সংগ্রামী
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৭২টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবিজয় দিবস (ডিসেম্বর ২০১৮)

গণকবর
বিজয় দিবস

সংখ্যা

আযাহা সুলতান

comment ০  favorite ০  import_contacts
এখানে আমার বাবার কবর
এখানে পাশের চাচা মেহের হোচেন
এখানে বাবার বন্ধু কাকা নন্দলাল
এখানে আমাদের স্বপ্ন ধূলিকর--
এটা বাংলার গণকবর!


এখানে দাঁড়ালে রাখতে পারে কে চোখের জল
এখানে তাকালে ফেলতে পারে কে পলক চোখের
এখানে এলে আবেগাপ্লুতহৃদয় ফিরতে পারে কার বাড়ি
দরদের সাগরথেকে ভেসে ওঠে না কার--বারবার--
ভেসে ওঠে না চোখের সামনে সেই বর্বরতার চিত্র!


বন্ধু শোন--


এ তবে শোনাচ্ছি সেই শিহরিত গল্প
বাংলার করুণকাহিনী--
কোলাহল নগর নিঝুম-নিস্তব্ধ অন্ধকার শহর
এখানে কুকুরেরা করছে টানাটানি লাশ
ওখানে দাউদাউ জ্বলছে বাড়িঘর
নদীতে ভেসে যাচ্ছে লাশের সারি
কতক গলিত মুণ্ডু ছাড়া কোনেক অঙ্গহীন রক্তমাখা
শকুনে খেয়েছে কতক
হয়ত সদানন্দ ভাই কারও--আরও কত কাছের জন
হয়ত ভেসে যাচ্ছে মা কার কিবা ধর্ষিতা বোনটি
কূলে বসে কাঁদছে ন-বোধ নয় বছরের শিশুটি!


এসব দৃশ্য দেখার শক্তি কার?


ভয়ার্ত মন
তরতর কাঁপন
ছলছল চোখে জল
চাপা ক্রন্দন
মৃত্যুকূপের জীবন...


ভুলা যায় কি আপনহারা দুঃখ কখন?


পাশের বাড়িতে মাতমের চিৎকার
হিদুলের রক্তে আকাশের দেহ লাল
বাতাসের গায়ে আগুন
মাটির বুকে তুফান
উড়ছে ঘরের চাল
চলছে ধ্বংসলীলা
পথেঘাটে মরছে পাখিরা...


তারপর--


শূন্য হাট
শূন্য মাঠ
উজাড় বাগান
কোথাও নেই পাখির কূজন
চারি দিকে খাঁখাঁ শূন্যতা...


কী চেয়েছিল পূর্বপুরুষেরা?


আজকের অশান্তির মহড়া?
এ স্বাধীনে বুকপেতে দিয়েছিল তাঁরা?
রক্তের সাগরে সাঁতারিয়ে এনেছে স্বাধীনতা!
এরাই কি তবে স্বাধীনদেশের জনতা!
যারা স্বাধীনের বিপক্ষে যুদ্ধঘোষণা করে
ধর্মের দোহাই দিয়ে রক্তের হোলি খেলে
অধর্মাচারী বলে ধর্মচারীকে ধিক্কৃত করে
তারাই ধার্মিক!
একমাত্র নাগরিক!


কোথায় বিবেক?


জ্বল বন্ধু জ্বল...
জ্বালাও বন্ধু জ্বালাও...
এদেশ বারবার জ্বলতে রাজি আছে
আমরা বারবার মরতে রাজি আছি


তবে--


কেন এ বাঁচামরার লড়াই!
কেন?
অন্ধত্বের পা-তলে আর কত পিষ্ট মানবতা!
আর কত?
আর কত খুনের রঙে রঞ্জিত হবে দেশ!
ধর্মান্ধতার জাঁতিকলে আর কত কর্তন ধার্মিকতা!


বন্ধু!
হাসতে পারি না আর
বিদ্রূপের হাসিতে বড়বেশি জ্বালা
দৈত্যের কবল থেকে মুক্ত হতে পেরেছি ঠিক
কিন্তু হায়েনা থেকে কি মুক্তি পেয়েছি?
এদেশ এখনো কি রাক্ষসের হাতে জিম্মি নয়?


শান্তি ও সত্য প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে যুদ্ধ হোক--


তবে না হোক যুদ্ধ ধ্বংসের
হোক বিনয়ীসোচ্চারে মৌনমিছিল
আভাসের ভাষায় হোক তীব্রপ্রতিবাদ
তাতে না জ্বলুক কোন লোকালয়
না হোক কোন ক্ষয়ক্ষতি


জাগুক সবার অন্তরে সহানুভূতি--


রাজনীতি হোক--সন্ধি হোক
রাজনীতি হোক অহিংস, সন্ধি হোক দৃষ্টান্ত
না হোক কারও হিংসুটে মন--হিংস্র আচরণ

মানুষ হিংস্র হলে মানুষ কি আর?

ভাই আমার, বন্ধু আমার
একবার ভেবে দেখ বিবেকবান
ভেবে দেখ একান্তে বসে নির্জন-নিরালায়
অনুভব করতে পার কিনা
তোমার মানসপটে ভেসে উঠে কিনা--


বাহান্ন
একাত্তর

কার বিপক্ষে বিদ্রোহ--এত জ্বালাময়ী!
কোন্ মানহানির বিরুদ্ধে লড়াই?
কে আনছে তোমার সম্মানে আঘাত!
সম্মানের চেয়ে মানবতা অনেক ঊর্ধ্বে...


বন্ধু--


আর কোন গণকবর কাম্য নয়
কাম্য নয় কোন শোকের মাতম--দুঃখের আহাজারি
কাম্য নয় আর কোন পরাধীনতা


আমরা স্বাধীন--রক্ষা হোক স্বাধীনতা--


এস হাতে হাত রাখি
যে যেখানে আছি
শুদ্ধস্বরে প্রার্থনা করি--
বাংলা হোক বিশ্বশান্তির মাটি
বাঙালি হোক তুলনাহীন জাতি।

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement