ব্রহ্মপুত্রের তীর থেকে বেশি দূরে নয়, প্রথমে নদের চরে বিশাল সবুজ মাঠ, মাঠের পরে ডিএন্ডডি বাঁধের মতো গ্রামরক্ষা বাঁধ-যার জন্য বর্ষায় সহজেই পানি তীরের ফসল-ঘর-বাড়ি গ্রাস করতে পারে না। পাড়ের লোকেরা বলে, ‘বাঁধে কী অয়, মাঠ ছয় মাসই পইড়া থাকে পানির নিচে। ওই শীত কালটাতেই আমরা কিছু চাষাবাদ করি, অকাল বন্যার পানি এসে গ্রাস না করলে সারা বছরের ফসল অইয় যায়।’
গ্রামরক্ষা বাঁধ পরবর্তী সময়ে হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়ক পেরিয়ে আবারও মাঠ। মাঠের কোথাও কোথাও ছোট ছোট বাড়ি। ছোট ছোট ঘর। সে সব ঘরে বাস করে ছোট ছোট মানুষ। হ্যাঁ, ছোটই তো। গরীব মানুষেরা তো ছোটই হয়। ভাসতে ভাসতে এসে তাদের পূর্বপুরুষেরা চরে আশ্রয় নিয়েছিল কোনো এক কালে। এরপর মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছে। তবু কাছে কোথাও বড় ধরনের বসতি গড়ে ওঠেনি। বড় বসতি যা ওই দূরে, আনন্দিপুর, গোবিন্দপুর ওই সব এলাকায়। মাঝখানে মাঠের পর মাঠ শস্যের জমিন। উঁচু-নিচু জমির পাশ দিয়ে পায়ে চলার পথ। হেমন্তের পর থেকে পুরো শীতকালটা দারুণ। চারপাশে সবুজ আর সবুজ। মাঝখান দিয়ে ছোট-বড় আলপথ। এই পথ কোনোটা টিলার ওপর গিয়ে শেষ হয়েছে। কোনোটা চলে গেছে দূরের গাঁয়ে। পথের পাশেই আবার মাঝেমধ্যেই জঙ্গল।
এমনই জঙ্গলের পাশেরই একটা টিলার ওপর একটা বাঁশি বাজছে। বাঁশিতে বিশেষ একটি সুরই বারবার তুলতে চেষ্টা করছে বাঁশিওয়ালা। তাঁর চেষ্টা আপ্রাণ সুর মধুর হোক। গভীর হোক। আর ছড়িয়ে পড়ুক বহুদূর পর্যন্ত। গ্রামে এমন বাঁশিওয়ালা ঘরে ঘরে। নিজের চেষ্টায়, সাধনায় তারা বাজাতে শেখে। গ্রামাঞ্চলের সহজ-সরল কথার গানের এমন মধুর, প্রাণবন্ত সুর তারা তাদের বাঁশিতে তুলে যে, মধ্যরাতে বিরহি বধূরা তাদের বাঁশির সুর শোনার জন্য কান পেতে থাকে। কিন্তু এ বাঁশিওয়ালা তেমন সুর এখনও আয়ত্ব করতে পারেনি। বোঝাই যায়, সুরের সাধনায় এখনও সে শিক্ষানবিশীই করে যাচ্ছে।
তোমারে তো চিনলাম না বাবা।’’ পাশের গাঁয়ের প্রবীণ লোক বাজার-সওদা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। পাশ দিয়ে যেতে যেত থমকে দাঁড়ালেন।
হুনছি ত্রিশালে থাকতে নজরুল এইভাবে বাঁশি বাজাইত। তা বাবা তুমিও কি তাঁর মত কবি অইতে চাও?
না চাচা। কবি অওনের সখ আমার নাই।
ত ঝোপে-ঝাড়ে বইসা বাঁশি বাজাইয়া কী করবা?
জানি না চাচা।
না জাইনা না হুইনা কোনো কাজ করা ভালা না বাবা। বই-টই দেইখা ত মনে অয় কলেজতে ফিরতাছ। ও তুমি আনন্দ মোহন কলেজে পড়? খাতার ওপর লেখা কলেজের নামটা দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন।
হ চাচা।
কী পড়?
অনার্স চাচা।
মাশাল্লাহ্‌। যাও বাবা বাড়িত যাও। বুঝতে পারছি কোনো কারণে তোমার মনটা ভালা না। না অইলে কলেজের বই ফালাইয়া থইয়া তুমি বাঁশি বাজাইতে বইতা না। কী করবা-জীবনডা এই রকমই। এই মন ভালা এই মন খারাপ।
তুমি বুঝি লজিং থাহ?
হ চাচা।
কার বাড়িত?
রিয়াজ উদ্দীন তালুকদারের বাড়িত।
ক্যায়া বাজান হেরা তো ভালা মানুষ।
চাচা, আমি কি বলেছি তারা খারাপ মানুষ?
না তা অবশ্য বল নাই।
আচ্ছা ঠিক আছে আমি যাই্‌। ত একটা কথা বাবা, সইন্ধ্যার আগেই কিন্তু চইলা যাইও। এই জায়গাডা হুনছি ভালা না।
ভালা না কেন চাচা?
হুনছি আগের দিনে এইহানে দিনদুপরে মানুষ খুন অইত।
কারা খুন করত?
তা ত জানি না। কেউ কইত আজরে, কেউ কইত মাইনসে। জানি না কোনডা সত্য। ত এইহা্‌ন দিয়া যাওয়ার সময় কথাডা আমার মনে অয়।
ঠিক আছে চাচা। সে আবার বাঁশিতে সুর তুলতে চেষ্টা করে। কিন্তু আগের সেই মনযোগটা আসে না। তার খুব রাগ হয় ওই চাচার প্রতি। তিনিই তার মনযোগটা নষ্ট করে দিয়ে গেছেন। এবার সে যতই চেষ্টা করে সুর ততই কালসুর হয়ে যায়। কিন্তু সাধনা সে ত্যাগ করে না। বাঁশি বাজনোটা যে তাকে শিখতেই হবে। সে বাঁশিটা সামনে রেখে দূরের দিকে তাকায়। একটু একটু করে ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী এলাকায় সন্ধ্যে নামছে। ধোঁয়াশাযুক্ত সন্ধ্যে। ...পিল বারোয়ার সন্ধ্যে...
ওই পথিক চাচা তাকে বলে গেছেন, সন্ধ্যের আগেই বাড়ি ফেরার জন্য। কিন্তু কোথায় ফিরবে সে? তার বাড়ি কোথায়? ওই লজিং বাড়িতে তো তার ফিরতে ইচ্ছে করে না। একবার এক ভদ্রলোক তাকে বলেছিলেন, ‘লজিং থেকে পড়াশোনা করে অনেকগুলো সার্টিফিকেট অর্জন করা যায় কিন্ত সে সব সার্টিফিকেট দিয়ে কিছু হয় না।’ সেও দেখেছে একগাদা ছাত্রছাত্রী পড়িয়ে নিজের পড়ার এনার্জি থাকে না। আর যারা একটু বেশি স্বাধীনচেতা তাদের তো সমস্যা অনেক। তার খুব কান্না পায়। একেবারে চোখে পানি এসে যায়। সে আবার বাঁশিতে সুর তুলতে চেষ্টা করে। মনের সবটুকু দরদ ঢেলে দেয়। বাঁশি বাজছে কিন্তু কী সে বাজাচ্ছে সে নিজেই জানে না। সে সম্পূর্ণ অন্য জগতে চলে গেছে। এভাবে কতক্ষণ কেটেছে সে খেয়াল তার নেই। হঠাৎ পিঠে একটি কোমল হাতের স্পর্শে সে ভয়ে লাফিয়ে ওঠে।
আরেকজন প্রবীণ মানুষ। কাঁধে ভিক্ষের ঝুলি। ঝুলিটা তার পাশে রেখে বসতে বসতে তিনি বললেন, ‘‘বাজনা বন্ধ করেন বাজান-এখনই হবে আজান’’। হাসতে হাসতে ছন্দ মিলিয়ে বললেন তিনি।
‘‘চাচা, যে মনযোগ দিয়া আপনে বাঁশি বাজাইতেছেন এমন মনযোগ দিয়া আল্লারে ডাকলে আপনে নির্ঘাত কামিয়াব। চাচা আমি আমার সারা জীবনেও কোনোদিন অত মনযোগ দিয়া আল্লারে ডাকতে পারি নাই। আপনের বাড়ি কি এইদিকেই?’’
না চাচা ওই ফুলপুরের এক গ্রামে।
লজিং থাহেন, না?
জি।
যান বাজান, ওই যে পানি দেহা যায়, ওজু কইরা আসেন। এই দুর্বার ওপর খাড়ইয়া নামাজটা পইড়া ফেলি। বাঁশি বাজাইয়া আপনে যে পাপটা কামাই করছেন ওইডা মাপ অইয়া যাইব।
আপনি পড়েন চাচা। আমার তো কাপড় পাক নাই। সেই যে সকালে কলেজে গেছলাম। এরপর কতবার খাড়ইয়া মুতছি।
তওবা তওবা চাচা এইডা কী কন? অত সুন্দর কাপড় আপনেরা মুইতেয়া না-পাক কইরা ফালাইন?
চাচা ওইডা পরিবেশ পরিস্থিতির ব্যাপার।
ব্যাপার-স্যাপার যাই কন শিক্ষিত মাইনসের এই এক সমস্যা। তারা পাক না পাক বোঝে না, মানে না। যাহোক ভাতিজা, আপনে বসেন আমি নামাজডা পইড়া লই। আপনেরে আমার ভালা লাগছে। আপনের লগে কথা কইয়াম।
চাচা সামনে বসে নামাজ পড়েন। আমিনুল পেছনে বসে থাকে। কলেজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় এমন দেরি সে কমই করে। কলেজ ছুটি হলেই বাড়ি ফিরে। লজিং বাড়ির এটাই নিয়ম। কিন্তু এত নিয়ম তার ভালো লাগে না। কেন সে একটু থাকা-খাওয়ার জন্য বছরের পর বছর অন্যের ছেলেমেয়ে পড়াবে?
নামাজ শেষ হলে চাচা উঠতে উঠতে জিজ্ঞেস করলেন, আপনে কোনদিকে যাইবেন ভাতিজা?
গোবিন্দপুরের দিকে।
আমিও তো ওই দিকেই। আমার বাড়ি আনন্দিপুরে।
গোবিন্দপুরে কার বাড়িত আপনে থাহইন?
রিয়াজ উদ্দিন তালুকদারের বাড়ি।
ও, তা অইলে তো আমার পথেই।
চলেন চাচা।
আরেকটু বসেন। দেরি যা করার তাতো কইরাই ফালাইছেন। শুনেন ভাতিজা, আমি গরীব মানুষ। আমার মতো মাইনসের পক্ষে অন্যরে উপদেশ দেয়া মানায় না। তবু বয়স্ক মানুষ হিসাবে কই, নামাজডা পড়বেন। আমার কি ইচ্ছা করে জানেন? বিশ্বের সব মসজিদে যেন কমপক্ষে একবার কইরা নামাজ পইড়া মরি। আরও ইচ্ছা করে, সারা দেশের খাল, বিল, নদীর পাড়ের সুন্দর জায়গাগুলোয় কমপক্ষে একবার কইরা সেজদা দিয়া যাইতে। কোনো সুন্দর জায়গাই যেন আমার সেজদার বাইরে না থাহে। তাছাড়া, আল্লার জমিনের ওপর-সবুজ ঘাসের ওপর নামাজ পড়ার আনন্দই আলাদা।
আপনার ইচ্ছা খুব সুন্দর চাচা।
আপনার কোনো সুন্দর ইচ্ছা নাই ভাতিজা?
না চাচা। আপাতত বাঁশি বাজানোটাই আমি শিখতে চাই।
আপনে কি বাঁশির সুর দিয়া মানুষরে কান্দাইতে চান?
হ্যাঁ চাচা। এছাড়া আমার পক্ষে বোধহয় আর কিছু করা সম্ভব না।
ভুল ভাতিজা ভুল। মানুষরে কান্দানো সহজ কিন্তু হাসানোডা কঠিন। এই গরীব মানুষটার একটা কথা আপনে রাখবেন? কন রাখবেন?
আগে কন শুনি। রাখার মতো হলে অবশ্যই রাখব ।
আইজ থাইকা এই বাঁশিডা আর বাজাইবেন না ।
কেন চাচা? এমন অনুরোধ কেন করছেন?
কারণ আছে, বাঁশি বাজানোর প্রতি আপনের আন্তরিকতা দেইখা আমি ভয় পাইয়া গেছি। এইডা আপনের ধ্বংস ডাইকা আনব। বড় আশা কইরা আপনের বাপ-মা আপনেরে কলেজে পড়তে পাডাইছে। হয়তো পয়সা-কড়ি তারার নাই তাই আপনেরে মাইনসের বাড়িত ফালাইয়া রাখছে। কিন্তু তাই বইলা যে তারা আপনের কথা ভাবে না এইডা ভাবা আপনের ঠিক অইতাছেনা। আমি বুঝি আপনে আপনের বাবা-মার লগে রাগ কইরাই পথে পথে বইসা থাইকা জীবনের মূল্যবাান সময় নষ্ট করতাছেন। এইবার চলেন, হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি।
মাইনসের বাড়িত লজিং থাকতে যে আমার ভাল্লাগে না।
মানুষ তো জেলও খাডে, খাডে না? আপনে না অয় জীবনের পইলা সময়ডা জেলই খাটলেন।
হ্যাঁ চাচা, একথাটা আমাদের মনতোষ চক্রবর্তী স্যারও বলেছেন। ‘জীবনের সবটা সময় সুখে থাকার জন্য কিছুটা সময় না হয় জেলই খাটলে।’ ঠিক আছে চাচা-কথা দিলাম, পথে আর সময় নষ্ট করব না।
বাঁশিডাও আর বাজাইবেন না এই কথাডাও আপনের দিতে অইব ।
কেন চাচা? এ ব্যাপারে আপনি এত জোর খাটাছেন কেন?
কারণ, একদিন একটু সময় বাঁশি বাজাইলে চল্লিশ দিনের এবাদত নষ্ট হয়ে যায়।
তাই নাকি চাচা?
কিন্তু আমি শুনেছি দাউদ নবী মেষের পাল চড়াতেন আর বাঁশি বাজাতেন।
দাউদ নবী বাজাইলেও আপনের নবী তো বাজাইতেন না। চাচা বাঁশিডা আপনে আমারে দিয়া দেন।
বাঁশি দিয়ে আপনি কী করবেন?
কাইল ভিক্ষা করতে যাওয়ার সময় ব্রহ্মপুত্রের পানিত ফালাইয়া দিয়াম।
ঠিক আছে, কাল আমি নিজেই কলেজে যাওয়ার সময় ফেলে দেব। কিন্তু এটা যে একটা দানের জিনিস। কারও দানের জিনিস কি ফেলে দেয়া ঠিক হবে? তাকে কী বলব যদি সে কোনোদিন ফেরত চায়?
দান করছে কেডা?
‘মায়া’ নামের একটা মেয়ে।
মাইয়াডার লগে আপনের সম্পর্ক কী?
এই বন্ধুত্ব বলতে পারেন। মাঝেমধ্যে ওদের বাসায় যাই। একটু-আধটু বসি, কথা বলি।
শুধু এইটুকুই? এইটুকুর জন্য তো বাঁশি দেওয়ার কথা না। আচ্ছা আপনে যখন তারার বাসায় যান-তহন সে কী করে?
কেমন যেন অস্থির হয়ে যায়। সুযোগ ফেলেই আমার কাছে চলে আসে। কত কী বলতে চায়। কিন্তু ভীষণ ভীতু।
আপনে কিছু বলেন না?
আমি কী বলব? মানুষের বাড়ি লজিং থাকি, চাল-চুলোর ঠিক নেই।
তাহলে বাঁশিটা কোনদিন দিলো?
এই তো গত পহেলা বৈশাখের মেলায়। হঠাৎ মেলার ভিড় ঠেলে কোথা থেকে সে এসে আমার পাশে দাঁড়াল। খুব হাঁফাচ্ছিল। খুবই নার্ভাস লাগছিল। আমি কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে আমার একটা হাত ধরে উড়নার আড়াল থেকে বাঁশিটা বের করে দিয়ে বলল, আপনার জন্য কিনেছিলাম।
এরপর আমার মুখের দিকে চেয়ে ম্লান একটু হাসি দিয়ে উধাও হয়ে গেলো। আমি ওর পেছনে পেছনে যেতে চেয়েছিলাম। নিজের গন্তব্যের দিকে চোখ রেখেই সে বলল, আপনি যদি আমার পেছনে আর না আসেন-খুশি হবো।
আমিও তোমাকে একটা কিছু দিতে চাই। যদিও কথাটা আমি বলার জন্যই বলেছিলাম। সে খুব খুশি হয়েছিল।
সত্যি দিতে চান?
হ্যাঁ।
আজ না। আরেকদিন আমি চেয়ে নেবো। বলেই সে চলে গেলো।
এরপর?
পরদিন আমি ওই বাসায় গিয়ে ওকে আর দিখিনি।
মাইয়াডা মনে হয় খুব দুঃখি...? কোথাও থাইকা বেড়াইতে আইছিল। এইটুকু সময়ের মধ্যেই আপনেরে তার মনে ধরছিল। মানুষের মনডা বড় আজব জিনিস বাজান।
ঠিক বুঝি না চাচা। আচ্ছা তারে দুঃখি মনে হওয়ার কারণ?
কারণ সে বাঁশির সুর শুনতে চাইছিল।
তাহলে একটা দুঃখি মেয়ের সখের বাঁশিটা ফেলে দেয়া কি ঠিক হবে?
তা অবশ্য চিন্তার বিষয়। আপনে বরং কোনোদিন তার দেখা পেলে তার বাঁশিডা তারেই ফেরত দিয়েন।
হ্যাঁ, আমিও তাই ভাবছি। কিন্তু কে জানে কবে, কোথায় তার দেখা পাব? নাকি সারাজীবনেই আর কোনোদিন দেখা হবে না?
আপনের আর তার মধ্যে প্রবল আগ্রহ থাকলেই দেখা অইব। যদি দু’জনেই দুইজনরে খুঁইজা পাইতে চান।
আপনি ঠিক বলছেন চাচা, আমি আবার তার দেখা পাব? অন্তত বাঁশিটা ফেরত দেয়ার জন্য হলেও?
হ্যাঁ, আমারও তাই মনে অয়।
আচ্ছা চাচা, আপনাকে তো বেশ জ্ঞানী লোক মনে হয়, তাহলেও ভিক্ষা করেন কেন? ভিক্ষা করা তো ঘৃণার কাজ, পাপ।
চাচা, আপনেরার এলাকায় একটা কথা আছে, ‘আক্কলের দোষে খাইয়া মাডি বাপে-পুতে কামলা খাডি।’
হ্যাঁ, আছে। তাহলে...ভিক্ষা করতে আপনার খারাপ লাগে না?
লাগে বাজান খুব লাগে।
ভিক্ষা করে আপনার চলে?
এইত কখনও নিজে চলি, কখনও আল্লায় চালায়।
বুঝলাম না কথাটা।
এইত যহন খাইয়া থাহি তখন আল্লায় চালায় আর যহন না খাইয়া থাহি তখন নিজে চলি। চলেন চাচা আইজ উঠি। যাইবার বেলায় আরেকটা কথা মনে অইতাছে,
কী কথা চাচা?
বাঁশিডা ফিরাইয়া দেওয়ন ঠিক অইব না। মাঝেমাঝে বাজাইয়েন আর তার কথা মনে কইরেন। মনটা ভালা অইয়া যাইব।