লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ মার্চ ১৯৮০
গল্প/কবিতা: ২৩টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৪৭

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগর্ব (অক্টোবর ২০১১)

আত্ম প্রত্যয়ী
গর্ব

সংখ্যা

মোট ভোট ৪৭

সঞ্চিতা

comment ৪২  favorite ৩  import_contacts ৯০৩
রিক্সায় যেতে যেতে আনমনা হয়ে কত কি ভাবছে সুমনা। সুহৃদ পাশে বসেও কিচ্ছু টের পেলনা।নিজের প্রাত্যহিক জীবনের সংগ্রাম,আপ্রাপ্তির হাহাকার, অপরিমেয় দায়িত্বভার আরও কত কি!

অন্য বাবা মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন উপলক্ষে কেনাকাটা করে,মার্কেটে যায় বাবার হাত ধরে। অথচ, সুমনার বাচ্চারা না; ওইটুকু আনন্দ পায়না তাদের বাবার কাছ থেকে ।কি করে পাবে সুমনা ও কি কোনকালে পেয়েছে সেই ছোট্ট ভালো লাগার আবেশ পঙ্কজ থেকে?
বড় সংসার অনেক দায়িত্ব। সারাদিন চাকুরী শেষে মন, শরীর কোনটারই শক্তি অবশিষ্ট থাকেনা। তবুও ঘরে ফিরে আবার নার্সারি পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে বসতে হয়। পরিবারের কার কি সমস্যা, কখন কোন অনুষ্ঠান সবকিছুর খবর রাখতে হয়। কারন পঙ্কজ(সুমনার পতিদেবতা)বরাবরই বেখেয়ালি এসব ব্যাপারে।তাই নিয়ে মনোমালিন্য ও হয়।

এত চাপের মাঝে ও সুমনা স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে। বুনে কল্পনার জাল।ভেসে যায় তার হারানো দিনগুলির সুখের ভেলায়। যেথা ছিল শুধু ভালোবাসার চাষ । দ্বিপাক্ষিক না পাওয়ার যোগফলেই বাঁধা পড়ে গিয়েছিল সুমনা আর সুহৃদের মন।হঠাৎ টেলিফোনে ভুল করে আলাপ হয় ।তারপর কথা বলা,পথ চলা অনেক দিন হোল ।সুহৃদ দারুন যত্নশীল যে কোন কাজে তার বুদ্ধির তারিফ না করলেই নয়। চার/পাঁচ বছরে বেড়িয়েছে প্রচুর । বহু দর্শনীয় স্থান দেখিয়েছে সুমনাকে যা কিনা ওর দেখার
ভাগ্যে জুটেনি আগে। সাগরের ছলাৎ শব্দে অন্তর প্রদ্দ্যুলিত হত দুজনার। একটু সময় পেলেই ছুট দিত তারা।
আজ ওসব কেবলই মধুবিষ মাখা স্মৃতি । আগত জীবনের ফনা ধরা ফণী ও বটে । সুহৃদের বেশ ইচ্ছা ছিল ঘর বাঁধার। কিন্তু, সুমনার কপালে কি এত সুখ বিধাতা লিখেছিলেন! তাইতো বেঁকে বসলো সে - মা বাবা, ভাইদের কথা ভেবে, সামাজিকতার কথা ভেবে একবার ও ভাবল না নিজের জীবনটাকে কোন অন্ধ গলির ভিতর ঢুকিয়ে নিজেই তালাবন্দি করে দিচ্ছে। কি করে বুঝবে কথায় আছেনা—“ বাঁদর কপালে সিঁদুর লাগেনা”
ভীষণ কঠিন অংক, অনেকের মতামত ও নিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত হার। না; যাওয়া হলনা ,হলনা বাঁধা সুখের ঘর । নিয়তির চরম কাঠামোয় আটকে পড়া দুটি জীবন হোল ছিন্ন।

গানের ভাষায় “দুটি পাখি দুটি তীরে --------“ জীবন থাকেনা থেমে । দিন যায় রাত আসে, রাত গিয়ে ফের দিন –দিনে দিনে জীবনের চাকা হয় আরও কঠিন ।
মাঝে মাঝে দেখা সাক্ষাৎ হয় সুমনার সাথে –সুহৃদের,সময়ের বিবর্তনে সবকিছুই পালটায় তেমনি পালটে গেছে সুহৃদের মন অথবা আচরণ।সামাজিক আর আর্থিক অবস্থার হয়েছে বেশ উন্নতি।মাসে প্রায় ৯/১০ লাখ টাকা আয় করে, বিলাসিতায় ভরপুর,স্ত্রী –কন্যা নিয়ে বেশ ভালই কাটছে দিন ।মাঝে মাঝে আজো নাকি আড়ম্বর করে স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে সুমনাকে ভেবে কাঁদে।যেমনটা সুমনা সারাদিনের শত কাজে ও মুহূর্তের জন্য ওর বাইরে থাকেনা । ভাবে ছায়া হয়েই বুঝি ওর পাশে আছে। মন তো , আশার কোন মরন নেই ।

সে ভাবে একদম নিজের চাঁছা নকশার অবকাঠামো দিয়ে- যদি এমন হত যে সুহৃদের জায়গায় সুমনা, আর সুমনার জায়গায় সুহৃদ । তাহলে সুমনা কি কি করতো তার অতিপ্রিয় মানুষটির জন্য- কারন সুমনা কেন যেতে পারেনি সেটা সুহৃদ খুব ভালো জানত । যাই হোক সরবচ্ছ আন্তরিকতায় যতটা সম্ভব সহযোগিতা করা যায় সে ভাবে -তাই তাই করতো । জীবন চলার পথে প্রতিনিয়ত কত কিছুই তো প্রয়োজনীয় সেই চাহিদার যোগান দেওয়া,বাচ্চাদের জন্য এটা- ওটা কেনা, স্কুলের বেতন দেয়া অথবা অন্তত মাসে তার জন্য ১টা বাজেট রাখা। আহ! কি শান্তি এসব যদি ও করতে পারতো তবে নিজেকে ভালোবাসার ধন্য প্রেমিকা বলে গর্ব বোধ করতে পারতো। তবে এগুলো তো ওর ঐকন্তিক ভাবনা। পুরণ তো হলনা।


নিজেকে ভেবে হয়ত সুহৃদের চিন্তাটা কেও ওভাবেই দেখতে আগ্রহী ছিল সুমনার মন।কিন্তু পৃথিবীর মানুষ কি অত সরল-কজনায় বা ত্যাগী! যে নিজের বিলাসিতা পূর্ণ জীবনের ভাগ অন্য কাউ কে দিবে। এখন অব্দি ঝগড়া/মনোমালিন্য হয় দুজনার মাঝে । চরম অপমানিত ও হতে হয় সুহৃদের কাছে। একবার তো সুমনা টাকা ধার চাওয়াতে শুনতে হোল –তুমি কে আমার যে তোমায় টাকা দিব? সুমনা ভেবেছিলো হয়ত সুহৃদ ও চায় তার এককালের অতি কাছের মানুষ টি ভালো করে বেঁচে থাকুক, না- যদি তাই চাইতো তাহলে ওকে প্রতিষ্ঠিত করতে আপ্রান চেষ্টা করতো। কই করেনি ত বরং এটাই প্রমান করেছে বারেবার, যে সাথে থাকে সে ই সব পাবার যোগ্য।আচ্ছা চাইলেই কি পারতোনা সুহৃদ করতে কিছু সুমনার জন্য-তাকে তো কিছু না নিয়ে ও অপবাদের ভাগী হতে হয়।

আজও হাতড়ে বেড়ায় হাজারো স্মৃতি ।সুমনার অত লম্বা চুল সুন্দর মসৃণ হাতে আঁচড়ে দিত সুহৃদ,উকুন বেছে কত কৃতিত্ব।শ্যাম্পু করা ঝরঝরা চুলে হাত বুলাতে বেশ পছন্দ করতো ।এক থালায় খেয়েছে-সুহৃদ লোকমা করে খাইয়ে দিয়েছে কত । সুহৃদ এর গানের গলা ও বেশ। "আমার সোনার ময়না পাখী, কোন দেশেতে গেলা উইরা রে দিয়া মোরে ফাঁকিরে ---আমার সোনার ময়না পাখী” ও গাইত যখন দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ত জল দুজনার ।

এমন ও হোতো সব কিছুর মধ্যেই সুহৃদকেই দেখতে পেত সুমনা । কিন্তু, বিরাট দুঃখ এটাই যে সুহৃদ সবসময় সুমনা কে অপবাদ দিয়ে এসেছে-সে( সুমনা) নাকি কক্ষনো বাসেনি ভালো তাকে । বলে -তাহলে তো পাগল হয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে পড়তে ।সুহৃদ একটা কথা বলত- যত দিন যাবে ততই জ্বালা বারবে তোমার/ খাটের তলায় ঢুকে কাঁদবে আমার জন্য/বাথ্ররুমে বালতি তে সশব্দে পানি ছেড়ে দিয়ে কাঁদবে। সুমনা অশ্রু সজল নেত্রে বলতো কাঁদবো বল কেন? কেঁদেই তো যাচ্ছি-জানি আজীবনের এ রোদন।
এখন সে ভাবে সত্যিই গর্বে মাথা হেঁট হয়ে যেত তোমার পদযুগলে যদি তুমি আমার দৃষ্টিতে উত্তীর্ণ হতে পারতে – যাক, তবুও আমার ক্ষুদ্র নগণ্য জীবনে তোমার অপরিসীম সুন্দর ভালোবাসার কাছে সঁপেছি নিজেরে –মাথাটা বেশ উঁচু মনে হয়,হৃদয়ে সুখের ভেলা উচ্ছ্বসিত হয় তোমার প্রনয়শীল ভালোবাসার পরশে।না পেয়ে ও তোমায় পাদ্দ্যরঘ দিই প্রতিনিয়ত। ভুল বুঝে সরে গেছো বহুদূরে – তবুও আজ এত সঙ্কটাপন্ন হয়ে ও তোমার মত পরম কাছের মানুষের কাছ হতে কোনও সহানুভুতি-সাহচর্য না পেয়ে বরং কষ্ট পেয়েছি বারংবার । তাই নিজেকে শক্ত করে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস বুনেছি এ প্রাণে-মনে । তাই এতদিন যে ভালোবাসার জন্য গর্ব বোধ হতো –তোমার কাছে নিজের আত্ম সন্মান বিকিয়ে দিয়ে ছোট না হবার জন্য নিজেকে নিয়ে দারুন গর্ব বোধ করি ।
কখন যে রাস্তা শেষ হয়ে বাসার গলিতে ঢুকে পড়লো সুমনা –হঠাৎ রিক্সাওয়ালার ডাকে সম্বিৎ ফিরে এলো। মনে পড়লো মাঝপথে সুহৃদ নেমে গিয়েছিল।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • Emon Hassan
    Emon Hassan ভালো লাগলো......
    প্রত্যুত্তর . ২৪ অক্টোবর, ২০১১
  • M.A.HALIM
    M.A.HALIM খুব সুন্দর হয়েছে গল্প। শুভ কামনা বন্ধুর জন্য।
    প্রত্যুত্তর . ২৪ অক্টোবর, ২০১১
  • সূর্য
    সূর্য কিছু প্রশ্ন আসে মাথায় পঙ্কজের সাথে মনোমালীন্য কী সুহৃদের জন্য? সুহৃদের কাছ থেকে সুমনার অনুকম্পা এবং সাহায্য চাওয়াটা সুমনা চরিত্রের জন্য আমার কাছে দূর্বলতা মনে হয়েছে, কারন সিদ্ধান্তটা সুমনার নিজেরই ছিল (যদিও সুহৃদকে গ্রহণ না করার যুক্তিযুক্ত কারণ খুজে পাই...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৪ অক্টোবর, ২০১১
  • সালেহ  মাহমুদ
    সালেহ মাহমুদ ধন্যবাদ সঞ্চিতা সুত্র ধর- একটি সুন্দর গল্প উপহার দেওয়া জন্য। বর্ণনাত্মক ছো্ট্ট কিন্তু আবেগময় গল্প। আপনার কাছ থেকে এ রকম আরো গল্প আশা করি। ধন্যবাদ।
    প্রত্যুত্তর . ৩০ অক্টোবর, ২০১১
  • সালেহ  মাহমুদ
    সালেহ মাহমুদ ধন্যবাদ সঞ্চিতা সুত্র ধর- একটি সুন্দর গল্প উপহার দেওয়া জন্য। বর্ণনাত্মক ছো্ট্ট কিন্তু আবেগময় গল্প। আপনার কাছ থেকে এ রকম আরো গল্প আশা করি। ধন্যবাদ।
    প্রত্যুত্তর . ৩০ অক্টোবর, ২০১১
  • সঞ্চিতা
    সঞ্চিতা সালেহ মাহ্মুদ/হালিম ভাই, অনেক লজ্জিত দেরিতে উত্তর দেবের জন্য।।
    ধন্যবাদ আপনাদের।
    প্রত্যুত্তর . ৪ নভেম্বর, ২০১১
  • সঞ্চিতা
    সঞ্চিতা প্রিয় সূর্য, আসলে সুমনা যেতে পারেনা তার পরিবারের সদস্যদের কষ্ট দিতে অপারগ বলে, তাছাড়া বর্ণ বিভেদ ও ছিল --সুহৃদ সবই জানতো। তবুও সময়ের বিবর্তনে সব পাল্টে গেল । বাস্তব ভীষণ রুড়।
    প্রত্যুত্তর . ৪ নভেম্বর, ২০১১
  • সঞ্চিতা
    সঞ্চিতা ইমন/ ফাহাদ ভাই, অনেক ধন্যবাদ ।
    প্রত্যুত্তর . ৪ নভেম্বর, ২০১১
  • সঞ্চিতা
    সঞ্চিতা সাবের/লুতফুল বারি ভাই --অনেক ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়া ও দারুন মন্তব্যের জন্য ।
    প্রত্যুত্তর . ৪ নভেম্বর, ২০১১
  • আলামিন খান  সাদ্দাম
    আলামিন খান সাদ্দাম ভালো করে বুজ না
    প্রত্যুত্তর . ১৪ নভেম্বর, ২০১১

advertisement