মনে কি পড়ে না কিশোরী "মুনিয়া"র কথা ?
আদরিণী বিহঙ্গী কনকপ্রভা !
সরষে ক্ষেতের আইল ধরে সে ছুটে যেত
এক্কাদোক্কা খেলার ছলে বেনী দুটো দুলায়ে !
ডাঁশা ডাঁশা পেয়ারা ঠোঁটে সুর ভাসাতো কুহুকুহু ডাকে,
চঞ্চলা হরিণী ডিঙি না'য়ে পদ্ম ঝিলে,
শিউলি কুড়াতো কুয়াশা ভোরে !!
দেখনি দাঁড়িয়ে সে সবুজ, মেঠো পথের বাঁকে !
বাবা আনবে কিনে গঞ্জ থেকে-
বৈচীমালা, রেশমি চুড়ী ,লাল ফিতা,
স্নো-পাউডার, আলতা শিশি ,
আনন্দে আত্মহারা "মুনিয়া" -
বাঁশ বাগানে চাঁদনী রাতে ;গীত ধরে শুয়ে মায়ের বুকে ,
সুরের তালে জোনাকী নাচে ,
সেই খুশিতে কোলা ব্যাঙ , ঝিঁ ঝিঁ হাঁকে !
দেখেছ তাঁকে পালকিতে চড়ে , লাল বসনে হাত-পা বেঁধে ,
তন্বী মুনিয়া নীরবে কাঁদে-
মায়ের কোল খালি করে অচিন গাঁয়ে গেল সে চলে !
বউ-কথা-কও আর ডাকে না নিত্য হিজল গাছে ,
কুটোর পালায় আর ওঠে না দামাল ছেলে-
সকাল কিংবা সাঁঝে !
ধানের শিষে দোল খায়না কৃষকের রোদেলা হাসি
ভাটিয়ালী গান আর গায়না উজান গাঙের মাঝি ।
হাডুডু, কুস্তি লড়ায়,আর নৌকা বাইচ
থমকে গেছে সবকিছু কঠিন অভিশাপে !
মনে কি পড়ে না কভু ?
বছর ঘুরে এক কাক-ডাকা ভোরে
রাখালিয়া বাঁশীর করুন দহনে !
অশ্রুরুদ্ধ গ্রাম হল না বুঝি শাপমোচন
বাবুই হয়ে "মুনিয়া" সোনা ,উৎসর্গীকৃত বটের ডালে !!