আমার মা কতই বা বয়স তখন ষোল-সতের !
বিয়ে হলো এক চাকুরিজিবীর সাথে,বয়সে বছর বিশেক বড় ।
বালিকা বধু মা আমার চললো অজানায়, অনিশ্চয়তার দোলাচলে ;
বছর দুয়েক পার করে সে, জন্ম দিল ফুটফুটে এক ছেলে ।
আস্তে আস্তে বালিকা বধু বছর সাতেক দিয়ে পাড়ি,
জন্ম দিল, তিনটি ছেলে আর একটি মেয়ের ;
আমরা এখন অনেক বড় তাই বুঝতে পারি,
অবস্হাটা কি ছিল তার মনের এবং দেহের ।
সম্ভবতঃ বয়স তের কি চৌদ্দ ছিল আমার,
মাকে দেখতাম ছবি দেখতে যেতে জোনাকিতে ;
অফিস থেকে অনেক সময় রাতে ফিরতে হতো বাবার,
মা অপেক্ষায় থাকতেন না ঘুমিয়ে রাতে ।
কি জানি কখন বাবা এসে কড়া নাড়ে দরজায়,
একটু দেরি হলেই যে সর্বনাশ,ভীষণ রাগ ওনার ;
কখনও মাকে জিত্তে দেখিনি বাবার সাথে ঝগড়ায় ,
তবে এখন বুঝি কি গভীরতা দুজনের ভালবাসার ।
কত চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে আজ ষাটোর্ধ্ব মা তুমি ,
এখনও টেনে চলেছো মেজ ছেলের সংসার ;
বিছানায় শোয়া বৃদ্ব বাবা আর মাতৃহারা নাতি,
এদের নিয়েই ব্যাস্ত সময় আজও তোমার ।
আজ আমরা অনেক বড়, চাকুরীর সুবাদে থাকি দূরে ;
অনেক দিন পরে দেখা হয় মা তোমার সাথে ,
বাসায় ঢুকলেই প্রশ্ন তোমার, কষ্ট হয়নিতো বাবা পথে ?
খাবার টেবিলে অনেক খাবার, খেতে হয় পেট ভরে ।
এখনও ফেরার সময় জিজ্ঞেস কর টাকা আছেতো পকেটে ?
শেয়ার মার্কেটের ক্ষতির কথা শুনে দুঃখ পাও মনে ,
জমানো টাকা থেকে বের করে জোর করে তুলে দাও হাতে
আবার বলে দাও “দেখিস বাবা কেউ জেনো না জানে” ।
আরও কত কি ! কয়টা বলব ! এ বলার কি শেষ হবে ?
সারাজীবন শুধু দিয়েই গেলে মা ,জানিনা প্রতিদান নিবে কবে ?