ঝরা বিকেলে একঝাঁক বিষন্ন স্বপ্ন
উড়ে যায় শ্রাবণের আকাশে।

শ্রাবণ এখনও বাকি
অথচ ভেজা বাতাসে তুমি যেন সিক্ত নীলাম্বরী।

ষড়ঋতুর এই দেশে
বষর্া বসন্ত হারিয়েছে অজান্তেই
তবুও সেদিন সন্ধ্যার আগে মলিন বিকেলে
প্রাচীন নৌকোর ছেঁড়া পালের মত
ধীর লয়ের মেঘমালা ডেকেছিল তোমায়
মগ্ন প্রহরে ব্যাকুল তৃষ্ণায় পা বাড়িয়েছো প্রজাপতির চঞ্চলতায়
বৃষ্টির ধারায় ফোঁটায় ফোঁটায় শ্রাবণের সবটুকু গায়ে মেখে
বয়ে যাওয়া লগ্ন আর কখনও আসবেনা ভেবে
শ্রাবণে তোমার বিকেল অন্য প্রভায় রেখে দিলে
কলংকের গোপন সঞ্চয়ে রাধার নূপুরের ছন্দে ঢেকে।

ক্ষয়ে যাওয়া সমস্ত বিকেল জুড়ে
বষর্ার সি্নগ্ধতা মেখে অন্যরূপে
তুমি ছিলে শিহরণে
তোমার সাথেই ছিলে তুমি
অতল তৃষ্ণায় নিবিড় অভিসারে
সত্তার সবটুকু চরাচরে।

পাইনি কিছুই বলে মোটা দাগে লিখে
সংকোচের আগুন দেখেছি
তোমার শ্রাবণমাখা চোখে।

বিরহী মেঘ যখনই এলো চুলে
বুনোগন্ধময় তোমাকে খূঁেজ পায়
তখনই স্বপ্নের মতো একটি দিনের অমীমাংসিত
একটি বিকেল চলে যায়।
অবুঝ পথের উত্তাপে লীন হতে না হতেই
ষ্পর্শের মুহূর্তটুকু মহাকালে তুলে
সন্ধ্যার অন্ধকারে ইচ্ছের
স্বপ্নগুলো মরণে হারায় ।

সেদিনের সেই বিকেলে তুমি সংক্রান্ত বৃষ্টি, ভেজা সবুজ ঘাস,
কুয়াশার মত ধূসর সন্ধ্যার মাতম,
হলুদ অথবা সাদা ফুলের লেনদেন,
চোখের কাজল ধোয়া জলে বিমুগ্ধ বেদনা
আমার আমিত্বকে নাড়া দিয়ে যায়
চৈতন্যের লতা-গুল্মে জেগে উঠে অন্য পৃথিবী।

বষর্ার ধারা মলিন হলে-
সব আলো নিভে গেলে
স্বপ্নের শরীরে শ্রাবণদহন নিয়ে
কোন ইশারায় ফিরে যাও তুমি?
বিমূর্ত জানালায় কার মুখচ্ছবি দ্যাখো
কার কবিতায় কতটুকু লেপ্টে থাকো?
বুকের ঝিনুকে কষ্টের মাদল বাজিয়ে
কোন পথে...কত দূরে...
হেঁটে যাও তুমি ? ? ?