লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ মার্চ ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ১২টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৪৭

বিচারক স্কোরঃ ১.৮৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভয় (এপ্রিল ২০১৫)

সে কেন এমন করল
ভয়

সংখ্যা

মোট ভোট ৩২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৪৭

এমএআর শায়েল

comment ৪৯  favorite ০  import_contacts ২,৩৮৮
এক
২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঘড়ির কাটা যখন রাত ১২ টা ছুঁই-ছুঁই লেখাটি শেষ করলাম। কোনো গল্প বা উপন্যাস নয়। মানুষ যখন থার্টি ফাষ্ট নাইট উদযাপন করতে আনন্দ উল্লাসে ব্যস্ত, আমি লেখা নিয়ে। বিকেলেই ভেবে রেখেছিলাম নতুন বছর শুরু করব অন্যভাবে। ছোটবেলায় প্রচুর ডাইরী লিখতাম। এখন কম্পিউটারে। তাই লেখাটি শেষ করে রাখলাম বারোটা বাজার মিনিট দশেক আগেই। যেন বারোটা বাজার সাথে সাথেই ফেসবুকে আপলোড করতে পারি। শিরোণাম দিয়েছিলাম,-
নতুন বছরে হ্যাপীর উদ্দেশ্যে প্রথম এবং শেষ চিঠি
পছন্দের হ্যাপী, ভালোবাসা নিস। আমার আশা নয়, বিশ্বাস, ভাল আছিস। ভাল থাক, সুখে থাক এটাই আমি চাই। তোকে হয়ত বলে বুঝানোর ভাষা আমার নেই। ছিলও না কোনদিন। জানিনা, আর হবেও কি না! বাধ্য হয়েই তোর উদ্দেশ্যে আমার এই লেখা। জানিনা, তোর নজরে পড়বে কিনা? পড়ারতো কথা। তুইতো আমার ফ্রেন্ড লিষ্টে ছিলি। কিন্তু গত নভেম্বর থেকে তোর আইডিটা আমি আর দেখতে পাচ্ছি না। তুই কি বন্ধ করে দিয়েছিস, নাকি আমাকে ব্লক করে দিয়েছিস, কিছুই মাথায় আসে না।
যাইহোক, ধান ভানতে গিয়ে শিবের গীত গাওয়ার কোনো মানে হয় না। মূল কথায় আসি। তকে কথা দিয়েছিলাম, ভালোবাসার দাবি নিয়ে তোর সামনে দাড়াব না। আমি আমার কথা রেখেছি। কারণ, আমি এতটা নিচু নই যে, তোকে কষ্ট দিয়ে, চাপে ফেলে ভালবাসা আদায় করব!
যদি এই রকম করার ইচ্ছা থাকত, তবে অনেক আগেই করতাম! অনেকটা দিন তো হয়ে গেলো। একটি বছর পুরাতন হলো। নতুন বছর শুরু হলো। ভেবেছিলাম, আমার সর্ম্পকে তোর ভুল ধারণা ভাঙবে! তুই আমাকে নতুন বছরের উইস করবি। কিন্তু না!
জানিস হ্যাপী, তোর জন্য আমার খুব কষ্ট হয়। কান্নায় বুক ভেঙে যায়।
তোর কী অনুভূতি জানি না।
তর কি মনে আছে, যদি কখনো তোর চোখের আড়াল হতাম, তবে আমার নাম ধরে চিৎকার করতি! একটা সময় ছিল, আমাকে ছাড়া অন্য কারো বুকে যাওয়ার কথা তুই চিন্তাই করতে পারতিস না। তুই কি ভুলে গেলি, সেই সব দিনের কথা।
তুই কি ভুলে গেলিরে হ্যাপী, গত বছর আটাশে মে তর ব্যাথাটা বেড়েছিল।
আমাদের শহরে তোর নিজের বলতে কেউ ছিল না। তুই একটি ছাত্রী নিবাসে থাকতি। তোর যে কজন বান্ধবী ছিল, তাদেরকেও সেদিন দেখিনি। দুই দিন, একরাত না ঘুমিয়ে, না খেয়ে, সেদিন তোর পাশে ছিলাম। এরপর থেকে আমাকে একমুহূর্ত না দেখে তুই থাকতে পারতিস না । ডাক্তার বলেছিলেন এভিন্টি সাইটের ব্যাথা।
দুই দিন পর যখন হুশ এসেছিল তোর,-বলেছিলি, ব্যথাটা তোর মাঝে মধ্যেই হতো। হ্যাপী এখনও কি তোর সেই ব্যথাটা হয়?
গত বছরের আগের বছরের কথা। একটা সময় ছিল,মাথায় হাত না বুলিয়ে দিলে তোর ঘুমই আসতো না। এখন তর কেমন ঘুম হয়রে হ্যাপী?
আমার কথা কি তোর একবারও মনে হয় না?
তর প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমার কপালে যা লেখা আছে হবে। তুই কোনো চিন্তা করিস না। খুব ভালো আছি আমি। কেবল তোর চাঁদ মুখখানি দেখতে আমার খুবই মন চায়।
নতুন বছরে তর কাছে শেষ একটা ইচ্ছা আছে আমার। রাখবি!
যদি আমি কোনোদিন তোর মনের আঙ্গিনা থেকে হারিয়ে যাই, সেদিন খুজেঁ বের করিস প্লিজ । আমি কিন্তু তকে না জানিয়েই তোর আমার কাটানো বিশেষ দিনে তোলা কয়েকটা ছবি আমার কাছে রেখে দিয়েছি।
ছবিগুলো দেখে যাতে মনে করতে পারি, এইত আমার সেই হারিয়ে যাওয়া......
ইতি
তোর এক সময়ের পছন্দের মানুষ

৫ মাস হয়ে গেল। আমার এমন মনে হতে লাগল, হ্যাপীকে আমি ভুলে গেছি। কথা না বলে, দেখতে না পেয়ে এতটা দিন কি করে যে পার হল! ভাবলেই কষ্ট হয়। কার কথা মনে রাখবো।
হ্যাপীর মত স্বপ্ন বিলাসী মেয়েকে মনে রাখার চেয়ে ভুলে থাকাই ভাল। ভুলে থাকার অনেক সুবিধা আছে। তাকে মনে রাখা মানে,-দিনে রাতে অন্তত ১৬ ঘন্টা তাকে নিয়ে থাকতে হবে। চিন্তা করতে হবে। ঘন ঘন ফোন, ম্যাসেজ দিতে হবে। তার খাওয়া-ধাওয়া থেকে শুরু করে এক কথায় তার জীবনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।
মাঝে মাঝে তসলিমা নাসরিনের সেই বিখ্যাত উক্তির সাথে সুর মিলিয়ে আমারও বলতে ইচ্ছে করে ফুল টাইম প্রেমিকের চেয়ে হাফ টাইম প্রেমিক থাকা ভাল।
হ্যাপী বেচারী এমন ফুল টাইম বান্ধবী বা প্রেমিকা ছিল, আমার লেখাপড়া, পেশা সব ক্ষেত্রে চৌদ্দটা বাজাঁর উপক্রম হয়েছিল। আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয় সে হবিগঞ্জ ছেড়েছে, আমি হাফঁ ছেড়ে বেচেঁ গেছি।
হ্যাপীর উদ্দেশ্যে লেখাটা লিখতে গিয়ে পাওয়া না পাওয়ার হিসাবটা আমাকে কষতেই হল।
গত অক্টোবরে সে যে বাড়িতে গেল। গেলতো গেলই, ফিরে আসার নাম গন্ধও নেই।
চিঠিটা লিখার সময় আমার মনে হয়েছিল, আর বুঝি চলছে না।
ইচ্ছে হচ্ছিল হ্যাপী আবার ফিরে আসুক, এসে ঠোঁটে আলতো করে আবার একটা চুমু খাক, আরেকটুখানি ভালবাসুক। ও খুব ......
বন্ধুরা একটার পর একটা প্রেম করে এসে আমার কাছে অহংকার করে। আর আমি ভুল মানুষের প্রেমে পড়েছি। হারানোর ভয় সব সময় আমাকে তাড়া করে বেড়াত এবং বেড়িয়েছে।
হ্যাপীর কথা ভাবতে গেলে আমার শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। মাঝে মাঝে মনে হয়, ভালোই হয়েছে। ভুল মানুষের প্রেমে না পড়ে, যদি আমি ঠিকঠাক মানুষের প্রেমে পড়তাম তবে কি যে হত আমার, আল্লাই মালুম। বন্ধুরা বলে, হ্যাপীর এক চেহারা বারবার দেখতে দেখতে এবং এই একটি মেয়েকে নিয়ে লিখতে লিখতে আমার বোধশক্তি লোপ পেয়ে গেছে। তারা মনে করে হ্যাপীর সাথে আমার প্রেম হয়ে যাওয়া মানে তো আমার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়া। আমার সাথে প্রেম না করে হ্যাপী নাকি আমাকে জন্মের বাঁচা বাচিঁয়েছে । কিন্তু মুশকিল হল-নষ্ট হয়ে যাওয়া, কাউকে নষ্ট করা, কারো অনিষ্ট করা, ওই জিনিসটাই আমি পারিনি। ৬টি বছর কেন? সারাজীবনেও পারিনি। ও পথে আমার পা একদম চলতে চায় না। ভাবলে কষ্ট হয়, নিজের পছন্দের মত একটা প্রেমও করতে পারিনি! আর যাকে পছন্দ হয়েছিল, তার পছন্দের বলি হতে হয়েছে আমাকে। ভাবলেই শরীর কাটাঁ দিয়ে উঠে।
প্রথম প্রথম হ্যাপীকে দেখে মনে হয়েছিল প্রেম করার জন্য পারফেক্ট একটা মেয়ে। সুন্দরী, বুদ্ধিও আছে। কিন্তু হলে কি হবে? ও যে আমার সমবয়সী। এই একটা জায়গাতেই আমি অন্য ছেলেদের মত হতে পারি না। আমি কেন পারিনা? না পারার পেছেনে কি কাজ করে? আমি কোনো সময় মেপে দেখিনি। ছেলে-মেয়েরা দিব্যি প্রেম করে যাচ্ছে। আর আমাকে কিনা শেষ অবধি বেচেঁ নিতে হল সমবয়সী একজনকে। হবিগঞ্জের ভেতর ও বাইরে অনেক সুন্দরী মেয়ে ছিল। আমি তাদের ত্রি-সীমানাই কোনোদিন যাইনি। পাছে আমাকে ঠকতে না হয়, সেই ভয়ে।
জ্ঞানীদের মত প্রায়ই বলতাম, প্রেম জীবনে একবারই আসে।
করুণা হয়, মায়া হয় নিজের জন্য। সমকক্ষ বা সমবয়সী হ্যাপীর সাথে প্রেম করে খুশিতে জীবন কাটানো হলোনা এই কথা ভেবে। দুজনের মধ্যে বয়সের যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, এই ব্যবধানের দেয়াল ভাঙ্গতে কদিন লাগে একমাত্র ভগবানই জানেন।

নতুন বছর শুরু হল ৩ মাস হয়ে গেল। হ্যাপী আমার জীবন থেকে গেলতো গেলই। ২০১৪ সালের ১১ অক্টোবর সেই যে বাড়ি গেলো আর দেখা হল না। আমি হবিগঞ্জ না থাকার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিলাম। এখন ঢাকায়।

এর আগে প্রতিটা বছর, প্রতিটা দিন, প্রতিটা মাস হ্যাপীকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়েছি আমি। ছোট থেকে এতকাল সময় কেটেছে আমার খুব বুদ্ধিমত্তার সাথেই। অনেক ঝড়-ঝাপটা গেছে জীবনের উপর দিয়ে। ভয় পাইনি। ভয়ের দেয়াল ডিঙিয়েছি একা একা। কাউকে পাশে নেইনি কিংবা পাইনি। আর যা-ও একজনকে পেয়েছিলাম সে হল হ্যাপী। একটা সময় তাকে কাছে পেয়ে অসম্ভব কে সম্ভব করার চেষ্টা করেছি। সে আমার জীবনে বড় একটা ফ্যাক্টর। অবশ্য এ ক্ষেত্রে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই।
আমি হ্যাপীর প্রেম পেতে, হ্যাপীকে পেতে আমার পুরো যৌবনকাল ব্যায় করিনি! করার চেষ্টা করেছিলাম মাত্র। সেই কিশোর বয়স থেকে ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় কেটেছে আমার। সাংবাদিক হিসেবে বেশির ভাগ সময় কেটেছে সংবাদের খোজেঁ। এখনো কাটে। সাংবাদিক হিসেবে জেলায় বেশ পরিচিতি ছিল। এখনো আছে। স্থানীয় পত্রিকায় হ্যাপীকে নিয়ে লিখতাম কিনা তাই! জেলা সদর থেকে প্রকাশ হওয়া একটা পত্রিকার নিউজ এডিটর ছিলাম অনেকদিন। সে সময় আমার প্রতি লোভ করেনি এমন মেয়ে কমই আছে। কিন্তু আমি মেয়েদের কাছ থেকে গা বাচাঁতে ব্যস্ত ছিলাম এতদিন। প্রেম করার ইচ্ছা যে মাঝে মাঝে হত না, এমন কথা বলবোনা। কিন্তু কল্পনায় ভালো কোনো মেয়ে পাইনি।
২২ বছর পর যাও আবার একজনকে পেয়েছিলাম, সে এত সহজ ছিল না। আমার সহজ-সরল ভাষা সে বুঝতে চাইতো না। আর আমিও তার এড়িয়ে যাওয়ার মিথ্যে না বোঝে, জটিলতা না বোঝে, ছলছাতুরী না বুঝে ভালো মেয়ে কল্পনা করে নিয়েছিলাম। যার কারণে আজ আমাকে জ্বলে পুড়ে ছাই হতে হচ্ছে। এখন আর প্রেম করার ইচ্ছা জাগে না। হয় না।
তবে আজো বিশ্বাস করি, হ্যাপীর প্রতি আমার ভালবাসায় কোন খুঁত ছিল না। বিশ্বাসের কমতি ছিল না। এখনো বিশ্বাস করি মানুষটা একদিন বুঝবে। কিন্তু কখনো বুঝে না। নিজেকে তুচ্ছ মনে হয়। কারণ তুচ্ছ জিনিসের প্রতি মানুষের কোন আগ্রহ কাজ করে না। মনে হয়, আমি ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে এতটা দিন মরিচীকার পেছনে ছুটেছি। এবার থামা উচিত।
গত ১টি বছরে আমার পৃথিবীটা কেমন যেন চুপ হয়ে গেছে। কোথাও কোনো আলোর দেখা পাচ্ছি না। যেদিকে তাকাচ্ছি, সেদিকেই পিনপতন নিরবতা, গাঢ় অন্ধকার। আমি নিজেই হ্যাপীর মাঝে বিলীন হয়েছিলাম, হারিয়েছিলাম। এতে হ্যাপীর কোনো আগ্রহ ছিল না। হ্যাপীর কি দোষ? সে তো ভালবাসা নয়, বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল আমার দিকে। অথচ বন্ধুত্ব শব্দের বেড়াজালে একটু একটু করে আমার সকল চাওয়া, পাওয়া ও আকাঙ্খার সলিল সমাধি হচ্ছিল আমার মনেই হয়নি।
এখন আর কোন কিছুতেই অবাক লাগেনা আমার। আমি চমকে উঠিনা। কারণ এমনটাইতো হবার কথা ছিল।

আসলে ভয় নিয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো ঠিক না। অনেক ক্ষেত্রে সফলতার মুখ দেখে না। অনেক মেয়ে আছে যারা প্রেমের সর্ম্পকে জড়াতে ভয় পেয়ে থাকে। হ্যাপী তাদের দলে পড়েতো। কিন্তু কেন তাদের এই ভয়? কি নিয়ে তাদের এই ভয়? কেন সর্ম্পকে জড়াতে ভয় পায় মেয়েরা। প্রেম করার আগে এ বিষয়টি ভেবে দেখে না কেউ। আমার মনে হয় অনেক অদৃশ্য বিষয় আছে যা দিয়ে মেয়েরা বাঁধা থাকে। যে কারণে প্রেমের সর্ম্পকের ক্ষেত্রে এক পা এগিয়ে আসলে দু-পা পিছিয়ে যায়। কেননা, ভুল মানুষের সাথে প্রেমের ভয়, ছেলেদের চাইতে মেয়েদেরকেই বেশি ভাবায়।
প্রেম নিয়ে হ্যাপীর কি ভয় ছিল, ভালোভাবে জানা হয়নি। তবে তার বক্তব্য ছিল, প্রেমে পড়া ভালো। তবে ভুল মানুষের প্রেমে নয়। হ্যাপী আমাকে প্রায় সময়ই বলতো, জানিস আমরা ভুল করে, ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে যাই। প্রেমে পড়ার আগে প্রেম পরিনতি কি হবে ভাবিনা?
আর না ভাবার কারণেই ভালোবেসে ফেলি। যখন বুঝতে পারি ভুল করেছি, তবুও আমরা আমাদের ভুলটাকে শুধরে নেই না। মানুষটাকে আরো বেশি করে ভালোবেসে ফেলি। মানুষটা জীবনে আসবেনা জেনেও আরো শক্ত করে তাকে বুকে টেনে নিতে চাই। আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয়, যে সব ছেলে মেয়ে ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে তারা বোকা। না। তারা কেবল ক্ষনিকের জন্য বোকা হয়ে যায়। ওরা নিজেরা বিশ্বাস করে এবং মানুষকে বিশ্বাস করাতে চায়, তাদের ভালবাসায় কোনো খুঁত নেই, তারাই ঠিক।
হ্যাপীও বলতো, মতের অমিল থাকার কারণে অনেক সময় যেমন গড়ে উঠা প্রেম ভেঙ্গে যায়, তেমনি অভিভাবকদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের বেশিরভাগ অংশের মতামত, চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণাও এক হয় না। দেখা গেল, দুটি ছেলে মেয়ে সিদ্ধান্ত নিল তারা প্রেম করবে। এই লক্ষ্যে তাদের মধ্যে একটা সুসর্ম্পক গড়ে উঠে। নানা অজুহাতে তাদের সর্ম্পকে বাধাঁ আসবে। আর এ বাঁধা দুজনের সর্ম্পককে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলবে?
যেমন, ধনী-গরীবের প্রশ্ন, জাত-বেজাতের প্রশ্ন, মান-সম্মানের প্রশ্ন, খারাপ-ভালোর প্রশ্ন, কত ধরণের প্রশ্ন? তুই একটা প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর দিতে পারবি না। আর যে সব ছেলে মেয়েরা সমাজ, তথা, পরিবারসহ তার চারপাশের বিষয়গুলোর কথা চিন্তা না করেই প্রেমে পড়ে, তাদের কপালেই হয় আত্মহত্যা, না হয়, পথভ্রষ্ট হওয়া কিংবা দুঃখ লিখা থাকে।
দেখা গেলো, ছেলে-মেয়ের সর্ম্পক পরিবার কোনো কারণে মেনে নিল না। তখন অনেকে পরিবারের কথা, স্বজনদের কথা, পরিবারের মান সম্মানের কথা চিন্তা না করে পালিয়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালতে বিয়ে করে। মামলা-মোকদ্দমাসহ অনেক ঝক্কি ঝামেলা হয়।
হ্যাপী আমাকে বলতো, তার কোনো ভাই নেই। তারা দুই বোন। সে সবার বড়। সে চায় না, সমাজের অন্য দশটা মেয়ের মত হউক। সে যদি অন্য দশটা মেয়ের মত হত, তবে অনেক আগেই প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যেতে পারতো।
সে মনে করতো, ‘প্রেমের সর্ম্পকে জড়ালে মেয়েদের স্বাধীনতা হারানোর ভয় থাকে’।
হ্যাপীর সাথে যদি আমার প্রেম হয়, তবে আমি নাকি এক সময় তার উপর কর্তিত্ব খাটানোর চেষ্টা করবো। তার সব কাজে খবরদারী করবো। বাধাঁ দিব। এই ভয় সব সময় হ্যাপীর মনে কাজ করতো।
তাছাড়া এখন নাকি কলিযুগ চলছে। সে মনে করতো ইদানিংকালে প্রেম বলে কিছু নেই। থাকলেও নাকি সে সব দেহ সবর্স্ব। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই নাকি এখন বাস্তবতা। হ্যাপীর ধারণা ছিল, আজকাল প্রেমিক দ্বারাও অনেক মেয়েরা শোষিত হয়। যদি সে আমাকে সরাসরি প্রত্যাখান করে, তবে আমি নাকি তার উপর রাগ করব। আমার মনে ক্ষোভ জন্মাবে। যে কোন সময় আমি অঘটন ঘটাতে পারি।
কিন্তু না আমি সেদিনও কোনো অঘটন ঘটাতে পারিনি! আজ কিংবা কাল নতুবা কোনো এককালেও পারবোনা।
হ্যাপীর সাথে উঠাবসার সময়ই যেহেতু অঘটনা ঘটাইনি, ঘটাতে পারিনি, তাই হ্যাপীর প্রতি সৃষ্টি হওয়া প্রেম, আমার কাছে এখন নরকের আগুন বলে মনে হয়। ভাই-নাকি বন্ধু, বয়স নাকি অন্য কিছু, কিসের যেন একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিয়েছে হ্যাপী আমাদের দুজনের মধ্যে। হ্যাপী ছাড়া আর কারো সাধ্য নেই সে দেয়াল ভাঙে।
এতটা দিন এক সাথে পথচলা শেষে একটা জিনিস আমার জানা হয়ে গেছে, খুব কম মেয়েই আন সাকসেসফুল ছেলের সাথে প্রেম করে। সংসার করে।
কেননা, তাদের আত্মবিশ্বাস পড়ে থাকে সেই আদিকালেই....

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • তাপস এস তপু
    তাপস এস তপু গল্পটা পুরোপুরি সমর্থন করছি, বাস্তবতা ঠিক এমনই।
    প্রত্যুত্তর . ৮ এপ্রিল, ২০১৫
  • ONIRUDDHO BULBUL
    ONIRUDDHO BULBUL ভাল লাগল। অনেক শুভ কামনা রইল।
    প্রত্যুত্তর . ৯ এপ্রিল, ২০১৫
  • রাখাল  সূত্রধর
    রাখাল সূত্রধর হ্যিাপীকে নিয়ে আর কত লিখবেন ভাই। আপনার দুইটা গল্প দেখলাম, নায়িকা হ্যাপী। খুব সুন্দর করে হ্যাপীর সাথে প্রেম কাহিনী তুলে ধরেছেন ভাল লাগল। আগামীতে আরো ভাল গল্প আশা করছি। ভোট রইল
    প্রত্যুত্তর . ৯ এপ্রিল, ২০১৫
    • এমএআর শায়েল আশাতো করি, মানুষটা একদিন বুঝবে ভাই। কিন্তু বুঝে ত না।... গল্পটি পড়ে মন্তব্য ও ভোট দেয়ার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ।
      প্রত্যুত্তর . ১০ এপ্রিল, ২০১৫
  • নষ্ট কবিতার একটি অংশ ( Nirob Ouhan Masum)
    নষ্ট কবিতার একটি অংশ ( Nirob Ouhan Masum) ভালো লাগলো চালিয়ে যান
    প্রত্যুত্তর . ১০ এপ্রিল, ২০১৫
  • অনামিকা দাশ
    অনামিকা দাশ গল্পটি পড়ে বুঝতে পারলাম, হ্যাপীর বিরহে আপনার জীবন কেমন জানি হয়ে গেছে। আপনার জন্য শুভ কামনা রইল।
    প্রত্যুত্তর . ১০ এপ্রিল, ২০১৫
    • এমএআর শায়েল হ্যাপীর প্রতি আমার ভালবাসায় কোন খুঁত ছিল না। বিশ্বাসের কমতি ছিল না। এখনো বিশ্বাস করি মানুষটা একদিন বুঝবে। কিন্তু কখনো বুঝে না........মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ দিদি।
      প্রত্যুত্তর . ১১ এপ্রিল, ২০১৫
  • সোহানুজ্জামান  মেহরান
    সোহানুজ্জামান মেহরান অনেক ভাল,শুভ কামনা।ভোট রইলো।
    প্রত্যুত্তর . ১৩ এপ্রিল, ২০১৫
  • ruma hamid
    ruma hamid গল্পে আপনার শেষ বক্তব্য কতটুকু সত্যি আমার জানা নেই । তবে হ্যাপির চিন্তাধারা এ যুগে ভুল কিছু নয় । শুভকামনা রইল ।সুন্দর থাকুন ।
    প্রত্যুত্তর . ১৪ এপ্রিল, ২০১৫
    • এমএআর শায়েল সন্দেহ প্রবন মেয়েরা কখনো সুখী হয় না! আমার শেষ বক্তব্য সত্য ৯৭ ভাগ। আমার পেছনে মিডিয়া লাগিয়ে দেখতে পারেন। অন্য ১০টা ছেলের মত আমি নই। হ্যাপির চিন্তাধারা কে সব সময় আমি ওয়েলোকাম জানিয়েছি। মন্তব্য করার জন্য থ্যাংকস।
      প্রত্যুত্তর . ১৪ এপ্রিল, ২০১৫
  • রায়হান পাটোয়ারী
    রায়হান পাটোয়ারী চমৎকার লিখেছেন ভাইয়া, বেশ ভাল লাগল ।
    প্রত্যুত্তর . ১৮ এপ্রিল, ২০১৫
  • মুহাম্মাদ হেমায়েত  হাসান
    মুহাম্মাদ হেমায়েত হাসান ভালো লাগলো. ভোট রইলো.
    প্রত্যুত্তর . ২১ এপ্রিল, ২০১৫
  • হাবিবুর রহমান ডিউক
    হাবিবুর রহমান ডিউক প্রেমের গল্প হিসেবে ভাল। ছোট গল্প যতটা পারা যায়, ছোট করে লিখে আক্ষেপ রেখে ইতি টানা ভাল। সব মিলিয়ে ভাল লাগল। তবে সবচেয়ে ভাললাগল চরিত্রে লেখক নিজেই নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায়...... ভোট রইল।
    প্রত্যুত্তর . ২৯ এপ্রিল, ২০১৫
    • এমএআর শায়েল আমি সব সময় নিজেই নায়কের ভূমিকায় থাকি। অন্য কোন চরিত্রে আমাকে মানায় না। আর মানালেও গল্পের কাহিনী অল্পতেই শেষ হয়ে যায়। নিজে নায়ক থাকলে গল্প শেষ হয় না। সারাজীবন চলতে থাকে। যতক্ষণ না নায়কের মৃত্যু হচ্ছে। আমার সুন্দর মতামত ও ভোট দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও ভালবাসা রইল আমার পক্ষ থেকে।
      প্রত্যুত্তর . ২৯ এপ্রিল, ২০১৫

advertisement