শীতলক্ষার পাড় ধরে গুণ টানা নাও দেখে দেখে পার হওয়া শৈশব আমার কৈশোরে পা রেখেছে কখন কে জানে! আমি তখনো জীবনের পাঠশালায় একদম শিশু। আর তুমি কি করে যেন নারী হয়ে গেলে। একদিন কানামাছি খেলতে গিয়ে তোমাকে জড়িয়ে ধরতেই তুমি বেতস লতার মতো কেঁপে উঠলে। তোমার কাঁপন আমাকেও স্পর্শ করল।

তারপর থেকে কি হলো কে জানে, আমূল বদলে গেলে তুমি। ফ্রক ছেড়ে কচুপাতা রং শাড়ি পড়তে শুরু করলে, আর আমাকে অবাক করে দিয়ে বছর না পেরুতেই লাল শাড়ী পড়ে চলে গেলে ভিন গাঁয়ে।

কি আশ্চর্য! একটি শাড়ী কত সহজেই একটি মেয়েকে নারীতে বদলে ফেলে। কত সহজেই তারা নারী থেকে মা হয়ে যায়, বর্ষার পরের ধলি বিলের থকথকে মাটিতে বোনা ফসলের মতো তড়বড় করে বেড়ে ওঠে তারা।

আর আমি দখিনা বাতাসে দোল খাওয়া ধানক্ষেতে শাড়ীর গন্ধ খুঁজে খুঁজে চাষ করি জীবন-যৌবন।