আমি দেখেছি তাকে, আমি তার চেহারা দেখিনি; শুধু অবয়ব দেখেছি। হলুদ নিয়ন আলোয় আমি দেখেছি তাকে।
সে আমার মায়ের শ্লীলতাহানি করছিলো। আমার মা যন্ত্রণায় কাঁদছিলো। আমি দেখেছি আমার মাকে কাঁদতে। হলুদ নিয়ন আলোয় আমি দেখেছি- আমার মাকে কাতরাতে।
আমার মা কিছু বলেনি। আমার মা তো কিছু বলে না। দিনের পর দিন আমার মা- শুধু কেঁদে যায়। কখনো কিছু বলে না।
কাকে বলবে? কি বলবে? আমার মা তো কথা বলতে পারে না। আমার মা শুধু সহ্য করে যায়। আমি দেখেছি আমার মাকে সহ্য করতে। হলুদ নিয়ন আলোয় আমি দেখেছি- আমার মাকে সহ্য করতে।
সেই মানুষটা তো একা না- যে আমারা মায়ের সম্ভ্রমহানি করছিলো। তার সাথে আরও অনেকেই আছে। আমি দেখেছি তাদের। আমি তাদের চেহারা দেখিনি। শুধু অবয়ব দেখেছি। হলুদ নিয়ন আলোয় আমি দেখেছি তাদের।
আমি দেখেছি কিছু কীট, সেই মানুষগুলোর বুকের ভেতর থেকে- বেড়িয়ে আসছিলো।
তাইতো! আমি চিনেছি তাদের। তারাও আমার মায়ের সন্তান। তাইতো!
আমার মা কেন কথা বলবে? আমার মা সাহায্য চাইবে? কার কাছে? সন্তানেরা মাকে বেইজ্জতি করছে। তাইতো! আমার মা কার কাছে সাহায্য চাইবে তাহলে?
আমার মা আজ ধর্ষিতা! আমার মায়ের সন্তানেরাই আমার মাকে- করেছে কলঙ্কিত। আজ আমার মাকে- সবাই কলঙ্কিনী বলে।
কিন্তু, আমি দেখেছি তাদের- যারা আমার মাকে নষ্ট করেছে। আমি তাদের চেহারা দেখিনি। শুধু অবয়ব দেখেছি। হলুদ নিয়ন আলোয় আমি দেখেছি তাদের।
তারা আমার মায়েরই সন্তান। তারা মানুষ, অথচ তাদের হৃদয়ে কীটের বসবাস। হবেই তো! না হলে কেউ পারে- নিজের মাকে অসম্মান করতে?
মা! মাগো! তুমি কেঁদো না, মা! আমরা এখনো আছি! আমরা ওদের দেখেছি। ওদের শাস্তি হবে মা! আমরা দিব শাস্তি। আমরা তোমার হৃত সম্মান ফিরিয়ে দিব, মা! কেউ তোমায় কলঙ্কিনী বলবে না। একটু সময় দাও মা! আমরা আছি। আমরা ওদের দেখেছি, মা! আমরা ওদের চেহারা দেখিনি। শুধু অবয়ব দেখেছি, মা। হলুদ নিয়ন আলোয় আমরা দেখেছি তাদের।
তবে- আমরা ওই কীটগুলোর দুর্গন্ধ চিনতে পারি, মা। তোমার ভয় নেই! আমরা ঠিক ওদের চিনে নিব। একটু সময় দাও আমাদের, আমাদের মা! আমাদের বাংলাদেশ!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
আহমেদ সাবের
দেখতে দেখতে ৪০টা বছর কেটে গেল কবি। “আমরা ঠিক ওদের চিনে নিব। / একটু সময় দাও আমাদের,” – আমরা ওদের চিনি। কিন্তু ওদের মনের কুটিলতা দূর করে ওদেরকে নির্মল করার ক্ষমতা আমাদের নেই। সুন্দর হয়েছে কবিতা। তবে, তানভীরের সাথে একমত – “কিছু কিছু পুনরাবৃত্তি না থাকলেই বরং সার্থক হতো”।
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
বিজ্ঞপ্তি
“ ” সংখ্যার জন্য গল্প/কবিতা প্রদানের সময় শেষ। আপনাদের পাঠানো গল্প/কবিতা গুলো রিভিউ হচ্ছে। ১ , থেকে গল্প/কবিতা গুলো ভোটের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং আগামি সংখ্যার বিষয় জানিয়ে দেয়া হবে।