অচেনা

অন্ধকার সংখ্যা

মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন
  • ১২
  • ৩১
রুমা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তাকে আনা হয়েছে একটা বংশধর উতপাদনের জন্য? রুমা নিজেও সেটাই চাচ্ছে। এটা তার প্রাপ্য, কিন্তু তার স্বামী সেটা চায়না। হয় তো চায়, কিন্তু সে রুমাকে চায়না। কেন?

এই মানুষটা চায়।এই মানুষটাকে সে হয়তো ঘৃণাই করে। সে নিজে কেন আর একটা সন্তান উতপাদন করে নিচ্ছে না? অক্ষম? হয়তো তাই। নিজের আশা পূরণের জন্য লোকটা তার অনিচ্ছুক- যে কোন কারণেই হোক না কেন- ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে রুমার জীবনটা ধ্বংশ করে দিল।

সে তো বিত্ত বিভব সম্পদ কিছুই চায়নি। সাধারণ একটা পরিবারে সাধারণ একটা মানুষের সাধারণ একটা অন্তরে সে একটু জায়গা পেলেই নিজেকে সুখি মনে করে নিতে পারত। প্রস্তাব যে একেবারে আসেনি তা নয়, কিন্তু সে বাবার কথা ভেবেই কোনটাতে রাজী হতে পারেনি। একটা না একটা ছুতো বের করে বিয়ের ব্যাপারটা এড়িয়ে গেছে। একমাত্র মেয়ে, বাবা খুব একটা চাপাচাপি করেনি। সে তার অসুস্থ বাবাকে ছেড়ে থাকার কথা ভাবতে পারে না। কী ভেবে এবার সে রাজি হয়েছিল? এইতো সে এখন তার বাবার কাছ থেকে যোজন যোজন দূরে। তার অসহায় বাবা...। রুমা ভেবেছিল এই বিয়েতে তার বাবা হয়তো শক্তিশালী একজন বন্ধু পাবে। কিন্তু...।

সে মুখ তুলে সাহেবের মুখের দিকে তাকাল। এই মানুষটা আসলে তার বাবার চেয়েও অসহায়। অসুস্থ্য মানুষটা নিজেই জেনে গেছে সে আর বেশীদিন বাঁচবে না। অর্থ সম্পদ প্রতাপ প্রতিপত্তি কোন কিছুই তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে না।

আর তার সন্তান তাকে ক্রমাগত দুঃখ দিয়ে চলেছে। রুমা নিজের বাবাকে কখনই যেটা দেয়নি। বিলাসিতায় না হলেও তার জীবনটা সাচ্ছন্দের সাথে কেটে গেছে। শেষ দিকে এসে তার পড়াশুনা বন্ধ হলেও কখনই তার সাচ্ছন্দের অভাব হয়নি। লেখাপড়া বাদ দিয়ে সে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছি। সে তৃপ্তি পাচ্ছিল। তার তৃপ্তি বহুগুণ বেড়ে যায় যখন সে শেখাতে শুরু করে। অর্থও আসতে শুরু করে কিছুকিছু করে।

কিন্তু এই মানুষটা? নিজের একটা উপযুক্ত পুত্র থাকতেও একটা উপযুক্ত উত্তরাধিকারীর জন্য আকুল হয়ে উঠেছে। একজন অসহায় মানুষ...। তার মনটা হঠাত করুণায় ভরে গেল।

সে নিজে কি কিছু ভুল করেছে? রুমার হঠাত মনে হতে লাগল। তারা একঘরে থাকছে, কিন্তু একে অপরকে স্পর্শও করছে না। বিয়ে আর ফুল-শয্যার বিষয়ে সে কম শোনেনি। প্রথমে লজ্জা, আর তার পরে রাগ আর অভিমানে রুমা নিজেকে সরিয়ে রেখেছে। তার কি উচিতছিল উপযাচিকা হয়ে কিছু করা? না, সেটা সে মরে গেলেও পারবেনা। সে এসব থেকে মুক্তি চায়। তার কোন মোহ নেই। দরকার হয় সে তার বাবার সাথে সারা জীবন কাটিয়ে দেবে। রুমার দিক দিয়ে ইমতিয়াজের কোন পরিবর্তন হবে বলে তার বিশ্বাস হয়না। ইমতিয়াজ হয়তো আবার বিয়ে করবে, তাদের বংশধর আসবে, কিন্তু সেটা হয়তো এই বুড়ো মানুষটা দেখে যেতে পারবেনা।

ইমতিয়াজ কেন, হয়তো এই পরিবারের কারো কোন পরিবর্তন হবে না। আলীর কাছে শুনেছে, বিয়ের সময় এদের কোন আত্মীয় স্বজনকে আনা হয়নি। তারা গ্রামে থাকে। কেন? তবে এর সাথে ইমতিয়াজ বা এ বাড়ির কারো পরিবর্তন হওয়া না হওয়ার কোন সম্পর্ক আছে বলে তার মনে হয় না। কাউকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করতে তার রুচীতে বাধে।

এর ছেলেও কি অক্ষম? এ জন্যই কি দুলুর আগমনের অপেক্ষা? রুমার মুখ লাল হয়ে উঠল। অসম্ভব! সে মরে গেলেও সেসব পারবেনা। তার বাবা তাকে এটা শেখায়নি। কিন্তু সম্পদশালীদের রাজ্যে সব কিছুই ঘটতে পারে। জোর করে কিছু করবে? তাহলে প্রথম সুযোগেই রুমা অত্মহত্যা করবে। তবুও আসুক সে, দেখা যাক কী বলে সে।

‘ঠিক আছে,’ রুমা বলল। ‘আপনার সেই আর একটা ছেলে...।’
‘দুলু।’
‘দুলু সাহেব আসুক, ততদিন আমি থাকছি, তারপরে বাবার কাছে ফিরে যাব...।’ শেষের দিকে তার গলা ধরে এলো।
‘দুলু সাহেব না,’ সাহেবের মুখে হাসি ফুটে উঠল। ‘বাচ্চা, সবে ঊনিশ বছরে পড়েছে। ওকে তোমার ভাল লাগবে... ও এমন একটা ছেলে, যাকে সবার ভাল লাগবে। দেখো।’
‘দেখা যাক,’ মনে মনে বলল রুমা।

রুমার এখন আর কোন কিছুতেই কিছু এসে যায়না। এটাকে তার জীবনের একটা অঘটন হিসাবেই সে মেনে নেবে। তার চিন্তা শুধু বাবাকে নিয়ে। মানুষটার মুখে সে তৃপ্তি ফুটে উঠতে দেখেছিল। তার বুকটা হয়তো ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু সে কী করতে পারে? তার বাবার মৃত্যু পর্যন্ত এখানেই থেকে যাবে? সেটা সে পারবেনা। বাবাকে বুঝিয়ে বলবে। সে তো আর ধ্বংশ হয়ে যায়নি।

সে ইমতিয়াজের রুম থেকে নিচের গেষ্টরুমে নিজেকে সরিয়ে এনেছে। চব্বিশ ঘণ্টার জন্য পনের বছর বয়সের ফুলিকে সে সহচরী হিসাবে পেয়েছে। আঞ্চলিক ভাষার টানের কারণে সে মেয়েটার কথা পুরোপুরি বুঝতে পারেনা, কিন্তু সেটা পুশিয়ে যায় মেয়েটার হাসিতে। মেয়েটার হাসি খুব সুন্দর।

পাশের রুমটা এদের পারিবারিক লাইব্রেরি। প্রচুর বই। সেটা যেন রুমার নিজের। এখানে সে তার শ্বাশুড়িকে নতুন করে পেল। বয়স্ক মহিলার হাসিটা বাসি নয়, তাজা আর আন্তরিক। তবে তিনি কথা বলেন কম, প্রভাব খাটাতে চান আরো কম। এই ঘরটাতে রুমা নিজের জ্ঞান আর চর্বি বাড়িয়ে চলল। পৃথিবীর বিষয়ে... এই পরিবারটার বিষয়ে...। দুর্গন্ধ। পুরোটা পাওয়া না গেলেও কিছুটা তো বের হয়ই।

অবশেষে ছেলেটা এলো। প্রায় সাথে সাথেই ভাল লেগে রুমার। ইমতিয়াজের মতই ছিপছিপে একজন রাজপুত্র। ইমতিয়াজের চেয়েও অনেক ফর্সা। তবে এটাই তার ভাল লাগার কারণ নয়। তার আচরণ আর কথা।

সে দোতালার গেষ্ট রুম দখল করেছে।

সন্ধ্যার একটু আগে এলো ইমতিয়াজের সাথে। রুমার সাথে সেদিন তার দেখা হয়নি। রুমা রাত্রে একমাত্র নিজের ঘর ছেড়ে ডাইনিং রুমে খেতে যাওয়া ছাড়া আর কোথাও যায় না। পরে রুমা তার শ্বাশুড়ির কাছে শুনেছে।

ঘণ্টা খানেক পরে সে নিচে ড্রয়িংরুমে এসে তার চাচা চাচীর সাথে কথা বলে আবার উপরে উঠেগেছে, পরে তাদের খাবার উপরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রুমাকে ডাকা হয়নি। সকালে দেখা হল।

বেলা দশটার দিকে ড্রয়িংরুমে রুমা তার শ্বাশিড়ির সাথে বসেছিল। টিভিতে সাদা কাল একটা ভারতীয় বাংলা ছায়াছবি হচ্ছিলগ রুমা সেদিকে তাকিয়েছিল, কিন্তু সেদিকে তার খুব একটা মনোযোগ ছিলনা। সে দুলুর কথা ভাবছিল। তার সাথে কথা বলতে হবে, কিন্তু এরা এখনো তাকে সামনে আনলোনা। সে হয়তো ইমতিয়াজের সাথে বের হয়ে গেছে। যাকগে, কথা বলে খুব একটা কাজের কিছু হবে বলে তার মনে হয়না। তবুও...। হঠাত তার বাম দিকে সিঁড়ির উপরে কিছু একটার নড়াচড়া তাকে সেদিকে মুখ ঘোরাতে অনুপ্রানিত করল। দুলু? সে ছাড়া আর কে হতে পারে?
পরনে সাদা প্যান্ট আর চিকন কাল বর্ডার দেওয়া সাদা টি শার্ট। পায়ে ক্যানভাসের সাদা চপ্পল। হাতদুটো অনেকটা বক্সারের ভংগিতে মুঠো করে বুকের সামনে ভাঁজ করে জগিঙ্গের ভঙ্গিতে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে। ঘাড়ের পিছনে চুলগুলো নেচে নেচে উঠছে। শ্বাশুড়িও সেদিকে তাকাল- তার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।
‘দুলু,’ সে মৃদুস্বরে বলল।

‘চাচী, কেমন আছো, ভাবি কেমন আছব?’ সে তাদের বিপরীত দিকের সোফায় বসতে বসতে।
‘ভাল। রাতে ভাল ঘুম হয়েছিল তো?’ তার চাচী বলল। রুমা আড়ষ্ট ভাবে একটু হাসল।
‘রাতে ভাল ঘুম হয়েছিল, কিন্তু সকালে না।’
‘সকালে না কেন?’ হাসতে হাসতে চাচী প্রশ্ন করল।
‘হতভাগা আলীটা নাস্তা খওয়ার জন্য আমাকে ডাক দিল।’ দুলু মুখ গোমড়া করে বলল। অবশ্য খিদের চোটে তার আগেই আমার ঘুম ভেঙ্গে গেছিল।’ বলেই সে হো হো করে হেসে উঠল। চাচী আর রুমা দুজনেই হেসে ফেলল। রুমার আড়ষ্টভাব দূর হ্যেগেছে।
‘আহারে!’ চাচী হাসতে হাসতে বলল। ‘ঠিক আছে, আজ রাতে তোমার বিছানা ডাইনিং টেবিলে করে দিতে বলব।’
‘হ্যা, সেখানে খেয়ে খেয়ে পেট ফাটিয়ে মরলে তখন কে দেখতে আসবে?’ তার চাচী কিছু বলতে গেল, কিন্তু তাকে বলতে না দিয়ে দুলু বলল, ‘এখন আমি আর এককাপ চা খাব আর ভাবির সাথে একা একা একটু গল্প করব। তোমরা কেউ উঁকিঝুঁকি দিতে পারবে না কিন্তু।’ রুমার মুখ লাল হয়ে উঠল।
‘আচ্ছা, আমি যাচ্ছি। চা পাঠিয়ে দিচ্ছি।’ চাচী উঠতে উঠতে বলল। ‘রুমা, তুমিও খাবে একটু?’ রুমা মাথা নেড়ে অসম্মতি জানাল ।

‘পনের দিনের ভিতের আমাকে ইংল্যান্ডে ফিরে যেতে হবে।’ দুলু উঠে রুমার সোফায় এসে সমান্য একটু দুরত্ব রেখে বসল। ‘এখানে আমি কালকের দিনটা আছি, তারপর গ্রামের বাড়িতে যাব। এখানে আর আসা হবে না।’ রুমা বুঝে উঠতে পারল না, তাকে দুলু এসব বলছে কেন, বা জবাবে সে কি বলতে পারে।

‘পিতা পুত্রের যে বিষয়টার কারণে, আপনাদের স্বামী স্ত্রীর এই যে জটিলতা সেটা সম্ভবত আপনার জেনে রাখা দরকার।’ এই সপ্রভিত ছেলেটাকেও কিছুটা অপ্রস্তুত মনে হল। ‘অন্তত আপনার শ্বশুরের সেটাই ধারণা।’
‘থাকনা এসব কথা,’ রুমার মুখ আবার লাল হয়ে উঠেছে। ‘কী দরকার আমার এসব জানার?’
‘এরা দু’জনেই আমার গুরুজন।’ দুলু নিজেকে সামলে নিতে নিতে বলল। ‘আপনিও তাই। কিন্তু আমাকে আপনাকে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ভিতর দিকের দরজা খুলে কাজের বুয়া ট্রেতে করে চায়ের সরঞ্জাম আর পানি নিয়ে আসলো। তাকে সেটা টিপয়ে রেখে চলে যাওয়ার সময় দিল দুলু।

‘বছর খানেক আগে চাচা ইংল্যান্ড গেল কিছু মেশিনারিজ কেনার ধান্দায়। আবশ্যই তার ছেলের সাথে দেখা করাটাও একটা ইচ্ছাছিল। এতে দোষের কিছুই থাকতে পারেনা। চাচীর প্লেনে চড়ার ব্যাপারে এলারজি আছে, কাজেই চাচা একাই গেল। সেই দেশটাতে সহচরী সাথে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো আর তার সাথে ঘনিষ্টতা দেখানোতেও দোষের কিছু নেই। চাচাকে একটা সহচরী জুটিয়ে দেওয়া হল।’ দুলু কাপে শুধু লিকার ঢেলে তুলে নিয়ে চুমুক দিল।

এদিকে আমার ভাইটা নিজের সহচরী আগেই গুছিয়ে নিয়েছে। একটা আইরিশ মেয়ে, তার এক ধাপ নিচের ছাত্রী। দেখতে শুনতে দারুণ। মেয়েটা খুব একটা ভাল নয়, তবে ইমতিয়াজের সাথে থেকে ভাল হতে শুরু করল। আমার ভাইটা ঠিক করল, তাকে বিয়ে করবে। মেয়েটা রাজী।ভাল কথা।’ দুলু মুখ তুলে রুমার দিকে তাকাল। রুমা মুখ নিচু করে কোলের উপরে রাখা নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে।

‘আমার ভাইটা একদিন চাচার সাথে খুব অন্তরঙ্গ অবস্থায় মেয়েটাকে দেখল।’ মিতার চিবুক বুকে এসে ঠেকেছে। ‘আমার ছোট চাচা লন্ডনে থাকেন, ব্যারিষ্টার। তার লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ থেকে শুরু করে সেখানে প্রতিষ্ঠা করে দেবার সম্পূরণ খরচ যুগিয়েছেন আপনার শ্বশুর। কাজেই, আপনার শ্বশুরকে উপযুক্ত একজন সহচরী এনে দেওয়া আর তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তটা যাতে ইমতিয়াজের গোচরে আসে, সেটা দেখাটা তার একটা দায়িত্ব বইকি। ভাতিজার হবু বৌকে ভাইয়ের সহচরীতে পরিনত করতে তাকে যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল।’ ম্লান হাসি ফুটে উঠল দুলুর মুখে।
‘মেয়েটার সাথে আপ... তোমার ভাইয়ের সম্পর্কের কথা উনাকে জানানো হয়েছি?’
‘আমার ছোটচাচা অবশ্যই অতটা বোকা হলে ব্যারিষ্টার হতে পারত কিনা সন্দেহ।’
‘এতে ছোট চাচার লাভ?’ ছোটচাচা ছাড়া অন্য কিছু একটা বলতে চেয়েছিল সে।
‘জানিনা।’দুলু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ‘চাচা আমারও পুরো খরচ চালাচ্ছে, কাজেই আমাকেও তার জন্য কিছু একটা করতে হবে। তবে আমাকে চাচা কখনই ব্যারিষ্টার বানাতে পারবে না, কারণ আমি বোটানি নিয়ে পড়ছি। কাজেই আমি অবশ্যই অন্য কিছু একটা করব।’
‘কি?’
‘এখনো জানিনা।’ একটু থেমে আবার বলল, ‘থাকগে ওসব কথা। আপনাকে আজকে চাচী গাইনির কাছে নিয়ে যাবে, তারপর দিন ঠিক করা হবে।’
রুমা কিছু বুঝতে না পেরে বোকারমত হাসল।
‘তারপর আপনাকে যা করতে হবে, তা হল... একটু ছলনা। আপনাকে...।’ ড্রয়িং রুমে আর একটা প্রাণী না থাকলেও দুলুর কন্ঠস্বর এতটাই নিচে নেমে এলো যে রুমাকে তার দিকে ঝুঁকতে হল।
‘না!’ দুলুর কথা শেষ হবার আগেই রুমা একটা স্প্রিঙেরমত ছিটকে উঠে দাঁড়াল। ‘এ সব নোংরা কাজ আমি পারবনা।’ তার দেহের সমস্ত রক্ত যেব তার মুখে এসে জমা হয়েছে।
‘ভাবি, বসেন,’ দুলুও উঠে দাড়িয়েছে। ‘আগে আমাকে সব কিছু বুঝিয়ে বলার সুযোগ দেন।’ সে বলল। ‘তারপরে আপনি যেটা বলবেন, সেটাই হবে। চাচা তাই বলেছেন...।’

...ছিপছিপে ছেলেটা আরো শুকিয়ে গেছে। আজকাল তার চলনে সেই ক্ষিপ্রতা নেই। গেটের কাছে গাড়ির হর্নের সেই তীব্রতা আর নেই। গাড়ির গতিবেগ কমে গেছে অনেক। অনেক অনেক দিন ধরে রাতে সে আর হের হয়না। দরজার ফাঁক দিয়ে দেখে বুকটা মুচড়ে ওঠে মিসেসের। কিন্তু কিছু বলার নেই। কিছু বললে কি করে বসে ছেলেটা কে জানে। সাহেব তাই বলে।

রুমা এবাড়িতে এসেছে প্রায় এগার মাস হতে চলল। পনের দিন ধরে সে নার্সিং হোমে। একটু জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল, কিন্তু সব দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে- আজ সকাল দশটা পঞ্চান্ন মিনিটে তার ছেলে হয়েছে। দুজনেই সুস্থ। বেগম সাহেব গতকাল থেকে সেখানে। সাহেব আজ প্রায় সারাদিন সেখানে ছিলেন। ঘণ্টা খানেক হয় এসে খওয়া দাওয়া সেরে ড্রয়িংরুমে চায়ের সরঞ্জাম সামনে নিয়ে তার ছেলের অপেক্ষায় বসে আছে। ছেলে এখনো পিতৃত্বের খবর জানেনা। তাকে সেটা জানানর দায়িত্ব পড়েছে তার উপরে।

ইমতিয়াজ ভিতরে ঢুকেই যেন একটা ধাক্কা খেল। তার বাবা যেব তার অচেনা। এতটা রুগ্ন হয়েগেছে। সে নিজেও খুব একটা ভাল অবস্থায় নেই, কিন্তু তার বাবার এই অবস্থা সে কল্পনা করতে পারেনা। একটা দলা যেন তার গলায় এসে আটকে গেছে। অপিসে সে তার বাবার সাথে দেখা করাটা এড়িয়ে যায়, কথা বার্তা যা হয় ইন্টারকমের মাধ্যমে।

কিন্তু সে দ্বিতীয়বার তার বাবার দিকে তাকাল না। ধীর পায়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে চলল।

‘ইমু।’ তার কাছ থেকে সবচেয়ে কম দুরত্বে আসার পরে বৃদ্ধ মানুষটা তাকে ডাকল।
‘বাবা?’ থেমে দাঁড়াল ইমু। এই স্বর সে কত কাল শোনেনি!
‘আমরা একটু চা খাই?’
‘খাব।’ সে এসে তার বাবার সামনে সোফায় বসল।
বৃদ্ধ মানুষটা কাঁপা হাতে দুটো কাপে চা আর দুধ ঢেলে চিনির কিউব ফেলল।একটা কাপ পিরিচ শুদ্ধ ঠেলে সামনে বাড়িয়ে দিল।
‘তোমার ছেলে হয়েছে।’
‘বল, আমার বউএর ছেলে হয়েছে।’ নিশব্দ ব্যাঙ্গে তার ঠোঁটের একটা পাশ বেঁকে গেল। ‘তুমি জান, সেটা আমার সন্তান হতে পারাটা অসম্ভব।’
‘না, এটাই তোমার নিজের সন্তান।’ বৃদ্ধের মুখে পরিষ্কার কৌতুকের ছাপ। ‘তুমি এক কাজ কর, মাস কয়েকের জন্য ছেলে আর বৌ নিয়ে ইউরোপে যাও। সেখানে যেখানে খুশি তোমাদের তিন জনের ডিএনএ পরীক্ষা করিয়ে নিও।’
‘বাবা, কীভাবে?’ সে তীক্ষণ চোখে তার বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
‘দুলুকে জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারবে।’ বৃদ্ধের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

...শরীরটা ঠিক রাখতে হলে একটুঁ হাটাহাটি করতেই হবে। সকালে সম্ভব নয়। বিকালে আবহাওয়া ভাল থাকলে প্রতিদিন রেশমাকে সাথে নিয়ে ডলি ম্যাডাম দুই মাইল দূরের মার্কেট পর্যন্ত হেটে যান, আর হেটে ফিরে আসেন। এলাকাটা বিত্তবানদের। পথের পাশে বাড়িঘর আর পথে গাড়ি ঘোড়ার সংখ্যা কম। হাটতে ভালই লাগে।

তার বাসার কাছাকাছি এসে পড়েছে তারা দুজন, এমন সময় তাদের পাশ কাটিয়ে হেটে গেল এক যুবক। সালা শার্ট আর কাল প্যান্ট। কাল লেদার স্যু। বাম হাতে সোনালে হাতঘড়ি আর ডান হাতে ছোট কিন্তু দামি একটা চামড়ার ব্রিফকেস। হাটার তালে তালে তার ঘাড়ের পিছনের চুল গুলো দুলছে।

ডলি ম্যাডাম আর যুবক একই সাথে মুখ ঘুরিরে একে অপরের দিকে তাকাল আর প্রায় সাথে সাথেই যুবক পা মুচড়ে পড়ে গেল প্রায় ম্যাডামের গায়ের উপরে। যুবক অদ্ভুত ক্ষিপ্রতার সাথে ব্রিফ কেসটা উঁচু করে ধরল।
‘আহা।’ ম্যাডাম থেমে তার দিকে ঝুঁকল।
যুবকটা নিজর চেষ্টায় উঠল, কিন্তু ডান পায়ে জোর পাচ্ছে না।
‘ব্যাথা পেয়েছ?’ তার অর্ধেক ব্য়সের ‘ছেলে’টাকে তুমি ছড়া আর কি বলা যেতে পারে?
‘আশে পাশে ডিসপেন্সারি নেই?’
‘না।’ এখানে তা থাকা সম্ভবও নয়। ‘এক মাইল সামনে ষ্টেশনের কাছে, আর দুই মাইল পিছনে মার্কেটের কাছে।’
‘ও!’
এক মুহূর্ত ভাবল, ডলি। ‘ঐ যে আমার বাসা। একটুঁ জিরিয়ে নিয়ে ব্যথা কমলে নাহয় যেও। কোথায় যাবে?’
‘ষ্টেশন, সেখান থেকে চিটাগ্ঙ।’
‘এসো।’

খোলা গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকল তারা। একটা উঠোন, কোন এক সময় সেটা হয়তো বাগান ছিল। সেখানে গাড়ির চাকার দাগ দেখা যাচ্ছে, তবে গাড়ি নেই। বারান্দায় দুটো ইজি চেয়ার।

ছোট একটা ড্রয়িং রুম। দুই সারিতে সোফা সাজানো, মাজখানে টি টেবিল। সুন্দর একটা টেবিল ক্লথ, মাজখানে একটা ফুলদানিতে গোলফ আর রজনীগন্ধ্যা। তাকে সেখানে বসানো হল।

‘রেশমা, ওকে একটু চা করে দাও, আমি গোসলটা সেরে আসি।’
ব্রিফকেসটা পাশে রেখে চায়ে চুমুক দিল। আবছা দুবার গাড়ির হর্নের শব্দ পাওয়া গেল। যুবকটা প্রায় ভর্তি কাপটা টেবিল ক্লথের উপরে কাত করে রাখল। চায়ের ধারা ফুলদানিটার গা ঘেসে এগিয়ে গিয়ে নিচের কারপেটের উপরে জমতে শুরু করল। যুবকটা উঠে দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়িটা থেকে বের হল, তারপরে ষ্টেশনের দিকে হাটতে শুরু করল। তার পিছনে কোন গাড়ির হেডলাইট একবার জ্বলে উঠে আবার নিভেগেল।

ডলি স্তম্ভিত হয়ে টেবিল ক্লথএর দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থাতেই গাড়িটা ভিতের ঢুকল। প্রাইভেট কার, কিন্তু সেটা থেকে বের হয়ে এল প্রথমে দারোগা রমজান আলী, তারপের একজন সেপাই। দারোগাকে ডলির ভয় পাওয়ার কিছু নেই, সে তার একজন ভাল খদ্দের।

রমজান আলীর দৃষ্টি প্রথমে টেবিল ক্লথ, তারপরে ব্রিফকেস্টার উপরে পড়ল।
‘ছেলেটা কোথায়?’
‘কিজানি, চলে গেছে হয়তো।’
দারোগার চোখের ইশারায় সেপাই ঘরগুলো দেখে এলো। নেই। ব্রিফকেস্টা খাটের উপরে নিয়ে খোলা হল- সেটার ভিতরে কাপড় চোপড়ের নিচে একটা ছোট পিস্তল, আর দুটো হাতে বানানো বোমা।
‘তোমাকে আমাদের সাথে যেতে হচ্ছে...।’

...রাত সাড়ে দশটায় ইমতিয়াজের গাড়ি ঢুকল উঠোনে। অন্ধকারে দারোয়ান তাকে জানাল, ম্যাডাম মায়ের অসুখের খবর পেয়ে দেশে গেছে, তিন দিন পরে আসবে।

তিন দিন পরে আবার যখন এলো সে, দারোয়ান, কাজের বুয়া, এমনকি বাড়িটাও তার কাছে নতুন লাগল। তাকে প্রায় অন্ধকারে ভিতরের চেনা ঘরটাতে নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে যথা।স্থানে মানুষ একজন পেল, কিন্তু তার কাছে সেটাও অচেনা মনে হল। তার আচরণ অচেনা, কিন্তু সে যে তৃপ্তি আর আনন্দ পেল, সেটা তার জীবনে এই প্রথম। সেটা চালু থাকল মাত্র পাঁচ দিন। তারপর সে সেখানে দেখল, কোন জনমানব নেই। এমন কি, গেটে তালা দেওয়া। এর পর থেকে সে আর রাতে ঘর থেকে বের হয়নি...।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
রোদের ছায়া একটু অন্য রকম কাহিনির জন্য বেশ আগ্রহ নিয়ে পরছিলাম কিন্তু চরিত্রগুলোর পারস্পারিক সম্পর্ক ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না ।।তবে পড়তে ভালই লাগছিল ।।
জাকিয়া জেসমিন যূথী অন্যরকম একটা গল্প. ভালো লাগলো সেজন্যেই.
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন পড়া আর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল।
তানি হক গল্পের শুরুটা দারুন লেগেছে ...কিন্তু শেষে এসে হটাত যেন অনেক কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না ... গল্পের শেষ অংশ বা কিছুটা বাদ পড়ল কি না বুঝতে পারছিনা ... তবে বর্ণনা পড়তের পড়তে খুব ভালো লেগেছে ... বিশেষ করে রুমার চরিত্রটা খুব সুন্দর লেগেছে ...আপনাকে সালাম ও ধন্যবাদ ভাইয়া
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন গত সংখ্যার একালের রূপকথার পরের অংশ এটা। আমার দোষে এই জটিলতা। আমি দুঃখ্যিত। অবশ্য আমি শেষ মুহূর্তে খুব তাড়াহুড়া করে লিখে জমা দিয়েছিলাম। এটা দ্বিতীয়বার পড়ে দেখার সময় পাইনি। ভাল লেগেছে গেনে ভাল লাগল। পড়া আর মন্তব্যের জন ধন্যবাদ।
এশরার লতিফ গল্পের ডিটেইলগুলো ভালো লাগলো, পরিপূর্ণ ছবিটা পেলাম কিনা জানি না। শুভকামনা রইলো।
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন না, পরিপূর্ণ ছবিটা দিতে পারিনি। এটা মে মাসের একালের রূপকথার পরের অংশ এটা-সেটা উল্লেখ করা উচিৎ ছিল, করিনি। ডলি আর দুলুর ঘটনাটা ঘটেছিল ইমতিয়াজের বাবার সাথে কথা বলার মাস দশেক আগে - সেটাও উল্টে দিয়েছি। তবে তারপরও পড়েহেন আর মন্তব্য করেছেন, অনেক ধন্যবাদ। এমন ভুল আর না করার চেষ্টা কবর।
কনা শেষ-মেশ কীভাবে কী হলো আমি বুঝতে পারলাম না।তবে প্রথমদিকে বর্ণনাগুলো ভাল লেগেছে।
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন আমার বোকামো- এটা মে মাসের একালের রূপকথার পরের অংশ এটা-সেটা উল্লেখ করা উচিৎ ছিল, করিনি। ডলি আর দুলুর ঘটনাটা ঘটেছিল ইমতিয়াজের বাবার সাথে কথা বলার মাস দশেক আগে, সেটাকে উল্টে দিয়েছি, সূর্য ভাই যা বলেছেন- গল্পের গড়ন আর আড়াল রাখার চেষ্টায়, আর এক বোকামি। যাই হোক কষ্ট করে পড়েছেন আর মন্তব্য করেছেন এজন্য অনেক ধন্যবাদ।
মামুন ম. আজিজ ...দুলু নয় ওটা যে ইমতিয়াজের সন্তান এইটা বুছাটা বড্ড কষ্ট পাঠকের জন্য্
মামুন ম. আজিজ একটু গোছানো হলে বেশ হত....লেখজব চমঃকার ,,কাহিনী ভিন্নতা টান আছে পাঠের..কিন্তু ঐ যে ..একটু অধ্যায় ভাগ করে কিংবা আরেকটু গুছিয়ে উঠলে পাঠকের জন সহজ হতো। .....এই যে সন্তানের জন্য কত ঘটনা.....এইসব একদম অবাস্তব নয়....ইন্ডিয়ান সনি টিভিতে ক্রাইম পেট্রালে এমন ঘটনা বাস্তবে ঘটতে দেখানো হয়েছে...খুবই আজব এই মানব প্রাণী।
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন কষ্ট করে হলেও খুঁটিয়ে পড়েছন বলে আর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে লিখে জমা দেবার চিন্তায় দ্বিতীয়বার পড়েও দেখতে পারিনি। বোকারমত কাজ করে ফেলেছিলাম।
সূর্য গল্পের গড়ন আর আড়াল রাখার চেষ্টায় গল্পটা বুঝার জন্য বেশ কষ্টের হয়ে গেছে। আচ্ছা পিতৃত্বের যে প্রশ্নটা এলো পিতা বানানোর সে বুদ্ধিটা কি দুলুরই ছিল?
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন আমার বোকামীতে এটা এটা হয়ে গেছে। থে কাহিনীটা বুঝেছেন ঠিকই। দুলু গুরুজনদের শ্রদ্ধা করে, ইমতিয়াজের বাবা একজন হিসেবী মানুষ। খুঁটিয়ে পড়েছেন আর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
Lutful Bari Panna গল্পটায় প্রচন্ড অস্পষ্টতা। তারপরও যা বুঝলাম, ইমতিয়াজের বহির্নারীগমনকে কাজে লাগিয়ে গোপনে স্ত্রী গমনে অনিচ্ছুক ছেলেটাকে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত করা হয়েছে। জানি না ঠিক বুঝলাম কিনা?
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন প্রচন্ড অস্পষ্টতা...ঠিক, কিন্তু ঠিক ধরেছেন। কেমন লাগেল?
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন খুঁটিয়ে পড়া আর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
অদিতি ভট্টাচার্য্য গল্পটা ঠিকভাবে আবার পোস্ট করা খুব দরকার।
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন কী করব বুঝছি না। এটাকে এভাবেই মেনে নই। পড়া আর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

০৪ জুলাই - ২০১১ গল্প/কবিতা: ২ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "ভয়”
কবিতার বিষয় "আঁধার”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ আগষ্ট,২০২১