একটা ভাতের থালা কয়েক টা আসবাবপত্র ,দু'টি হাঁড়ি _
একটা টিনের ছাউনি ,পাটের বেড়া
রেল লাইনের পাশে দুই ফুটের একটা ঘর
তার মধ্যে বসে আছে একটা অবুঝ শিশু আর এক অল্প বয়সী নারী ।
শিশুত্বের রং এখন ও লেগে আছে তার শরীরে ,
নিঃস্পলক তাকিয়ে আছে ছেড়া জানালার ফাঁক দিয়ে
মহাকালের দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ।
তনু শরীর তার ভিজে গেল অশ্রুসিক্ত জলে ।
শিশুটির কান্নায় ট্রেনের মেশিনের শব্দ স্তব্ধ হয়ে গেল ,
ক্ষুদার্থ পেটের আত্নচিৎকারে কম্পিত হল ইস্পাতের লাইন ,
আর কাঁদল শিশুটির মায়ের মন ।
দুর থেকে অচেনা পথিক প্রত্যক্ষ করতে ছিল এ দৃশ্য _
শিশুটির কান্নার ধ্বনি শুনে তিনি গেল সে খানে ,
সে কিশোরী মা শুনাইল তার নিয়তি _
দুর্ভিক্ষের বুলিতে ।
আজ দু'দিন হল কর্মহীন ;
ভাতের জন্য কত দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হল কোমরে শিকল বেধে শিশুটির ।
একে তো ক্ষুধাতুর পেটের যন্ত্রণা ,
তার উপর বিচ্ছেদের দাহন ।

কোন এক গায়ের দুষ্টামিতে মত্ত ছিল এই শিশুটির মা ,
বিয়ের পিড়িতে দু'দিন পর সে সুখ আর রইল না !
স্বামী সন্তান বধূ ছেড়ে গিয়েছে অন্য রমণীর দ্বারে ,
গ্রাম্য সমাজ তারিয়ে দিয়েছে তাই একটু নীড়ের খোজে এই
মমত্ব হীন জঞ্জাল শহরে ।
স্বামী তার সন্তান ছেড়ে চলে গিয়েছে শুধু সে পাড়লনা
কেন ?
যদিও কিশোরী তবু সেও মা ।