রঙিন পৃষ্ঠায় চিঠি লিখে বাজ
ফুলের মতন কচি মনে রাগ
খামের ভেতরে ভরে অপেক্ষায় রাত ,
খোকার প্রথম চিঠি মাকে লেখা
পিয়ন সাহেব আজ ও যায়নি দেখা ,
মেঘের ভাষায় খোকার বুকে ঝড়
মায়ের ঠিকানা হয়ত নক্ষত্রের পর
তাইতো আশার আলো এখনো চোখে
রাতের কান্দনে পরীরা আসবে নেমে
ডাকবে মায়ের আদর দিতে কাছে
তক্ষুনি চিঠিটা দেবে হাতে তুলে
পৌঁছবে মনের কষ্টের যত কথা
হাসবে তাকিয়ে খুঁজবে পাশে খোকা
বলবে অবুঝ হয়নি কথা পাকা
মায়ের ওপর সন্তানের কিসের রাগ
বুঝবে কেমনে খোকা যে পৃথিবীর বুকে ।
আঁধার ভেঙেছে ঘুম আসেনি চোখে
চিঠিটা রয়েছে পকেটের ভেতরে যত্নে ,
একটি কলম তুলে চিঠি মেলে
পিয়ন বাবুর ওপর রাগ বাড়ে ,
সকাল দুপুর এভাবে রাত্রি চলে
যায়নি পাওয়া স্বপ্নের ডাকপিয়ন বলে
বছর দশেক হয়েছে চিঠিটা বুকে ।
রাতের আকাশে মেঘের পানে চেয়ে
অশ্রুতে মায়ের ছবি আজ ও আঁকে
শোনায় আবৃত্তি করে চিঠির কথা
জানতে ব্যাকুল মায়ের সাথে কারা
আসতে দেয়না কেন আজ ও তারা
নতুবা ঠিকানা দিয়ে দিলেই পারে
খোকাই মায়ের খুঁজে যেত রাতে ।
চিন্তায় দুঃখে ক্রমশ খোকা একা
কেবলি মাথায় মৃত্যু করে খেলা ,
খোকার জীবন অনিশ্চিত গন্তব্যের রথে
পাশের বাড়ির পিয়ন কাকা বকে ।
আকাশে মেঘের মাঝখানে মাকে দেখে
দিঘির পানিতে পূর্ণিমার চাঁদ জাগে
পদ্মের পাতায় জোনাকির আলো খেলে
খোকার হাসিতে গাছের পাতা ঝরে
সত্যিই পরীরা নেমে আসে পরে
খোকাকে শোনায় মায়ের বলা কথা
আনন্দে আত্মার চিন্তা পরে বাধা
চিঠিটা পূর্ণিমার জলে রেখে খোকা
পরীর ডানায় ভর করে উড়ে
মায়ের উদ্দেশ্যে অন্ধকারে শেষ যাত্রা ।