লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৮৮
গল্প/কবিতা: ৫টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবাবা দিবস (জুন ২০১৩)

একদিনের ভদ্র ছেলে
বাবা দিবস

সংখ্যা

অনইক আহমেদ

comment ০  favorite ০  import_contacts ৪৯৯
প্রতি মাসে একটা দিন বাবার চোখে আমি খুব ভদ্র হই,সেই দিনটা হল বাবার বেতন পাওয়ার দিন।একটা কথা বলে রাখি,আমার বাবা সরকারি চাকুরিজীবী।এই দিনে মোটা অংকের কিছু টাকা আমার পকেটে আসে,আমি চাইনা আমার উপর রাগ নিয়ে থেকে বাবা তার কষ্টের টাকা আমাকে দিক,তাই এই একদিনের ভদ্র থাকা।আমি একদিন ভদ্র থাকলেই বাবা আগের করা সব অনিয়মগুলো ভুলে যান।

আজকে বাবার বেতন তোলার তারিখ ছিল।গতরাতে যখন শুনলাম যে বাবা আজ বেতন তুলবে তখন থেকেই আমি পুরাদস্তুর ভদ্র হয়ে গিয়েছি।সবার সাথে বসে ভাত খেয়েছি,বাবার সাথে বসে টিভিতে খবর দেখেছি,দেশ নিয়ে উতকণ্ঠা প্রকাশ করেছি,দেশের প্রতি দরদ নিয়ে কথা বলেছি। অবশ্য রাজনৈতিক আলোচনা করতে গিয়েও করিনি,কারন রাজনীতি নিয়ে আমার জ্ঞান খুব একটা নেই এবং এ জ্ঞান এতই স্বল্প যে তা বাবার কাছে প্রকাশ হয়ে গেলে উল্টা তিনি আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরে যাবেন, ভাববেন,"কি যে হবে এই ছেলেকে দিয়ে!"।

যে ছেলে রাত বারটা বাজলেই ঘরের দরজা আটকিয়ে সিনেমা দেখে, গান শোনে অথবা অকাজে সময় নষ্ট করে ,সেই আমি গতকাল রাত বারটায় দরজা খোলা রেখেই পড়ার টেবিলে পড়তে বসেছি,বাচ্চাদের মত জোরে জোরে শব্দ করে পড়েছিও।তারপর আবার আজ সকাল আটটায় ঘুম থেকে উঠে পড়াশোনা করেছি।ঘরে থেকে বের হইনি,লক্ষী ছেলের মত মায়ের সব কথা শুনেছি,বাবাকে চা বানিয়ে খাইয়েছি,চিনিহীন ডায়াবেটিক চা,এই চা বানাতে কোন কষ্ট নেই।পত্রিকা পড়তে পড়তে বাবা চশমার ফাঁক দিয়ে আড়চোখে তাকালে আমি শুধু মুচকি হেসেছি।


পনেরদিন ধরে মা চুল দাঁড়ি কাটাতে বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছিল,আমি কাটাইনি এতদিন।সেই আমি কাউকে কিছু না জানিয়ে চুল দাঁড়ি সব কাটিয়ে এসে দরজায় নক করার পর,আমি জানি মা দরজা খুলে আমাকে দেখেই খুশিতে চিতকার দিয়ে উঠতে গিয়েও থেমে গিয়েছিল।মা খুশি আটকিয়ে রাখতে খুব ভালো পারে,আমি বুঝিনা খুশি প্রকাশ করে দিলে সমস্যাটা কোথায়?

এরপর কোন কথা না বলে আমি গোসল করে বাবার ঘরে এসে অহেতুক কিছু খুঁজছিলাম,আসল উদ্দেশ্য ছিল বাবার দৃষ্টি আকর্ষণ।বাবা আমাকে দেখে হয়তো চিনতে পারেনি,ভেবেছেন আমি বাহিরের কেউ,বেড়াতে এসেছি।যতবার আমি বড় চুল কাটিয়ে ছোট করেছি, ততবারই তিনি আমাকে চিনতে ভুল করেছেন।পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে, তাই আগেই আমি বাবা বলে ডাক দিয়ে তাকে বাঁচিয়ে দিলাম,নয়তো আমি জানি তিনি আমার নামটা জিজ্ঞেস করে ফেলতেন এবং জিজ্ঞেস করে নিজেই লজ্জায় পড়ে যেতেন।

প্রতিমাসে আমি বাবার বেতন তোলার এই একদিন ভালো হই,খুব ভদ্র হই আর বাবা ভাবেন আমি বোধহয় আজ থেকে প্রতিদিনই ভালো ছেলে হয়ে থাকব!আমার প্রতি কি অগাধ বিশ্বাস তার।মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছা করে,"আমার বাবা এত বোকা কেন?এত বেশি ভালো কেন?"এত বেশি ভালোবাসে কেন আমাকে?"

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement