আমার লাল ফিতে দিয়ে বেণি বাঁধা চুলের ছবি দেখে
তোমার কপালের ভাঁজে বিরক্তের ঢেউ খেলে যায়
সোনালি মাঠের আইল ধরে প্রজাপতি হয়ে ছুটে চলা
তোমার কাছে মনে হয় কোন রূপকথার গল্প!
অথচ আমি শত ব্যস্ততায়ও স্বপ্ন বুনে যাই-
দুপুর বেলা যখন ক্লান্তি মুছে নিতে সবাই ভাতঘুমে
দলছুট দল আমরা তখন মাঠ দখলের চেষ্টায়
ঠা ঠা রোদে আক্লান্তের ঘোরে যদি ঘাম ঝরে পড়ে
একছুটে সব ঝাঁপিয়ে পড়ি,খোলা জলের পাঁজরায়
দুরন্ত পাখির মত বাতাস কেটে কেটে সবার উড়ে চলা
তোমার কাছে মনে হবে কোন প্রসিদ্ধ অনুরঞ্জন!

কনকনে শীতের সকালে হিমজমা পান্তাভাতে হাত চুবিয়ে
লোকমা গুণে গুণে ভাত খাবার অনুভূতি-
দাঁতে দাঁত পিষে "খটাখট"শব্দের তালে
বেগুনি রঙ ধরে যাওয়া ছোট্ট দুটো ঠোঁটে,
ওম নিয়ে কখনো কখনো পাওয়া আশীর্বাদ
খড়কুটো জ্বালানো ফুটকি তোলা আগুনের উত্তাপ।
জানি,এসব তোমার অসাধ্য অলীক কল্পনায়।

এই তুমি যখন দামি কাশ্মীরি চাদর গায়ে জড়িয়ে
ধোঁয়া উঠা কফির কাঁপে তৃপ্তির চুমুকে চমক খুঁজে পাও,
আমি তখন গ্রামের মেঠো পথ ধরে গরুর গাড়িতে চড়ি
"হাই হুট হুট! ডানে যা,আরে বাঁয়ে বাঁয়ে!"গাড়িয়ালের
খুনসুটি দেখি আঁকাবাঁকা সবুজের আঁচলে।
জানি,এসব তোমার জানা নেই,সবই মনে হয়-
মলাটের ভাঁজে,লেখকের আঁকা সমাদৃত অবান্তর কোন জলছবি।
সমুদ্র বিলাসে তুমি যখন ছুটি কাঁটিয়ে সময়কে কর উজ্জীবিত
খাঁ খাঁ তপ্ত রোদে ফাটা জমিতে তখন আমার
প্রাণের আকুতি নামে বর্ষা চেয়ে...গভীর প্রার্থনায়!
তুমি যখন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন আঁকো মনে
আমি তখন বাঁচিয়ে রাখি মাটির যতনে-সত্তার শিকড়।