লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৫ আগস্ট ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ৮টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১৬

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftমা (মে ২০১১)

শুধু মা নেই
মা

সংখ্যা

মোট ভোট ১৬

মুসলিম উদ্দিন অর্জু

comment ৫১  favorite ১  import_contacts ১,০৫২
মধ্যরাত ঘুম ভাঙ্গতেই নিজের ওপর খানিকটা বিরক্ত হয় অভী। আজো ঘুমানোর পূর্বে বাতি নিভানো হয়নি। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মৃত স্ত্রীর কথা মনে করে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে সে। মাঝে মাঝে রাত একটা বেজে যেতো তার আলভী কে ঘুম পাড়াতে। এ সময়টাতে বড় তেষ্টা পায় অভীর। খাট ছেড়ে নেমে আসে সে। এ কী! দরজাও দেখি খোলা! দরজাও বন্ধ করা হয়নি আজ। একটু ভেবে দেখে। না, দরজা বন্ধ করেই সে শুয়েছিল, তবে....? নানা প্রশ্ন এসে ভিড় করে তার মনের কোণে। দরজা বন্ধ করতে এসে অভীর সন্দিহান চোখে সহজেই ধরা পড়ে আলভীর জুতো নেই! আলভীর জুতো কোথায়? এতো রাতে সে বাইরে বা যাবে কেন? নাকি ওর কিছু......? ভাবতে পারেনা অভী। স্ত্রীর মৃত্যুর পর সাত বছরের আলভী কে বুকে আগলে রেখে বেছে আছে অভী। মা নেই একথা বুঝতে দেয়নি কখনো। সে দ্রুত পায়ে হাজির হয় আলভীর দাদুর রুমে, না এখানেও নেই। অভী ভেবে পাই না। ছেলে আমার গেল কোথায়? হঠাৎ আঁধার ছেয়ে যায় তার গোটা পৃথিবী। রুদ্ধ হয়ে আসে কণ্ঠস্বর মা! মা!! চিৎকার করে ওঠে সে কী হল বেটা? ঘুম থেকে ওঠেন আলভীর দাদু। আলভী কে পাচ্ছিনা মা, অভীর কণ্ঠে হতাশা। হায় আল্লাহ! এ কী শোনালে আমাকে,বৃদ্ধের অর্তনাদ। এ কোন শাস্তি দিচ্ছ খোদা! কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে দু'জনই। চোখে পানি নিয়ে খুঁজে ফেরে বাড়ির আনাচে-কানাচে। কোথাও পাওয়া যায় না আলভীকে।দাদু জিজ্ঞেস করেন, আচ্ছা আজ তুই ওকে বকিস নি তো? কিংবা পাড়ার কোন ছেলের সাথে ঝগড়া হয়নি তো তার? আজ সারা দিন আমি ওকে কিছুই বলিনি মা। তবে মনটা ভীষণ খারাপ ছিলো ওর। সারা দিন একা একা বাগানে কাটিয়েছে আর কিছুক্ষণ পর পর এসে জিজ্ঞেস করেছে, আব্বু কাল মা দিবস ,আম্মু এখনও আসছেনা কেন? স্ত্রী ও পুত্র শোক আরেকবার উথলে ওঠে অভীর কণ্ঠ-বুক চিড়ে। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে সে, সান্ত্বনার কোন ভাষা খুঁজে পান না দাদু। শুধু আপন মনে বলেন সে, খোদা ! তুমি ওকে সাহায্য করো। ফিরিয়ে দাও ওর বুকের মাণিক। তারপর চলে আর বলতে থাকে -হে খোদা! আলভী কে তুমি ফিরিয়ে দাও। ফিরিয়ে দাও খোদা! থেকে থেকে আছড়ে পড়ে অভী আবেগে আপ্লুত হৃদয়ের ফরিয়াদ। হ্যাঁ-হ্যাঁ ওইতো আলভী। গতি বেড়ে যায় দু'জোড়া পায়ের। বাগান ঘরের বারান্দায় পাওয়া যায় আলভীকে। বারান্দার খাটে ঘুমিয়ে আছে সে। তার নিষ্পাপ কোমল গালে শুকিয়ে আছে অশ্রুর রেখা। বেদনার ছাপ। বুকে ধরে আছে তার মায়ের ছবি। কয়েক মাস আগে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তার মা। আজ স্কুলে মা নিয়ে রচনা লিখতে দিলে সে কিছুই লিখতে পারলনা। একদিন তার কাকা বাবু বলেছিল তার মা আকাশে বেড়াতে গেছে। তাই আজ সে তার মার জন্য চিঠি লিখল। চিঠিটা এখনও তার হাতে আছে। অভী তার হাত তেকে চিঠিটি নিয়ে পড়তে শুরু করল।


মা! আমার কথা কী তোমার একবার ও মনে পড়ে না? জান স্কুলে সবার মা তাদের বাড়ি নিতে আসে এবং তাদের কত আদর করে। কিন্তু তুমি আমায় ছেড়ে কোথায় চলে গেছ। স্কুলে বলেছে কাল মা দিবস আর তাই তুমি কাল অবশ্যই চলে এসো। আমার সাতে রাগ করে আর লুকে থেকনা। আমি আর গল্প শুনাতে বলব না। মা তুমি চলে এসো।
ইতি
তোমার বাবা আলভী

অভী তাকিয়ে আছে ঘুমন্ত আলভীর মুখপানে। সেখানে ফুটে আছে এক মাতৃহীন শিশুর ব্যাকুল আকুতি। যা তাকে তাড়িত করছে আশৈশব। অভী জানে নেই কথার মর্মার্থ। একটি শব্দের অনুপস্থিতি কতটা শূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে মানুষের জীবনে। আলভীর মা কোনদিন ফিরবে না। এই মহাসত্যের মুখোমুখি অভী আলভীকে বুকে চেপে ধরে কাঁদতে থাকে ঝরঝর করে। আকাশে বাতাসে যেনো ধ্বনিত হয়, বেটা আজ থেকে জেনে রাখো, তোর মা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। তোর সব আছে শুধু মা নেই! শুধু মা নেই!

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement