মেধাবী ছোট ভাই তোফাকে নিয়ে বড় ভাই মোজার অনেক গর্ব,স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা! আর সেই গর্বই ছোট ভাই সহ্য করতে পারে না। সে আরও ভালো কিছু ডিজার্ভ করে এই ভাবনায়-স্বার্থপর হয়ে চলে যায় শহরে। এদিকে শহুরে মেয়ে সিমি! ধনীর ঘরের দুলারি। যার "গরীব" শব্দটাতেই এলার্জি। সে কীভাবে বুঝবে ক্ষুদার জ্বালা কী? কীভাবে জানবে গরীব হয়ে জন্ম নিয়ে,অভাবে থেকে কাজ করে খাওয়ার মাঝে-এই মানুষগুলোর কত অহংকার আছে? ভাইয়ের দম্ভটাকে গুড়িয়ে দিতে যে ছোট ভাই বড় ভাইকে ছেড়েছে! অর্থ বিত্ত সব পেয়েও,একদিন সে জিন্দা লাশ হয়ে বেঁচে থাকে! অনুভব করে-"টাকা পয়সা ধন দৌলত এসব আসলে ফাঁদ। অশান্তি আর নৈতিকতার অবক্ষয়! সব মিথ্যে,সব লোক দেখানো!" যতই মেধাবী আর শিক্ষিত হও না কেন! যতই ধন দৌলত থাকুক না কেন! অহংকার মানুষকে অমানুষ করে দেয়।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১১২টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - দাম্ভিক (জুলাই ২০১৮)

চোরাবালির ফাঁদ
দাম্ভিক

সংখ্যা

সেলিনা ইসলাম

comment ৮  favorite ০  import_contacts ২৫৮
- আরে... আরে! ঐ নদ্দুরের মধ্যি কী করতিছিস?
বড় ভাই মোজাফফর চিৎকার দিয়ে বলে তোফাজ্জলকে। মোজাফফরকে তোফাজ্জেল মোজাভাই বলে ডাকে। আর আদরের ছোটভাইকে মোজাফফর ডাকে তোফা বলে। দুপুরের কড়া রোদে ধোঁয়া উঠা খাঁ খাঁ উঠোন। আর তোফা সেই উঠোনে পানির ছিটা দিয়ে ধুলো উড়া বন্ধ করছে। কাঠফাটা রোদে ছোটভাইকে দেখে,মোজাফফরের বুকের ভীতরে কষ্টের নদী বয়ে যায়। ছোট ভাইকে সে নিজের সন্তানের চেয়েও অনেক বেশি ভালোবাসে। তাঁর লেখাপড়ার সব খরচ বড় ভাই মোজাফফর বহন করে। নিজের গায়ে জামা নেই। অথচ ছোট ভাইয়ের তিনটা জামা! এইসব নিয়ে বড়ভাবির সাথে মোজাভাইয়ের প্রায়ই বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। যা ছোটভাই তোফাজ্জেলের একটুও ভালো লাগে না।
মোজাফফর নিজের এক খণ্ড জমিতে সবজি চাষ করে। সেই সবজি বিক্রি করে অনেক কষ্টে সংসারের পাঁচজন মানুষের ভরণপোষণ টানে। স্বামী,স্ত্রী ,তাঁদের দুই সন্তান আর ছোট ভাই তোফা। ঝিনুক যেমন মুক্তোকে নিজের খোলসে আগলে রাখে! মোজাফফরও ছোটভাইকে ঠিক সেভাবেই আগলে রাখতে চায়। তোফা লেখা পড়ায় খুব ভালো। মোজাফফরের স্বপ্ন-এই ভাইটা একদিন তাঁদের সব দুঃখ দুর্দশা ঘুচিয়ে দিয়ে,সুখ এনে দেবে। বাবা মা মরা ছোট ভাইটাকে নিয়ে মোজাফফরের গর্বের সীমা নেই। সেই ভাই কিনা গনগনে রোদের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে? ছুটে এসে কাঁধের গামছা দিয়ে ভাইয়ের মুখ মুছে দেয়। ক্লাস নাইনে পড়া তোফা লজ্জা পায় ভাইয়ের এই আদর পেতে। এমন সময় মাটির ঘরের ভিতর থেকে বড় ভাবির কণ্ঠ ভেসে আসে-
-হ্যাঁ হ্যাঁ ঐ দামড়া ছেলেরে আদর দিয়ে দিয়ে চুমো খাও গে। নিজের ছোট্ট মাইয়েডা যে এই আগুণ গরমে জ্বরে পুড়ে মরতিছে। সেদিকি তো কোন খেয়াল নেয়!
-কী কস বউ! ওর আবার জ্বর আইল কহন? ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে বড়ভাই মোজাফফর। ভাবি তার জবাব না দিয়ে ভিতর থেকে ছুড়ে মারে থালা বাটি। ভাবির রাগ হলেই এইটা ঐটা হাতের কাছে যা পায় তাই ছুড়ে মারে। একটা বাটি ঝনঝন শব্দ তুলে গড়াতে গড়াতে এসে থামে ঠিক তোফার পায়ের কাছে। সে বুঝতে পারে তাকে যে মোজাভাই অনেক বেশি ভালোবাসে,তা ভাবি পছন্দ করছে না! ওর ভীষণ কান্না পায়। থালা বাটির শব্দটা অনেক জোরে হয়েছে।"ঝনঝন ঝন... " কানে ভীষণ বাজছে...। সেইসাথে ভীষণ জোরে কান্নার শব্দ!

"ধ্যাত"! বিরক্তি নিয়েই আজকেও দুপুরের ঘুমটা ছুটে গেলো কাজের মেয়ে শেফালির কান্নার শব্দে। মেয়েটা মনে হয় আজও প্লেট গ্লাস কিছু একটা ভেঙ্গেছে! সিমির উপর ভীষণ রাগ হয় তোফাজ্জেল চৌধুরীর। বাচ্চা মেয়েটাকে দিয়ে এতো কাজ করানোর দরকার কী? আর প্লেট গ্লাসই তো ভেঙ্গেছে। তারজন্য মেয়েটাকে মারতে হবে? কিন্তু তোফা সিমির সামনে রাগ প্রকাশ করতে পারে না।
-ওরে আল্লারে ওরে মারে! খালা আর কোনদিন আমি এমুন করব না। আমারে আর মাইরেন না খালা…!
নাহ মেয়েটার চিৎকারে তোফার বুকের ভীতরে ভীষণ ব্যথা করছে। মেয়েটার বয়স দশ এগারো বছর হবে। রুগ্ন রোদে পোড়া তামাটে রঙ শরীরের। দেখলেই বুঝে নেয়া যায় কত অভাবে পড়ে,এই শহরে দু'মুঠো ভাতের জন্য কাজ করছে। নিশ্চয় ওর বাবা মা বুকের উপর পাথর রেখে মেয়েকে মানুষের বাসায় কাজে দিয়েছে! কিন্তু সিমির মত ধনীর ঘরের দুলারিরা তো মানুষ হয় না! ওদের তো ভাতের অভাব নেই। ক্ষুদার জ্বালা কী,ওরা কীভাবে জানবে? ওরা কীভাবে জানবে গরীব হয়ে জন্ম নিয়ে,অভাবে থেকে কাজ করে খাওয়ার মাঝে-এই মানুষগুলোর কত অহংকার আছে? "হাজারো কষ্টকে ওরা জয় করতে জানে আত্মবিশ্বাসে। 'চুরি তো করছি না! কাউকে ঠকাচ্ছি তো না! কাজ করে হালাল খাচ্ছি!' এই ভাবনা অভাবী মানুষগুলোকে ভীষণ গর্বিত করে তোলে। তাই তো দুঃখ কষ্ট বেদনায় তাঁরা মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকে।" কথাগুলো ভেবে চোখ দুটো জলে ভিজে আসে। তোফা ঝাপসা চোখে সিলিঙের দিকে তাকায়।

এই জ্যৈষ্ঠ মাসের আম কাঁঠাল পাকার তপ্ত গরমেও,ওর ঘরে কোন গরম নেই। এসি চলছে ঘরে। ঐ তো বিছানায় শুয়ে আছে ওর আর সিমির ছেলে মেয়ে। যাদের খাওয়ার চিন্তা নেই। কী সুন্দর নিশ্চিন্তে গভীর ঘুমে ডুবে আছে। তোফার মনে পড়ে যেদিন গ্রাম ছেড়েছিল সেইসব দিনের কথা-
মোজাভাই ওর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল জেনে খুব খুশি।"ও ভাই ও চাচা তোমরা সবাই শুনিছো? আমার আদরের তোফা অনেক ভালো ফল নিয়ে স্কুল শেষ করিছে! ওরে আমি অনেকদূর পড়াব। শহরে পাঠাব। এই গ্রামের মুখ একদিন আমার এই তোফাই উজ্জ্বল করবে দেখে নিও। ও হুজুর মিষ্টিমুখ করেন। আমার তোফার জন্য একটু দোয়া কইরে দেন!" সেদিন ভাঙা সাইকেলটা বিক্রি করে মোজাভাই এভাবেই আনন্দ বৃষ্টিতে ভিজে,মিষ্টি বিলি করেছিল। কিন্তু বড়ভাবি এতে একেবারেই খুশি হতে পারেননি। যে সাইকেলে করে মোজাভাই নানা ধরণের ছুটাছুটির কাজ করে বেড়াত। সবজি নিয়ে বিভিন্ন হাঁটে যেত। সেই সাইকেলটাও সেদিন বিক্রি করে দিয়েছিল ছোট ভাইয়ের গর্বে। অথচ ভাইয়ের মেয়েটা অসুস্থ বলে তিনি একটু ওষুধও কিনে আনেননি। মেয়েটাকে নিয়ে গিয়েছিলেন ইমাম সাহেবের কাছে পানি পড়া আর ফুঁক দিয়ে আনতে।

মোজাভাই সব সহ্য করতে পারেন। কিন্তু তাঁর ছোট ভাইকে নিয়ে,ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ নিয়ে কেউ কিছু বললে,একেবারেই সইতে পারেন না। সেদিন প্রথম বড়ভাই ভাবিকে ভীষণ মারধোর করেছিলেন! ভাবি ভাইয়ের উপর করা সব রাগ ঝেড়েছিল তোফার উপর-
-এত ভালো লেহাপড়া কইরে ফল আনে। তালি এই গাঁও গ্রামে পইড়ে রইছিস ক্যান?
-আমার ভাইরে নিয়ে তুই কিছু কবিনা কলাম! তোরে কিন্তু তালাক দিয়ে বাপের বাড়ি পাঠাই দিবানি...! মোজাভাই অগ্নিমূর্তি ধারণ করে।
-হ্যাঁ তাই দেন। এতো বড় বড় বই পইড়ে না খাইয়ে এহানে চিটা ধানের মত পইড়ে আছে ক্যান...আমার ছোঁয়াল মাইয়ের ভাগ খাচ্ছে ক্যান?
-তুই থামবি না কোপাই দেব...! এই তুই থামলি না…? কথাটা বলে মোজাভাই আবার ভাবিকে মারতে যায়।

তোফার ভাবনায় আসে-"আসলেই তো ভাবি ঠিক বলেছে! সে অনেক মেধাবী একজন ছেলে। সে কেন এই গ্রামের মাটির ঘরে না খেয়ে,আধা পেট খেয়ে থাকবে? সে তো শহরে গেলে একটা কিছু করে চলতে পারবে। সে অংকে অনেক ভালো। স্কুলের সুনীল স্যার তাকে 'বিদ্যা সাগর'বলে ডাকে। যে কোন অংক হোক বা অন্য কোন বিষয়। একবার চোখ বুলিয়ে হুবহু মনে রাখতে পারে তোফা। অংক তো ওর কাছে একেবারে পানির মত সোজা মনে হয়। তা যত কঠিনই হোক না কেন। ও কেন এই অভাব,অশান্তির মাঝে থাকবে? ও এর থেকে আরও ভালো ডিজার্ভ করে।" ব্যস সে আর এই গ্রামে থাকবে না! যেমন ভাবা তেমন কাজ। তাকে নিয়ে ভাই ভাবির এই কোন্দল,এই অশান্তি তার আর ভালো লাগে না। তা ছাড়া তোফার কাছে তাকে নিয়ে মোজাভাইয়ের হৃদয়ের আস্ফালনও অনেকটা বাড়াবাড়ি ধরণের মনে হয়। সত্যি সত্যি একদিন ভোররাতে কাউকে কিছু না বলে-গ্রামের শান্ত মেধাবী বালক তোফাজ্জেল চলে এলো এই যান্ত্রিক শহরে। নিজের নামটাও বদলে নিলো-তোফাজ্জেল হোসেন থেকে,হয়ে গেলো তোফাজ্জেল চৌধুরী।

শহরটা যে সত্যিই যান্ত্রিক তা বুঝতে তার খুব একটা সময় লাগেনি। কেউ একটু কথা শুনবে বা কারো সাথে দুদণ্ড কথা বলবে? সে সময়টুকুও যেন কারোর নেই।এই শহর একেবারেই স্বজনহীন, অচেনা। আর তাই তোফা আশ্রয় নেয় কমলাপুর রেলস্টেশনে। সেখানে রাতে ঘুমায়। সারাদিন ঘুরে ঘুরে কাজ খুঁজে চলে। একটা হোটেলে কাজ পেয়েও যায়। একদিন ঐ হোটেলে নিত্যদিনের কাস্টমার প্রফেসর জামিল উদ্দিনের সাথে তোফার পরিচয় হয়। উনি একটা নামকরা কলেজে অধ্যাপনা করেন। মাঝে মাঝে এই হোটেলে নানা ধরণের পরীক্ষার খাতা দেখতে দেখতে চা নাস্তা করেন! তোফা আশ্চর্য হয়ে যায়-ধনী লোকের এই গরীবানা স্বভাব দেখে! "হয়ত এটাও ওদের কাছে এক ধরণের বিলাসী আনন্দ!" তোফা কথাটা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। প্রফেসর যখন খাতা দেখে ও তখন কৌতূহলী হয়ে উঁকিঝুঁকি মারে। এমনই একদিন সে বলে উঠে-
- স্যার এই অংকটা ভুল ছিল। আপনি কারেক্ট দিলেন কেন?
তোফার আচমকা এই কথায়,নিমগ্ন হয়ে খাতা দেখতে থাকা প্রফেসর চমকে উঠে! তারপর হেসে দিয়ে বলে-
- তুই কী করে জানিস এইটা ভুল ছিল?
তোফা নিজেই অংকটার ভুল ধরিয়ে দেয়। প্রফেসর অবাক হয় তোফার ব্যবহারে। ওর সাথে আলাপে আলাপে প্রফেসর জামিল উদ্দিন জেনে যান,সে অনেক মেধাবী ছাত্র। সেদিন চায়ের কাঁপে চুমুক দিতে দিতে কথা বলেন তোফার সাথে-
- তুই এতো মেধাবী হয়েও কলেজে কেন ভর্তি হইস না?
-কী যে বলেন স্যার গরীবের আবার লেখাপড়া। এই শহরে থেকে দুইবেলা পেটে খাবার দিতে পারি না। আর লেখাপড়া…
-তোর কী ইচ্ছে আছে আরও লেখাপড়া করার?
তোফা সেদিন কিছুই বলেনি। ওর নীরবতাই প্রফেসর সাহেব "হ্যাঁ" ভেবে নিয়েছিলেন। কয়েকদিন পরেই ওকে নিয়ে গেলেন। নিজের কলেজে ভর্তি করে দিলেন। মেধাবী ছাত্র হওয়াতে উনার নিজস্ব কোচিং সেন্টারে টিউশনি করানোর দায়িত্বটাও দিলেন। সম্বোধন তুই থেকে তুমিতে নামিয়ে আনলেন! তোফাকে জিজ্ঞাসা করলেন
- তোমার বাবা মা কে কে আছে?
তোফা কোনকিছু না ভেবেই সেদিন বলেছিল-স্যার আমার কেউ নেই। আমি একটা এতিম খানায় বড় হয়েছি।কিন্তু এসএসসি পাশ করার পরে ওরা আমাকে আর রাখতে চাইলো না। ওখানে আসলে খাওয়ার অনেক কষ্ট।

আর কিছু বলতে হয়নি। পৃথিবীতে এখনও প্রফেসরের মত কিছু ভালো মানুষ আছে। আর তাইতো তোফার এতবড় মিথ্যেটা ধরতে পারেনি। বরং ওর পুরো দায়িত্বটাই তিনি নিয়ে নিলেন। নিজের বিশাল বাড়িতে পর্যন্ত থাকার জায়গা করে দিলেন। সিমি প্রফেসর জামিল উদ্দিনের একমাত্র আদুরে,বিগড়ে যাওয়া সন্তান। সে কেমন করে যেন মেয়েটার প্রেমে পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু কোনদিন প্রকাশ করতে পারেনি। যেমন সুন্দরী তেমনি অহংকারী একটা মেয়ে সিমি। "গরীব" শব্দটায় ওর খুব এলার্জি। ওর ধারণা গরীবরা তাদের পূর্ব জন্মের শাস্তি ভোগ করতে,গরীব হয়ে জন্মেছে। সিমির এই একটা জিনিষ তোফার কোনদিন ভালো লাগেনি।


সিমির সাথে তোফার বিয়েটা প্রফেসারই দিয়ে যান।"ধনী মানুষদের সন্তানকে নিজের মতে রাজি করানোর জন্য ভালোবাসার চেয়ে এই এক প্রসিদ্ধ ট্রিক! হয় রাজি হও না হলে সব সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করব! ব্যস... । লোভ যেমন পিতামাতার বিরোধিতায় গিয়ে মানুষকে অমানুষ করে দেয়।তেমনি সেই লোভই আবার অমানুষ সন্তানকে মানুষ করে!"সিমিও বাবার সম্পত্তির লোভে বিয়েতে রাজি হয়। প্রফেসর মারা গেলে উনার সব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির একমাত্র মালিক হয় মেয়ে সিমি। তোফা তখন বিদেশি একটা কোম্পানিতে এজিএম পদে চাকুরী করত। এখন অবশ্য শ্বশুরের রেখে যাওয়া কোচিং সেন্টারকে ফুলে ফেঁপে আরও প্রসারিত করেছে। সিমির গরীবদের প্রতি ঘৃণা দেখে-সে যে মিথ্যে দিয়ে এই জীবন শুরু করেছিল,তা আর সত্যে বদলাতে পারেনি। তোফা সিমির অহংকারের আগুনে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে চায় না। আর তাই ভাই ভাবি গ্রাম এসব কোন দিন মন থেকে ঠোঁটে আনেনি। বরং সময়ের সাথে সাথে ধীরে ধীরে এক সময় মনের মাঝেই দাফন দিয়েছে। দুই মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে ওদের সংসার।

- আর কোন দিন হাত দিবি?
-না খালা...হুউউউ হুউউউউ হুউউউউউউউ।
-যদি আর কোনদিন একটা প্লেট গ্লাস ভাঙ্গিস…
তোফা আর বসে থাকতে পারলো না। হুইল চেয়ারটা ঠেলতে শুরু করলো! হুইল চেয়ারে বসে বসেই ঘুমাচ্ছিল ও। এই চেয়ারটাই ওর এখন সব চেয়ে বড় সঙ্গী! দুই বছর আগে একটা রোড এক্সিডেন্টে তোফা জানে বেঁচে গেলেও-দুটো পা তাকে হারাতে হয়! রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলছিল। কেউ একজন পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে বেশ জোরেই ধাক্কা লাগে। তোফা রাস্তায় পড়ে যায়। খুব স্পিডে আসা একটা গাড়ি না থামিয়ে সোজা ওর পা দুটোর উপর দিয়ে চলে যায়! মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ঘটে যায় ঘটনাটা!

তোফা ডাইনিং-এ এলো। দেখে শেফালি মেয়েটা নিজে নিজে হাতে একটা টুকরো কাপড় বাঁধার চেষ্টা করছে। মেয়েটার হাত কেটে গেছে। কিন্তু এই নিয়ে কোন কথা বলা যাবে না। কোন দরদ তো দেখানো যাবেই না। সিমির বাড়তি কথার তীর খুব তীক্ষ্ণভাবে ছুটে আসবে। তোফা কাঁপা কাঁপা হাতে গ্লাসে পানি ঢেলে খেতে খেতে পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করল। এমন সময় ড্রাইভার মুজিব এসে হাজির।এই মুজিবকেই তোফা বলেছিল শেফালিকে এই বাসায় কাজের জন্য আনতে।

তোফা মাঝে মাঝে মুজিবের সাথে লঙ ড্রাইভে যায়। তেমনি একদিন একটা গ্রামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। জানালার গ্লাস নামিয়ে দিয়ে গভীর নিঃশ্বাসে যেন সে প্রাণ ফিরে পায়। কিন্তু সেদিন সে বাতাসে প্রিয় খাবারের ঘ্রাণ পাচ্ছে! আর তাই মুজিবকে বলে আস্তে গাড়ি চালাতে। সে দেখে রাস্তার পাশে একটা মেয়ে ভুট্টো বিক্রি করছে। কোন দিকে খেয়াল না করে প্রতিটা গাড়ী শাঁ শাঁ করে ছুটে চলেছে। কড়া রোদের মাঝে মেয়েটা ঠায় দাঁড়িয়ে আছে গনগনে আগুণের চুলার কাছে। চুল দাড়িতে ঢাকা একটা বৃদ্ধলোক ভুট্টাগুলো পুড়াচ্ছে। আর মেয়েটা সবাইকে ডাকছে- "আসেন আসেন মিষ্টি ভুট্টো খাইয়ে দেহেন! একটা ভুট্টো মাত্র পাঁচ টেহা! পাঁচ টেহা... আসেন...!" কেউ কিনছে না। বাইরে ভীষণ রোদ। তোফা গাড়িতে বসে থেকে মুজিবকে বলল নেমে ভূট্টো আনতে। কেন যেন ভীষণ ভুট্টো খেতে ইচ্ছে হল ওর। মুজিব ভীষণ গল্পবাজ ছেলে। মেয়েটাকে নানা কথা জিজ্ঞাসা করতে লাগলো
- কী রে ছেমড়ি ভুট্টো কয় জনে কেনে? এর চেয়ে গার্মেন্টসে সুতো কাঁটার কাজ করলি ভালো টাকা পাবি।
তোফার মনে পড়ল কয়েকদিন ধরে সিমি একটা পার্মানেন্ট ছোট মেয়ে কাজের জন্য রাখতে চায়ছে। টুকটাক কাজ আর বাচ্চাদের ফাই-ফরমাশ খাটবে। অমনি তোফা মুজিবকে ডেকে বলল
-শোনো ওকে জিজ্ঞাসা কর তো বাসায় কাজ করবে কিনা?
মুজিব মেয়েটাকে কথাটা বলতেই সে রাজি হয়ে গেলো। তবে মায়ের অনুমতি নিতে হবে। এই তো পাশেই ওদের বাড়ি। মুজিব ঠিকানা লিখে নিয়ে আসে। কথা দেয় পরে এসে ওকে নিয়ে যাবে। একদিন মুজিব একা গিয়ে সেই মেয়েটা মানে শেফালিকে নিয়ে আসে। সেই থেকে আজ তিনমাস ধরে শেফালি এই বাসায় আছে। মুজিবই ওর মাকে গিয়ে শেফালির বেতনের টাকা দিয়ে আসে।
সিমি মেয়েটাকে নানা উছিলায় মারধোর করে।তোফা বুঝে যে নিজের রাগ,হতাশা ও ঐ মেয়েটার উপর ঝাড়ে। কিন্তু ও একটা বাচ্চা মেয়ে। ওকে কেন এভাবে কষ্ট দেবে? তোফা কিছু বললেই বলে-
- শুনো দরদ দেখিও না। ওরা গরীব...সারা জীবন না খেয়ে,মাটিতে ঘুমিয়ে কষ্ট করে কাটিয়েছে। এখন এখানে বেশি আরামে থাকলে ওর ক্ষতি হবে। ওর তো আরামে থাকার অভ্যেস নেই।
- তাই বলে বাচ্চা মেয়েটাকে…তোফার কথা শেষ না হতেই ঝাঁঝালো কণ্ঠে সিমি বলে-
-আরে তোমার কেন দরদ লাগছে, হ্যাঁ? আমার চেয়ে কী তুমি বেশি বুঝো? এই মেয়েকে দেখ…এখানে এসে কী তেল তেলে চেহারা হয়েছে। আমি যদি ওকে বের করে দেই,তাহলে তো ও আগের সেই কষ্টের জীবনে ফিরে যাবে! তখন কী করবে হ্যাঁ? এখানে তো খেয়ে খেয়ে পেটের চামড়া বড় করে ফেলেছে। কী করবে জানো? হয় চুরি করবে না হয় বেশ্যা...!
-আহঃ থামো প্লিজ…! তোফা সহ্য করতে পারে না।কীসব বাজে কথা বলে সিমি! সেই থেকে তোফা কিছু বলতেও পারে না। পারে শুধু কষ্টে ছটফট করতে। মুজিবকে দেখেই শেফালি আবার কান্না শুরু করে
- কাকু আমি গ্রামে যাব। নানাভাইর কাছে যাইয়ে থাকব।
-হ্যাঁ হ্যাঁ তাই যা…। মুজিব এই মেয়ে গত পনের দিনে পাঁচটা গ্লাস আর দুইটা ডিনার সেটের প্লেট ভেঙ্গেছে। ওর বেতন থেকে এসব কেটে নেব।
-ম্যাডাম ঠিক আছে।
-ও কাকু না খাইয়ে থাকপ তবু এই মাইর খাব না…
ঠাস করে একটা চড় মারে সিমি মেয়েটার গালে। খিস্তি দিয়ে বলে-
- পেটে খাবার নাই অথচ দেমাগ কত মেয়ের। এই মেয়ে তুই নিজে হাতে কেন তরকারী তুলে খালি? চোর কোথাকার…।
-খালা আমি খাইনি। আমি চোর না…।
তোফার হাত পা থরথর করে কাঁপছে! মনে পড়ে একবার গ্রামের চেয়ারম্যানের জমির ধান কাঁটা হয়ে গেছে। ভাবি আর মোজাভাইয়ের বড় মেয়েটা জমিতে পড়ে থাকা ধান কুড়াতে গেছে। বেশ কয়েকটা জমি থেকে ধান কুড়িয়ে প্রায় অর্ধেক ধামা ধান পেয়েছে। চেয়ারম্যানের বাড়ির রাখাল ছেলে এসে সেই ধান কেড়ে নিয়ে গিয়েছিল। সবাইকে বলেছিল ওরা নাকি ধান চুরি করেছে। মোজাভাইয়ের বউ আর মেয়ে চিৎকার করে বলছিল তাঁরা চুরি করেনি। অথচ ওদের কথা কেউ বিশ্বাস করেনি! বরং চেয়ারম্যান বড়ভাবিকে তিনদিন ওদের বাসার সব কাজ করিয়েছিল বিনা পয়সায়! কথাগুলো মনে পড়তেই তোফা অস্থিরতা বোধ করে। চিৎকার দিয়ে বলে উঠে-
-প্লিজ এখন থামো। বাচ্চা একটা মেয়ে। আর তুমি তো বেতন থেকে টাকা কেটে নেবে বলেছ!
সিমি তোফার ব্যবহারে অবাক হয়ে যায়! এই প্রথম সে স্বামীর কাছ থেকে এমন ব্যবহার পেলো।কিছু একটা বলতে গিয়েও বলল না! রাগে গজগজ করতে করতে বেড রুমের দিকে চলে যায়। তোফা জানে সিমি পরে অনেক কথা শুনাবে। ওর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত নিঃশ্বাস নিতে নিতে বলে-
-মুজিব ওর হাতে কাপড়টা বেঁধে দাও,রক্ত পড়ছে।
-জ্বী স্যার।
মুজিবকে বলে একটু ঠাণ্ডা পানি দিতে। পানিটা খাবার পরে তোফা ভালো বোধ করে। এমন সময় তোফার মোবাইলটা বেজে উঠে। একটা অপরিচিত নাম্বার দেখে ফোনটা রিসিভ করে না। কয়েক সেকেন্ড যেতেই আবারও ফোনটা বাজে। তোফা বুঝে পাচ্ছে না ফোনটা বাজলেই ওর হার্টবিট কেন বেড়ে যাচ্ছে! মুজিব বলে উঠে-
-স্যার ফোনটা মনে হয় শেফালির জন্য। ওর মা মেয়ের সাথে কথা বলতে চেয়েছিল। আমি আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়েছি-সরি স্যার।
-হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক আছে,সরির কিছু নেই।
ফোনটা আবার রিং হতেই তোফা রিসিভ করে। ওপাশ থেকে ভেসে আসে একটা বৃদ্ধ পুরুষের কণ্ঠ-
-শে... ফা…!
তোফার কাছে মনে হয় যেন বলছে "তো... ফা"
আবারও সেই কণ্ঠ শুনে যায় তোফা। এবার আর নিজেকে সামলাতে পারে না
-মো... জাভাই তুমি?
-কেডা? কেডা কথা কইল? খকখক করে কেশে যায় বৃদ্ধ!
-মোজাভাই আমি তো…! কণ্ঠ রোধ হয়ে আসে।বৃদ্ধ খুশি খুশি কণ্ঠে বলে-
-তো... ফা! আমার... ! পরমুহুর্তে বিরক্ত প্রকাশ করে বলে-
-আমার শেফা বুবুরে দাও!
ভাইয়ের কণ্ঠ চিনতে তোফার একটুও কষ্ট হয়নি। আর কিছু না বলে ফোনটা বাড়িয়ে ধরে শেফালির দিকে। ফোন কানে নিয়েই সব কষ্ট দুঃখ বেদনা ভুলে যায় মেয়েটা। আনন্দে বলে উঠে-
-ওরে বুড়ো... এতদিন বাদে মনে পড়ল আমারে? আমি রাগ করিছি। আমি আর এহান থাইকে যাব না…!
তোফা জলে ভরা চোখ মেলে তাকিয়ে আছে শেফালির দিকে। সেই চোখ,সেই ঠোঁট। সেই… উফঃ মোজাভাইয়ের বড় মেয়েটা ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সেই ছটফটে ডানা মেলা প্রজাপতি। "ও কাক্কু তোমার ঘাড়ে কইরে আমারে নিয়ে খাজুর গাছের নীচে দাঁড়াও। আমি পাটখড়ি দিয়ে রস খাব!" মনে পড়ে ভাতিজি ফাতেমার কথা। এবার তোফা এই প্রথম শেফালিকে খুব খেয়াল করে দেখে। মনে মনে ভাবে-"যে ভাই তাঁর সর্বস্ব দিয়ে ছোট ভাইকে মানুষ করতে প্রতিজ্ঞা করেছিল। সেই ভাই আজ দু'মুঠো ভাতের জন্য নিজের নাতিকে মানুষের বাসায় কাজে দিয়েছে! সেই ভাই শিক্ষিত হয়েছে ঠিকই।কিন্তু মানুষ হতে পারেনি!" অমানুষ হবার শাস্তিও বেশ ভালোই পেয়েছে! ভাই যে তাকে নিয়ে মানুষের কাছে গর্ব করত! তা ছিল বড় ভাইয়ের স্বপ্ন দেখা অনুপ্রেরণা! অথচ সেই ভাইয়ের দম্ভটাকে গুড়িয়ে দিতে ছোট ভাই হয়ে সেই ভাইকেই ছেড়েছে! অর্থ বিত্ত সব থেকেও,আজ সে জিন্দা লাশ হয়ে বেঁচে আছে! ধনী হবার অহংকার আজ তোফাকে ধিক্কার দিচ্ছে। "টাকা পয়সা ধন দৌলত এসব আসলে ফাঁদ। অশান্তি আর নৈতিকতার অবক্ষয়! সব মিথ্যে,সব লোক দেখানো!" মনের মাঝে তোলপাড় করে এক সমুদ্র জল। গ্রামে অভাব ছিল,কষ্ট ছিল। কিন্তু শান্তিও ছিল। যা সে এই শহরের ইট পাথরের মাঝে কোনদিন পায়নি! তোফা অনুভব করে চাপা কষ্টে বুকটা ভীষণ ভেঙ্গে যাচ্ছে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মোঃ মোখলেছুর  রহমান
    মোঃ মোখলেছুর রহমান গল্প ভাল লাগল,পাঠক হিসেবে মতামত জানানোর অবকাশ যেহেতু রয়েছে তাই বলছিলাম তোফার বৌয়ের দাম্ভিকতার পরিনতির রশিটা খানিকটা পাকিয়ে এগুলে আরও চমকপ্রদ লাগত। ভোট ও শুভকামনা রইল।
    প্রত্যুত্তর . ২ জুলাই, ২০১৮
    • সেলিনা ইসলাম প্রথমেই ধন্যবাদ সময় দিয়ে গল্প পড়ে মন্তব্য করার জন্য। যার স্বামী পঙ্গুত্ব বরণ করেছে,সংসারের সবদিক নিজেকেই সামলাতে হচ্ছে তার দম্ভের পরিণতি বা তিলে তিলে পাওয়া শাস্তি আর কী হতে পারে? চমকের কথা বললে শেষে তোফার দম্ভের কারণে আপন ভাইয়ের পুরো পরিবারটাই পাপ না করেও প্রায়শ্চিত্ত করছে। পরিবারের একজনের দম্ভ পুরো পরিবারটাকেই খাঁদে ফেলে দেয়-এটাই বুঝাতে চেয়েছি। অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
      প্রত্যুত্তর . ৩ জুলাই, ২০১৮
  • এলিজা রহমান
  • বিশ্বরঞ্জন দত্তগুপ্ত
    বিশ্বরঞ্জন দত্তগুপ্ত ঠিক কথা , অমানুষের সৃষ্টির মূলে হচ্ছে অহংকার । গল্পটি ভাল লাগল । অনেক শুভকামনা ।
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৪ জুলাই, ২০১৮
  • Shamima Sultana
    Shamima Sultana অসাধারণ ভাল লাগল আপা শুভ কামনা রইল
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৬ জুলাই, ২০১৮
  • মোঃ মোখলেছুর  রহমান
    মোঃ মোখলেছুর রহমান আমি সাধারনত কমেন্ট করার পর ভোটে যাই তাই এরকম বিড়ম্বনা।
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ১০ জুলাই, ২০১৮
  • উত্তম  চক্রবর্তী
    উত্তম চক্রবর্তী বেশ সুন্দর হয়েছে গল্পগাঁথুনি। অনন্য লাগলো। ভালো থাকবেন।
    প্রত্যুত্তর . ১৭ জুলাই, ২০১৮
  • মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
    মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী বেশ কয়েকদিন পরে আর একটি চমৎকার গল্প পড়লাম। আপনার গল্প পড়ে সবসময় আলাদা একটা স্বাদ পাই। ধনী গরিবের ভিতরে অনেকখানি রেফারেন্স টেনেছেন, তোফার করুণ কাহিনী, ভাবীর খারাপ ব্যবহার এবং বাড়ি ছেড়ে কমলাপুর হোটেলে চাকরি, সিমিকে বিবাহ এবং সমাপ্তের পার্ট খুব ভালো লেগেছে। ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২০ জুলাই, ২০১৮
  • ফেরদৌস  আলম
    ফেরদৌস আলম তোফাদের এমনই হয়। ভালো লিখেছেন। লেখায় আপনার হাত দিনকে দিন পাকা হচ্ছে। শুভকামনা রইলো।
    প্রত্যুত্তর . ২২ জুলাই, ২০১৮

advertisement