লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ অক্টোবর ১৯৬২
গল্প/কবিতা: ১৯টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১৩

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftমুক্তিযোদ্ধা (ডিসেম্বর ২০১২)

ওরা কি মুক্তিযোদ্ধা
মুক্তিযোদ্ধা

সংখ্যা

মোট ভোট ১৩

মিজানুর রহমান মিজান

comment ১০  favorite ০  import_contacts ৯০৩
১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চের কালো রাত্রিতে পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে অত্যাধুনিক সকল প্রকার অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে। নির্বিচারে গুলি চালায় ,হত্যা করে অগণিত মানুষ, অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রম নেয় লুঠে। পৈশাচিক অত্যাচার ,হত্যা, ধর্ষনে মানুষ হয় স্তম্ভিত। দেশ মাতৃকার দামাল ছেলেরা ,বীর বাঙ্গালী কৃষক ,শ্রমিক,ছাত্র ,জনতা সকল পেশার মানুষ উজ্জীবিত হয়, দেশ মুক্ত করার মহামন্ত্রে আত্মা-হুতির প্রেরণা হৃদয়ে ধারণ পূর্বক বিভিন্ন প্রকার কৌশল প্রয়োগ করে শত্রুকে খতম করতে উদ্যত। দীর্ঘ নয় মাস সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় বিজয়।
বিজয়ের সুদীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলে ও যুদ্ধের অনেক কাহিনী ,বীরত্ব গাঁথা, দু:খ- দুর্দশার ,বেদনার কথা রয়েছে আড়ালে আবড়ালে,অগোচরে,সংগোপনে। বর্তমান প্রজন্ম থেকে যাচেছ তা থেকে অনেক দুরে,অজ্ঞাতে,অজান্তে। কিন্তু বাস্থবতার এ যাত্রা আলোর মুখ দর্শনে হয় ব্যর্থ, থেকে যায় অলিখিত। তবে অন্তরে একটা দায়বদ্ধতা আমাকে পীড়া দেয় প্রতি নিয়ত। দগ্ধ হই তুষের অনলে ধিকি ধিকি। তা থেকে মুক্ত হবার প্রয়াস,প্রচেষ্টা আজকের এ কাগজের বুকে কলমের আচড়।
'৭১ সালের ২৬ শে এপ্রিল সন্ধ্যার পর পরই হানাদার বাহিনীর কিছু সদস্য এদেশীয় দোসরদের সহায়তা নিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে হানা দেয়। ধরে ফেলে অনেক মানুষকে ।্্্্ নিয়ে যায় অন্যত্র। বাছাই করে তাদের দৃষ্টিতে অপরাধী ভেবে পাঁচ জনকে রেখে সবাইকে মুক্ত করে দেয়। ঐ পাঁচ ব্যক্তিকে নিয়ে যায় সিলেট শহরের ( ব্রিগেড় হেড় কোয়র্াটার ) সিলেট ক্যাড়েট কলেজে। যুদ্ধ কালীন সময়ে পাক বাহিনী ক্যাড়েট কলেজকে ব্রিগেড় হেড় কোয়ার্টার রুপে ব্যবহার করত। ঐ স্থানে তাদেরকে বন্দী করে রাখা হয় দীর্ঘ দিন। প্রথমে ধৃতদের মধ্যে মুক্তি পেয়ে অনেকে সত্যিই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা, দেশ মাতৃকার শ্রেষ্ট সন্তান অভিধায় হন সিক্ত। কিন্তু হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দী হয়ে বিভিন্ন নির্যাতনের ষ্টীম রোলার সহ্য করে দু:খ কষ্ট বেদনাকে অনিচছার ইচছায় একান্ত সঙ্গী ভেবে নেন অনিশ্চয়তার মধ্যে। তাদেরকে কয়দিন পর পরই করা হত জিজ্ঞাসাবাদ এর নামে নির্যাতন। সময়ে-অসময়ে ডাক পড়ত পাচঁ বন্দীর অস্ত্র, গোলা বারুদ বহনের শ্রমিক হিসাবে।
আহত পাক সেনাদের চিকিৎসার্থে রক্তের গ্রুপ মিলিয়ে নেয়া হত পাঁচ তরুণের শরীরের সবচেয়ে মুল্যবান উপাদান রক্ত যখন তখন। তারুণ্যের উচছ্বলতায় উদ্ধেলিত জীবন যৌবনের শ্রেষ্ট সময়ে অত্যাচার , নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে যারা সুস্থ্য , সবল ও সুঠাম দেহের সতেজতা হারিয়ে ছিল। তাদের প্রাণে , দেহে আজো আসেনি সেই পরিপূর্ণ উতফুল্লতা । একটা স্বাভাবিক নিজর্ীবতা তাদের মধ্যে সকল সময় লক্ষ্য করি। পাঁচ বন্দীর সম্মুখে আনা হয়েছে এ দেশের অনেক বরেণ্য ব্যক্তিকে চোখ বেধেঁ । আবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে অজানার উদ্দেশ্যে। যাঁদের সংবাদ আজো ওরা অজ্ঞাত,অজানা রয়েছে অলক্ষ্যে। ওদের সময় ব্যয়িত হয়েছে শংকা, উদ্বেগ,উৎকণ্ঠায়। কখন জানি কি হয় ? মৃত্যু ভয় ছায়ার ন্যায় রয়েছে সঙ্গী , সাথী হয়ে। আত্মীয়-স্বজন ,আপন জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ হবে কি না আদৌ ছিল ধারণা বহিভর্ূত। অপর দিকে স্বজনরা ছিলেন হতাশায় নিমগ্ন বেঁচে আছে কি না বা কোথায় ,কি ভাবে রয়েছে তা অজানা শংকার ভয়ে বিহবল । এ দু:শ্চিন্তার পরিমাণ করা অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য। ভুক্ত ভোগী ব্যতীত বলা কঠিন "বুঝিবে সে কি সে--------------দংশেনি যারে।"

এত সব শংকার অবসান ঘটিয়ে অক্টোবর মাসের এক সন্ধ্যায় সবাই আপন আপন নিবাসে আসেন ফিরে । টিক্কা খানের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আওতাধীন এ মুক্তি । নিরাশায় আশার আলো । সবাই আনন্দে আত্মহারা । এ আবেগ শুধু কল্পনা করা যায়। বলা বডড কঠিন। উল্লেখিত এ পাচঁ তরুণের নাম মরহুম ছমরু মিয়া (সাবেক ভাইস চেয়ার ম্যান খাজাঞ্চী ইউ/পি) ঘাসি গাওঁ , ডা: আব্দুল করিম নুর পুর , লিলু মিয়া পাহাড পুর , মজম্মিল আলী গমরা গোল , রন দাস সিলেট। রন দাস ছিলেন সিলেট শহরের বাসিন্দা। যুদ্ধ কালীন ভয়ার্ত চেহারার পরিবর্তন হেতু আগমন করেন শশুর বাড়ি লালার গাঁও নিবাসী ডা: মানিক চন্দ্র দাসের গৃহে। "যেখানে বাঘের ভয় ,সেখানে রাত হয়"। রন দাসের ক্ষেত্রে এ প্রবাদ ছিল শত ভাগ সত্য ও বাস্তবতায় রুপ লাভ করে। ছমরু মিয়া ইহজগত ত্যাগ করেছেন কয়েক বৎসর পুর্বে।
জীবিতরা অত্যন্ত দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন ছেলেমেয়ে , পরিবার পরিজন নিয়ে। কেহ আছেন গৃহস্তীতে, কেহ ব্যবসায় , কেহ শ্রমজীবি নাম ধারণে। '৭১ সালের তারুণ্য দীপ্ত উজ্জলতায় ভরপুর বর্তমানে বয়সের ভারে ক্লান্ত,শ্রান্ত। তারা অবলোকন করছেন ধরে নেয়া নারী পুরুষের চোখ বাঁধা চেহারা। কিন্তু পরিণাম দর্শনে হয়েছেন ব্যর্থ।
তথাপি বন্দী জীবনের একেক জন নিরব সাক্ষি বুকের ভিতর পাথর সম বোঝা বয়ে বেডাচেছন অহরহ। কেহ নেয়নি খবর, , রাখেনি খোজ। কারণ ওরা মুক্তিযোদ্ব করেনি হাতে অস্ত্র তোলে , প্রশিক্ষিত হয়ে। আবার হানাদার বাহিনীর সহযোগিতার খাতায় নাম লেখায়নি কখন ও দোসর সেজে। তবে বাংলা দেশের লাল পতাকা , স্বাধীনতা অর্জনের প্রাক্কালে এ দেশের একজন নাগরিক হিসেবে বন্দীত্ব জীবন কাটাতে হয়েছে পাক হানাদারদের হাতে। জানি না কোন অভিধায় সিক্ত হবেন , করবেন বাংলা দেশের সচেতন মহল তা দেখার সৌভাগ্য হবে কি একজন নাগরিকের এ ক্ষুদ্র প্রয়াসের অর্জিত হবে কি প্রাপ্য সফলতা এ প্রত্যয়ী প্রত্যাশা বক্ষমান গল্পের মাধ্যমে লেখকের।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement