বড়ই আশ্চর্য জাতি আমরা
চমৎকার আমাদের হজমশক্তি।
যত তাড়াতাড়ি সব হজম করি
ততই দ্রুত ভুলে যাই সবকিছু -
মা, মাতৃভাষা, জাতীয় সংগীত
৪৭, ৫২, ৬৯, ৭১ অত:পর ২০০৯ সব হজম!
বাহ:রে আত্মভোলা!
হয়তো এভাবেই এক সময় ভুলে যাবো -
আমরা বাঙালী ছিলাম!
যখন প্রতিপক্ষের ক্রমাগত আগ্রাসনে
বিলীন হয়ে যাবে অস্তিত্বের শেষ চিহ্ন।

যখন দেশ-মাতৃকার জন্য কোন প্রাণ বিসর্জিত হয়,
আমরা সান্ত্বনা নেই -
নিজের বাবা, ভাই কিংবা নিকট আত্মীয় তো মরেনি!
যখন কোনো মা কিংবা বোন লাঞ্ছিত হয়,
নিজের কেউ নয় বলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচি!

দিনেদিনে বড়ই বেহায়া হচ্ছি আমরা!
নির্লজ্জতায় সীমাহীন -
নিজের নয়, নিজের নয় বলে
চরম আত্মকেন্দ্রিক কিংবা পশুতে রূপান্তরিত!
এটা কোন জাতিসত্তা হতে পারে না।
কুকুর, বিড়াল কিংবা হিংস্র জানোয়ারেরও
স্বজাতির প্রতি মমত্ব থাকে,
অথচ আমরা! কি অবলীলায় ভুলে যাই স্বজাতির কথা।

ভঙ্গুরপা্রয় বাঙালী জাতিসত্তাকে তিরস্কার করে বলছি -
ঘুমন্ত যুব সমাজকে ধিক্কার দিয়ে বলছি -
কাপুরুষ, ঘরকুনো, আত্মকেন্দ্রিকদের
চরম ঘৃনাভরে বলছি -
এভাবে বেঁচে থাকাকে বেঁচে থাকা বলেনা,
পিশাচ-শত্রুকে আলিঙ্গনে বাঁধাকে মহত্ব বলেনা,
পাশবিকতার সাথে নমনীয়তাকে আহম্মকি বলে!


এখনও সময় আছে,
ঐক্যের হাতিয়ারে সুসজ্জিত হয়ে
আর একবার পথে নেমে আসো,
আর একবার -
"যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ো"

বাংলা-মা আজ ব্যথায় বড্ড কাঁতর
তাকে বলে দাও -
আমরা অকৃতজ্ঞ সন্তান নই।