লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৫ জুন ১৯৯৪
গল্প/কবিতা: ৪২টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - প্রেম (ফেব্রুয়ারী ২০১৬)

কল্পনা
প্রেম

সংখ্যা

সূর্যসেন রায়

comment ৮  favorite ০  import_contacts ১,১৪৬
জানি একদিন
পদ্মজলের বাঁকা ঢেউয়ে
লাগবে তরি তোমার ঘাটে!
হয়ত তুমি
থাকবে তখন ঘোমটা খোলে
কেশের তলে যত লজ্জ্বার হাটে!
আমার তরি
চাইবে যত প্রেমের লজ্জ্বায় ডুবতে,
ঘোমটা যদি তবু থাকে আঁচল তলে মেতে,
আমার -তোমার
প্রেমের তরি লজ্জ্বায় যাবে ভেসে
আঁকাবাঁকা ঠোঁটের দিগন্তরেখায়
মায়া হাসি হেসে!
জানি একদিন
আসবে তুমি মাটির কলস
কাঁখে নিয়ে রঙিন আলো মেখে!
হঠাৎ তোমার
ঘোমটা যদি খুলে যায় তুলতে
পদ্মজল হেলে, মাটির কলস
নরম হাতে অবুঝ তরঙ্গ দেখে!
তবে,পার করব
স্বচ্ছ পদ্মজল খুঁজে দিতে তোমায়
যদি আস বাইতে তরি বইঠা ধরে
কনকলতা হাতে!
আরো দেব
ষোল আনা পদ্মকড়ির মালা
গলায় তোমার নিজে গেঁথে।
জানি একদিন
পদ্মজলের বাঁকা ঢেউয়ে
মাটির কলস ডুবে যাবে।
আমার তরি
কখনো যদি জানতে পারে তা নীরবে,
কথা দিচ্ছি, আসব আমি সব তরিকে
এক করতে লাজ-শরম ভুলে!
কী লজ্জ্বাবতী
আমাকে দায়ী করবে?
তবে, তোমার তরি
খোঁজতে আমি তোমায়
চাইব নীরবে!
জানি একদিন
তোমার পিতা শ্বশুর হতে ছলে
খেয়াপারে টাকা দেবে বেশি!
আমার-তোমার
খেলার মাঝে শ্বাশুড়ী মা’র হাসি।
কী অন্যমনষ্ক
লজ্জ্বাবতী লাজুক লতায়
অবুঝ যৌবতী কন্যা!
আমার-তোমার
পিতা এক হবে জেনে
বাজারে লেগেছে যত বন্যা!
যদি কখনো
তোমার হাতের সিগ্ধ পরশে
পদ্মলতায় যদি লাগে
পদ্মতরির নোক্সগর,
তবে আমি না
পালিয়ে খুঁজে দেব প্রেমের শেষ শিকড়।
কী লজ্জ্বাবতী
আমাকে কি একা নামিয়ে দেবে
ঘোলা পদ্মজলে প্রেমের ¯œানে?
তবে তোমার
দোষে পদ্ম লুকাবে লজ্জ্বায় যত অভিমানে।
তাহলে আমি
পদ্মজলে পদ্মমালা আর গাঁথব না,
পদ¥জলে দু’জনাই ভাসব ,কেউ জানবে না।
যদি কখনো
ভোলে একা হাত রেখে ভাসাও তরি ,
তবে সব পদ্ম তুলে দেব তোমার আঁচল তলে ঢেকে।
সেখান থেকে
পদ্মমালা গেঁথে যাব কেউ জানবে না
পদ্মজলের প্রশ্ন শুনে লজ্জ্বা দিও না!
কী লজ্জ্বাবতী
প্রমাণ চাও লুকিয়ে?এ হাসিটা দেখতেই যে
পদ্ম তুলেছি নীরবে হেসে,
তরি বেয়ে
তোমার দীঘল কালো ছড়ানো কেশের
আড়ালে ভেসে,
আরে বা-বা,
একটি পদ্মের মালা গেঁথে দেব তার প্রমাণ!
কোথাও যদি প্রশ্ন থাকে একবার সুযোগ দাও
কথা দিচ্ছি
একত্রে সব করে দেব সমান।
সে-মালা কি
পারবে একা গলায় পরাতে?
সব লজ্জ্বা নীরবে সহে আমায় হারাতে?
দূর বোকা
আমার হয়ত নেই বেনারসি তাঁত!
তাইতো আঁধারে
আজও খোঁজি, তোমার গুচ্ছ কেশে
একটি রতœগড়া কালোহীরা রাত!
হয়ত তুমি
জানতে চাইবে,সুঁই কিনতে যেতে হবে
তোমাকে একা রেকে পদ্মহাটে!
দূ-র বো-কা
সব আয়োজন করেছি আমি
পদ্মপাতায় খেলার আগে
পদ্মদিঘির প্রেমের মাঠে!
কী আর কষ্ট
আমার একটি দাঁতকে ভেঙে
করব এমন বর্শা!
তখন তুমি
রক্তের ধারায় পদ্ম দেখবে
দু’চোখে সরসা।
সেই সুবাসে
পদ্মপাঁপড়ি কাঁদবে হেসে
পেতে চাইবে একটু ¯িœগ্ধ অশ্রু
তোমাকেই তো ভালোবেসে।
জানি একদিন
তোমায় দেখে মেঘের আঁচলে
চাঁদের কলঙ্ক লুকাবে,
লজ্জ্বা দিয়ে
সব দখিনা বাতাসেতে
যত পাখির কলরবে
মনের জানালা খোলবে।
ওমা-গো-মা
যেমন মা তার তেমনি মেয়ে!
আমার তরিকে
দিল বেঁধে পদ্মলতায়
দশ হাত দূর হেলিয়ে।
এমন মেয়ে
যদি হত পদ্মজলে সাথী আমার,
তবে পদ্মলতা বেচেই হত
শত তরির পাল!
আরে বা-বা
পদ্মের সুবাসের চেয়েও তোমার মুখের সুবাস
নাকের ডগায় কাছে পেলে সরে যায় সব আশ,
মা-গো-মা
তোর ছেলের বধূ পদ্মলতায় খেলে
হয়েছে কি ভাঙা লতা?
বধূ এবার
সত্যিই শোন,বিধাতা স্বাক্ষী
আর বিবাহ করব না,
তোর আঁচলে
বাধব জীবন,তুই জানবে না।
আরে বা-বা
পদ্মলতায় সুন্দরী যৌবতী কন্যা
গোপনে রেখে আঁখি
আমাকে নিয়ে
খেলে গেল সব করে দিয়ে ফাঁকি!
তবে শুনে যাও
পদ্মকন্যা! আবার যদি ভাসাই তরি
তোমায় সঙ্গে নিয়ে,
আবারও তবে
পদ্মপাতায় পদ্ম তুলে পদ্মদিঘিতে
ঘর বাঁধব তোমাকেই জড়িয়ে!

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement