কষ্ট ! তুমি এসেছিলে নীরবে এ প্রাণে
বহতা নদীর মতন নিভৃত সারে ,
কুল-কুল শব্দে মাঝির বৈঠার বাহনির তরে
একটি দু'টি পায় ঊর্মির দোলায় ঝর্ণার পথে
বেদনার হিমালয়ে ।

চারিদিকে অথৈ জল দৃষ্টি যায় যে যতদূরে,
জলের রাজ্য নিঃশ্বাসে জন মানবহীন পথ ছাপিয়ে ।
বিবর্ণ বিস্তৃত সবুজের প্রান্তর হয়েছিল তখন ,
আমি একা দাঁড়ানো ছিলাম ধ্বস স্তূপের উপর
তুমি চলে গিয়েছিলে যখন ।

কষ্ট ! তুমি এসেছিলে বৃষ্টি রূপে
আমার ভাঙ্গা , জীর্ণ ঘরে কালবৈশাখীর রাতে ।
মৃদু বাতাসের স্পর্শে চাপা ঘূর্ণিপাকের তোরে ,
একটি দু'টি করে ক্রমশ উড়ে গিয়েছিল ভাঙ্গা
চালের খড় শূন্যে মেঘদের দেশে ,
বাক হীন আমি নির্বাক চোখে প্রলয় দৃশ্য দেখছিলাম বসে \\

বিশাল বৃক্ষে পাতার আবডালে ছোট্ট পাখির ছানা
ডানা বুজে কাঁদতে ছিল ভয়ে ,
তেমনি কষ্ট পেয়েছিলাম মনে না বলা অভিসারে ।
দেখি দুঃস্বপ্ন রাতের মতন জীর্ণ কাঁথায় শুয়ে আছি ,
কষ্ট ! প্রভাতে যখন ফুটেছিল সূর্যের হাসি ।

কষ্ট ! তুমি এসেছিলে নীরব দুর্ভিক্ষের মতন
ডাস্টবিনের নোংরা খাদ্যের জন্য মানুষের সংঘাত ,
আর আর্ত পীড়িতের কান্না শবদেহের জয়গান ।
নই কোন অমার্জিত মস্ত অপরাধী ,
তবু কেন গলে অবচেতনে ব্যথা রশি ?
অকালে কেন আসিল কষ্ট দুর্ভিক্ষ ল'য়ে ,
ভাঙ্গনের মহা-উত্থান কেন সংসার হালে ?

শেষ হতে হতে যেন হইল না শেষ সে দিবস ,
আমি একা সে রণাঙ্গনে আর তপ্ত মোর দীর্ঘশ্বাস ।
তুমি আসবে বলে অনেক দিন হাসতে পারিনি প্রাণ খুলে ,
বিসর্জনে কত বাসনা দিলাম মন মন্দিরে অকাতরে ।
তবু তব করিলাম বন্দনা গীতি ,
জলে বরিষণে যেমন মধু-সংহতি ।