুপ্ত ভেবে পায়না, কেন বাংলাদেশীরা বাস্তবতার চেয়ে আবেগে গর্বিত বেশী ।



সুপ্ত নিজেকে অনেক বদলে ফেলেছে আজ কাল তার মধ্যে পাগলের লক্ষন দেখা যায় অকারনে হাসে সে গর্বের সাথে বলে সৌদি আরবে মাত্র ৮ দিন সরকারী ছুটি , দুই ইদে ৭ দিন স্বাধীনতা দিবস ২৩ সেপ্টেম্বর ১ দিন ।সবে বরাত ,কদর,মেরাজ,মহরম ইত্যাদি ধর্মীও ছুটি নেই বাংলাদেশে আছে অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ ধর্মের জ্ঞান বেশী রাখে ?আমাদের নবী (সঃ) এর রওজা পেয়েও সৌদিরা একটি মুরগী মানত করেনা অতছ বাংলাদেশে ছোট খাটো মাজারে ছাগল , গরু ,গাছের প্রথম ফল মানত রাখা হয় ।


তার পাগলের প্রলাপ বলে গল্প কবিতার পরিবেশ নষ্ট করতে চায়না তাই লিখলাম না ।



কয়েকবছর পর বগুড়া সাত মাথায় রেল লাইনের ধারে সুপ্তকে দেখেছি সে একটি ময়লা ছেড়া জুতা মাথায় নিয়ে বলছে এটি আমাদের বংশের গর্বের জুতা এটি আমার দাদুর দাদুর দাদুর দাদুর দাদুর দাদুর দাদুর দাদুর জুতা, আমাদের বংশের বড় সন্তান ও বৌ বা বংশের মুখে চুনকালি মাখাতে পারবে এমন কেউ ছাড়া এ জুতা মাথায় রাখার অধিকার কারো নেয় ।আমি যতদিন বেঁচে আছি এই জুতার মান রাখব এই জুতা আমার মা ,আমি এই জুতার কোলে মাথায় রেখে শান্তিতে ঘুমায় । তোমরা আমার এ জুতাটি চুরি করে মুচির কাছে পাঁচ টাকায় বিক্রি করোনা । তোমাদের টাকার প্রয়জন হলে বল আমি ভিক্ষা করে হলেও তোমাদের টাকা দেব ? আজকের এই ময়লা পুরনো উর্বরতা হারানো জুতার মাঝে লুকিয়ে আছে আমার অস্তিত্তের শিকড় ।তোমাদের কাছে আমার একটি অনুরধ তোমরা গর্ব করতে শেখও নিজের যা আছে তাই নিয়ে গর্ব করতে শিখ ।গায়তে শিখ জন্ম আমার ধন্য হল .........।



সকলে হি হি করে হাসতে লাগল ।আমার দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখে সুপ্ত এসে বলে তুমি এটা নেবার জন্য কাঁদছ আসলে এটি পুরনো একটি জুতা একজন সাহেব জুতাটি দেখে বলল ছিঃ কি নুংরা মাটি ভরে আছে ।তাই রাগ সামলাতে নাপেরে আমি জুতাটি মাথায় নিয়ে চেঁচামেচি করছিলাম ।আচ্ছা বলত ,যে মাটি আমার অস্তিত জুড়ে সে মাটি গর্ব না হয়ে কি নুংরা হতে পারে ? আমি সুপ্তকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলাম ।কেন জানি মনে হচ্ছেইয়,সুপ্তই আমার দেশের গর্ব আমার গর্ব ।