এমন সময় ছিল যখন বাতাসে ছিল সুর
গান গাইতো পাখি, বৃষ্টিতে ছিল ছন্দ
গাছ-গাছালি ছিল সমঝদার শ্রোতা
মেঘ বালিকারা নৃত্য করতো দল বেধে।

দূর থেকে প্রথমে আলো দিতো বিজলী
সহসা হিংসের আগুনে প্রজ্বলিত হয়ে
ছাড়খার করে দেয় মনের সকল সুর।

বালুচরে বসবাস আমার
খড়া বিদীর্ণ করে মন
ওষ্ঠাগত প্রাণ, নরকবাসী সকলে।

কয়েক দফা কালবোশেখী আঘাত হানে
লন্ডভন্ড ধরণী, নীলিমা সাজে আবীরের রঙে
সাগরে উত্তাল ঢেউ থিতু হয়ে আসে
সুর ফিরতে চায় আকাশে বাতাসে।

অবশেষে সুরের আবির্ভাব ধরাতলে
পরশে তার জেগে ওঠে ধরণী
বাতাস বাজায় বেহালা, পাখি গান গায়
জলে বীণার সুর তরঙ্গায়িত হয় ক্রমাগত।

কবিতা লেখে কবি, কণ্ঠে সুর ভাজে গায়েন
বৃক্ষরাজি নৃত্যছন্দে মাতোয়ারা
ধরিত্রী পোয়াতি হয়, সবুজময় চারিদিক
মেঘবালিকারা দিগন্তময় ছুটোছুটি করে আনন্দে।

এমনি সুরের মাঝে, মেঘবালিকার হাত ধরে
প্রশান্তির ঘুমে হারিয়ে যেতে চাই-
ওগো মেঘবালিকা, সময় দাও- সঙ্গ দাও
মিশে যেতে দাও ইতিহাসের চিরন্তনী পল্লবে।।