কী যে শোণিতের ধারা, জিগরে মায়ের,
বয়েছিল অবিরত দীর্ঘ নয় মাস।
কতো যে সোনার ছেলে,
জীবনের কথা ভুলে,
সরোষে ঝাঁপিয়েছিল, মায়েরই সুখে।
ঐ ভীম থাবার মুখে, বৈজয়ন্তী হাতে।
মর্মতলে গাঁথা আছে, সেই ইতিহাস।
হামেশা তাদের বলি, সাবাস! সাবাস!
জানি হে তারা যে কারা, শাশ্বত অমর !
বেদনার ধ্বনি কত, শুনি বারোমাস।
কাঁদিতেছে তারা বলে-
'মারে তুমি কী কী দিলে?
তোমারে মা ঠাই দিলো, সযতনে বুকে,
যেন ঐ অমৃতলোকে।' হাসি পায় তাতে-
'দেশপ্রেম আর আছে? চারিদিকে ত্রাস।
ধনীরা দীনেরে ভুলি, করে বসবাস!'
মার বুকে শত ব্যথা, কিবা যাবে টুটে ?
আত্মত্যাগিরা সুধায়। করে আহবান-
'প্রতিবাদী দেবরাজ,
ধরিওনা সাধুসাজ,
মায়েরে বাঁচাতে হবে, এই ভবপুরে,
বাধিয়া প্রেমনিগড়ে। উজাড়িয়ে হিয়া।
ভেঙ্গে ফেল নীরবতা, হও আগুয়ান।
আমরাও রাজপথে, দিয়াছি যে প্রাণ।'
শুনিয়া তাদের কথা, প্রাণ কেঁদে ওঠে।
করেছিল কী আশায় আত্মবলিদান ?
মায়ের ভূষণে আজ,
নেই কোনো কারুকাজ,
ভায়েরা আমার সবে, রেষারেষি করে,
সম্পদ লাভের তরে। নয়ন মুদিয়া।
এই বুঝি স্বাধীনতা, মারে অপমান ?
মা আমার দুর্ণীতিতে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন !