নবনীতা,

তুমি পড়বে কিনা জানিনা- তবুও লিখছি
ইমেইলের যুগে হাতে লেখার কিইবা দাম আছে!
অস্ত আকাশের আবির রঙা- রাগে অনুরাগে হারিয়ে যাওয়া সূর্যটা
মুখ লুকায় আঁধারের মুখোশে, গভীর থেকে গভীরে।
তেমনি করে হারিয়ে গেছে তোমার লেখাগুলো প্রযুক্তির অলীকতায়।
আজও ধুলো জমতে দিইনি, ঝর্ণা কলমে লেখার তোমার চিঠির খামে।
তুমি না বললেও বুঝেছি- জল নয়; ওগুলো তোমার অশ্রু ছিল!
ঝাপসা লেখাগুলো আজও মনে করায়,
গল্প করতে করতে হারিয়ে যাওয়া- বাদাম খাওয়া বিকেলগুলোর কথা।

তোমার ইমেইল পড়ি, মেসেজও পাই অহর্নিশ।
কিন্তু সেগুলোতে কোন অশ্রুর চিহ্ন নেই-
নেই কোন অচিন্ত্য আকুলতা।
পিঞ্জরমুক্ত আজ- বড় অকৃতজ্ঞ বিগত যৌবনা এই সময়
ধুলোর প্রলেপ দিয়ে গেছে মনের উঠোনে।
যখন তখন ফোন দিলেই তোমার কন্ঠের কলধ্বনি শুনতে পাই
কিন্তু লেখনিতে তোমার সেই হাহাকার, ‘চিঠি পাওয়া মাত্রই উত্তর দিও...’

আজও সযত্নে আছে তোমার লেখাগুলো
তুমি হয়ত ভাবছো আমি আধুনিক হতে পারিনি, বড্ড বেখাপ্পা!
হয়ত সেটাই সত্যি, তোমার মানদন্ডে!
হয়ত কখনও ভুলে যাবে, তোমাকে চিঠিতে কবিতা লিখতাম।
আজও লিখি, কী-বোর্ড দিয়ে
ইমেইলগুলো যেন শ্মশানযাত্রীদের হবিষ্যি খাওয়ার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর,
আর আমার কবিতাগুলো-
আজ শুধুই কতগুলো প্রাণহীন ক্লীবাক্ষর।

ইতি,
তোমারই অংশুমান