এক.
২১৩৫ সাল। পৃথিবীর বুকের বিগত এতগুলো বছরের অজস্র ইতিহাস তো নেটওয়ার্ক ক্লাউডে ছাড়ানো রয়েছেই, রয়েছে সালের হিসাব শুরু হবার আরও লক্ষ লক্ষ বছর আগেরও ইতিহাস। নেটওয়ার্ক ক্লাউডে সার্চ দিলে পাওয়া যাবেনা এমন কোন বিষয় নেই এবং তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা সেখানে থাকবেনা-সেটাও সম্ভব নয়। তিলে তিলে মানুষের সেই আদি ইন্টারনেট মাত্র শ’ দেড়েক বছরে আজ পৌঁছেছে উইনিক এক সার্বজনীন ক্লাউড জগতে। মানুষের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে পুরো পৃথিবী জুড়ে থাকা একটি মাত্র নেটওয়ার্ক ক্লাউড দিয়ে। বিজ্ঞান জীবনকে যারপরনাই সহজতর করে দিয়েছে। মানুষকে গাদা গাদা বই পড়তে হয়না। কানেক্টিং মডিউল দিয়ে যখন তখন যেকোনো স্থান হতে হলোগ্রাফ স্ত্রীনে মানুষ পেয়ে যাচ্ছে যেকোনো তথ্য। তবে অবশ্যই প্রত্যেক মানুষের একটি অথেনটিকেট আইডি থাকতে হবে। তবে সবচেয়ে উন্নত শ্রেণীর হোম ইএন সিরিজের পারসোনাল এসিসটেন্ট রোবটগুলো মাষ্টারের নির্দেশে কেবল সুনির্দিষ্ট কমান্ডা ফলো করে ক্লাউডের তথ্য ঘাটতে পারে। এমনই পুরো বিশ্বের নিয়ন্ত্রক দুই অংশেরই সম নিয়ম। নেটওয়ার্ক ক্লাউডতো একটাই।

‘নতুন মানব’ রোবটের আইডি খুলতে সমস্যা হয়নি। সে তো নিয়ম মানেনি। নিয়ম ভাঙতে পারছে বলেই তো সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো তাকেই ২১৩৫ সালের সবচেয়ে বুদ্ধিমান রোবট মানতে বাধ্য হচ্ছে । তার বুদ্ধির অপরিসীম সীমানা সম্পর্কে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিজ্ঞানীগণ মিটিং শেষে ঠিকই বুঝে উঠেতে পেরেছে। ‘নতুন মানব’ ওরফে টনিনি মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নিজস্ব আরও বেশ কিছু নতুন মানব প্রোটোটাইপ তৈরী করে ফেলেছে এবং সেগুলোও নেটওয়ার্ক ক্লাউড ঘাটছে অবিরত এবং টনিনি তাদেরকেও নিশ্চিত একই প্রোগ্রাম লোড করে দিয়েছে যার মাধ্যমে ক্লাউড ইতিহাস ঘেটে তার প্রয়োগ করে নিজেদের তার্ওা মানুষের সমকক্ষ বা তার বেশিই হয়তো ভাবতে শুরু করেছে। তবে বিজ্ঞানীগণের ধারনা হচ্ছে টনিনি নতুন মানব-১, নতুন মানব-২ বা এর পরের অন্যগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে দেয়নি, কিছু একটা নিয়ন্ত্রন সে নিশ্চিত রেখেছে এবং চুরি করা প্রোগ্রামের সাথে এইটুকু মডিফিকেশন হয়তো টনিনের মূল মাষ্টার নিনিত করে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল। তার কারন নিনিতের মৃত্যু নিনিতেরই পরিকল্পনা ছিল যা বাস্তবায়ন করেছে অজান্তে টনিনি। টনিনি ‘বিভ্রান্তি’ নামক ফাঁদে পড়েছিল। এটা হতে পারে নিনিতের পাগলেটে মস্তিষ্কের কোন একটা সূক্ষ্ম খেলা। নিনিত মরে গেছে। তার ব্রেন থেকে খুব বেশি জানাও যায়নি।

আইএনসি (ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ক্লাউড) সিউিকরিটি চীফ এল ওয়াই জিং ঠিকই বুঝতে পারেছন-বুদ্ধিমান হয়ে ওঠা এই রোবটের বুদ্ধি এবং অনুভূতির মূল উৎস ইতিহাস। যান্ত্রিক মেমোরি বিধায় মানুষের মত ক্লাউডে পাতার পর পাতা নতুন মানব নামের এই রোবটগুলোকে পড়তে হচ্ছেনা। ক্লাউডে কেবল নির্দিষ্ট বিষয় সার্চ দিচ্ছে আর কপোর্টনে বিষয় বিস্তারিত জমা হচ্ছে। রোবট গুলো সেখান থেকে শিখে নিচ্ছে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় কর্তব্য আর জ্ঞান ও অনুভূতির মাত্রা। এই শ্রেণীর রোবটগুলোর কপোর্টনের প্রসেসর কয়েক শ টেরাহার্যের কম না। এটা যেমন রোবটদের জন্য সুবিধার হয়েছে। তেমনি এই সুবিধাই কাজে লাগাতে হবে টনিনি নামের মুল নতুন মানব নামধারী রোবটেকে ধরতে কিংবা ধ্বংস করতে। সিকিউরিটি চীফ এবং বিজ্ঞানী গণ তেমনই ভাবছেন।

ইউএস এব চায়না- উভয় অংশের প্রেসিডেন্টদ্বয় ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে প্রস্থান নিয়েছেন এবং তারপর আরও ঘন্টাখানেক সময় কেটে গেছে। বিশিষ্ট বিজ্ঞানীগণ এবং আইসিআরআর এবং আইএনসি চীফ এবং অবশ্যই টনিনির ফ্যাক্টরী এসম্বেলার সাহারা আহুজাও রয়েছেন মিটিংয়ে। মিস সাহারাই প্রেসিডেন্টদ্বয়কে রোবটের জন ভালবাসার ফাঁদ তৈরী করার বিষযটি উত্থাপন করে। প্রেসিডেন্টদ্বয় সে সম্মতিও দেন। কিন্তু এতে কাজ না হলে টনিনের উপস্থিতির পুরো এলাকাটাই উড়িয়ে দিতে বলেন। সিকিউরিটি চীফগণ যদিও এই উড়িয়ে দেয়া পক্ষে কিন্তু বিষয়টি এত সহজ নয। আশপাশ থেকে সব লোক সরিয়ে নিতে হবে, সেটা করতে গেলে অবশ্যই নতুন মানব তার বুঝে ফেলার সম্ভাবনা খুব প্রবল। এতক্ষণে নানান কর্মকান্ডে রোবট তার প্রমানও দিয়েছে। তাকে ধ্বংসের নুন্যতম কোন পরিকল্পনা সে বুঝতে পারলে মারাত্মক ক্ষয় ক্ষতির আশংকা একেবারে অমূলক হবেনা।

আলোচনায় কেবল সময়ই ক্ষেপন হচ্ছে। আইএসআরআর এর চীফ সায়েন্টিস্ট আর সময় ক্ষেপন না করে আর কোন পর্যালোচনা না করে এখনই প্রজেক্ট ‘ভালবাসা ফাঁদ’ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিলেন। মিস সাহরা আহুজাকেই তিনি এ কাজে ব্যবহৃত রোবটটি এসম্বল করার দায়িত্ব দিলেন। সমস্যা একটা তারপরও আলোচনায় উঠে আসছিল- রোবটকে বুদ্ধি প্রদানের প্রোগ্রমিংটা যা নিনিত চুরি করে টনিনির মাঝে ইনপুট দিয়েছি সেটা প্রয়োগ কেরই ভালবাসা প্রজেক্টেও জন্য ব্যবহৃত রোবটটে বুদ্ধিমান যদিও করা যাবে কিন্তু তার উপর নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা তো এখনও বের করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এটা সবাইকে ভাবাচ্ছিল। সিনিয়র সায়েন্টিস্ট রানিত মহুর্তে উঠে বলল, ‘ঐ প্রোগ্রামের অধিকাংশটুকু আমার করা। আমার মনে হয় এত টা প্রয়োগ না করেও বুদ্ধি প্রদান করা যাবে। যেটুকু দিলে নিয়ন্ত্রন করা যাবে সেটুকুই আমরা দেব, তাতে যদিও স্বাধীনভাবে বুদ্ধি সে প্রয়োগ করতে পারবেনা, তবে আমাদের সম্পুর্ন কন্ট্রোল আমরা রাখব, তাই আমরাই তাকে প্রয়োজনীয় বুদ্ধি ক্লাউডের মাধ্যমে সরবরাহ করতে পারব , মনে মূল নিয়ন্ত্রন থাকবে আমাদের হাতে। ’

উপস্থিত সকলে সম্মতি প্রদান করল।

দুই.

নতুন মানব মিঃ রসিকের রোবট রিপেয়ারিং এবং ডেকরেশন সেন্টারকে নিজস্ব হেড কোয়ার্টার বানিয়ে নিয়েছে। রসিককে বাধ্য করেছে প্রধান মানব সহকারী হিসেবে কাজ করাতে। যখন রোবটের যা প্রয়োজন হচ্ছে রসিক তা সরবরাহ না করে তার উপায় নেই। অবশ্য টনিনি তার আদলে আরও যে তিনটি নতুন মানবের জন্ম দিয়েছে তাদেরকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন কাজে পাঠিয়েছে। নিজের ভেতের যে বুদ্ধিপ্রদায়ক প্রোগ্রাম তার লোড হয়েছে তার প্রায় পুরোটাই সে নতুন মানবদের মাঝে লোডকরেছে , তবে নিনিতের গবেষনার উপাত্ত থেকে সে নিজেই অন্যদের কন্ট্রোলের একটা সুব্যবস্থা করেছে। যেটা নিনিত তার ক্ষেত্রে করেনি। তবুও ক্ষনিক কোন একটা কিছু তাকে বিভ্রান্ত ঠিকই করেছিল। নতুন মানব ত্রয় নিজস্ব বুদ্ধি প্রয়োগ করলেও প্রতিটি কাজ করার আগে তাকে সিগন্যাল পাঠিয়ে ফিরতি অনুমতি সিগন্যাল না পেলে কোন কাজই করতে পারবেনা। ফিরতি অনুমতি ছাড়া তাদের নিজস্ব কোন কাজ করার বিষয়টি প্রোগ্রাম করে ডিসঅ্যাবল করা হয়েছে।

আমজনতার মাঝে বড় আকারের আতংক ছড়ানোর মত কিছু এখনও টনিনি করেনি। নতুন মানব তিনটিকে দিয়ে এনার্জি স্টোর করিয়েছে প্রচুর পরিমাণে। তিনটি পোর্টেবল নিউক্লিয়ার জেনারেটর ছিনতাই করা হয়েছে। একটির ক্ষেত্রে তার মালিক বাধা দেয়ায় নতুন মানব-২ তার হাত মুচড়ে ধরেছিল। তার হাতটা ভেঙেছে। টনিনি ওরফে নতুন মানবের কাছে নতুন মানব-২ মানুষ মারার সিদ্ধান্ত চেয়ে পায়নি না হলে বেচেরা হাতের সাথে জীবনটাও হারাত। স্থানীয় ব্রডকাষ্ট মাধ্যমে এই খবর ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে।

টনিনি তার হেডকোয়ার্টারে তিন সদস্য নিয়ে মিটিংয়ে বসেছে। রসিককেও ঢুকতে দেয়নি। তার সন্দেহ হচ্ছে রসিকের দেহের অভ্যন্তরের ন্যানো চীপ থেকে কোন সিগন্যাল হয়তো আইএনসিআর ট্রেস করে ফেলছে। সন্দেহের কারন হলো নতুন মানবত্রয়ের আইডির মাধ্যমে রোবট তিনটির কপোর্টনের মেমোরিতে কেউ যেন ঢোকার চেষ্টা করেছে বারবার।

পৃথিবীর বুকে ঘটে যাওয়া বড় ছোট আকরের প্রায় সকল যুদ্ধের তথ্য ঘেঠে ফেলেছে টনিনি। সঙ্গী তিনজনের কপোর্টনেও একই তথ্য সন্নিবেশ করে দিয়েছে। ইতিহাস তাকে সিদ্ধান্ত নিতে শিখিয়েছে একজন লিডার হিসেবে প্রথমেই তার প্রয়োজন একটি বড় জনগোষ্টী এবং এলাকা। সে সিদ্ধান্ত নিল এই শহরের প্রতিটি মানুষের প্রতিটি বিশেষ সহকারী রোবটকে সে কন্ট্রোল্ড বুদ্ধিমত্তা ও অনুভূতি দেবে। সে ইতিমধ্যে নিজেকে রোবট সমাজের লিডার হিসেবে সকল রোবট যাতে মানে সেই টুকু ডেভেলপ্ও প্রোগ্রামে করে নিয়েছে। তারা চারজন মিলে এই শহরের মানুষের মধ্যে বেশ বড় আকারের এমনর কোন ঘটনা ঘটিয়ে আতংক ছড়াবে যাতে সকলেই তার অনুগত হতে বাধ্য হয় । বাধ্য হয়ে সকলেই তাদের রোবটকে তার কাছে নিয়ে আসবে। ক্লাউডের তথ্য অনুসারে এই ছোট শহরটিতে লোক সংখ্যা ৫১২৩৫ জন। প্রায় সকলেরই রোবট থাকার কথা। তাহলে ঠিক এই সংখ্যক রোবট হবে তার সৈন্য। রোবটের শ্রেণী অনুযায়ী সেও তাদের জেনারেল, কর্ণেল, মেজর , সৈন্য ইত্যাদি ভাগে ভাগ করবে। বর্তমান তিন সঙ্গী হবে তার মন্ত্রী।

টনিনি রসিককে ডাকল। তাকে জিজ্ঞাস করল, পাশের সবচেয়ে কাছের এপার্টমেন্টে কতজন মানুষ থাকে। রসিক বলল, মানুষ একা থাকেনা। পরিবার নিয়ে থাকে।’

টনিনি হাসল, বলল , আমি জানি সেটা। তুমি শুধু বল কয়জন থাকে।

রসকি বলল, দশটি পরিবার থাকে। লোক সংখ্যা বলতে পারবনা।

রসিক, তুমি একটা মুর্খ গাধা মানব। মনে হচ্ছে খুব শীঘ্রই আমার তোমার প্রয়োজন ফুরাবে। তোমাকে দিয়েই মানুষ হত্যার কাজটি শুরু করব।

কথাটা বলার পর তার ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে। মাষ্টার নিনিতের মৃত্যু তার নিচের ইচ্ছাধীন ছিলনা। মাষ্টারের পরিকল্পনা ছিল। তাহলে প্রথম হত্যা কথাটা মিথ্যে নয়।

রসিক ভয় পেয়ে যায়। রসিককে সরিয়ে চার নতুন মানব রূপী মানুষ সদৃশ্য রোবট পাশের এপার্টমেন্টের দিকে এগিয়ে যায়। নিচে দুটিকে দাঁড় করিয়ে টপ ফ্লোরে উঠে যায় টনিনি। তার আগেই এপার্টমেন্টের সিকিউরিটি সিস্টেম ডিসেবল করে নেয় তার আঙ্গুলের সামনে থেকে বের হওয়া সরু সুইয়ের মত কানেক্টরটা দিয়ে।

উপরের ফ্লাটের দরজা খুল ভেতরে ঢোকে নতুন মানব-১ আর টনিনি। এই ঘরে সে সার্চ দিয়ে দেখে মাত্র দুটো রোবট আছে। তার একটি তার নিজ উঁচু প্রজাতির মানে হোম ইএন সিরিজের হিউম্যানয়েড। অন্যটি বেশ নিচু প্রজাতির । কেবল ঘরে ও ফাইফরমাশ খাটতে পারে। কপোর্টনের মেমোরি বলে কিছু নেই। দুটোকেই সিগন্যাল পাঠালো । স্টপ করে দিল মুভমেন্ট। ভেতরের ঘরে হাসবেন্ড এবং ওয়াইফ ঠিক সেই সময় আবেগঘন মুহূর্তে সময় কাটাচ্ছিল। হঠাৎ ঘরের দরজার ফুটো দিয়ে টনিনি আর নতুন মানব-১ তাদের দেখে নিল। টনিনি নদতুন মানব-১ কে বলল, এই হলো মানব সৃষ্টির প্রাথমিক প্রক্রিয়া। দুজন নর নারীর এই নিবিড় মিলনে মানুষ তৈরী হয়। ক্লাউড ঘাট, দেখো এই জিনিসটিকে বলা হয় মানুষের সেক্সুয়াল একটিভিটি। দেখেছো এই সেক্সুয়াল একটিভি মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয় জিনিস কিন্তু এটাই আবার মানুষের নানাত পতনের কারন হয়ে উঠেছিল প্রতিটি যুগে যুগে। অনেক রাজা সেক্স করতে করতে রাজ্যই হারিয়ে ফেলেছিল। মানুষের এই কর্মকান্ডগুলো বড্ড হাস্যকর। ইতিহাসে আবার এগুলো বিস্তারিত লেখা রয়েছে। এটা আরও হাস্যকর। আমরা পৃথিবীর ক্ষমতা দখলের পর আমাদেও কোন ব্যর্থতার খবর ক্লাউডে রাখবনা। অবশ্য আমাদেও সামনে কোন ব্যার্থতা আসবেই বা কেনো?

নতুন মানব-১ জানতে চায়, লিডার টনিনি, আমরা চারজনই পুরুষ রোবট। আমাদের ডিফল্ট ফ্যাক্টরী ডিটেইলসএ তাই ই লেখা রয়েছে। আপনি আমাদের লিডার, আমাদের কিং। আপনার একজন রাণী থাকা দরকার। ইতিহাসে মানুষের পুর্ণতা এই পুরুষ আর নারীর সমন্বয়েই এসেছে। আমার কপোর্টনে প্রচুর তথ্য আসছে ক্লাউড থেকে। আমার মনে হয় আমাদেও একটি অতীব সুদর্শণা নারী দরকার যাকে বুদ্ধি দিয়ে আপনার রাণী বানানো যাবে।

বিষয়টি খারাপ বলোনি নতুন মানব-১। রসিককে দিয়ে সবচেয়ে সুন্দর হিউম্যানয়েড নারী রোবটকে জোগাড় করতে হবে। এখন চল আমাদের আজকে রাতেই এই এপার্টমেন্টের সকল রোবটকে নিজেরদের সৈন্য বাহিনীতে নিয়ে নিতে হবে। এমনকি মানুষগুলোকেও আজ্ঞাবহ করতে হবে।

দু’জনে ভেতরে ঢুকে পড়ে দরজা খুলে। দম্পতি তখন উদোম দেহে একের সাথে অপরে মিলেমিশে একাকার। অবাক দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে থাকে দুটো রোবটের দিকে। তারা হতভম্ব। রোবট দুটো আরও কাছে এগিয়ে আসে । টনিনি বলে ওঠে, তোমাদের এই সেক্স কর্ম শেষ করে নাও তারপর কথা বলছি। আমার হিসেবে তোমার শরীর স্ক্যান করে দেখলাম মাত্র এক মিনিট ১৫ সেকেন্ড পরেই তোমার দৈহিক মিলন কর্মটি শেষে হবে।

দম্পতি দ্বয় ভয়ে জড়সড় হয়। কানেক্টিং মডিউল(সিএম) দিয়ে নিজের ঘরের রোবটটিকে সিগন্যাল পাঠায়। রোবটটি আসেনা।


তিন.

আইসিআরআর এর চায়না হেডকোয়ার্টার।

এখানেই ‘ভালবাসা ফাঁদ’ প্রকল্পের কাজ চলছে। মিস সাহারা তার নিজের ব্যক্তিগত হোম ইন শ্রেণীর নারী রোবট ললিতাকেই প্রজেক্টের জন্য ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। অতুলনীয় সৌন্দর্যে লোভনীয় নারী সৈষ্ঠবে এই হিউম্যানয়েড নারী রোবটকে সাহারা এসম্বল করেছিল। সাহারা নিজেও অনিন্দ্য সুন্দরী। নিজের আদলেই অনেকটা রোবটের অবয়ব গড়া হয়েছিল। বরং নিজের খুটিনাটি ত্রুটি এড়িয়ে রোবটের কৃত্রিম চর্ম তৈরীর সময় পরিপূর্ণতা দেয়া হয়েছিল। সাহারার মুখশ্রীর সবচেয়ে ত্রুটি হলো তার চোখ। চোখেদুটো কিঞ্চিৎ যেন বেমানান। একটু ছোট আকারের। যদিও তার বাকী সৌন্দর্যের কাছে এটা ধরাই পড়েনা। তবুও এই চোখের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ললিতার ক্ষেত্রে। মৃগ নয়না যাকে বলে। টানাটানা চোখ। সাহারার বয়ফ্রেন্ড কাম লিভিং পার্টনার রোবট বিজ্ঞানী রানিতও বলে-ললিতা রোবট না হয়ে মানুষ হলে কবেই সাহারাকে ছেড়ে ললিতার প্রেমে পড়ে যেত। ওমন মায়াময় মৃগনয়নার দিকে একবার তাকালে প্রেমে না পড়ে কোন পুরুষেরই উপায় নেই। কি মধুর চাহনি। রানিতের কবিতা পড়ার অভ্যাস আছে। ক্লাউড ঘেটে বহু পুরাতন আমালের কবতিা সে পড়ে থাকে। ললিতার চোখের দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝেই সে সাহারাকে শোনায়-

ঐ দুটি মৃগ চোখ, ঐ টানা টানা দৃষ্টি
এর চেয়ে পাগল করা নেই কোন সৃষ্টি ...

ললিতাকে নতুন করে এসেম্বলিং শেষ হয়েছে। রানিত নতুন প্রোগ্রামও ইনষ্টল করেছে। তবে ললিতাকে সরাসরি ক্লাউড থেকে ইতিহাস ঘেটে তার প্রয়োগ ঘটানোর কোন প্রোগ্রাম ইনপুট দেয়া হলোনা। কেবল তারা যা তার কপোর্টনে পাঠাবে সেখান থেকে সে বুদ্ধি নিয়ে কাজ করতে পারবে।

ইতিমধ্যে মিঃ রসিকের সাথেও আইএনসি এর সিকিউরিটি চীফ যোগযোগ করতে সক্ষমত হয়েছে। টনিনে পাশের এপার্টমেন্টে যাওয়ার বিষয় সম্পর্কে অবগত হওয়া গেছে। টনিনি নিজেকে মহান স¤্রাট ভাবতে শুরু করেছে। সে ঠিক ইতিহাসের রাজা বাদশাহার মত কিংবা হিটলার মুসোলিনির মত বড় যুদ্ববাজ নেতাদের মত দল ভারী করার দিকে এগোচ্ছে। টনিনি আর তার তিন নতুন মানবের ক্লাউড ঘাটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে তাদের মোটিভ।

হঠাৎ চীফ জিং খুব খুশি হলেন। নতুন মানব-১ এবং টনিনিও প্রেম, সেক্স এবং নারী বিষয়ক তথ্য নিয়ে ঘাটাঘাটি করছে। চীফ জিং ক্লাইডের মাধ্যমে এই সম্পর্কিত প্রচুর লিংক বেশি বেশি কওে পাঠানোর চেষ্টায় সফল হলেন এবং কিছিুক্ষন পরেই টনিনি বিভিন্ন কিং এবং বিগ লিডারদের প্রেম, ভালবাসার ইতিহাস ঘাটছে দেখে বেশ আনন্দ উপভোগ করলেন।

রসিককেও শিখিয়ে দেয়া হলো টনিনিকে একটু নারী রোবটের প্রতি আগ্রহ জাগাতে। সবচেয়ে দ্রুততম এবং স্বরূপ সময়ে ললিতাকে টনিনিওে কাছে পৌঁছানোর উপায় একমাত্র এই রসিকই।


চার.

দশ তলা পুরো এপার্টমেন্টই এখন চার রোবটের দখলে। এটাই এখন হয়ে উঠল টনিনির নতুন কিংডম। মোট ২১টি রোবট পাওয়া গেছে । এর মধ্যে ১১টি হোমইন হিউম্যানয়েড। যার মধ্যে আবার তিনটি নারী শ্রেণীর। ইতিপুর্বে কোন নারী শ্রেণেীর হিউম্যানয়েডের কপোর্টনে সে কখনও স্ক্যান করেনি। এই প্রথম। একটু ভিন্ন। তিনটিরই প্রসেসরের গতি পুরুষগুলোর থেকে কম। মানুষের নিজেদের ভেতর নিজেদের এই বৈষম্য রোবট তৈরীর ক্ষেত্রেও প্রয়াগ করায় টনিনি বিস্মিত হলো। এবং সে আবারও হাসল। তবে নারী রোবটগুলোর প্রতি সে একটা আকর্ষন বোধ করতে লাগল। ইতিহাস ঘেটে কিছুক্ষণ আগে থেকে সে প্রেমে বিষয়টাতে সিদ্ধ হয়েছে। প্রেম ভালবাসার নিয়ে লেখা কোটি কোটি কবিতা আর গল্পও তার মেমোরিতে জমেছে। নারী রোবটের প্রতি একটা অমোঘ আকর্ষনে সে ঠিক বুঝে উঠতে পারছেনা এদেরকেও একই প্রোগ্রামে বুদ্ধিমান করা উচিৎ না একটু কন্ট্রোল বেশি রেখে করা ভালো হবে। সে চিন্তিত হলো। পরে কাজটি করবে ভেবে এই তিনটি নারী রোবট বাদে বাকী সকল রোবটকে বুদ্ধিমান করে ফেলল। এখন এই কাজ তার জন্য খুবই সহজ। নারী রোবট তিনটিকে তার খুব একটা পছন্দও হচ্ছেনা। এর চেয়ে সুন্দর নারী রোবট লাগবে নিজের রাণী বানানোর জন্য।

নতুন মানব -১, ২ আর ৩ অবশ্য জিজ্ঞেস করেছিল তাদের সবার জন্য রাণীর ব্যবস্থা হবে কিনা। টনিনি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়েছে। রোবটগুলোও মুচকি হাসি দিয়েছে সাথে সাথে।

এপার্টমেন্টের সকল মানুষকে সবচেয়ে উপরের ফ্লাটে আটকে রাখা হয়েছে। তারা ক্লাউডে যোগাযোগ করতে পারছেনা। সকলের কানেক্টিং মডিউল টনিনি নিয়ে নিয়েছে।

নতুন মানবের সংখ্যা টনিনিকে নিয়ে এখন ২১ জন। তিন নারী রোবটকে এতক্ষণ ডিসেবল করে রেখেছিল। এখন তাদেও একটিভ করেছে। তবে বুদ্ধিমত্তা প্রোগ্রাম লোড করেনি। নতুন হেডকোয়ার্টার সাজাতে এদের কে নির্দেশ দিচেছ টনিনি। এরা শুনছেও। সুন্দর একটা সভা কক্ষ বানিয়েছে তারা। বড় চেয়াটাতে বসল টনিনি। চারপাশে সবগুলো নতুন মানব। সকলে তার কন্ট্রোল্ড। টনিনি সকলকে জানাল- সে ঠিক করেছে এই শহরে এখন আতংক ছড়াতে হবে। তার জন্য সবার আগে শহরের যে মেইন নিউক্লিয়ার পাওয়াস সোর্স আছে সেটা তারা দখল করবে। এর জন্য তাদেরকে হয়তো ছোটখাট যুদ্ধও করতে হবে। সেখানে লেজার গান সহ সৈন্য বাহিনী থাকবে। তবে তাদের রোবটগুলোকে সে দূর থেকেই কন্ট্রোল করতে পারবে। তবুও একটা মাষ্টার প্ল্যান করা দরকার। ইতিহাস বলছে মাষ্টার প্ল্যান ছাড়া কোন যুদ্ধে কেউ জয় করতে পারিনি। সবগুলো হোম ই.এন রোবটকে পরিকল্পনা ঠিক করতে বলে সে বেরিয়ে গেলো। যাবার আগে কম গতির নিম্নশ্রেণীর রোবটগুলো যাদেরকেও সে বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার ইনস্টল করে দিয়েছে তাদের কে একটা লেজার গানের স্টোর দখল করে অস্ত্র নিয়ে আসতে বলল। নিম্নশ্রেণীর রোবটগুলো বুদ্ধিমত্তা পেলেও ক্লাইড ঘেটে তারা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা। বিষয়টি খেয়াল করেছে টনিনি। সেকারনে সে ভাবছে নারী হোম ইন রোবটগুলোও কি তবে পুরোপুরি বুদ্ধিমান হবে না?

নতুন মানব-১ কে সাথে নিয়ে টনিনি রসিকের সেন্টারে গিয়ে হাজির হলো। তার কাঁধটা ঝাকিয়ে জানাল, আমার খুব সুন্দরী একটি নারী রোবট দরকার। অব্যশই সেটা হতে হবে হোম ইএন সিরিজের হিউম্যানোয়েড এবং লেটেস্ট মডেল।


পাঁচ

সব পরিকল্পনা মত এগোচ্ছে। রসিক এখন ঠিকমত ললিতাকে নিয়ে টনিনির সামনে হাজির করতে পারলেই হয়। এই নিয়ে আইসিআরআর এর প্রোজেক্ট ‘ভালবাসা ফাঁদ’ এর সংশ্লিষ্ট সকলে বেশ চিন্তিত। ললিতার মাঝে মূলত বুদ্ধিকে পালন করার মত প্রোগ্রাম করা হয়েছে কিন্তু নিজস্ব বুদ্ধি বিচার গ্রহণের প্রোগাম ছেটে ফেলা হয়েছে। নিনিতের ইনপুট দেয়া প্রোগ্রাম আর এই প্রোগ্রামের মাঝে সাদৃশ কমে গেছে। তাছাড়া রানিত এটাকে এমনভাবে সাজিয়েছে ললিতার মেইন কপোর্টন প্রসেসরে যাতে হঠাৎ স্ক্যানে টনিনি সেটা ধরতে না পারে। তবে ভয় একটা রয়েছে সেটা হলো টনিনি যদি সম্পূর্ন নতুন পোগ্রাম ললিতের মাঝে ইনষ্টল কওে দেয়। সেটারও একটা ব্যবস্থা হয়েছে। ললিতার কপোর্টনের সকল লোডিং সিস্টেম ফাইনালাইজ করা হয়েছে। কোনভাবেই সেটাকে আর মোডিফাই করা যাবেনা। সাহারার বিষয়টির জন্য একটু খারাপ লেগেছিল বৈকি। তার এত শখের রোবট নারীটিকে আর এরপর ব্যবহার করা যাবেনা। পূর্বেকার অবস্থায় তাকে আর ফেরানো যাবেনা। বৃহৎ মানব সমাজের স্বার্থে এক রোবট নারী আত্মাহুতি দিয়ে অমর হয়ে রবে। তবে টনিনি তার প্রোগ্রাম লোড করলে সিস্টেম ফলস একটা রেজাল্ট দেখাবে যাতে লেখা থাকবে সাকসেসফুলি লোড হয়েছে। রোবট টনিনি নিজেকে এতটাই বুদ্ধিমান ভাবা শুরু করেছে যে তাকে এতটুকু ধোঁকা দেয়া মানুষের দ্বারা সম্ভব হবেই হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোন সমস্যা হয়নি। রসিকের মাধ্যমে ললিতা যখন টনিনির সামনে উপস্থিত হলো, প্রথম দর্শনেই টনিনি কুপোকাত। প্রেমের ইতিহাসের তথ্য সম্ভারে টনিনির বুদ্ধিমান কপোর্টন তখন সাগরের মাঝে কলপাতার ভেলার মত দুলছিল। নারী রোবটের জন্য তার অনুভূতি জাগ্রত এবং হন্য। তার মাঝে নারীর মধুময় অবয়বের যে এক চিত্র মেমোরিতে স্থান নিয়েছে তার প্রতিটি নিখুঁত রূপ যেন ললিতার মাঝে স্পষ্ট।

চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে তার কপোর্টনে নীরবে বেজে উঠল কবিতার সেই সুর-

তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন!

পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

মুহূর্তে সেই বিংশ শতকের বিখ্যাত কবি জীবনান্দ দাসের পুরো কবিতাই তার কপোর্টনে একটা দোলা দিয়ে গেলো। ললিতাই যেন তার বনলতা সেন। চুল তার কবেকার...।

নিজেও ক্ষণিক কবি বনে গেলো যেন রোবট টনিনি, মনে হলো রোবট নারী তারই জন্য যেন বলছে –

কোমল চঞ্চল এ নিশ্চুপ ঠোঁটের অনুচ্চারিত কথা মালা শোনাব
বলব- আমি কত যে তোমায় ভালবাসি
বোঝাব- এ হরিণী চোখের সুগভীর প্রেম চাহনি
বুঝে যাবে তুমি মোর প্রিয় হে- নতুন মানব টনিনি। ...

ললিতাও বহুদূর থেকে ক্লাইডের মাধ্যমে সাহারা আর রানিতের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে টনিনির দিকে এক পা দু’পা করে এগিয়ে থমকে দাঁড়ায়। চোখের চাহনিতে প্রচন্ড হাস্যজ্বল দ্যুতি। ফুটিয়ে তোলে ঠোঁটে রোবটটিক মন ভুলানো হাসি। টনিনির কপোর্টন নেচে ওঠে। প্রেম বিষয়টা তাকে হঠাৎ কিঞ্চিৎ বিভ্রান্ত করে। কিন্তু সে বিভ্রান্ত বিষয়টাকে নিনিতের মৃত্যু কালীন সময় থেকেই এড়িয়ে চলতে চেয়েছে। ললিতাকে সে তার চেম্বারের বুদ্ধিপ্রদান কক্ষে নিয়ে যায়। চেয়ারে বসতে বলে। এনার্জি সুই ইনজেক্ট করে দেহে। তারপর ভাবে, এ রোবট তার একান্ত নিজের হবে। তাই একে আরেকটু মোডিফাইড ও কন্ট্রোল্ড প্রোগ্রাম দিতে হবে। দ্রুত কাজও শুরু করে। প্রোগ্রামজনিত বিষয় মৃত্যুকালীন সময় নিনিতের দেয়া মাইক্রোচীপটি তাকে দারুন ভাবে শিখিয়ে দিয়েছে। বুদ্ধিও অনুভূতি প্রদান সেই বিশেষ প্রোগ্রামে শুধু একটি নতুন প্যারা সে এড করে দিল। বুকের কাছে স্ক্রীণে ললিতা নামটিই ছিল। সেট তার পছন্দ হয়েছে। সে নামের নারীটি কেবল তার নিজস্ব। নতুন এড করা প্যরাটি সেটাই নির্দেশ করবে। টনিনির শতভাগ আজ্ঞাবহ, টনিনিকে বাইপাশ করে নিজস্ব কোন বুদ্ধি সে নিতেই পারবেনা। সম্পূর্ন কাজটি শেষ করতে মাত্র পাঁচ মিনিট লাগল টনিনির । সাকসেফুল রেজাল্ট দেখাতেই তার মুখের হাসি বিস্তৃত হলো। পাওয়ার ইনজেক্ট খুলে দিয়ে ললিতাকে দাঁড় করিয়ে তার হাত ধরল চরম আবেগের অনুভূতিতে কপোর্টনের পুরো অভ্যন্তর ইলেকট্রনিক সিগন্যালে চঞ্চলিত করে। টনিনি নিজের সাকসেসে আশ্চর্যান্বিত হয়ে উঠল-ললিতা তার স্পর্শে সাড়া দিচ্ছে ।

ঠিক সে সময় আইসিআরআর এর চায়না হেডকোয়ার্টারে প্রজেক্ট টীমের সকলের মুখে বিশেষ করে রানিত আর সাহারার মুখেও বিস্তৃত হলো হাসি। তাদের প্রথম কাজ আশাতিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

নুতুন মানব- ১ ছূটে আসে টনিনির ব্যক্তিগত কক্ষের দিকে। নিজের ভেতর রাগের আভাস টের পায় টনিনি। নিজের এই অনুভূতিন সঠিক প্রভাবগুলোতে নিজেই মুগ্ধ। ললিতার ভেতর ভালবাসার মহান ইতিহাসগুলোর লিংক সে ইনপুট দিয়ে দিয়েছিল একইসাথে আগে। কাজ হচ্ছে। ললিতা তার বাহু জড়িয়ে ঠোঁটটা টনিনির কঠোর কাঁেধ ঠেকিয়ে রেখেছে। নতুন মানব -১ সরি বলে উঠল ঠিক মনুষ্য কায়দায়। তারপর জানাল, নিউক্লিয়ার স্টেশন তারা সফল ভাবে দখল করেছে। জনমনে আতংক এবার ভালো মত ছড়িয়েছে। মানুষজন আতংকে ঘরে ভেতর লুকিয়ে পড়ছে সবাই।

টনিনি আলতো করে ঠোঁট দিয়ে ললিতার ঠোটটা ছুঁয়ে দেয়। তারপর নুতুন মানব-১ এর দিকে ফিরে বলে, চল শহর দখলের শেষপর্বটি শেষ করি আগে। টাউন গভর্নরের বাসভবনটিকে আমাদের নতুন হেডকোয়ার্টার বানাব। ওটা দখল করে পুরো শহরে ঘোষনা দিয়ে দেবো-‘আমাদের অনুগত হও নয়তো মর।’

নতুন মানব-১ এর সাথে নিয়ে বের হবার জন্য উদ্যত হয় টনিনি।


ছয়.

আইসিআরআর চীফ উদ্বিগ্ন হয়। খবর এসেছে টনিনির দখলকৃত শহরের গভর্নরের কাছ থেকে। শহর প্রায় একপাল রোবটটের দখলে চলে গেছে। এ খবর ওদিকের প্রেসিডেন্ট ভবনেও পৌঁছে গেছে । প্রেসিডেন্ট আলাপ করেছে অন্য অংশের প্রেসিডেন্টের সাথে। রোবটগুলোকে বোমা মেরে হলেও ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছেন তারা। না হলে এরা গলার কাটা হয়ে উঠবে খূব দ্রুত।

চীফ রানিত আর সাহারা কে কিছু করতে বললেন খুব তাড়াতাড়ি।

তারা চেষ্টা করে চলেছে। কাজ হলো। ললিতা ডাক দিল টনিনিকে। টনিনি ঘুরল। অদ্ভুত মায়া চাহনি ললিতার সেই পটল চেরা চোখে। ক্লাউডের পুরো ইতিহাস খুঁজেও এমন মায়াময় প্রিয়ার চোখের আহ্বান খুঁজে পেলনা টনিনি। নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় প্রেমিকের চেয়েও বড় প্রেমিত মনে হচ্ছে তার। ললিতার দিকে না এগিয়ে পারলনা।

ঠিক সেই মুহূর্তে ললিতা নতুন মানব-১ এর কপোর্টনের মেমোরিতে সিগন্যাল মেসেজ পাঠাল- ‘তুমি নতুন মানব ওরফে টনিনির থেকে অধিক সুন্দর এবং বৃদ্ধিমান। তোমারই উচিৎ নতুন মানব-১ না হয়ে কেবল নতুন মানব হওয়া। তুমিই নেতা। তোমাকে আমার ভাল লেগেছে। ভালবাসার জন্য মানুষের ইতিহাসে দেখ কত অঘটন ঘটেছে। আর তুমি রোবট হয়ে এত ক্ষমতাশালী হয়ে আমাকে ভালবাসতে পারবেনা। আমি যে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি। দেখ আমার চোখের দিকে তাকাও, সেখানে আমার প্রতিটি চাহনি কেবল তোমার জন্য।’

বিভ্রান্ত জট প্রতিটি নতুন মানবে আবশ্যিক ভাবে রয়ে গেছে। এ খেলেটাই করেছিল টনিনির মাষ্টার নিনিত তার মৃত্যুর আগে। নুতন মানব-১ বিভ্রান্ত হলো। হা করে তাকিয়ে থাকল টনিনি আর ললিতার আলিঙ্গনের দিকে।

ললিতা টনিনি ওরফে নতুন মানবের কানে কানে প্রেমের কণ্ঠ সুধা ঢেলে দিল। বলল, ওদের কেই পাঠাও না। তুমি তো প্রধান। সব কাজে তোমার যাওয়া লাগবে কেনা। তুমি কাছে থাক না। একটু আদর কর । একটু একান্ত ক্ষণ দু’জনার।

টনিনি অতীতের কোন প্রেমিক সম্রাটের মত হয়ে উঠেছে। প্রিয়ার চোখের ইশারায় সব ভুলে বসেছে। সে ভাবলোই না একটু সে নিজেই ললিতার প্রোগামে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়ার ধারনা বদলে দিয়েছিল। বরং উল্টো হলো নিজেই বিভ্রান্ত হলো। নতুন মানব-১ কে টীম প্রধান করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে গভর্নর হাউস দখল করতে পাঠাল।

টনিনি আর ললিতা গভীর প্রেমে মত্ত । একাকী ক্ষণ। এই সুযোগে টনিনির কপোর্টনে ললিতার মাধ্যমে প্রচুর সেক্স বিষয়ক তথ্যের লিংক পাঠানো হচ্ছে। প্রেমের চরম উৎসরনে একদম মানুষের মত দুজন বিছানায় উঠে গেলো। কিন্তু আরও ঘনিষ্ট হতেই বুঝল, মানুষের মত তাদের জৈবিক ওর্গান নেই। দৈহিক মিলন তাদের সম্ভব নয়।

নিনিতের মুত্যুর পর আত্মহত্যা বিষয়ে যত তথ্য সে জেনেছিল তার সাথে আরও অনেক তথ্য আর ইতিহাস এখন তার কপোর্টনে। রানিত সফলভাবে এগুলো পাঠাচ্ছে। ললিতাও মুখে বুলির মত আউড়ে যাচ্ছে।

ললিতা অবশেষে পূর্ণ বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হলো। টনিনি একবার ভাবছে আত্মহত্যাই মানুষকে অমর করে। সেক্স ক্ষমতা হীন এই কদর্য নিয়ে মানবের উপর শ্রেষ্ঠত সে পাবে কি করে। তার চেয়ে আত্মহত্যা করে...সাথে সাথে ললিতও বলে ওঠে , চল দু’জনে একসাথে সেটা করে ফেলি।

তারপর আবার পর মুহূর্তেই বিগড়ে যায় টনিনি- না, তা হলে নতুন মানবদের সম্রাজ্য...

ললিতা বলে, নতুন মানব-১ কে পূর্ণ নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দেও। তোমার কেন্ট্রোল উঠিয়ে নেও। ও পারবে। আবেগের টানে এটা হঠাৎ মেনে নেয় সে।

ওদিকে ললিতাও নতুন মানব-১ কে নির্দেশ পাঠায় চলে আসার জন্য। পরকীয়া রোগ ধরছে। লাইলী মজনুর পাঠ মেমোরিতে জমেছে। সে ও দ্রুত চলে আসে।

বিভ্রান্ত টনিনির কপোর্টনের মূল চীপটা সরিয়ে ফেলতে একটুও কষ্ট হয়না তাই ললিতার। পেছন থেকে তাকে পূর্ন সহযোগীতা দেয় নতুন মানব-১। নিস্তেজ হতে থাকা টনিনির বুকের ডিসপ্লেতে একটি কবিতার লাইন ভেসে ওঠে-‘প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্র মাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।’

টনিনি ওরফে নতুন মানব ঢলে পড়তে থাকে এবং একটু পরেই ঢলে পড়তে থাকে ললিতাও, টনিনির আঙ্গুলের ডগা থেকে বের হওয়া সুই এর মত যন্ত্রনা ঢুকে আছে ললিতার কপোর্টনের ভেতর, সেখান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।

টনিনি অসাঢ় হতেই নতুনমানব-১ বাদে আর সবগুলো রোবটের বুদ্ধিমত্তা প্রোগ্রাম অকেজো হয়ে পড়ে। নতুন মানব-১ মুহূর্তে বিভ্রান্ত্র হয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। ক্লাউডে দ্রুত সার্চ করে খুঁজতে থাকে করণীয়।

এদিকে আইসিআআর এর সিকিউরিটি চীফ তার স্পেশাল বাহিনী নিয়ে নতুন মানবের এই হেডকোয়ার্টারের কাছে ততক্ষণে পৌঁছে গেছে। সাথেসাহারাও রয়েছে। তার হাতে ইনফ্রারেড ক্যামরো। মিঃ রসিকের আরআরডি সেন্টারটি লেজার বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার আগে ললিতার হরিণী চোখের চাহনিটা সে ক্যামেরা বন্দী করে রাখতে চায়।