লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ মার্চ ১৯৮০
গল্প/কবিতা: ৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভালবাসা (ফেব্রুয়ারী ২০১১)

মন পরানের নাও
ভালবাসা

সংখ্যা

রুবেল আশরাফ

comment ১৩  favorite ৪  import_contacts ৯৪২
এক.
লাল, হলুদ, সবুজ আলোর ট্রাফিক সিগন্যাল। শিমুল তুলোর মতন মেঘ বালিকায় ঢেকে যাচ্ছে পোয়াতি চাঁদ। ঘুমহীন নগরীর ফুটপাতে পলিথিনের খুপরি। টিমটিমে সোডিয়াম আলো জ্বালিয়ে রাখার দায়িত্বে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্টের নিচে নিঃস্ব মা, ব্যস্ত রান্নার চুলায়। পাশে ময়লা মাখা শিশুটি হামাগুড়ি দিয়ে ছুঁতে চায় মায়ের আঁচল। বাঁধ সাধে পথের বেওয়ারিশ বন্ধু কুকুরটা। বড়লোকি উচ্ছিষ্ট খেলনায় মাতে আবার সাড়া না পাওয়া শিশুটি। লাল চোখে বাসা বেঁধেছে একরাশ ক্ষুধা। রান্না শেষ। খেতে বসার প্রস্তুতি... ঠিক তখনি শিশুটার মুখে ফুটে ওঠে হাসির আভা। মায়ের স্নেহ বিলীন হয় শিশুটির রন্ধ্রে রণ্ডরে। মা আঁচলে ঢেকে শিশুটিকে দুগ্ধ দানে মাতে। মুখোমুখি ভাত আর শিশুটি। ...সাদা ভাতের নোংরা থালে, একটা সময় এসে বসে পড়ে ফুটপাতের বিদগ্ধ বাবা। মা.. বসে নির্বাক তাকিয়ে থাকে অন্যদিকে... অন্য স্বপনের পরা বাস্তব হাতছানিতে...। হয়ত এভাবেই সময় চলে... এভাবেই আমাদের বেড়ে ওঠা...যাপিত বাস্তবতায়...
দুই.
নিরাশার দোলাচলে ব্যথিত আমার প্রাণপাখি। সকাল, দুপুর, সাঁঝে চোখে তার একরাশ অভিমান। মন পরানের নাও ভাঙ্গে বুকের ভেতর। একটু চাওয়ার মাঝে কেন লক্ষ যোজন দূরত্ব! আকাশের সীমানা কেন এতটা প্রসারিত। কেনই বা প্রহরী ভবিষ্যৎ হাটে নির্লিপ্ত হয়ে। মনের মন্দিরে দীপাবলিতে, দেবী আরাধ্য শুধু রোদনের অর্ঘ্য। প্রাণপাখি আমার একলা একা চোখ রাখে কোন এক টেলিভিশন চ্যানেলের বাহারি বিজ্ঞাপনে... কেঁদে চলে একটি সুর... আমারে ছাড়িয়া বন্ধু কই রইল রে...। সিক্ত চোখে আকে না কোন স্বপ্নঞ্জন। সেখানে শুধুই নিয়তির সাথে বোঝাপড়া করার এক পৃথিবী অবিশ্বাস। আমার প্রাণপাখি বিষণ্ণতার সুতোয় গাঁথে একটি স্বপ্ন, তারপর..একটি কষ্ট, এরপর..একটি আকুতি, অতঃপর..একটি না বলা দীর্ঘশ্বাস...

তিন.
অবাক বসুন্ধরা। আকাশ লাগোয়া বসুন্ধরা সিটির দামী আয়নায় এসে পড়ে, আট পৌড়ে রোদ্দুর। আমান্তের বসতে নিঃসঙ্গ জীবনবোধের নীলাচল। কর্মস্থানের বহুতল থেকে দৃষ্টি আটকে যায় রোমন্থনের নাটকে। বিস্মৃতির অতলে ভেসে ওঠে একটি নিষ্পাপ মুখচ্ছবি অতলান্তে। আমি সম্বিত ফিরে পাই, বোধের সীমান্তে। অবিচল পথচলা, বেড়ে ওঠা, আবার নতুন করে আশায় বুক বাঁধা। এভাবেই নিয়ত বাতাসের ঘুর্ণিপ্রবাহে আমি থেকে আমান্তের চলে পোস্টমর্টেম। স্বপ্নলোকে ভাসে আমার প্রজন্মের আকুতি, একটু স্পর্শ, ফেলে আসার শেষ অঙ্ক...টা। বাবা... তুমি আসবে কবে... বাবা... আমার ভু..গাড়ি কই..বাবা...। নিজেকে সামলে নিজের মাঝে, আমি গুনতে থাকি... নিঃসঙ্গ প্রহর... এক, দুই, তিন করে ঘড়ির কাঁটার অলস লীলায়...

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement