এ এক নতুন প্রশ্ন,
কোন সে উত্তর?
নিয়ম নেই, বিরুদ্ধে সবাই
তবু মানাতে হয়।
আবার মানাতেও ভয়।
না মানা আর মানার মধ্যে
তফাৎটুকু খুঁজতে হয়।

মানা, সে তো তীব্র জ্বালা;
অমান্য অসহ্যে একহারা।
ডানে-বামে, সামনে-পেছনে কোথাও নয়
মধ্যখানে চুপটি দিয়ে
শুধু ভাব-কান্নার ভাবান্তর হয়।
ওতেই সময়ের ভিড় কমে যায়।

হাহাকারের ফুকারি প্রতিধ্বনি তোলে
লজ্জায় শোভিত, ঘৃণায় আশ্রিত, পাপে মিশ্রিত
আবার মায়া কাজলে অংকিত
সময় যখন দোদুল্যমানে ভাঁজিত।

প্রারম্ভিক উপস্থাপনা হাসির ঝালরে লয়ে
বিদায়ের কলি পুষ্পমাল্য শয়
নেহাৎ ওটা দুর্দমনীয় কথিত রয়।

চক্ষুর সরলে আঁখি-নীর ধাবমান
অসাধ্য সবি যদিনু ভাঙে আড়মোড়া, সাবধান!
আলাপের মূর্ছনা বেদিকে টানা জরুরী
ভাগ্যদোষে যেনু এই নির্মমতার সঙ্গী।

গাঙুরে দেখেছি ডুবন্ত পানসী
লয় সান্ত্বনা, উন্মেষে থাকিলে পোক্ত বেড়ী।
বাস্তব টানে গানের শাণে
কভু ফিরবেনা, শত অভিমানে।
রাতের আশা বড়ই ঠাসা
তাতেই বাঁধে জীবনের বাসা।
কি হিংস্র প্রবর্তনা তিক্ত মনে
রক্তের প্রতি ফোটায় শিহরণ তোলে,
শূন্য গোয়াল শূন্যই থাকে
শেষে যন্ত্রণার পিরানটুকু চাপড়ে ধরে;
তা দেখে সান্ত্রীরা হাসে আর হাসে।

কাল ছোবলের বিষাক্ত বিষে ভারাক্রান্ত,
ছেয়ে গেছে অঙ্গের প্রতি প্রান্ত।
কালো, কোলো ফের কালো
দুই দিগন্তে এটাই লক্ষিত।
অগোচরে হঠাৎ আবির্ভূতময়
কালোর সাথেই বনিতার ক্ষয়।

বক্র সুতোয় বাঁধা তুমি
জানি, হবে মোর শেষ পরিণতি।
নাটকের অংশে আজ ভাঁজের উদয়,
খুলি ভাঁজ, বুঝি আজ বৃথাই ছিল সব কাজ।
কল্পের গুলি ফুটো করেছে খুলি
জেগে দেখি, সত্ত্বাটা ভাঁড়েও-ভবানী।
নাই তার জাত, নাই কোন স্বাদ
ভিন্ন মানের ভণিতায় চক্রবাল।
সক্রোধ শিকড়, আক্রোশে পাঁকড়াও
অব নয় উবের মুখে চলকাঙ্খিত ময়।

সং মাখা রাঁধুনি, চাহি ঘৃণিত দুচোখ
পরনে যদিও ধবধবে মোড়ক!
ফুটিল কুসুম কেন এ শৃঙ্খলায়?
ভাবিনু তরু বুঝি জটিলতায় জয়।
দোষী নয় কেউ, হয়তো আছে কেউ
তবু খুলিল না লতার ঢেউ।

মুকুলটা পাহাড়ি লহরে চীর ধরেছে
তাই করিতে শির উঁচু নাহি পারে।
বুঝের আছে স্বভাবের অভাব
নিদ্রা আগমনে বাড়ে তার প্রভাব।
শিকারি হয়েও শিকারের হাতে বিদ্ধ করাত
চলতি পথেও থামে না তলের দু হাত;
করি নাকি না করি তা নিয়েই মাথায় হাত।

মিথ্যা! হোক সে বজ্রপাত
কর্ণপাতে ঢুকেই হবে বর্ণপাঠ
মোর দর্শে পরিচিতি পেল পথঘাট।
শুদ্ধ চরণি নিজ হাবিলাষে বুদ্ধ পড়িনু
সাধিবে না কেহ করিতে ঠিক ওটুকু।
ক্লান্ত শয়নে ভ্রান্ত স্বপনে কম্পিত হিয়া
পরক্ষণে অস্ত নিলো দীপ্তিময়ী শিখা।
সহিতে না পারি, কহিলাম কথাখানি
কতকে শুনে রহিল মুখ বুজি,
পেলাম নাকো বিয়োগফলের থলি।
ঘরের দুয়ারে লুটায়ে কেবলি পড়ি
চাই ভিক্ষা, শান্ত হতে আমি।

ছয় চালে খেয়ার ঘাট
নয় চালে গাঁয়ের হাট
সব কষে জীবনটাই নাশ।
আশির শাড়ী বুননে ঢের দেরী;
অপেক্ষ দ্বি-প্রহরে, সকলে যে যাই বুঝি
দণ্ডী বেলা মাথার ওপরে, পার হবে কি?