লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৭ আগস্ট ২০১৯
গল্প/কবিতা: ২০টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftসবুজ (জুলাই ২০১২)

সবুজ শাড়ি
সবুজ

সংখ্যা

ম্যারিনা নাসরিন সীমা

comment ৩৪  favorite ০  import_contacts ১,৪৫৭
ধু ধু মাঠ, রাশি রাশি বালি তপ্ত সূর্যের আলোয় চিক চিক করছে । কোথাও কোন সবুজের চিহ্নমাত্র নেই । তৃষ্ণায় বুক ফেটে যেতে চায় ইভানের । ক্লান্তিতে পা অবশ হয়ে এসেছে । তবুও দিক্বিদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে প্রাণপণ দৌড়াচ্ছে সে । তার শুধু একটু পানি চাই । দূরে দেখা যায় মরীচিকা । আরও জোরে দৌড়ায় সে । কিছুক্ষন পর সে মরীচিকাও মিলিয়ে যায় । অবসন্ন ইভান তপ্ত মরুর বুকে মুখ লুকিয়ে পড়ে থাকে । গনগনে সূর্যের সাথে লড়াই করার সাহস নেই তার । ধীরে ধীরে চেতনা লুপ্ত হতে থাকে । অকস্মাৎ, পিঠে শীতল পরশ । মিষ্টি নরম একটা কণ্ঠ যেন দূর বহুদূর থেকে ভেসে আসছে ।
“ইভান, ওঠ । দেখ, তোমার জন্য পানি এনেছি ।”

আস্তে করে মাথা উঁচু করে তাকায় ইভান । দেখে পানি হাতে দাঁড়িয়ে সপ্না । গায়ে সেই সবুজ শাড়ি, কানে সেই লাল দুল । কপালের লাল টিপটা জ্বলছে । আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে ইভান , আকুল হয়ে সপ্নাকে ডাকে ।

কিন্তু মুহূর্ত মাত্র । অকস্মাৎ চোখের সামনে যেন দুনিয়াটা দুলে ওঠে । প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাঁসফাঁস করতে থাকে ইভান । চোখ খুলে প্রথমে বুঝার চেষ্টা করে কোথায় সে । মনে হচ্ছে কোন জাহাজে, ঢেউয়ের তালে ভীষণ ভাবে দুলছে । অথবা, দ্রুত গতিতে ছুটে চলা কোন ট্রেনের বগিতে শুয়ে আছে । অভ্যাসমত তার হাত চলে যায় বালিশের নিচে । সেখান থেকে ইনহেলার বের করে মুখের মধ্যে স্প্রে করে কয়েক বার । এতক্ষনে সে বুঝতে পারে নিজের ঘরেই শুয়ে আছে ইভান ।

পাশে ফিরে ঘুমন্ত স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে একবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইভান । লীলা কখনো মুখ বন্ধ করে ঘুমাতে পারে না । তার গোলাপি ঠোঁট দুটো হালকা ফাঁক হয়ে থাকে ।
সেখান থেকে উঁচু দাঁতটা বের হয়ে আছে । লীলা যখন হাসে তখন তার এই দাঁত আনন্দে নেচে ওঠে । এই দাঁতটার জন্যই ওর হাসিটা এত সুন্দর । ইভানের খুব ইচ্ছা হচ্ছে লীলাকে ডেকে তার এই স্বপ্নের কথাটা বলতে । কিন্তু সে তা না করে খাট থেকে নেমে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল ।

আজ অমাবস্যার রাত । আকাশে ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে তারাগুলো ঝিক ঝিক করছে । স্ট্রিট লাইট গুলোর আলোয় রাস্তা গুলো আলোকিত হয়ে আছে । কিন্তু, আলো আধারিতে পাশের বাড়িগুলোকে কেমন জানি ভৌতিক লাগছে ।

স্ট্রিট লাইটের আলো কিছুটা বারান্দায় এসে পড়ছে । বারান্দার এক কোণে টবে লীলা কয়েকটা গাছ লাগিয়েছে । স্বল্প আলোতে সবুজ গাছগুলোকে কেমন কালচে দেখাচ্ছে । দেখে কেন জানি ইভানের বুক শিরশির করে ওঠে । সে দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নেয় । সবুজ থেকে সবসময় ইভান পালিয়ে বেড়ায় ।

প্রচণ্ড পিপাসা লেগেছে । কিন্তু উঠে গিয়ে পানি খেতে ইচ্ছে করছে না । লীলাকে কি তার ডাকা উচিত ? বলা উচিত, “এক গ্লাস পানি এনে দাও তো ”
অথবা হতে পারে দু কাপ চা নিয়ে দুজন বসে এক সাথে গল্প করে সারারাত গল্প করে কাটিয়ে দেবে । এখন আর ঘুম হবে না । যে রাতে ইভান ওই স্বপ্ন টা দেখে সে রাত তার এমনিতেই নির্ঘুম কাটে । এসব রাতে তার খুব ইচ্ছে হয় লীলার সাথে সারারাত গল্প করতে; তার জীবনের সবচেয়ে গোপন সত্য টা তাকে বলতে । কিন্তু এই পাঁচ বছরের সংসার জীবনে কখনো সে তা পারেনি ।

মানুষ যদি তার অতীত বদলাতে পারত, তাহলে কোন মানুষের জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত বা কষ্টের অতীত থাকত না । বা এমন যদি হতে পারত যে মানুষের মনের স্মৃতিগুলোকে সে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবে । সে তার ইচ্ছামত স্মৃতিগুলোকে রাখবে বা মুছে ফেলবে ।
যদি কখনো এরকম কোন সুযোগ আসত তবে সে তার জীবন থেকে ২০০৫ সালের ২৬ মার্চের স্মৃতিটাকে চিরতরে মুছে ফেলত ।

“এই, কোথায় তুমি ?”
লীলার ঘুম জড়ানো ডাকে চমকে উঠে ইভান । লীলা ধীর পায়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ায়,
“এখানে কি করছ ?”
“কিছুনা, ঘুম আসছিল না, চল ।”
লীলাকে হাত ধরে ঘরে আনে ইভান,
“এস, শুয়ে পড়ি ”

ইভানের বুকে মাথা দিয়ে কিছুক্ষনের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে লীলা । তার নিঃশ্বাসের ঝাপটা ইভানের বুকের ঘন রোমকে স্পর্শ করছে।

ইভান ভাবতে থাকে স্বপ্নার সাথে লীলার চরিত্রের কত পার্থক্য । অথচ দুজনকেই কি গভীরভাবে ভালবাসে ইভান । একজন তার কষ্টের অতীত, আর একজন তার মিষ্টি বর্তমান ।
লীলা শান্ত, ধীর-স্থির, আহ্লাদী । ইভান ছাড়া সে এক পাও নড়তে রাজী না । আর সপ্না ছিল তুখোড় সাহসি একটা মেয়ে । প্রথম সারিতে থাকাই ছিল তার নেশা ।
হাজার মেয়ের মধ্যে থেকেও সপ্নাকে আলাদা ভাবে চেনা যেত । যেকোনো মজলিশকেই আনন্দঘন করতে তার জুড়ী ছিল না । তারুণ্যে ভরপুর একটা সবুজ জীবন ছিল সপ্না ।

একটা বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সপ্নার সাথে প্রথম পরিচয় হয় ইভানের । সপ্নার কথা বলার ঢং, উপস্থাপনা সবকিছুর মধ্যে একটা প্রবল আকর্ষণ ছিল । যেটা যেকোনো পুরুষকেই মুগ্ধ করবে । ইভান নিজেই গিয়ে সপ্নার সাথে পরিচিত হয় । তারপর দীর্ঘ পাঁচটি বছর তারা একসাথে চলেছে । ক্লাসের ফাঁকে কখনো টি এস সি কখনো পাবলিক লাইব্রেরি আবার কখনো ছবির হাটে চলত তুমুল আড্ডা ।

ইভান আর সপ্নার মধ্যে অদ্ভুত সহজ একটা সম্পর্ক ছিল । দুজন দুজনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করত । কিন্তু কেউ কখনো মুখ ফুটে বলেনি, “আমি তোমাকে ভালবাসি” । এমনকি তারা আলাদাভাবে সাধারণ প্রেমিক প্রেমিকার মত একসাথে সময়ও কাটায়নি । তবুও তারা জানত তারা একে অপরের উপর কতটা নির্ভরশীল । সপ্নার চলফেরার মধ্যে পুরুষালি ভাব ছিল প্রবল । জিন্সের প্যান্ট আর ফতুয়া বা টিশার্ট ছিল তার প্রিয় পোশাক ।

মাঝে মাঝে ইভান ঠাট্টা করে বলত, “জীবনে একটা জুটল, তাও মেয়ে না । ”
সপ্নাও দাঁতভাঙা জবাবে বলত, “আহারে! যাও না তাহলে । কত মেয়েই তো আছে । আমার পিছনে ঘুর কেন ?”

“কি আর করা ? আমি না ঘুরলে কে ঘুরবে, বল ? আর কোন ছেলের পক্ষে তোমাকে সহ্য করা যে অসম্ভব” ।
“হুহ!! একবার পিছন ফিরে দেখ । আমার জন্যে তোমার পিছনে কতজন লাইনে দাঁড়িয়ে আছে” ।
‘ভয় দেখাও ?’
‘ভয় আছে নাকি ?”
“নাই আবার ! তোমা বিহনে কেমনে কুজনে কাটিবে আমার একেলা জীবন । যাও, তোমার জন্য কবিতাংশটুকু উৎসর্গ করলাম” ।
“হেহ! কবিতা না ঘণ্টা !”
মাঝে মাঝে অদ্ভুত সব আবদার করত সপ্না । হয়ত কোনদিন সন্ধ্যারাতে ঝুম বৃষ্টি নামল, আর সপ্না ইভানকে টেলিফোনে বলত, “ইভান,দেখ, কি সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে । বের হও তো । আমি তোমার বাসার নিচে আসছি । আজ আমরা রাস্তায় হাত ধরে হাঁটব আর বৃষ্টিতে ভিজব । খবরদার যদি ছাতা এনেছ । তাহলে কিন্তু তোমাকেই সে ছাতার বাড়ি খেতে হবে ”
নানা ধরণের স্বেচ্ছা সেবামূলক কাজে জড়িত ছিল সপ্না । ইভানকে কতবার সেসব সংগঠনে নিয়ে গেছে সে । সেখানে সপ্নার কাজ দেখে অবাক হয়ে যেত ইভান । মেয়েটার মনে ছিল হাজার সপ্নের বাস । কিন্ত, এক দিনের একটি ঘটনা তার কোন স্বপ্নই আর পূরণ হতে দিল না । একটা সবুজ জীবনকে মুহূর্তেই বিবর্ণ করে দিয়ে গেল । এখনো সেদিনকার কথা মনে পড়লে ইভানের চোখ জ্বালা করে । নিজের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ায় সে । একটা গভীর অপরাধবোধ তাকে তিলে তিলে কষ্ট দেয় । মনে হয় সবকিছুর জন্যে সেই দায়ী ।

স্বাধীনতা দিবসের তখনো দুদিন বাকি । ইভান চারুকলার ভেতরে পুকুরের পাশে বসে আছে হাতে একটা শপিং ব্যাগ। সপ্নার আসার কথা এখনো এসে পৌঁছেনি ।কয়েকদিন ধরে সপ্নার খোঁজ নেই । আজ ওর বান্ধবীকে দিয়ে বিশেষ ভাবে এখানে আসার জন্য খবর পাঠিয়েছে ইভান । সপ্নার মাঝে মাঝে কি যে হয়, পুরো যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় । এসমস্ত দিন গুলোতে ইভান যন্ত্রণায় ছটফট করে । কিন্তু সপ্নাকে কিছু বলতে পারে না । ভাবছে ফিরে যাবে কিনা । এমন সময় দেখল সপ্না এগিয়ে আসছে মেজাজ ভালো আছে বলে মনে হচ্ছে না ।
“এত্ত অস্থির হও কেন ?”এসেই ঝাড়ি দেয় সপ্না ।
“অস্থির হবই না বা কেন ? কয়দিন ধরে তোমার কোন খোঁজ খবর নেই । কেন এমন কর ?”
“আমার ইচ্ছা হয় তাই করি । এখন কি ,বলবে বল আমার সময় নেই।”
“শোন তোমার কাছে আমি এতদিন কখনো কোন কিছু আবদার করিনি । আজ একটা আবদার আছে । এটা তোমাকে রাখতেই হবে ।”
“হায় হায় ! লোকজনের সামনে এসব কি বল ?”
“হাহাহা যাও । ফাজলামো করো না । এটা ধরো ।”
বলে প্যাকেটটা সপ্নার হাতে দেয় ইভান ।
“এটা কি ?”
“খুলেই দেখ ।”
“ওমা ! সবুজ শাড়ি ? বলে চোখ কপালে তোলে সপ্না ।”
“হুম ।”
“আজব তো ! আমি শাড়ি দিয়ে কি করব ? আমাকে কখনো কোন শাড়ি পড়তে দেখেছ ?”
“দেখিনি বলেই তো দেখতে চাই । প্লিজ সপ্না, আমার কথা শোন । তুমি স্বাধীনতা দিবসে এই শাড়িটা পরবে । সাথে সবুজ চুড়ি । তবে কানের দুল আর কপালের টিপটা হবে লাল ।”
“ওরে বাবা ! তুমি এত কাব্যিক হলে কবে থেকে ? গত পাঁচটা স্বাধীনতা দিবস তো তোমার সাথেই কাটিয়েছি । কখনো তো এ ধরণের আবদার করনি ।”
“আগে করিনি । আমার ইচ্ছা । এখন করছি ।”
“আমি এটা পরতে পারব না ।”
“তুমি পরবে না, তাই না ?”
“না, পরব না । আমি শাড়ি পরি না ”
“ঠিক আছে, আমাকে দাও । তোমাকে পরতে হবে না । আমি এটা কোথাও ফেলে দিব, যাওয়ার পথে ”
“ওরে বাবা ! তুমি রাগ করতেও জানো দেখছি । আগে জানতাম না তো ?”
“থাক । আর ঢং করতে হবে না ।”
“আচ্ছা । আমি পরব । কিন্তু কিম্ভুতকিমাকার লাগলে কিন্তু কিছু বলতে পারবে না ”
“ঠিক আছে । তোমাকে ভুতনি ই লাগুক আর পেত্নি ই লাগুক, তুমি স্বাধীনতা দিবসে শাড়িটা পরে আমার সাথে রিকশায় ঘুরবে ”
“যাও,এবারের ২৬ শে মার্চ তোমার নামে লিখে দিলাম আর সব কাজ বাদ !
আহারে এমন সুমতি তোমার প্রতিদিন কেন হয় না ?
“অনেক হইছে , এখন চল ফুচকা খাই। পরশু শাহবাগের মোড় থেকে ঠিক নটায় আমাদের যাত্রা শুরু হবে তারপর পুরো ঢাকা । তবে শাড়ির কথা বাসায় বলা যাবেনা । এটা বীথি দের বাসায় আজ রেখে যাব । ঐদিন ওর কাছ থেকে শাড়ি পরে আসব”

সকাল নয়টা থেকে শাহবাগের মোড়ে এসে দাঁড়িয়ে আছে ইভান বাস থেকে এখানেই নামবে সপ্না । এখন বাজে এগারটা তার কোন খোঁজ নেই । এত দেরি কখনোই করেনা তাহলে শাড়ি পরতে এত সময় লাগছে ? আনাড়ি ! মনে মনে হাসে সে । হোক দেরি তবুও আজ অন্তত শাড়ীতে সপ্নাকে কেমন লাগে সেটা বোঝা যাবে । মনে মনে চাপা একটা উত্তেজনা ইভানের মনকে আন্দোলিত করে । সপ্নাকে নিয়ে নানা ভাবে কল্পনা করতে থাকে । প্রতিটা বাস সে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করছে ।

একটা বাস থেমেছে , ভিড়ের মধ্যে সবুজ শাড়ি পরা একজন নামছে মনে হল । ইভান একটু এগিয়ে যেতে গিয়ে থেমে দাঁড়ায় , হাঁ সপ্নাই । ইভানের বুকের মধ্যে যেন কে হাতুড়ি দিয়ে পিটাচ্ছে এই কি সেই এলোমেলো জিন্স পরা সপ্না ? এত সুন্দর ও ? মনে হচ্ছে সবুজ কোন পরী নেমে এসেছে । সবুজ শাড়ি , হাতে সবুজ চুড়ি , কানের লাল দুলটা কাঁধের উপর এসে পড়েছে , কপালের বড় লাল টিপ টা যেন সূর্যের মত জ্বলছে । ইভান চোখ ফেরাতে ভুলে যায় ।

সপ্নার এক হাত গাড়ীর হ্যান্ডেল ধরে আছে আর এক পা নীচে নামিয়ে ইভানের দিকে তাকিয়ে তার ভুবন জুড়ানো হাসি দেয় । কিন্তু ওইটুকুই । ইভান শুধু দেখল পিছন থেকে দৌড়ে আসা একটা বাস থেমে থাকা বাসটাকে সজোরে ধাক্কা দিল । তার সপ্না পড়ে আছে কালো পিচ ঢালা রাস্তায় সবুজ শাড়ীটা লাল রঙের হোলি খেলছে । একটা বেপরোয়া গাড়ী , কয়েক মুহূর্ত আর ধীরে ধীরে কালচে হয়ে যাওয়া একটা সবুজ জীবন ! জীবন থেকে মৃত্যুর দূরত্ব কতটুকু ? ইভান এখনো সে হিসাব মিলাতে পারেনা ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement