লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৭৪টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবর্ষা (আগস্ট ২০১১)

অশ্রুপ্লাব
বর্ষা

সংখ্যা

আযাহা সুলতান

comment ৭৮  favorite ৪  import_contacts ১,৭০৪
অশ্রুপ্লাব

বৃষ্টির মতো ঝরেছে কত চোখের পানি-লোনাজল
আষাঢ়ের থইথই তোয়ে মিশে হচ্ছে অথই সাগর!
দিচ্ছে দোলা-হচ্ছে তরঙ্গ: মহাতরঙ্গে ভগ্ন সারাইবক্ষ-
মরণফাঁদ পেতেছে ডাইনিখাদ!
তোরাবের মাঠে অবর্তীর্ণ কারবালা- সিডরসম দুর্যোগ
শোকের কাফনে ঢাকা অদ্য সরাইনগরী
প্রলয়ান্ধকারে মুহামান্য বাড়ীঘর-অশ্রুআর্ণবে ভাসছে সমগ্র গ্রাম
ঘরে ঘরে চলছে মাতম: কান্নার আহাজারি-আলোড়ন-
কাঁদছে আকাশ, কাঁদছে বাতাস, কাঁদছে মর্তধাম
প্রকৃতির ক্রনন্দে কাঁদছে বিধাতা-ঝরঝর ঝরছে বৃষ্টিনীর।
হে ভগবান! আল্লা আমার! দিকেদিকে ঈশ্বরের ডাক-
আজ তোরাবের মাঠে-ঘাটে-রাস্তায় ক্রনন্দরোল-অশ্রুপ্লাব
হানা দিয়েছে দুদৈর্ব- উপনীত কেয়ামত
হায়! বিধির একি অভিমত-
সুখের ডাঙায় এঁকে দেয় সদাই দুখের আলপনা!
আহারে-
কী সাঙ্ঘাতিক আঘাতে ছেঁদন হয়েছে সরাইয়ের বুক!
দুঃখ-দুখ-ভুলা যায় না এ দুঃখ-দুঃসহ বেদনাবিষণ।
নিরাপদ পথের কামনা-কখনও কি পূর্ণ হবে না।
বন্ধু!
শুধাই মহাকর্তায়- শুধাই মহাপত্রে-রাষ্ট্রকর্তায়।
হে তোরাব,
আঞ্জুমান-
ইতিহাস হবে তোমার-ইতিহাস!
বিশ্বেতিহাসে বিষম যত ঐতিহাসিক ঘটনাবলী-
আমি বলি, তোরাব অন্যূন-অনুরূপ
অনন্তযাত্রার দ্রুতরথে যাত্রী আজি তোরাবের ভবিষ্য
চলে গেছে অগণিত সন্তান-মিশে গেছে মৃত্তিকায়
অকালে-
উড়ছে শোকের প্রতীক-উড়ছে সারা বাংলায়
ধ্যানমগ্ন বঙ্গবাসী তোরাবের স্মরণে
সমস্ত মানবাত্না আজি তোরাবের শোকে
ভুরা যায় কি কবে-
মর্মভেদীশোক রইবে মানস-মানচিত্রে
যুগ যুগ-
ভুলা যাবে না হে,
স্মর্তব্য যে ঘটনা ঘটে আজি তোরাবের পথে!
সাওয়া যায় তবে-
সইতে পারে কে,
পিতৃস্কন্ধে পুত্রের লাশ: পুত্রস্কন্ধে পিতৃ-সওয়া যায়
বিপরীত কেন প্রকৃতি: ভ্রাতার কাঁধে ভ্রাতৃশবের বোঝা!
সবচেয়ে-
হাঁ, সবচেয়ে ভারী এ লাশের ভার!
আশার আরশি ভেঙে হয়েছে খানখান-চৌচির পরিজনমানস!
যে মানুষ্য-
হাঁ, যে মানুষ্যান্তর কাঁদে না এমন দুঃখে
খেদ করি, সে মনিষ্যিপরিণামে-
এ বিশ্ব অনাত্নীয় সবের
তবু-
তবু, পরমাত্নীয়তার বন্ধনে বন্দি জগৎ
সকল মানব-
মানবের সুখেদুখে আবদ্ধ মানবতা।
হে বিধাতা!
কষ্টের পাহাড়সম পাথর বুকে চেপে দিয়েছ যার-
যার অনিষ্ট হয়েছে যুগসাধনার-আনন্দের ফসল
যার ফুরিয়েছে পথের-শেষ হয়নি পথ
যার চিরতরে নিবে গেছে একমাত্র প্রদীপ
যার পৃথিবী হয়েছে আধাঁর-ডুবে গেছে আশার আলো
যারা আশ্রম ধ্বংস হয়েছে মহাকাল-ঘূর্ণিবায়ে
যারা শূন্য জীবনমাঠ-শূন্য লীলাবতীর হাট
যারা চিরান্ধার জীবন-চূর্ণবিচূর্ণ হৃষ্টমন
যারা হারিয়েছি মানসিক সামর্থ্য
চলৎশক্তি হীন কেদারায় আসন যার
মৃত্যুর কাছে পরাভব তারা-
কাঁদাইও না নীরবে তাদের আর-কাঁদাইও না
শান্তির সমস্ত সান্ত্বনা তোমার ঘরে
স্বস্তি ফিরে দাও সে-সব ভগ্নহৃদয়ে
যারা হারিয়েছে সুখের ধন-বুকের মানিক
ফিরে আসবে না আর: আদরের মানিক
মাগি ফরিয়াদ,
হোক আবাদ-
গড়ে উঠুক ধস্তাবিধ্বস্ত নগরে পুন মালঞ্চাবাস
গড়ে উঠুক নিরানন্দভবে মহানন্দসংসার-গড়ে উঠুক-
গড়ে উঠুক আবার-আবার

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement