রিটার্ন টিকেট

স্বপ্ন সংখ্যা

Shawon
মোট ভোট ১১ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৬৭
  • ৪৪৬
পর্ব-১.

আর পাঁচ কি ছয় গজ সামনেই টিকেট কাউন্টার। এখন এমন ফাঁকা পাবেন সেটা ভাবতে পারেননি প্রফেসর শাহেদ আহমেদ। অবশ্য এখন কোন ঈদ বা পূজা পার্বন কিছুই চলছে না যে উনি কাউন্টার এমন ফাঁকা পাবেন। এর আগে যতবারই আসতে হয়েছে ট্রেনের টিকেট কাটতে ততবারই তিনি কোন না কোন কারণে মারাত্মক ভিড় দেখেছেন। আজ কিছুটা অবাক হলেন, তবে সেটা ভিড় না হবার কারণে নয় বরং এইমাত্র যাকে দেখলেন টিকেট কাউন্টার থেকে টিকেট নিতে তাকে দেখে থমকে দাঁড়িয়ে গেলেন প্রফেসর শাহেব। চট করে মাথায় পরা ক্যাপটার সামনের অংশ কিছুটা টেনে নিচের দিকে নামিয়ে দিলেন যেন সহসা তার দিকে তাকালে চেনা না যায়। কাউন্টারের সামনের মানুষটা হাতে টিকেট নিয়ে তার পাশ কাটিয়ে চলে গেল।

প্রফেসর শাহেদ ব্যতিবস্ত হয়ে কাউন্টারে গিয়ে বললেন, এইমাত্র যেই ভদ্রলোক টিকেট কেটে নিয়ে গেল, উনি কোথায় যাচ্ছে বলতে পারেন, উনি আমার আত্মীয় হন।

কাউন্টারের লোকটা প্রফেসর শাহেদের দিকে না তাকিয়েই বললো, চট্টগ্রাম। আপনার কোথাকার টিকেট লাগবে?

প্রফেসর শাহেদ বললেন, ভাই দেখুন, আমার খুব জরুরী দরকার। উনি কবে যাচ্ছেন বলেন।

মুখে একরাশ বিরক্তি নিয়ে কাউন্টারের লোকটা বললো, উনি কাল যাচ্ছেন। আপনার কি টিকেট লাগবে?

জ্বী আমাকেও কালকের একটা টিকেট দিন চট্টগ্রামের। আর উনি কি একা যাচ্ছেন, মানে একটাই টিকেট কেটেছেন না কয়েকটা?

স্যার আপনার এগুলা জানা কি খুব জরুরী? মুখে আরো বিরক্তির ভাব এনে কাউন্টারের লোকটি বললো!

জ্বী ভাই, আমার জানা অনেক জরুরী! প্লিজ বলুল না। এবার প্রফেসরের মুখে অনুনয় ঝরে পড়লো।

উনি একাই যাচ্ছেন।

ঠিক আছে, যদি উনার পাশের সিট খালি থাকে তাহলে আমাকে সেখানেই একটা টিকেট দিন?

কাউন্টারের লোকটা কম্পিউটারের কি-বোর্ড একটু ঘাটাঘাটি করে জানালো, উনার পাশে নেই, তবে উনি যেই সিটে বসেছেন, সেটার ঠিক মুখোমুখি একটা সিট আছে। আপনার লাগলে বলেন।

জ্বী, আমাকে ওখানেই একটা টিকেট দিন। বলেই মনে মনে বিশাল একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন প্রফেসর সাহেদ। এতদিন পরে আবার তাহলে দেখা হবে? আসলেই কি? নাকি দেখার কোন ভুল হয়েছিল? আসলেই কি তাকেই দেখেছে? যা হবার হবে, মনে করে টিকেটা নিয়ে দাম মিটিয়ে ওয়ালেটের মধ্যে ভরে নিলো। পকেট থেকে টিস্যু বের করে কপালের ঘাম মুছলেন। এতক্ষন যে কপাল থেকে ঘাম বেয়ে মুখের উপরে দিয়ে গড়িয়ে গেছে, সেটা খেয়ালই করেননি।

স্যার এসি দেবো? ড্রাইভার জামশেদ প্রশ্ন করলো?

উ! ও হ্যাঁ! দাও! যা গরম পড়েছে। বলেই আবার অন্যমনষ্ক হয়ে গেলেন প্রফেসর শাহেদ। প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে অফিস সহকারী শৈলীর নাম্বারে ডায়াল করলেন।

হ্যালো স্যার আসসালামু আলাইকুম! রিনরিনে গলায় বললো শৈলী।

ওয়ালাইকুমুস সালাম। শৈলী আমার কালকের কি কি স্কেজুল আছে? সবগুলো ক্যানসেল করে দাও। কাল আমাকে ঢাকার বাইরে যেতে হচ্ছে।

কিন্তু স্যার কালকে যে আপনার মাস্টার্সের একটা ক্লাস আছে দুপুর দুইটার সময়, আর কোর্স কো-অর্ডিনেটরদের দাথে মিটিং আছে বিকাল ৫ টায়।

শৈলী! এবার কিছুটা গম্ভীর গলায় বললেন, আমি ওসব জানি। আজকে এখন যদি আমি মারা যাই তাহলে তুমি এসব প্রোগ্রাম কি করতে? ঠিক সেভাবে হ্যান্ডেল করো।

না, মানে স্যার! শৈলী থতমত খেয়ে গেল প্রফেসরের মুখে এমন কথা শুনে।

কোন মানে মানে নয় শৈলী! ইটস অ্যান ইমার্জেন্সি! প্লিজ ক্যান্সেল এভরিথিং! আমার তরফ থেকে ইমার্জেন্সী লিভের অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করে দাও রেজিস্ট্রার এর কাছে।

ঠিক আছে স্যার। আমি করে দিচ্ছি। চিন্তা করবেন না স্যার। ভালো থাকবেন স্যার।

থ্যাঙ্ক ইউ ফর ইউর কোপারেশন। বলে ফোন সিটের উপরে নামিয়ে রাখলেন প্রফেসর। সেটাকে আবার পকেটে রাখার ইচ্ছাটাও হচ্ছিলো না। হীম শীতল গাড়িতে বসে বারবার কপাল মুছতে লাগলেন টিস্যু দিবে। বার বার অন্যমনষ্ক হয়ে যেতে লাগলেন তিনি। কোন কিছুই যেন খেয়াল করছিলেন না। ড্রাইভার জামশেদ অবাক হয়ে ভাবছিলো, স্যার তো এত চুপ থাকার মানুষ না। আজ কি হলো তাহলে?



পর্ব-২.



পরদিন যথেষ্ট আগে ভাগেই ঘুম থেকে উঠে তৈরী হয়ে নিলেম প্রফেসর শাহেদ। স্ত্রীকে না জাগিয়ে নিজের মতই সেরে ফেললেন গোছগাছ। যেহেতু ঢাকার বাইরে যেতে হচ্ছে, সেহেতু কিছু না কিছু প্রস্তুতি তো লাগেই। ওয়ালেট খুলে দেখে নিলেন টিকেটটা ঠিক মতো আছে কিনা। এটা উনার অনেক আগের থেকেই অভ্যাস। জরুরী কোন কাগজ রাখলে, সেটা বারবার চেক করে দেখেন। এটা নিয়ে স্ত্রীর কাছে অনেক বার ঠাট্টা শুনতে হয়েছে। ‘কাগজ গুছিয়ে রাখলে সেখান থেকে উড়ে চলে যাবে নাকি?’ তবুও জরুরী জিনিসগুলো নিজের হাতে বারবার ধরে দেখেন, অতি সাবধানে। জামশেদ কে বললেন গাড়ি বের করতে। উনি একটু আগে ভাগে বের হবেন। গন্তব্য কমলাপুর স্টেশন। ওখান থী উঠলে নিশ্চিন্তে বসা যাবে। অন্য স্টেশন থেকে উঠলে দেয়া যায়, সিটে অন্য একজন মানুষ বসে আছে, তাকে সেখান থেকে উঠিয়ে বসাতে হয়। ব্যাপারটা খুব বিশ্রী লাগে সাহেদের। একবার টাঙ্গাইল গিয়েছিলেন প্রায় দাঁড়িয়েই, নিজের সিট থাকা সত্ত্বেও। কারণ তার সিটে একজন বয়স্ক হাঁপানির রোগী বসেছিল। কিছুক্ষণ পর পরই তার হাঁপানির টান উঠে যাচ্ছিলো। এমন একজন মানুষকে সিট থেকে উঠিয়ে নিজে বসার কথা ভাবতে পারেননি শাহেদ। তাতে তার নিজের যতই কষ্ট হোকনা কেন। ইদানিং অবশ্য হাটুটা বেশ ভোগাচ্ছে। বয়স তো কম হলো না। ৫৬ ত হয়েই গেল আরো তিন মাস আগেই! আয়নায় নিজেকে দেখলে অবশ্য কিছু পাকা চুল আর দাঁড়ি ছাড়া বিশেষ কোন পার্থক্য ধরা পড়েনা তার কাছে।



স্ত্রীর কাছে থেকে বিদায় নেবার আগে থার্মোফ্লাস্ক টা চেয়ে নিলো। বললো কফি শপ থেকে এর ভেতরে কফি নিয়ে নেবে বেশী করে। শাহেদের স্ত্রী জিজ্ঞাসা করলেন, এতো আগে বের হচ্ছো? এখনও তো অনেক সময় বাকী তোমার ট্রেনের?

পথে কিছু কাজ আছে। বললেন শাহেদ। আমি যাই তাহলে।

এসো। ভালভাবে যেও। ট্রেনে উঠে ফোন দিও।

আচ্ছা দিবো, বলে হাতে একটা শপিং ব্যাগে ফ্লাক্সটা নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গাড়ীতে উঠলেন। জামশেদ গাড়ী চালাতে শুরু করবো। বললেন, কমলাপুর যাবো কিন্তু আগে বনানী যেতে হবে একটু। গাড়ী বনানীর দিকে যাত্রা শুরু করবো।



জামশেদ, গাড়ী বায়ে চাপাও। একটা নামকরা ফাস্টফুডের দোকানের পাশে গাড়ী থাকলো। বললেন, তুমি একটু সামনে গিয়ে গাড়ি পার্ক করো আমি আসছি। জামশেদ গাড়ি নিয়ে কয়েক গজ এগিয়ে গেল। প্রফেসর শাহেদ কাঁচের দরজা ঠেকে ভেতরে ঢুকলেন।



প্রায় আধা ঘন্টার মত পার হবার পরে, হাতে একটা খাবারের প্যাক নিয়ে শাহেদ বের হয়ে আসলেন। গাড়িতে উঠে, একটা প্যাকেট জামশেদকে দিয়ে বললেন, বাসায় গিয়ে খেয়ে নিও। এখন আমাকে কমলাপুর নামিয়ে দিয়ে আসো।

জ্বী স্যার বলে জামশেদ গাড়ির গতি কিঞ্চিত বাড়িয়ে দিলো।



শাহেদ যখন কমলাপুর স্টেশনে পৌছুলেন, তখন হাতঘড়ি দেখে বুঝলেন এখনো আরো পাক্কা ৪৫ মিনিট সময় আছে ট্রেন ছাড়ার। সময়ের কোন অভাব নেই। জামশেদ বললো, স্যার আমি আসি, আপনারে কামরা পর্যন্ত পৌঁছে দেই?

কোন দরকার নেই। আমার কাছে এমন কিছুই নেই। তুমি বাসায় চলে যাও। তোমার ম্যাডাম কোথায় যেন যাবে বলছিলো। বাসায় চলে যাও। আমি যেতে পারবো। বলে শাহেদ স্টেশনের দিকে হেঁটে চলে গেল। হাতে খাবারের আর থার্মোফ্লাস্কটা ধরা। এগিয়ে গেলেন খবরের কাগজ নিয়ে বসা লোকটার দিকে। পছন্দসই একটা খবরের কাগজ নিয়ে নিয়ে নিলেন। সময়টাতো কাটাতে হবে! কি মনে করে একটা সাহিত্য পত্রিকাও নিয়ে নিলেন। খবরের কাগজ পড়তে পড়তে বিরক্ত ধরে গেলে তখন একটু গল্প টল্প করা যাবে।



স্টেশনের ভেতরে গিয়ে ট্রেন খুঁজে পেতে কোন সমস্যা হলো না। আস্তে ধীরে হেঁটে যাচ্ছেন নিজের টিকেটে উল্লেখিত কামরার দিকে। এখন আর ওয়ালেট খুলে দেখতে হলো না। কাল থেকে এতবার সেটা দেখে ফেলেছেন যে, মুখস্ত হয়ে গেছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ট্রেনের কামরায় যখন উঠতে যাবেন, তখন একটু আগে উঠে পড়া এক যাত্রী হাত বাড়িয়ে শাহেদের হাত থেকে খাবারের ব্যাগটা নিয়ে বললো, আমার হাতে দিয়ে আপনি ভাল করে উঠে পড়ুন। প্লাটফর্ম থেকে ট্রেনের মেঝে বেশ খানিকটা উপরের দিকে। শাহেদ উঠে পড়ে যহযাত্রীকে ধন্যবাদ দিলেন। কামরায় অল্প কয়েকজন বসে আছে। এখনও ব্যস্ততা শুরু হয়নি। নিজের সিট খুঁজে পেতে মোটেই বেগ পেতে হলো না। বসে সাহেদের মন ভাল হয়ে গেল। মুখোমুখি দুই সিটের মাঝে একটা ছোট অ্যালুমিনিয়ামের টেবিল ফিক্স করে দেয়া আছে। সেখানে খবরের কাগজ আর পত্রিকাটা রেখে। মুখোমুখি সামনের খালি সিটটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। জানালা দিয়ে একের পর এক ফেরিওয়ালার হাঁকডাক শোনা যাচ্ছে। কিছুই যেন কানে যাচ্ছে না শাহেদের। হাতের ঘড়িটা একবার দেখে নিলেন। এখনও কুড়ি মিনিট বাকী। কিন্তু সময় যেন যেতেই চাইছে না। অগত্যা ম্যাগাজিনটা হাতে নিয়ে ওলোট পালোট করতে লাগলেন। একটা গল্প প্রথম পৃষ্ঠা তিনবার পড়েও কিছুই মাথায় ঢোকাতে পারলেন না। আসলে মন দিয়ে পড়তেই পারছেন না। ছোটদের মত অস্থির হয়ে বারবার মনে হতে লাগলো, কখন ছাড়বে ট্রেন?



পর্ব-৩.



কখন যে ঝিমুনির মত এসে গিয়েছিল টের পায়নি প্রফ শাহেদ। হঠাৎ একটু ঝাকি লাগায় সচকিত হয়ে বসলেন। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলেন স্টেশন আসতে আসতে পেছনের দিকে চলে যাচ্ছে। যাক অবশেষে ট্রেনটা চলতে শুরু করলো তাহলে। জানালা দিয়ে মৃদু মৃদু বাতাস আসছিল দেখে তেমন একটা গরম লাগছিলো না। বরং বেশ উপভোগ্যই ছিল তাপমাত্রা। স্টেশন চলে গেল চোখের সামনে থেকে। ট্রেনের গতি বাড়তে থাকলো। এগিয়ে চলেছে এটা গন্তব্যের দিকে। শাহেদ অপেক্ষায় আছে কখন এয়ারপোর্ট স্টেশন আসবে। ইতিমধ্যে কামরায় মানুষের বেশ গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বেশীরভার সিটে যাত্রীরা বসে পড়েছে। সামনের কোন একটা সিট থেকে একটা ছোট বাচ্চার ক্রমাগত তারস্বরে চিৎকার শোনা যাচ্ছে। ওর মা নানারকম কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুতেই কাজ হচ্ছে না দেখে, বাচ্চাটার বাবা শেষমেশ বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে কামরার শেষ প্রান্তে হেঁটে গেল। শাহেদের পাশের সিটে বসেছে গলায় মাফলার পেচানো এক ভদ্রলোক। গায়ে সাফারি পরা। উনি কখন যে কামরায় উঠেছেন, শাহেদ খেয়াল করেনি। এখন দেখে ভদ্রলোক বেশ আয়েশ করেই ঘুমাচ্ছেন। আহারে! বেশ মায়া লাগলো শাহেদের। যে কোন জার্নিতে গেলেই যানবাহনে উঠলেই শাহেদের ঘুম পায়। ঘুম যে গভীর ঘুম হয় তা হয়, কিন্তু বারবার ভেঙ্গে গেলেও সে বারবারই ঘুমিয়ে যায়। আজও ঝিমুনি এসে গিয়েছিল। এখন তার তন্দ্রা ভাব কেটে গেছে। জানালা দিয়ে বাইরে দেখছে। রেললাইনের একদম গা ঘেষে একোটা বস্তি দেখে শাহেদের গা শিউরে উঠলো। ঘরের ঠিক আসে পাশেই কয়েকটা ছোট বাচ্চা খেলা করছে। রেললাইনের এত কাছে এরা ছাপড়া তুলেছে, আর ছোট ছোট বাচ্চারা খেলছে! এক সেকেন্ডের অসর্কতায় কি হয়ে যেতে পারে, চিন্তা করে শাহেদের গা শিউরে উঠলো। চোখ বন্ধ করে ফেললো। না এই নিয়ে এখন সে কিছুতেই ভাবতে চাইছে না।



কতক্ষণ এভাবে চোখ বন্ধ করে থাকার পরে, আস্তে আস্তে দেখলো ট্রেনের গতি কমে আসছে। একটা স্টেশনের কিনারা দেখা গেল কিছুক্ষণের মধ্যেই। বুঝতে বাকী রইলো না, এটাই এয়ারপোর্ট ট্রেন স্টেশন। প্রফেসর শাহেদ, মনে মনে কিছুটা ব্যাকুলতা অনুভব করলেও ভেতরে ভেতরে শান্ত রইলেন। নিজের চোখ কিছুটা আড়াল করতেই চোখে পরা চশমাটা খুলে সানগ্লাসটা পরে নিলেন। রোদ একদমই সহ্য করতে পারেন না। এতক্ষণ কেন এটা টের পাননি, সেটা ভেবে মনে মনে কিছুটা নিজেকে তিরস্কার করলেন। ততক্ষণে ট্রেন থেমে গেছে। জানালা দিয়ে কিছুটা মুখ বের করে শাহেদ ব্যস্ত হয়ে মানুষের ট্রেনের দিকে ছুটে আসা আর একের পর এক কামরায় যাওয়া দেখতে লাগলেন। একসময় মাথা আবার টেনে নিলেন ভেতরে। শাহেদের মুখোমুখি সিটের যাত্রী তখনো এসে পৌঁছায়নি। হঠাৎ বুকচিরে একটা কেমন যেন দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে এলো। সামনে রাখা পত্রিকাটা আবার মুখের সামনে তুলে ধরলেন শাহেদ। এয়ারপোর্ট স্টেশন থেকে যখন মাত্র ঘটাং ঘটাং শব্দ করে সবে ট্রেনটা চলতে শুরু করেছে, শাহেদের চোখ চোখে গেল কামরার দরজার দিকে। চেক শার্ট পরা একজন মানুষ এগিয়ে আসছে। শাহেদের চিনতে ভুল হলোনা। মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। চিনতে পেরেছে ভাল ভাবেই। আঠারো বছর পার হলেও, চেহারায় এখনও সেই আগের মত একটা মায়া মায়া ভাব রয়েই গেছে। ততক্ষণে সিটের কাছে চলে এসেছে চেক শার্ট আর কালো প্যান্ট করা লোকটা। কত বয়স হবে ওর এখন? শাহেদের মনে আছে। ওর বয়স এখন ঠিক ৩৮। কিন্তু দেখলে বোঝা যায় না। দেখলে মনে হবে মেরেকেটে ৩০ হবে। শাহেদ পত্রিকা থেকে মুখ উঠাল না। মাথা কিছুটা নিচু করেই নিবিষ্ট মনে পত্রিকা পড়ে যেতে লাগলো। মানুষটা তার হাতের ব্যাগটা মাথার উপরে রাখা ক্যারিয়ারে তুলে রেখে সিটে বসেই জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো। শাহেদের নাকে লাগলো মৃদু মৃদু একটা পারফিউমের গন্ধ। পত্রিকা পড়াচ্ছলে সানগ্লাসের ভেতর দিয়ে শাহেদ সামনে বসা লোকটার ভাবালুতা দেখতে লাগলো। নাহ! এখনও সেই আগের মতই আছে!



এমন সময় টিকেট চেকার এলো। শাহেদ পত্রিকা থেকে মুখ না সরিয়েই বুকপকেটে হাত দিয়ে টিকেট বের করে দিলো। চেকার টিকেট চেক করে পুনরায় শাহেদের হাতে ফেরত দিয়ে দিলো।

-স্যার আপনার টিকেট টা?

শাহেদের সামনে বসা চেক শার্ট পরা লোকটা টিকেট বের করে দিলো ওয়ালেট থেকে। দিয়ে বললো, আপনাদের ট্রেনে কি কফি পাওয়া যাবে? শাহেদ শুনতে পেল সেই পরিচিত কন্ঠস্বরটা।

-জ্বী স্যার পাওয়া যাবে। তবে এখনও প্রস্তুত হয়নি স্যার। আধা ঘন্টার মত সময় লাগবে। আপনার আর কিছু লাগবে স্যার? চেকার টিকেট ফেরত দিতে দিতে বললো।

-না কিছু লাগবে না। সামনে বসা লোকটার কন্ঠে কিছুটা হতাশা দেখতে পেল।

সামনে রাখা অ্যালুমিনিয়ামের টুলের উপর সাহিত্য পত্রিকা দেখে সেটা নিতে গিয়ে হাত সরিয়ে নিলো লোকটা। বলে উঠলো, ‘এক্সকিউজ মি ভাই! আমি কি আপনার পত্রিকাটা একটু দেখতে পারি? যদি আপনার আপত্তি না থাকে?’

শাহেদ এবার মুখের সামনে থেকে পেপারটা সরিয়ে আস্তে করে টেবিলের উপরে রেখে বললো, হ্যাঁ নিতে পারো।

-আরে শাহেদ ভাই আপনি! সামনের লোকটা বিস্ময় গোপন না করে প্রায় চেচিয়ে উঠলো। লোকটার চিৎকার শুনে, শাহেদের পাশে গলায় মাফলার জড়ানো লোকটা বিরক্তির সাথে জেগে উঠে আবার মাথা আরেকদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে নতুন করে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিলো কিছুটা বিরক্ত হয়ে।

-শাহেদ তার সামনে বসা সহযাত্রীর দিকে সরাসরি তাকিয়ে বললো, ‘কেমন আছো তন্ময়?’



পর্ব-৪.



আমি ভাল আছি শাহেদ ভাই। আপনি কেমন আছেন? হাসিমুখে বলল তন্ময়।



আমি ভাল। সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়ে তাকিয়ে রইলেন তন্ময়ের দিকে।। চোখ থেকে সানগ্লাসটা খুলে, সবসময় যে চশমাটা পরেন, রুপালী ফ্রেমের সেটা পরে নিলেন প্রফেসর শাহেদ। তন্ময়ের পরবর্তী প্রশ্ন শোনার অপেক্ষায়।



অনেকদিন পরে আপনার সাথে দেখা তাই না ভাই?



অনেকদিন কিনা জানি না, তবে ১৯ বছর! তোমার কাছে কি বেশী মনে হচ্ছে? আমার কাছে তো মনে হচ্ছে এই সেদিন। বলে মুচকি একটু হাসি দিলো শাহেদ।



ঊনিশ বছর! বলতেই একটা বিস্ময়ের টান খেলে গেল তন্ময়ের গলায়। তা কোথায় যাচ্ছেন ভাই?

চট্টগ্রাম।



আমিও তো- এইটুকুই তন্ময় বলতেই মুখের কথা কেড়ে নিয়ে শাহেদ বললো, চট্টগ্রামেই যাচ্ছো তাই তো?



জ্বী।



ওখানে তোমার সেমিনার আছে, আমি সেটাও জানি পেপারে পড়েছি।



তন্ময় এবার আর বলার মত কিছু খুঁজে পেলো না। উনিশ বছর আগের কথা, মনে পড়ছে কি? ভাবছে কিভাবে এতদিন পার হয়ে গেল, অথচ কোন যোগাযোগ ছিল না। কিভাবে সম্ভব?



তোমার দিনকাল কেমন চলছে তন্ময়?



জ্বী ভালই। আপনি? অমিয় কেমন আছে ভাই? অনেক বড় হয়ে গেছে নিশ্চই?



হ্যাঁ বড় তো হয়েছেই। ২০ পূর্ণ হলো। ভার্সিটিটে উঠেছে। ঠিক তখনকার মত তোমারই বয়সী এখন অমিয়। তোমার খিদা পায়নি তন্ময়?



জ্বী ভাই পেয়েছে কিছুটা। ভাবছি নেক্সট স্টেশনে নামলে কিছু কিনে নেবো। তাড়াহুড়ায় তেমন কিছু আনতে পারিনি।



তোমাকে কিছুই আনতে হবে না তন্ময়। আমার কাছে যথেষ্ট খাবার আছে। ওখান থেকেই খেয়ে নিতে পারবে। বাইরে থাকো। হুটহাট করে কোন কিছু খেয়ে নিলে শরীর খারাপ করতে পারে।



আমি শেয়ার করলে আপনার কম পড়বে না ভাই? তন্ময়ের প্রশ্ন।



কোন কালে কম পড়েছিল তন্ময়? আজও পড়বে না। নিশ্চিন্তে খেও। যাও তুমি ফ্রেশ হয়ে এসো। এরপর একসাথে আমরা খেয়ে নিতে পারি। আমিও সকাল থেকে কিছু খাইনি।



তন্ময় উঠে চলে গেল। শাহেদ ব্যাগ থেকে আনা ফাস্টফুড গুলো সামনের ছোট টেবিলটাতে সাজিয়ে রাখলো। টিস্যুও রাখলো পাশে। তন্ময়ের অভ্যাস হচ্ছে খাবারের শুরুতেই হাতে টিস্যু নিয়ে নেয়া আর একটু পর পর ঠোট মোছা। খাবার যখন সাজানো হচ্ছে, তখন ট্রেনের ক্যান্টিন থেকে এক লোক এসে জানালো ওদের খাবার তৈরী আছে। অর্ডার করতে পারেন। শাহেদ জানালো, আপাতত প্রয়োজন নেই। দরকার হলে গিয়ে নিজেই খবর নেবে। ক্যান্টিন বয় চলে গেল।



তন্ময় টিস্যুতে মুখ মুছতে মুছতে নিজের সিটে এসে বসলো। সেমিনারটার জন্য তেমন প্রপারেশন নিতে পারিনি ভাই। মনের ভেতর কেমন যেন একটু খচখচ লাগছে।



ওসব নিয়ে ভেবো না। জীবনে তো আর কম সেমিনার করনি। শুরু করার পর দেখবে হয়ে গেল। এই নাও, বলেই অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েলে মোড়া খাবারটা কিঞ্চিত ঠেকে দিলেন তন্ময়ের দিকে। এখনো দেখছি হালকা গরম ভাব আছে। খেয়ে নাও তাড়াতাড়ি।



তন্ময় প্যাকেটটা খুলে বিস্মিত হয়ে বললো, বার্গার! ট্রেনে কোত্থেকে পেলেন আপনি?



ট্রেনে পাইনি। আমি নিয়ে উঠেছিলাম। বলে, নিজের হাতের স্যান্ডুইচে একটা কামড় বসালেন শাহেদ। আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন তন্ময়ের মুখের দিকে। বোঝার চেষ্টা করছেন ওর মনের অবস্থা!



ভাই আমার জন্য বার্গার আর আপনি নিজে নিলেন স্যান্ডুইচ! এটা হবে না। আমার সাথে শেয়ার করেন ভাই।



শেয়ার পরে হবে। আগে তুমি খাবে।



কেন ভাই? আপনি খান না?



খাই, কিন্তু এতকাল এই খাবারটা খাইনি আমি।



মানে?



তোমার কি মনে আছে তন্ময়, আমি তোমাকে বলেছিলাম, তোমাকে যতদিন পর্যন্ত আমি বার্গার খাওয়াতে না পারবো, ততদিন আমি নিজে এই খাবারটা আর খাবো না? মনে পড়ে? খাচ্ছো না কেন? খাও!



হাতে তুলে নেয়া বার্গারটা কামড় দিতেও যেন ভুলে গেল তন্ময়। বললো, হ্যাঁ মনে আছে ভাই। আপনার মনে আছে, যে আমি খেতে খুব পছন্দ করতাম? কিন্তু, আজকে এই ট্রেনে আপনি বার্গার নিয়েই উঠলেন? এটা কি অলৌকিক না ভাই?



লৌকিক না অলৌকিক সেটা বিচারের সময় এটা নয় তন্ময়। আগে তুমি খাও।



তার মানে আপনি এতদিন বার্গার খান নি?



না খাইনি। এরপর কি প্রশ্ন করবে তন্ময়? অস্ট্রেলিয়া গিয়েও খেয়েছিলাম কিনা? না ওখানে গিয়েও খাইনি। দ্বিতীয় কামড় বসালেন। স্যান্ডুইচে।



নিজে না খেয়ে এবার বার্গারটা শাহেদের মুখের সামনে তুলে ধরলো তন্ময়। বললো, ভাই আমি খাবো। কিন্তু আগে আপনি আমার এখান থেকে খাবেন। এরপরে।



তুমি দেখছি সেই আগের মতই জিদ করছো তন্ময়। আগের মতই আছো। বলে তন্ময়ের হাতে বাড়ালো বার্গার থেকে ছোট একটা বাইট দিলেন শাহেদ।



পর্ব-৫.



আরেকদফা কফি চলবে নাকি তন্ময়? শাহেদ প্রশ্ন করলেন। বিকেলের আলো এসে পড়েছে অ্যালুমিনিয়ামের টেবিলটার উপরে। তন্ময় তখন কি একটা গল্প উলটে পালটে দেখছিলো ম্যাগাজিন থেকে। শাহেদের প্রশ্নে তাকালো তার দিকে। হাতের ম্যাগাজিনটা রেখে দিলো।



জ্বী ভাই, হতে পারে। এখনও আছে ফ্লাস্কে কফি?



আছে এবং মনে হয় এখনও গরম পাওয়া যেতে পারে। ডিস্পোজেবল কাগজের কাপে কফি ঢালতে ঢালতে বললো শাহেদ। হয়তো স্বাদ সকালের মত পাবে না। কি আর করা? ট্রেনের কফি তুমি মুখে তুলতে পারতে না। আপাতত যা আছে সেটাই খেয়ে নাও।



শাহেদ ভাই, চট্টগ্রামে আমি দুইদিন আছি। আসেন না একদিন আমার ওখানে। বসে আড্ডা দেয়া যাবে। তন্ময় কফির কাপে চুমুক দিলো।



দেখি। বলে কিছুটা অন্যমনষ্ক হয়ে গেলো শাহেদ। চেষ্টা করে দেখতে পারি। তবে শিওরিটি দিতে পারছিনা তন্ময়। তোমার ফিরতি ফ্লাইট কবে? কফি খেতে পারছো তো?



জ্বী ভাই, কফি খাওয়া যাচ্ছে। আমি ফেরত যাচ্ছি আগামী মাসের তিন রারিখে।



ওহ আচ্ছা। তোমার সময় হলে আবার না হয় দেখা করা যাবে? তুমি অনেক ব্যস্ত মানুষ! সময় যদি হয় তাহলেই আর কি!



আপনার জন্য আমি সময় বের করবো শাহেদ ভাই। কতদিন পরে দেখা।



ঊনিশ বছর! কথাটা শাহেদ মনে মনে বললো। তন্ময়ের কফি খাওয়া দেখতে লাগলো। একসময় ছেলেটা কফির কি পাগলই না ছিল। এখনও অভ্যাসটা রয়ে গেছে মনে হয়।



আস্তে আস্তে ট্রেনের গতি কমে আসলো। একসময় জানালার পাশে দেখা গেল চট্টগ্রাম লেখা ফলকটা। ট্রেনের গতি স্তিমিত হতে না হতেই যাত্রীদের মধ্যে তাড়াহুড়া দেখা গেল। শাহেদ আর তন্ময় তখনো বসে। অপেক্ষা করছে সবাই আগে হুড়াহুড়ি করে নামুক। এরপর ধীরে সুস্থে নামা যাবে। কারো সাথেই তেমন ভারী কোন লাগেজ নেই। কাজেই কোন ঝামেলাও নেই। বয়স্ক মত এক লোক অযথা তাড়াহুড়া করতে গিয়ে প্লাটফর্মে পড়ে গিয়ে ব্যথায় কাতরাতে লাগলো। তার সাহায্যের জন্য দুই তিন জন যাত্রী ছুটে এলো। দোষ কারো নয়, তবুও লোকটা মুখ দিয়ে অশ্রাব্য কিছু শব্দ উদ্গিরণ করতে থাকলো। একটু পর উঠে দাঁড়ালো এক লোকের সাহাজ্য নিয়ে। তন্ময় এগুলো দেখে মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো। অস্ফুট স্বরে বলে উঠলো, মানুষ কি অদ্ভুত!



চল নামি তন্ময়! দেখতে হবে তো তোমাকে নিতে কে আসলো!



জ্বী ভাই চলেন। মাথার উপরে থেকে ব্যাগটা নামালো তন্ময়। শাহেদ ও ফ্লাস্কটা গুছিয়ে নিলো। শাহেদের সাথে আর কোন লাগেজ নেই দেখে তন্ময় বললো, একি শাহেদ ভাই, আপনার কাপড় চোপড় কোথায়?



সাথে নেই। যেখানে যাবো, সেখানে আছে। সমস্যা নেই।



ও আচ্ছা। বলতে বলতে দুইজন নেমে পড়লো প্লাটফর্মের দিকে। কোট টাই পরা এক লোক এগিয়ে এলো তন্ময়ের দিকে! এসে বিগলিত কন্ঠে সালাম দিয়ে বললো, স্যার কোন অসুবিধা হয়নিতো পথে? আপনাকে আমরা নিতে এসেছি।



না অসুবিধা হয়নি। শাহেদের দিকে তাকিয়ে পরিচয় করিয়ে দিল, আমার বড় ভাই। প্রফেসর শাহেদ। উনি ছিলেন আমার সাথে। ট্রেনে দেখা হয়ে গেল। লোকটি প্রফেসর শাহেদের দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো করমর্দনের জন্য। শাহেদ একটু মাথা নেড়ে হ্যান্ডশেক করলো লোকটির সাথে। লোকটি তন্ময়কে বললো স্যার চলুন যাই।



জ্বী যেতে তো হবেই। শাহেদ ভাই, আমি আসি তবে? আপনার নাম্বার তো রইলোই। আমি কল দেবো আপনাকে।



ব্যস্ত হতে হবে না তন্ময়। তুমি তোমার কাজ ঠিক রেখে সময় পেলে যোগাযোগ করো। যাও এখন। আর ভালো থেকো। নিজের যত্ন নিও।



শাহেদের সাথে হাত মিলিয়ে তন্ময় ওকে নিতে আসা লোকটিকে অনুসরণ করলো। শাহেদ কিছুক্ষণ তন্ময়ের গমন পথের দিকে তাকিয়ে রইলো। এরপর শরীর ঘুরিয়ে প্লাটফর্মে থাকা একটা বেঞ্চের দিকে এগিয়ে যাতে শুরু করলো ধীর পায়ে। হঠাৎ পেছন থেকে ওকে কে যেন জাপটে ধরলো। ওর ঘাড়ের কাছে মাথা রেখে বললো, আমাকে ভুলে যাবেন না তো শাহেদ ভাই?



শাহেদ ঘুরে দাঁড়িয়ে, ডান হাত দিয়ে তন্ময়ের গাল আলতো স্পর্শ করে বললো, ঊনিশ বছর ধরে যদি না ভুলি, এখন কেন ভুলে যাব? দেখা হবে আবার তন্ময়। আবার দেখা হবে আশাকরি। তন্ময় শাহেদের হাতদুটো নিজের দুই হাতের মধ্যে নিয়ে আবার নিজের গালে ছোঁয়াল। বললো, আমি যাচ্ছি ভাই।



এসো তন্ময়! তোমার সেমিনার সুন্দর হোক। দোয়া রইলো।



তন্ময় চলে গেল পুনরায়। শাহেদ ক্লান্ত পায়ে বেঞ্চে গিয়ে বসলো। বুক পকেটে হাত দিয়ে টিকেটের অস্তিত্ত্ব অনুভব করলো। হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো, এখনও আরো প্রায় আধা ঘন্টার মত বাকী আছে, ঢাকার ট্রেন ছাড়তে। ঊনিশ বছরের তুলনায় আধা ঘন্টা কিছুই না। রিটার্ন টিকেট তো সাথেই আছে।



(সমাপ্ত)
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
Md.Maidul Sarker গল্পটা পড়তে দারুন লেগেছে। ঝর ঝরে লেখা। অভিনন্দন।
ভালো লাগেনি ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
Yousof Jamil অভিনন্দন প্রিয় লেখক।
ভালো লাগেনি ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
Dipok Kumar Bhadra প্রকাশভঙ্গি মন ছুঁয়ে গেল।
ভালো লাগেনি ৩১ জানুয়ারী, ২০২১
শিশির বিন্দু দুর্দান্ত লিখেছেন ভাই। অনেক দিন পরে আপনার লেখা পড়লাম।
ভালো লাগেনি ২২ জানুয়ারী, ২০২১
Shawon দোয়া করবেন আমার জন্য। নানা কাজে ব্যাস্ততায় লেখা হয়না তেমন। চেষ্টা করবো লিখতে!
ভালো লাগেনি ২৪ জানুয়ারী, ২০২১
Lutful Bari Panna বর্ণনাভঙ্গি শ্রেফ যাদুকরী। আড়ালের গল্পটা যদিও আড়ালেই রয়ে গেলো, এটা তবু একটা সার্থক ছোটগল্প। শাওন একটা বই করে ফেলা যায়, কী বলো। বা এটাই একটা উপন্যাস হয়ে যেতে পারে। আর এই লেখার জন্য ১০ দিতে পারলে শান্তি পেতাম।
ভালো লাগেনি ৬ জানুয়ারী, ২০২১
Shawon আমার জন্য দোয়া করবেন ভাইয়া! আপনার দোয়া চাই আমি!
ভালো লাগেনি ২৪ জানুয়ারী, ২০২১

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

এই গল্পে একজন বয়ষ্ক প্রফেসরের ভালবাসা এবং তার স্বপ্নের কথা লেখা হয়েছে যে সে তার প্রিয় ছোট ভাইকে (আপন নয়) একদিন দেখবে! তার সাথে একসাথে খাবে, ভ্রমন করবে বলে স্বপ্ন দেখেছিল।

০১ ফেব্রুয়ারী - ২০১১ গল্প/কবিতা: ১ টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৬৭

বিচারক স্কোরঃ ২.৪৭ / ৭.০ পাঠক স্কোরঃ ২.২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

বিজ্ঞপ্তি

“ডিসেম্বর ২০২১” সংখ্যার জন্য গল্প/কবিতা প্রদানের সময় শেষ। আপনাদের পাঠানো গল্প/কবিতা গুলো রিভিউ হচ্ছে। ১ ডিসেম্বর, ২০২১ থেকে গল্প/কবিতা গুলো ভোটের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং আগামি সংখ্যার বিষয় জানিয়ে দেয়া হবে।

প্রতিযোগিতার নিয়মাবলী