মানুষগুলো এমন হয়ে গেলো কেন!
ধীরে ধীরে হিংস্রতায় নিজেকে সঁপে দিচ্ছে,
পরশ্রীকাতর হয়ে উঠছে! বদলা নেয়ার মনোভাব ক্ষুরে ক্ষুরে
খায় ওদের মাথা। প্রতিশোধের আগুনে পুড়ে মরে অহর্নিশ,
মৃত্যুর বদলে মৃত্যু, কিলের বদলে লাথি, চড়ের বদলে ঘুষি!
মানবতা হেরে যাচ্ছে, মিশে যাচ্ছে মাটিতে।
কেউ ভুল করলে সেই একই ভুল অন্যরাও করে
ভুলে ভুলে প্রতিষ্ঠিত হয় মিথ্যা, আশ্রয় নেয় মিথ্যার
মিথ্যার বেসাতি সমাজের আনাচে কানাচে,
গঙ্গার জলে ন্যায়-নীতি, সত্য বিসর্জন দিয়ে,
বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরে রূপ নেয় একেকটি মানুষ
সত্য রূপ নেয় সন্ত্রাসীদের একেকটি লাটিতে।
স্বার্থ ছাড়া এগোয় না কেউ এক পা,
হউক সে ভাই, কিংবা অতি আপনজন,
রক্ত চুষে খেয়ে ফেলে দেয় অহমিকার ডাস্টবিনে,
অসহায় আপনজনদের করুণ পরিণতি ফিরেও দেখে না।
ঘুষ খেয়ে অথবা দিয়ে কিনে বা বেচে দেয় ন্যায়ের মাথা,
অবশেষে, অবলীলায় ভেঙ্গে দেয় নিশ্চয়াত্মক স্বীকৃতি!
বেহায়া, বেলাল্লাপনা কীট কুট কুট করে খাচ্ছে সামাজিকতা, সংস্কৃতি,
সলজ্জ সমাজকে সঁপে দিচ্ছে মানুষ নির্লজ্জতার হাতে।
ইচ্ছে করলেই রুখা যেত, ইচ্ছে থাকলেই বাঁধা দেয়া যেত,
ইচ্ছে হলেই দমন করা যেত; দূর্নীতি, নির্লজ্জতা, অপসংস্কৃতি যত,
পারি না, আমরাও স্বার্থের জালে আবদ্ধ; বের হওয়া অসম্ভব-কঠিন
কারণ মস্তিষ্ক রূপ নিয়েছে বিকৃতি।
আত্মচেতনা, শুদ্ধতার আত্ম বলিদানে একেকটি মানুষ
ভিতরে গুমরে কেঁদে মরে, বাতাসে ভেসে বেড়ায় সে কান্নার সুর,
দু:খের রক্তে আকাশ রূপ নেয় গোধূলীর রক্তিম আভায়।
যৌবনের গরম রক্ত ধীরে ধীরে হিম হতে শুরু করলে
মানুষগুলো নিজ ভুল স্বীকারে বাস শুরু একাকীত্বে;
নুয়ে পড়ে সব অহংকার, আফসোস! সময়ে হয়নি আত্মসচেতন।
মিথ্যায়, অহমিকায় দাঁড়িয়ে এতকাল বসবাস করা মানুষগুলোর
চেহারায় ভেসে উঠে রক্তের কালসীটে আবরণ...
চেহারার উজ্জলতা হারানো মানুষেরা খুঁজে ফিরে সর্বদা মুক্তির পথ,
প্রায়চিত্তের পথ ক্ষীণ হতে হতে সত্যের সন্ধানীরা ক্রমে মুছে যায় কালচক্রে,
ফেরার পথটাই তো ছিল সরু, চেষ্টাও ছিল বৃথা।
তবুও ক্ষীণ আশা মনে, আবারো উড়ুক সমাজে মানবতার বিজয় কেতন।
(লেখা ছোট করতে না পারার জন্য দু:খিত :( )