লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ মার্চ ১৯৮৪
গল্প/কবিতা: ৫৪টি

সমন্বিত স্কোর

৩.১৫

বিচারক স্কোরঃ ১.০৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.১ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - রহস্যময়ী নারী (জুলাই ২০১৬)

নারী মন
রহস্যময়ী নারী

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.১৫

ধীমান বসাক

comment ৬  favorite ০  import_contacts ৬২৫
আমি বুঁইচা ক্ষিরোদবাসিনী স্কুলের শিক্ষক । কয়েকদিন ধরে দেখছি রিণি স্কুলে আসেনা। ওদের পাশের বাড়ীর রিংকা- কে জিজ্ঞেস করলাম রিণি স্কুলে আসেনা কেন । রিংকা বললো যে স্কুল থেকে দেওয়া ওর নতুন জুতো জোড়া পকাই দের কুকুর খেয়ে ফেলেছে, তাই স্কুলে বকাবকির ভয়ে রিণি স্কুলে আসেনা । সম্প্রতি
সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রীকে জুতো দেওয়া হয়েছে । সরকার থেকে বলে দেওয়া হয়েছে সবাই যেন জুতো পড়ে স্কুলে আসে,কেউ যেন স্কুলছুট না হয় ।কোন স্কুলছুট পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
স্কুল ছুটির পড়ে গেলাম রিণি দের বাড়ী।
গিয়ে দেখি বিশাল গন্ডগোল ।পকাইদের সাথে রিণি দের। রিণি রা দাবি করছে তখনই রিণিকে জুতো কিনে দিতে হবে। নইলে রিণিরা পকাইদের কুকুরটিকে মেরে ফেলে কুকুরের চামড়া দিয়ে জুতো বানাবে । আমি যখন গেলাম তখন রিণিরা মুচি ডাকার তোড়জোড় করছে ।
পকাইদের কুকুর জ্যাকি-কে আমি চিনি। জ্যাকিও আমাকে চেনে । দেশি কুকুর ।নামটিই বিলিতি। আমাকে দেখেই জ্যাকি ছুটে এসে পায়ে লুটিয়ে পড়লো। আমাকে হস্তক্ষেপ করতেই হলো । বললাম কুকুরের চামড়া দিয়ে জুতো হয়না। এদিকে পকাইদের ক্ষমতা নেই জুতো কিনে দেওয়ার ।পকাইয়ের মা আমার হাত ধরে কেঁদে ফেললেন । কুকুরটিকে উনারা খুব ভালবাসেন। উপস্থিত সবাই আমাকে ধরলো স্কুলের পক্ষ থেকে যেন রিণিকে জুতো কিনে দেওয়া হয়। এবার আমি পড়লাম ফ্যাসাদে । একজোড়া জুতো কিনে দেওয়া যেতেই পারা যায় ।কিন্তু কিনে দিলেই পড়দিন থেকে অনেকেরই জুতো হারাবে, এবং তখন কিনে না দিলেই বাজে ইঙ্গিত দিয়ে হাবিজাবি বলবে । কিছুদিন আগেই যাদের চোখের অসুবিধা আছে তাদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে চশমা দেওয়া হয়েছিল । এক মেয়ে চশমার জন্য কান্নাকাটি জুড়ে দেয় । কিছুতেই বুঝবেনা যে চোখ খারাপ না হলে ঐ চশমা পড়তে নেই । স্কুলে আসাই বন্ধ করে দেয়। ওকে একটি খেলন রোদচশমা কিনে দিয়েছিলাম । ব্যস পড়দিন আরো পাঁচজন হাজির । তাদেরও চশমা দিতে হবে । না দেওয়ার জন্য একজনের মা স্কুল থেকেই তার মেয়েকে ছাড়িয়ে নিলেন এবং বলে গেলেন যাকে চশমা দিয়েছি তার মা সুন্দরী বলেই দিয়েছি ।


আমার কিংকর্তব্যবিমূড় অবস্থা থেকে রিণির মা-ই উদ্ধার করলেণ । বললেন মাষ্টার আবার পছন্দসই নাহলে কাউকে কিছু কিনে দেননা । ঠিক আছে দিতে হবেনা । আমিই কষ্ট করে কিনে দেব ।
পরদিন থেকে রিণি জুতো পায়ে স্কুলে আসছে ।।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement