হায় প্রিয়া! কি যাদু মাখিয়াছে তব চাহনি!
ভুলিতে পারিনা যে চন্দ্র-রূপালি মুখ খানি !

যে আঁখিতে চাহো বিজিলীয়া শায়ক চমকায়,
শায়ক বিদ্ধ মম হিদয় শুধু তব পানেই চায় !

কাঁড়িয়াছো তাবৎ নজড়, কাঁড়িয়াছো মম রাত্রি ঘুম,
অন্তরে বাঁজিছে আনন্দ বিউগুল, তোমায় লভিবার ধুম !

সংযম-সংবরণে চলিছে না মোর এ প্রাণমন
মানিছে না সংস্কার বাঁধা, হিদয়ে যুদ্ধ সeর্ক্ষণ !

কাছেতে আসিলে ভাসী উচ্ছল আনন্দ জোয়ারে
এক পলক না দেখিলে ডুবি তীমির আঁধারে !

তব চরণ পরশে মরা পথও জিন্দায় জাগে,
সৌষ্ঠব নিতম্ব, পদযুগল নৃত্য করে ময়ূর ঢঙে।

তব হাসিতে রবিশশী রোশনী ঝরে, সরোবরে হাসে কুমুদ-কুহুরী !
পক্ষীকূলের কলকাকলিতে মাতাল বয় সমীরণ, সাগর জোয়ারি !

বিষাদে নামিয়া আনো মলিন বদনে কালো অমানিশা যেন জগৎ জুড়ি!
ভগ্ন মম হিদয়ে শুধুই ঝরে খুন, চতুeর্লয়ে শোকছাঁয়ায় উঠে ভরি ।

ক্রোধে তব রক্তিম-বদন শিল্পীর তুলিতে ঊষার আবীর প্রভা,
চুম্বনে যেন ওষ্ঠদ্বয়ে গোধূলীর রাঙ্গা রবির লালিমার আভা ।

স্বর্ণোজ্জ্বল তব চাঁদবদনে ভূ-লুটে গগনের পূর্ণশশী !
ভ্রমে পথভ্রষ্ট প্রেম-পথিক কতজনা স্বপ্ন-ভ্রমেই ভাসী !

উতলা এ হিদয় মম ভাবিছে, কেমনে লভি চিরতর তোমায়,
চাহনিরহস্যের চাতুরি কেন, রাখিছো কি মোরে তব ভাবনায় ?

তোমা বিহনে, এ ভুবনে হায় মরিতে নাহি চাই, যদি ভাগ্যে জুটো তাই ।।

[ দ্রষ্টব্য: যদিও বর্তমানে আধুনিক কবিতায় অতি-সাধু ভাষার চলন নেই, তবুও সময় সময়ে সেই পুরনো ধাঁচের কবিতা গুলোতে আমার কাছে অনেক আবেগ ও আবেদন আছে বলে মনে হয় । তাই এবারও ইচ্ছে হলো সেভাবেই লিখতে, আর বিচার আপনাদের উপর ।]