ছয়টি মেয়ে আর একটি ছেলে
নিজে বউ আর মা-বাবা মিলে
বারেক আলীর বিরাট সংসার
এত বড় সংসার টানার দায়িত্ব তার একার ।
রিক্সা চালিয়ে অথবা মাটি কেটে
দশটি মুখের অন্ন যদিও জোটে
নিজের মুখের কথা গিয়ে ভুলে
বাচাদের মুখপানে চেয়ে তার মনখানি আনন্দে দুলে ।
কোনও একদিন যদি না হয় রোজগার
অভুক্ত মুখগুলোর দিকে চেয়ে দুনিয়া হয় তার আঁধার ।
ক্ষুদার জ্বালা কি? বুঝে এখন গরীব বারেক আলী
চোখের সামনে বাচাদের মুখগুলো ভাসে খালি ।
ভাবে শুধু এত কষ্টের জীবন কেন তার হায়
এতগুলো মুখের অন্ন দিতে গিয়ে তার প্রাণ যায় যায় ।
মনের কষ্টে বলে সে, কেন আল্লাহ! তুমি এত বড় সংসার দিলে!
অন্ন যদি দিতে নাই পারো আমার বাচাদের মুখে তুলে ।
গালে হাত দিয়ে বসে ভাবে আর ভাবে
এই দু:খ কোন কালে কবে যে যাবে ।
না, বারেক আলীর এই দু:খ কোন কালেই ঘুচবে না
না ভেবে সে নিয়েছে সন্তান সাত, জানি সুখ তার আর আসবে না ।

.............কারণ...........

গরীব বারেক আলী জানে না সে কি করেছে?
জন্ম নিয়ন্ত্রণ না করে বছরে বছরে সে বাচ্চা নিয়েছে ।
যদি থাকতো তার একটি কি দুইটি সন্তান
অভাবে ধরতো না, থাকতো সংসারে আনন্দের কলতান ।
আমার ডিজিটাল দেশে এখন আছে অনেক বারেক আলী
রোজগারের নাই কোন পথ, চিন্তা না করে নেয় বাচ্চা হালি হালি ।
অ-শিক্ষা আর কু-শিক্ষায় দেশটা আজও আছে পিছিয়ে
কবে যে আমার দেশে দুর হবে অ-শিক্ষা আশাখান রাখি জিইয়ে ।
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ুক আমার দেশের গ্রামে গ্রামে
আশা আর আনন্দের সুর বেজে উঠুক সবার প্রাণে ।
আমার দেশ যেন হয় সকল দেশের সেরা
সবুজ শ্যামলে হয় যেন সর্বত্র ছায়া ঘেরা ।
ক্ষুদা যেন কাউকে না দেয় কষ্ট
ক্ষুদার জ্বালায় কারো জীবন যেন না হয় নষ্ট ।

বি:দ্র: আমাদের দেশে এখনও বারেক আলীর মত অনেক সংসার আছে । ভাবতেই কষ্ট লাগে । অ-শিক্ষা আর কু-শিক্ষায় বারেক আলীর মত অসংখ্য বারেক আলী এমনই ক্ষুদার তাড়নায় নানা অপকান্ডে জড়িয়ে পড়ে । তাই আগে দেশকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে । তারপর ডিজিটালী চিন্তা-ধারণা করতে হবে । সচেতন হতে হবে আমাদেরকেই ।