কতকাল ! যেন কত শত কাল পার হল মা ,
দেখিনি তোরে দুচোখ ভরে ।
শহরের এই ব্যস্ত কোলাহলে ,
ইট পাথরের জটিল মন্দিরে ,
যেদিকে চাই শুন্যতা আর হাহাকার ;
যেন শুধুই আঁধার ,
কোথায় গেলে পাই মা তোরে ?

ঐ দূর শুন্যলোকে নিকষ কালো মেঘ জমেছে ,
তোর সব কষ্ট কি মা জোট বেধেছে
এমনি করে ?
এখনি কি মা পড়বে ঝরে , উদাসী তোর নয়ন গলে ,
বিন্দু বিন্দু কষ্ট গুলো ,
ফোঁটায় ফোঁটায় বৃষ্টি হয়ে ।

এখনো যখন মাতাল হাওয়ায় ,
মন ছুটে যায় কিসের ব্যথায় ,
প্রিয় মোর ছোট্ট গাঁয়ে ।
চুল কি মা তোর তেমনি ওড়ে ?
তেমনি করে বাতাস খেলে ,
আঁচলে তোর নির্ভাবনায় ?

যখন যাই রসুই ঘরে ,
তোর কথা মাগো মনে পড়ে ।
এখনো কি তুই চুলোর ধারে ,
আনমনে মা থাকিস বসে ?
এখনো কি তোর মুখখানি মা
রাঙা দেখায় সেই আগুনের রক্তিম আভায় ?
তোর হাতের রুপোর বালা
এখনো কি মা তোরে সাজায় ?

এখনো যখন রাত নিঝুম হয় ,
দূরে কোথায় হাঁক ছাড়ে
পাড়ার কোন চৌকিদার ।
গলির ধারের নেড়ি কুকুরটার
ঘেউ ঘেউ আর্তনাদ ।
আমার পাঁজরে তখন হাতুড়ির শব্দ ।
মাগো তোর দীর্ঘশ্বাস বুঝি
আজ আমার বুকের স্পন্দন ।

কবে ? আর কতকাল পরে ?
মাগো আমি দেখব তোরে ।
এখন আমি সবই বুঝি , মা ।
তোর হৃদয়ের সকল ব্যথা ।
জানিস না মা ,
মা হয়েছে আজ ছোট্ট সে তোর আত্মজা ।