দূর থেকে একটি ছোট্র আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে,
একবার আসছে, আবার চলে যাচ্ছে।
প্রায় একদিন একরাত ধরে ডেকে ডেকে শরীরে আর কোন জীবন নেই।
চোখটা খালি জীবিত আছে।
আলোর আসা যাওয়া টের পাচ্ছি।
শুধুই আশার হাওয়া খাচ্ছি।
কাঁচা মাংস পচার গন্ধে নাকের আর কোন অস্তিত্ব টের পাচ্ছিনা।

সকালে আমার মেয়েটাকে স্কুলে পাঠিয়ে এলাম, কি জানি করছে মেয়েটা?
নিশ্চয় মা! মা! ডেকে অস্থির করে দিচ্ছে।
জানিনা হয়ত মেয়েটাকে আর বুকে নেয়া হবেনা।

আমার পাশে শুয়ে আছে সালেহা, সপ্না, বিলকিস সহ আরো বিশ/পচিশ জন।
দুই মিনিট আগেই শেষ জীবিত মানুষটা আমাকে বিদায় দিলো।
শেষ বার বলেছিলো, "ভোরের আলোটা যদি দেখতে পারতাম!"
আহা! মেয়েটা অন্ধকার ভয় পায়, তাই অন্ধকার-ই তাঁর সঙ্গি হলো।

আসলে দালানটা ভেঙ্গে পরেনি!
ভেঙ্গেছে আমার মেয়েটার জীবন।
আহা! ভোর এতো দেরী কেনো?
তোমার জন্যই আসতে পারছেনা অনাকাংখিত আলো।
জেগে উঠো নাহয় আজকে একটু সময়ের আগে।
জেগে উঠো নাহয় শেষবার, আমার জন্যে।