শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
আঁচলের ফাঁকে বাঁকা চোখে চাহনি মনোরমার।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
সর্বনাশা নিসূদন পাষাণ হিয়ার।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
সচ্ছল হাস্যোজ্জ্বল সুবিন্যস্ত রমণীর।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
ধর্ষণাঘাতে রক্তাক্ত- অসহায় বালকীর।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
সুবর্ণ পর্যঙ্কে শোয়া নিষুতি রাজকন্যার।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
ক্ষুধার যাতনায় কাতর অনাথ আলেয়ার।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
শিকারের মুখে নিশ্চল ক্রন্দিত গর্ভিত হরিণীর।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
বদান্য মনের শিকারি হিংস্র বাঘিনীর।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
সৃষ্টিনাশা- সর্বনাশক অশান্ত বীরযোদ্ধার।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
সমরে হত মা- শিশু চোষে স্তন মাতার।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
জীর্ণদেহ- বিকলাঙ্গ কাঙাল ক্ষুধার্ত বালকের।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
খায় কিছু- ফেলে- আলালের বিকৃত দুলালের।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
তেতলায় দাঁড়িয়ে হাসছেন রাজ্যপাল অট্টহাসি।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
বন্যাস্রোতে ভেসে যাচ্ছে তের লক্ষ গ্রামবাসী।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
চারি দিকে আহারে আহার- না খেয়ে মরছে অনাথ!
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
ঘূর্ণিঝড়ে উজাড় বনবনানী, উজাড় লোকালয়দেহাত।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
শকুন-শকুনীর আহার একাত্তরের অগণিত লাশ।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
কীটপোকা মশামাছি কুকুরের উল্লাস।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
সর্বোন্নত আন্দোলন- বাহান্নের অগ্নিমিছিল।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
রাজধানী কারবালা- রক্তে পথ পিছিল।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
একুশের শোকগাঁথা- প্রভাতফেরির গান।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
একমাত্র পুত্রের কবরের পাশে জননীর স্থান।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
বন্দি স্বরাজ- চণ্ডালের হাতে জিম্মি নগরী।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
ফাঁসির মঞ্চে উচ্চশির- শিশুবিদ্রোহী।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
মাদকাসক্ত নেশাখোর বখাটে সব মাস্তানের।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
মমতাসিন্ধু স্নেহময়ী সোহাগী মায়ের।

শিল্পী, তুমি একটা ছবি আঁক-
অম্বরাকৃতি- আমার ভাবনার প্রতিকৃতি।
শিল্পী, তুমি আরেকটা ছবি আঁক-
প্রতিভাবান পায় নি তার প্রতিভার দামটি!