লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ মার্চ ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ৬টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৪৬

বিচারক স্কোরঃ ২.৪৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৯৯ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগর্ব (অক্টোবর ২০১১)

বন্ধু গর্ব
গর্ব

সংখ্যা

মোট ভোট ৮৩ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৪৬

হেলেন

comment ৩০  favorite ১  import_contacts ৯৩৮
মানুষ একা থাকতে পারে না তাই তার সহচরের প্রয়োজন হয়। মানুষের জীবন খুব বড় নয় আবার এক জনের জীবদ্দশায় ৫০/৬০ বৎসর খুব কমও নয়। এই জীবনে এক জন মানুষের অনেকের সাথেই পরিচয় হয় বিভিন্ন ভাবে সম্পর্ক হয় বন্ধুত্ব হয় আবার সব বন্ধুদের সাথেই এক সমান ভাবে ভাব হয় না, তাদের মধ্যে মাত্র এক জনের সাথেই হয় পরম বন্ধুত্ব। আমার এ অল্প কদিনের জীবনেও অনেক মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে অনেক বন্ধুও আছে কিন্তু এই এক জনের সাথেই আমার পুরোপুরি মনের মিল। সেই আমার এক মাত্র সর্বশ্রেষ্ট বন্ধু।

গত সপ্তাহে ছুটির দিনেও ছুটি পাইনি এ মাসের শেষে শিপমেন্ট তাই কাজের চাপ অনেক বেশী, এক টানা গত পনের দিন রাত বারটা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়েছে, সে দিন ছিল রোববার প্রতি দিনের মতো সে দিনও আমি আর হায়দার সকাল আটটায় অফিসে ডুকি রাত বারটার সময়ও ছুটি হয়নি আমরা দুজনেই এক সাথে চাকুরী করি একটি গার্লমেন্স ফেক্টরিতে প্রতিদিন সকাল আটটায় অফিসে ডুকি ছুটির কোন সময় নির্ধারন নাই কাজ না থাকলে বিকাল পাঁচটায় আবার কাজ বেশী থাকলে রাত দশটা এমনকি পুরো রাতও ডিউটি করতে হয়। আজ সারা রাত ডিউটি করতে হবে, চোখে প্রচন্ড ঘুম আমাদের সবার শরীর খুব ক্লান্ত ঘুম নেই ঠিকমত খাওয়া নেই ঔষধ নেই নেই কোন চেকআপ তাই এইসব ফেক্টরির ৮০% কর্মী অসুস্থ থাকে সারা বছর। মনেও বিরক্তি ভাব এসে গেছে খুব বিরক্ত নিয়ে কাজ করছি তখন রাত দুটা বাজে। হঠাৎ করেই দৌড়াদৌড়ী শুরু হল কেউ কিছু বিশেষ কিছু বলতে পারছে না শুধু আগুন আগুন শব্দ ছাড়া, তাই কোথায় কি ভাবে আগুন লেগেছে তা জানতে পারলাম না, আমার পাশের টেবিলে হায়দার কাজ করে তাকে দেখছি না, এদিক ওদিক তাকিয়ে পেলাম না। জীবন বাঁচানোর জন্য আমিও দৌড়াদৌড়ী শুরু করলাম কিন্তু গেইট দিয়ে নামা গেল না গেইট বন্ধ। মানুষের চিল্লাচিল্লি এদিক ও দিক ছুটা ছুটি জানলা ভেঙ্গে নীচে লাফ দিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা আগুনে পুড়ে কাতরানো আর বিলাপের সুরে কান্নাকাটি দেখে জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছি তাই এই অন্তিম মুহূর্তে বন্ধুকে দেখার ইচ্ছা হল কারণ সুখে দু:খে সে সব সময় আমার পাশে থাকে এখানে আপন বলতে এক মাত্র সেই বাড়ির লোকের কথা মনে পড়ছে কিন্তু তাদের দেখা আর সম্ভব নয়। কি ভাবে খুঁজব চারি দিকে অন্ধকার পায়ের নীচে কত মানুষের দেহ পড়ে আছে তার কোন হিসাব নেই, জানলা দিয়ে বাহিরের আলো দেখেই এই ঘন অন্ধকারে এ দিক সে দিক দৌড়া দৌড়ী আর বাঁচার শেষ চেষ্টা করছি।

হায়দারকে কোন ভাবেই খুঁজে পাচ্ছি না আগুনের ধোঁয়ায় অক্সিজেন কমে শ্বাস কষ্টে হচ্ছে, শ্বাস নিতে পারছি না। হঠাৎ দেখলাম এক জন আগুন নেভানোর জন্যই ব্যস্ত তার জীবন বাঁচানোর দিকে কোন খেয়াল নেই, যেখানে শত শত মানুষ তার নিজের জীবন বাঁচাতে ব্যস্ত সেখানে এই বোকা লোকটি তার জীবনের আশা বাদ দিয়ে অন্য সবার জীবন বাঁচাতে ব্যস্ত। হায়দার কখন যে সেখানে গিয়েছিল তা আমি দেখিনি।
ফায়ার সার্বিস আসতে আসতে এক ঘন্টা চলে গেল। ভয়াবহ আগুনের লেলিহানে ১৯ জন পুড়ে ছাই হয়ে গেল, প্রায় চল্লিশ জন মুমুর্ষ, হাত পা ভেঙ্গে গেল অনেকের এখানে মহিলাদের সংখ্যা বেশী তাই হতাহতে তাদের সংখ্যাই বেশী। হায়দার শেষ পর্যন্ত আর স্থীর থাকতে পারল না সেও পড়ে গেল ফ্লোরে ছাই আর ধোঁয়া ঠেলে দেখলাম এযে হায়দার আমার প্রাণ প্রিয় বন্ধু তার শরীরের অনেক অংশ পুরে গেছে, তার যন্ত্রনা কাতর কান্নায় আমার বুক ধুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে, আমার নিজের পা ভাঙ্গার যন্ত্রণা সেখানে কিছুই না।

গর্বে আমার বুক ভরে যায় এমন সুন্দর মনের মানুষ পরউকারী যে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে অন্যদের উপকার করে পৃথিবীতে এমন দৃষ্টন্ত খুবকমই পাওয়া যায়, সে আমার বন্ধু, আমার বন্ধু আমার গর্ব।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement