সুবর্ণ লতা,
তুমি কী জান?
এখনও রাত ভোর হয়,
জোনাকীরা রাতের আঁধারে ঝিকিমিকি আলো দ্যায়,
রাতের আঁধারে বকুল,শিউলি ফোটে,
কিশোর-কিশোরী শিউলি-বকুল কুড়াই-
সকালে।
মালা গাঁথে,এখনও পুতুল খেলে,মনের আনন্দে
খিলখিল করে হাসে।
এখনও সাঁঝের বেলাই,বুনো হাস মুক্ত আকাশে
উড়ে যায়-
কিশোর-কিশোরী আঙ্গিনায়,তালের পাটিতে শুয়ে
দু’চোখ মেলে দেখে,বুনো হাসগুলো কী করে গন্তব্যে
পৌঁছায়!
সুবর্ণ লতা,
জান কী তুমি?
এখনও ধানসিড়ি নদী তীরে,
গাঙ শালিকেরা বাসা বুনে।
সবুজ ঘাসের নরম বিছানায়,ক্লান্ত কৃষক একটু জিরোই,
রাখালের সুর ভেসে আসে,মনে হয় একটু দাঁড়াই,
এখনও বাউল সুর তোলে তার এক তারাই।
এখনও মাঠে মাঠে সোনালী ফসল ফলে,
অগ্রহায়ণে নবান্নের উৎসব হয়
ঘরে ঘরে বধুরা নানান রঙের(ধরণের)পিঠা তৈরী করে,
বলদের রেষ,লাঠি খেলা,
কৃষক মেতে ওঠে আনন্দের বন্যায়।
সুবর্ণ লতা,
আমার শূন্য ঘরে,তুমি নেই পাশে,
জানি আসবে না ফিরে,
তবুও শুধু, তোমাকে মনে পড়ে!